ইউটিউবারদের আয়ের উপর কর, মিশরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ইউটিউবারদের আয়ের উপর কর, মিশরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ইউটিউবারদের আয়ের উপর কর, মিশরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক

ইউটিউবার এবং ব্লগারদের বার্ষিক আয় নিবন্ধন ও এর উপর কর বসানোর পরিকল্পনা করেছে মিশরের সরকার। বার্ষিক আয় ৫ লাখ মিশরীয় পাউন্ড বা ৩২ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি আয়ের ইউটিউবারদেরকে এই কর দিতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।

কর কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-গায়ের এএফপিকে বলেন, "কারো কর্মক্ষেত্র যাই হোক না কেন, সে যদি মিশরে ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করে তাকে অবশ্যই ন্যায্যভাবে কর দিতে হবে।

"

নতুন করের হিসাব চলতি বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

news24bd.tv

আরেক কর কর্মকর্তা, মোহাম্মদ কেশখ জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্ত মানতে ব্যর্থ হলে কর ফাঁকি আইন লঙ্ঘনের অপরাধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

অনলাইনে কন্টেন্ট নির্মাতাদের উপর কর ধার্যের এই পরিকল্পনা দেশটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন এই কর আরোপকে সমর্থন জানিয়েছেন।

মিশরীয় এক নাগরিক টুইটারে বলেন, "দরিদ্র সবজি বিক্রেতাকে যদি কর দিতে হয়, তাহলে আমরা ধনীদের উপরও কর আরোপ করতে পারি। " 

news24bd.tv

আরেকটি টুইটে বলা হয়, "আমি যদি ইউটিউব বা টিকটকে, কিংবা অন্য কোন সাইট থেকে ৫ লাখ পাউন্ড আয় করতাম, তাহলে কর দিতে আমার কোন সমস্যা হতো না। এ নিয়ে এতো শোরগোল করার কী আছে!"

হাসান হেইকাল নামে আরেক ব্যবহারকারী টুইট করেন, "গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে কর আরোপ করা সঠিক কেন? কারণ তারা কর না দিয়েই মিশরের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন ও তথ্য বাবদ অনেক অর্থ উপার্জন করে। "

অপরদিকে অন্যরা দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ইন্টারনেট ব্যক্তিত্বের উপর কর চাপানোর কোনো অধিকার মিশরীয় সরকারের নেই।

ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের দিকে ইঙ্গিত করে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এক টুইটে বলা হয়, "সরকার যদি ইউটিউবারদের কাছ থেকে কর নিতে চায় তাহলে অন্তত আমাদের উন্নত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং সীমিত গিগাবাইট প্যাকেজগুলো বাতিল করতে হবে। "

news24bd.tv

এছাড়া আরো একজন করের কোন যৌক্তিকতা নেই দাবি করে বলেন, " ইউটিউব চ্যানেলে কর আরোপ এবং ইন্টারনেট থেকে লাভের বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর। আমি কেন এমন কিছুর জন্য কর দেব যেখানে রাষ্ট্র সে ব্যাপারে কোন পৃষ্ঠপোষকতা করে না? হঠাৎ যদি আমার ইউটিউব চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাকে কে সাহায্য করবে? এমন অনেক লোক আছে যারা লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করে, সরকার তাদের কাছ থেকে কর নিক। কিন্তু এই চ্যানেলের কোন জমি নেই, জায়গা নেই, এমনকি এটি রাষ্ট্রের কোন ভূমিও দখল করছে না। "

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের উপর কর আরোপ করেছে। যা প্রকারান্তরে ইউটিউবারদের কাছ থেকেই নেয়া হয়। কেউ কেউ এদিকে ইঙ্গিত করে মিশরের কর আরোপের কোন যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেছেন।  

আহমেদ আবদেল ফাতাহ নামে এক ব্যবহারকারী বলেন, "এই বিষয়টি একটি আইনি সমস্যা তৈরি করবে কেননা ইউটিউব ইতিমধ্যেই ইউটিউবারদের কাছ থেকে কর নিয়েছে। তাহলে তারা কেন আলাদা করে মিশরের জন্য কর দেবে?"

রও পড়ুন:

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

গালে থাপ্পড়ের পর এবার ডিম হামলার শিকার ম্যাক্রোঁ, ভিডিও ভাইরাল

রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে আজ

শিশু সন্তানকে জবাই করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা

অনেকে আবার করের অর্থ যেন জনগণের উপকারে ব্যবহার করা হয় সেদিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। তারা বলেন, "যদি সরকার ইউটিউবার এবং ইন্টারনেট ব্যক্তিত্বদের উপর কর আরোপ করে, তাহলে ইন্টারনেটের মান উন্নত করা তাদের ন্যূনতম কর্তব্য। "

উল্লেখ্য, মিশরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ৫ হাজারের বেশি অনুসারী থাকলে দেশটির আইন সেটি পর্যবেক্ষণে রাখার অনুমতি দেয়। সাইবার অপরাধ আইন ব্যবহার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অনলাইনে 'অনুপযুক্ত' কনটেন্ট নির্মাণের দায়ে অনেককেই জেল ও জরিমানার শাস্তি দিয়েছে।

সূত্র: দ্য স্টার, মিডল ইষ্ট আই

news24bd.tv/ নকিব