বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ৪৭ মিনিট আগে

সহকর্মীকে হ্যান্ডসাম বলায় বরখাস্ত টিভি উপস্থাপিকা

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

সহকর্মীকে হ্যান্ডসাম বলায় বরখাস্ত টিভি উপস্থাপিকা

টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সময় পুরুষ সহকর্মীকে ‘হ্যান্ডসাম’ বলেছিলেন উপস্থাপিকা। আর তাতেই বেজায় চটে যান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। গণমাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা নাকি একেবারেই অশোভনীয়।তাই শেষমেশ চাকরিই খোয়াতে হল ওই উপস্থাপিকাকে। দিন কয়েক আগে ঘটনাটি ঘটেছে কুয়েতে।

দেশটিতে পৌরসভা নির্বাচন চলছে। সেখানকার সরকারি টিভি চ্যানেলে ওই নির্বাচনেরই সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন বাসিমা আল-শামার নামের এক উপস্থাপিকা।সম্প্রচার চলার সময় স্থানীয় রিপোর্টার নওয়াফ অল-শিরাকির সঙ্গে কথোপকথন শুরু হয় বাসিমার। সঞ্চালিকার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কিছুটা সময় নিজের ‘গুত্রা’ (মধ্যপ্রাচ্যে পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী মাথা ঢাকার বস্ত্র) ঠিক করে নিচ্ছিলেন নওয়াফ। ততক্ষণে ক্যামেরা রোল করা শুরু করে দিয়েছে। বাসিমা তাকে বলেন, ‘গুত্রা ঠিক করার প্রয়োজন নেই। তুমি এমনিতেই খুব হ্যান্ডসাম।’

পুরো ঘটনাকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে বাসিমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কুয়েতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।মহম্মদ অল-হায়াফ নামের এক বিধায়ক টুইটারে লিখেছেন, ‘একজন সরকারি টিভি চ্যানেলের উপস্থাপিকার এ ধরনের মন্তব্য কখনই শোভনীয় নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।’

সৌদি আরবের দৈনিক আরব নিউজ জানিয়েছে, বাসিমার ওই মন্তব্যের পর পুরো দেশের সংবাদ মাধ্যম মোটামুটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনগণের মধ্যেও। 

একদলের দাবি, এটা নিছক কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই মন্তব্য করেননি উপস্থাপিকা। আবার অন্য পক্ষ বাসিমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তাদের দাবি, লাইভ অনুষ্ঠানে সহকর্মীকে এই ধরনের মন্তব্যের অর্থ ‘ফ্লার্ট’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

তবে কোনোরকম উদ্দেশ্য ছাড়াই ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বাসিমা। তিনি বলেন, ‘নওয়াফকে আমি শুধু বলতে চেয়েছিলাম, তোমার গুত্রা খুবই সুন্দর আর সেটা পড়ে তোমাকে খুব ভাল লাগছে। তাই আলাদা করে কোনও কিছু ঠিক করার দরকার নেই। তুমি বলতে শুরু করো। আমরা তোমার কথা শুনবো বলে অপেক্ষা করে আছি।’ 

সহকর্মীকে পুরোপুরি সমর্থন করেছেন নওয়াফও। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ হিসেবে বাসিমার তুলনা হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, তার মতো দক্ষ উপস্থাপিকাও হয় না।’

সূত্র: গালফ নিউজ, আরব নিউজ

অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য