যে ব্যক্তি সপ্তাহে ৫ দিন এবং ৮ ঘণ্টা কাজের একটা বিধিমালা নির্ধারণ করে
যে ব্যক্তি সপ্তাহে ৫ দিন এবং ৮ ঘণ্টা কাজের একটা বিধিমালা নির্ধারণ করে

যে ব্যক্তি সপ্তাহে ৫ দিন এবং ৮ ঘণ্টা কাজের একটা বিধিমালা নির্ধারণ করে

Other

আমরা আগে সপ্তাহে সাতদিনই কাজ করতাম এবং ২৪ ঘণ্টায় কয় ঘন্টা কাজ করবো তা নিয়ে ছিলো না কোন বিধিনিষেধ। ১৯২৬ সালে হেনরি ফোর্ড নামের এক ভদ্রলোক সপ্তাহে ৫ দিন এবং দিনের ২৪ ঘণ্টায় ৮ ঘণ্টা কাজের একটা বিধিমালা নির্ধারণ করে দেন।

ছবিতে আমরা যাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনিই সেই ভদ্রলোক যিনি ১৯২৬ সালে দিনে ৮ ঘন্টা, সপ্তাহে ৫ দিনের ওয়ার্কউইক ঘোষণা করেছিলেন।

হেনরি ফোর্ড এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেছিলেন: "এই সময় থেকে নিজেদেরকে এমন ধারণা থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার সময় এসেছে যে, শ্রমিকদের জন্যেও অবসর হয় 'হারিয়ে যাওয়া সময়' বা শ্রেণী বিশেষাধিকার।

" ফোর্ড তার নিজ প্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু করেন এই কার্যক্রম। তবে, উৎপাদনশীলতার বৃদ্ধির জন্য পাঁচ দিনের ওয়ার্কউইকও চালু করা হয়েছিল: যদিও কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে সময় কমিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তখন সারা দেশ এবং বিশ্বজুড়ে নির্মাতারা শীঘ্রই ফোর্ডের নেতৃত্ব অনুসরণ করে এবং সোমবার থেকে শুক্রবারের কর্ম সপ্তাহটি সাধারণ অনুশীলন হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেছিলেন।

news24bd.tv

ফোর্ড ছিলেন একজন বহুমুখী উদ্ভাবক এবং ১৬১ টি ইউ.এস পেটেন্টের অধিকারী। হেনরি ফোর্ডকে সস্তা পণ্যের বহু উৎপাদনশীলতার জনক বলা হয়, কারণ তিনি তার কোম্পানিতে ব্যায়বহুল শ্রমশক্তি এবং যন্ত্র সমন্বয়ে অধিক উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফোর্ড হচ্ছেন পৃথিবীর প্রথম বিলিয়নিয়ার যিনি শিল্প বিপ্লবের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া তিনি ফ্র‍্যাঞ্চাইজি এবং ডিলারশিপ ব্যাবস্থার প্রবর্তন করেন। ফোর্ড মোটর কোম্পানির মালিক হিসেবে তিনি পৃথিবীর অন্যতম ধনী ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

তিনি ততোটা বিজ্ঞানী ছিলেন না, যতোটা ছিলেন প্রযুক্তিবিদ। বিংশ শতাব্দীর সমাজকে তার চেহারায় পৌঁছে দিতে গাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আধুনিক গাড়িশিল্পকে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান কারিগর ছিলেন হেনরি ফোর্ড।

ডেট্রয়েটের কাছে একটি কৃষক পরিবারে জন্মেছিলেন ফোর্ড, ১৬ বছর বয়সে তিনি ডেট্রয়েটে কাজ করতে যান। ইন্টারনাল কমবাসচন ইঞ্জিনএরসঙ্গে সেখানেই তাঁর পরিচয় হয়। ৩ বছর পর তিনি তার কৃষি খামারে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি প্রায় এক দশক ধরে কাজ করে খামারটিকে যন্ত্রনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করেন। একটি স্টিম ইঞ্জিন চালিত ট্র্যাক্টরও তৈরি করেন ফোর্ড।

এরপর তিনি ডেট্রয়েটে ফিরে যান এবং সেখানে একটি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার চিফ ইঞ্জিনিয়ার হন। অবসর সময়ে তিনি গাড়ি নিয়ে বহু পরীক্ষানিরীক্ষা করেন এবং নানা ধরনের পেট্রোলনির্ভর গাড়ি তৈরি করেন।

তিনি তাঁর উদ্ভাবনগুলিকে বাজারজাত করতে রাজি ছিলেন না, তাঁর তৈরি গাড়িগুলিকে নিখুঁত করে তুলতে তিনি ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৯০৩ সালে ফোর্ড মোটর কোম্পানির মাধ্যমে তিনি প্রথম গাড়িটিকে বাজারে আনেন। ১৯০৮ সালের অক্টোবরে ফোর্ড বিখ্যাত ‘টি’ মডেলের গাড়ি বাজারে আনেন। এই মডেলের জোরেই গাড়ি ধনীর বিলাসদ্রব্য থেকে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে পরিণত হয়। দুই দশকের মধ্যে ১ কোটি ৭০ লক্ষ ‘টি’ মডেলের গাড়ি তৈরি হয়। আজ পর্যন্ত যত গাড়ি বিক্রি হয়েছে, তার অর্ধেক এই সময়েই বিক্রি হয়েছিল।

news24bd.tv এসএম