পিতার মৃত্যুর সংবাদে মেয়ের মৃত্যু, তারপর নাতি!

অনলাইন ডেস্ক

পিতার মৃত্যুর সংবাদে মেয়ের মৃত্যু, তারপর নাতি!

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একটি গ্রামে পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে মেয়ের মৃত্যু হয় এবং মেয়ের মৃত্যুর খবরে তার ছেলে অর্থাৎ নাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার চুনারুঘাট উপজেলার ৭নং উবাহাটা ইউনিয়নে এ ঘটানা ঘটে।


আরও পড়ুন

দুই পরীক্ষা বাতিল নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

পাশের রুম থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পরে ছেলে টের পেলো বাবা মারা গেছেন!

বিয়ে বন্ধ করতে কনে নিজেই থানায়!

শেখ হাসিনার জন্মদিনে নড়িয়ায় দোয়া ও দুই হাজার কোরআন বিতরণ


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলহাজ্ব সাজিদুর রহমান (আরজু মিয়া) নামে এক ব্যক্তি। পিতার মৃত্যুর সংবাদ শুনে একই দিনে অর্থাৎ সকাল ৭টায় চুনারুঘাট হাসপাতালে মারা যান আরজু মিয়ার মেয়ে মোছা. সুরাইয়া আক্তার।

পরে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিকাল ৪টার দিকে চুনারুঘাটের উত্তর বাজার বাসায় সুরাইয়া আক্তারের বড় মেয়ে সৈয়দা উলফাত মারা যায়। একই দিনে বাবা, মেয়ে ও নাতির মৃত্যুতে এলাকায় শোক নেমে এসেছে। 

তিনজনের জানাজার নামাজ একই সাথে শ্রীকুটা হাফিজীয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হয়।

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

 

পরবর্তী খবর

নাটোরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর

নাটোরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

নাটোরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছে। সোমবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহরের নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পিটিআই মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন - সদর উপজেলার দিয়ারভিটা গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে মোহম্মদ তারেক ও নিঙ্গল হোসেনের ছেলে রকিবুল ইসলাম।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবু সাদাদ জানান, রাজশাহী থেকে নাটোর শহরমুখি একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে বিপরীতমুখী মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুইজন তারেক ও রকিবুল গুরুতর জখম হয়।

আরও পড়ুন


হিন্দু ভাই-বোনদের ভয় নেই, আমরা সংখ্যালঘুবান্ধব সরকার: ওবায়দুল কাদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

দৃষ্টিহীনদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ঢাবির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাহীন আলম

গাজীপুর সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন অতিথি


খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধর করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেককে মৃত ঘেষাণা করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রকিবুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রকিবুল ইসলাম মারা যায়।

নিহত তারেকের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হলেও এর চালক-হেলপার পালিয়ে গেছেন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

কেনাকাটা করে ফেরার পথে দুই বোনকে শ্লীলতাহানি ও মারধর, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

কেনাকাটা করে ফেরার পথে দুই বোনকে শ্লীলতাহানি ও মারধর, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুর থেকে কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার পথে দুই বোনকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সেলিম ওরফে সেইলাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার মো. সেলিম সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বাকসাত্রা গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত মহব্বত আলীর পুত্র। 

আজ মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে সহোদর দুই বোন রাজধানীর মিরপুর থেকে কেনাকাটা করে সাভারের কাউন্দিয়ায় নিজ বাসায় ফিরছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা কাউন্দিয়া খেয়াঘাটে পৌঁছলে এলাকার প্রভাবশালী চিহ্নিত সন্ত্রাসী সেলিম তাদের গতিরোধ করে বড় বোনের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় দুই বোন এর প্রতিবাদ করলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন সেলিম।   

আরও জানা যায়, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সেলিম ঘাটে থাকা পারাপারের নৌকা থেকে ছাতা নিয়ে ছোট বোনকে মারধর করতে থাকেন। এ সময় বড় বোন বাধা দিলে তাকেও উপর্যুপরি ছাতা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন সেলিম। এ ছাড়া সেলিমের ভাগনে রিপন মারধরের সময় তাকে সহযোগিতা করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই তরুণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সেলিম ও তার ভাগনে রিপন দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

আরও পড়ুন


এশিয়ার শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির বাড়ির অন্দরমহলের খবর একনজরে

ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনে আরও খুনোখুনির আশঙ্কা

দলে পরিবর্তন, এক নজরে ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল মারা গেছেন


এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, দুই বোনকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীদের মা। মামলার পর কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হারুন অর রশিদ কাউন্দিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে ইয়াবাসহ আটক হওয়ায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা চলমান আছে বলেও জানিয়েছেন কাজী মাইনুল ইসলাম।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন স্বামী ও স্ত্রী।

হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া ও তার স্ত্রী ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিরিন আক্তার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। জানা গেছে, তারা একই ইউনিয়ন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে সাত, বুড়িশ্বর থেকে তিন, কুন্ডা পাঁচ, পূর্বভাগ সাত, হরিপুর পাঁচ, গোয়ালনগর তিন, ভলাকুট চার, ধরমণ্ডল, চার, ফান্দাউক চার, চাপরতলা ছয়, গুনিয়াউক চার, গোকর্ণ সাত এবং চাতলপাড় ছয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাত, ইসলামি আন্দোলন পাঁচ এবং জাকের পার্টির এক মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ১৩ ইউনিয়নে সাধারণ পদে ৫০৯ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৭০ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিযেছেন।

আরও পড়ুন


দৃষ্টিহীনদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ঢাবির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাহীন আলম

গাজীপুর সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন অতিথি

মনোনয়ন ফরমের আগেই ১০ হাজারে কিনতে হচ্ছে উপজেলা আ.লীগের দলীয় ফরম

ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়েই ফিরছে সেন্টমার্টিনে আটকা পর্যটকরা


বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। এ দিনের পর দলীয় নেতাকর্মী যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করবে তাদের আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হবে। 

উল্লেখ্য, আগামী ২১ অক্টোবর মনোনয়ন যাচাই-বাচাই করা হবে এবং ২৬ অক্টোবর প্রত্যাহার করার শেষ সময়। ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপর আগামী ১১ নভেম্বর নাসিরনগরে ১৩ ইউপিতে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

দৃষ্টিহীনদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ঢাবির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাহীন আলম

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ

দৃষ্টিহীনদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ঢাবির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাহীন আলম

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার অজপাড়াগায়ের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাহীন আলম বিনামূল্যে দৃষ্টিহীনদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন।

২০২০ সালের জুলাই মাসে তিনি দৃষ্টিহীনদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিবেন মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া পড়ে। তার ডাকে সাড়া দেই বাংলাদেশ ও ভারতের ৬০ জন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী। শুধু ভারতেরই ২০ জন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী। শুরু হয় তার অনলাইন ক্লাসের মধ্যমে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ। সপ্তাহে ৩ দিন রবি, বুধ ও শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে দেড় ঘণ্টা ক্লাস নেন শাহীন আলম। এর পর চলতি বছর শুরু হয় তার দ্বিতীয় ব্যাচ। এ ব্যাচেও বাংলাদেশ-ভারতের মোট ৫৩জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এখানেও ছিল ২০ জন দৃষ্টিহীন ভারতীয় নাগরিক। জুলাইয়ে শুরু হয় তিনমাস মেয়াদি তৃতীয় ব্যাচ। এখানেও বাংলাদেশ-ভারত থেকে অংশগ্রহণকরী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৫ জন।  ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে তৃতীয় ব্যাচের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। চতুর্থ ব্যাচ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

শাহীন আলম ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের কৃষি শ্রমিক আব্দুল কাদেরের ছেলে। মা মিনারা বেগম গৃহিণী। শহীন আলমসহ তার আরেক ভাই রয়েছে। বড় ভাই ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন শাহীন টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারায়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলের কাছে হেরে যায় প্রতিবন্ধকতা। ২০১৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর আওতাধীন সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের সহায়তায় তুলারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইল থেকে এসএসসি পাশ করেন। কলেজে ভর্তির সময় তার বেশ কিছুু বাধা আসে। কলেজের শিক্ষকরা তাকে কলেজে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে নিজের পড়াশুনার দায়ভার নিজে নিলে কলেজে ভর্তির সুযোগ মিলে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে নিজ এলাকার শামসুল হুদা খান কালেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

এইচএসসি পাশের পর তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া। কিন্তু অর্থনৈতিক অনটনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেননি। অন্য বন্ধুদের শীট সংগ্রহ করে মোবাইলে রেকর্ড করে ভর্তি প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। অবশেষে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তার স্বপ্ন পূরণ হয়। সুযোগ পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার। ২০১৯ সালে তার অনার্স সমাপ্ত হয়। বর্তমানে তিনি মাস্টার্স পরীক্ষার্থী।

তিনি নবম শ্রেণিতে থাকাকালীন বেসরকারিভাবে ১২ দিনের একটি কোর্সের মাধ্যমে কম্পিউটার শিখা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনমাস মেয়াদী আরো একটি কোর্স করেন। শাহীন আলম দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের যা যা শিখান তা হলো: ফান্ডামেল্টাল অফ কম্পিউটার, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি।

স্ক্রিন রিডার সফটওয়্যার ব্যবহার তিনি কম্পিউটার পরিচালনা করেন। শিক্ষার্থীরাও এই মাধ্যম ব্যবহার করে কম্পিউটার শিখে। নন ভিজুয়াল ডেক্সটপ এক্সেস (NVDA) ও জাভ এক্সেস উইথস্পিচ এই দুই স্ক্রিন রিডার সফটওয়্যার কম্পিউটার স্ক্রিনে প্রদর্শিত হওয়া সকল তথ্যাদি অডিও ভয়েসের মাধ্যমে দৃষ্টিহীনদের নির্দেশনা প্রদান করে।

শাহীন আলম জানান, বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা করে সরকারি কোনো কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। যার ফলে তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান থেকে পিছিয়ে পড়ছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী। তারা যাতে কোনভাবেই তথ্য প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে না পড়ে সেই জন্য তার এই উদ্যোগ।

শাহীন আলম আরো জানান, প্রতিমাসে তার ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করা কষ্টকর হচ্ছে। তার নিজস্ব লাইসেন্সকৃত জুম সফটওয়্যার হলে তার এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা সহজতর হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন তার স্কলারশিপের জমাকৃত অর্থ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ করানোর ক্ষেত্রে ব্যায় করেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে; খরচ বেড়েছে। তার পক্ষে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ব্যাপক কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিখার আগ্রহ বেড়ে চলছে।

আরও পড়ুন


গাজীপুর সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন অতিথি

মনোনয়ন ফরমের আগেই ১০ হাজারে কিনতে হচ্ছে উপজেলা আ.লীগের দলীয় ফরম

ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়েই ফিরছে সেন্টমার্টিনে আটকা পর্যটকরা

মহেশখালীতে সাবেক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা


শাহীন আলম বলেন, প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় সকল কিছুর ব্যবস্থা করা হলে দৃষ্টিহীনরা আউটসোর্সিং ফ্রিল্যান্সিং শিখে ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করতে পারবে। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার সম্পর্কেও বেশ পারদর্শিতা রয়েছে শাহীন আলমের। ইতোপূর্বে শাহীন আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রিসোর্স সেন্টারে খন্ডকালীন কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের একটি প্রকল্পে কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসাবে ছিলেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়া জেলার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ফাল্গুনী পাল জানান, "আমি শাহীন স্যারের কাছে কম্পিউটার শিখে এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ব্যবহার করে চাকুরী করছি। বাংলাদেশের শেরপুর জেলার অপু আহমেদ ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী জানায়, এত সুন্দরভাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পেরে সে উপকৃত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাকার মোঃ সরওয়ার হোসেন খান জানান, "শাহীন আমাদের রিসোর্স সেন্টারে এসে নিজের পড়াশুনার ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যাবহার করত। তার কম্পিউটারের দক্ষতা বুঝতে পেরে আমরা তাকে ২০১৯ সালে খন্ডকালীন কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করি। সে ১ বছরে ছয়মাস মেয়াদি দুটি ব্যাচে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিখিয়েছে। সে অনেক মেধাবী, কম্পিউটারের ভালো পারদর্শী। ভবিষ্যতে সে আরো ভালো কিছু করতে পারবে।"

সরকারের কাছে শাহীন আলমের দাবি, বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য যেন আলাদা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরী করা হয় এবং  যোগ্যতার ভিত্তিতে তাকে যেন একটি সরকারি চাকুরী প্রদান করা হয় সেই দাবী জানান।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

গাজীপুর সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন অতিথি

অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুর সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন অতিথি

গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে আবারও এসেছে নতুন অতিথি। এরইমধ্যে শাবকটি উঠে দাঁড়িয়েছে। এখন সে মায়ের সামনে ঘোরা ফেরা করছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে শাবকটির জন্ম হয়। পার্কের কোর সাফারি পার্কে গতকাল সোমবার সকালেই জেব্রার পালে মায়ের সঙ্গে শাবকটিকে দেখা যায়। সদ্য জন্ম নেওয়া এই শাবকটিসহ এ পার্কে মোট জেব্রার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১টি। এর মধ্যে ১৫টি পুরুষ ও ১৬টি মাদি জেব্রা।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, নির্দিষ্ট এলাকায় কয়েকটি পালে জেব্রাগুলো ঘুরে বেড়ায়। সদ্য জন্ম নেয়া শাবকটি সহ এ বছর জেব্রা পরিবারে ৮টি নতুন সদস্য এসেছে। নতুন শাবকটি পুরুষ। মা ও শাবক উভয়েই সুস্থ আছে। মা জেব্রার পুষ্টিমানের কথা বিবেচনা করে খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঘাসের পাশাপাশি মা জেব্রাকে ছোলা, গাজর ও ভূষি দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন


মনোনয়ন ফরমের আগেই ১০ হাজারে কিনতে হচ্ছে উপজেলা আ.লীগের দলীয় ফরম

ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়েই ফিরছে সেন্টমার্টিনে আটকা পর্যটকরা

মহেশখালীতে সাবেক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

পূজামণ্ডপ কেন্দ্রিক ‘অপ্রীতিকর ঘটনায়’ ৭১ মামলায় আটক ৪৫০


তিনি জানান, পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের পশুপাখি থেকে নিয়মিত বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এ পার্ক থেকে এক সময় দেশে জেব্রার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। জেব্রা আমদানির নির্ভরতাও কমে আসবে।

জেব্রাদের প্রধান খাবার ঘাস। আফ্রিকান এসব পুরুষ জেব্রা ৪ বছর বয়সে ও মাদি জেব্রা তিন বছরে প্রজননের উপযোগী হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর