বগুড়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক

বগুড়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ

বগুড়ার শেরপুরে বাক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আটক জহরুল ইসলাম ইসলাম তালেব উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের সোহরাব শেখের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ওই প্রতিবন্ধী নারী বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হন। এ সময় গ্রামটির পাশেই অবস্থিত বেসরকারি একটি কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিক জহুরুল ইসলাম তালেব ওই প্রতিবন্ধী নারীকে ঝাপটে ধরে কোম্পানির পরিত্যক্ত একটি গোডাউনের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের দুই-তিনজন ব্যক্তি গোডাউন সংলগ্ন সড়কটি দিয়ে যাওয়ার পথে ঘটনাটি দেখতে পায়।

আরও পড়ুন:


নিবন্ধন নেই, তবুও বন্ধ হচ্ছে না যেসব হ্যান্ডসেট

বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করল সরকার

ভেসে আসা তিমির ওজন ৩০ হাজার কেজি, দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট

বিএনপির স্ট্যান্ডবাজি ডিপ ফ্রিজে: ওবায়দুল কাদের

ঢাবি’র ভর্তি পরীক্ষা বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত

চিৎকার বন্ধ করতে সন্তানের গলায় ছুরি, মাকে ধর্ষণ

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায় ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরাম


 

পরে তালেবকে আটক করে থানায় সংবাদ দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তাকে সোপর্দ করা হয়।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বেলগাড়ি গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে আল আমিন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ওই বাক প্রতিবন্ধী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মাথাবিহীন অজ্ঞাত যুবকের লাশ ভাসছে পদ্মায়

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর

মাথাবিহীন অজ্ঞাত যুবকের লাশ ভাসছে পদ্মায়

মাদারীপুরের শিবচরে অজ্ঞাত এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শিবচর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে মাথাবিহীন মরদেহটি উদ্ধার করে কাঠালবাড়ি ঘাট নৌপুলিশের একটি দল।

কাঠালবাড়ি নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানায় , বিকেলে শিবচরের কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গেট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে শিবচর থানায় সংবাদ দিলে রাত সাড়ে আটটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:


পীরগঞ্জের ঘটনায় রিমান্ড শেষে ৩৭ জন জেলহাজতে

সাকিব-নাসুমের পর সাইফুদ্দিনের আঘাত

লিটনের ক্যাস মিস, মাসুল গুনছে টাইগাররা


 

স্থানীয় মনির হোসেন জানান ,সন্ধ্যার একটু আগে এলাকায় কিছু ছেলেরা নদী লাশটি ভাসতে দেখে আমাদের খবর দেয়। পরে আমরা দেখি কচুরিপানার মধ্য লাশটি ভাসছে।

কাঠালবাড়ি নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) রেজাউল করিম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছি। মরদেহটি মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়াও মরদেটির মাথা না থাকায় চেনা যাচ্ছে না।তবে লাশটির আনুমানিক বয়স ২৫ থেকে ৩০ হবে। পড়নে ফুল প্যান্ট পরা রয়েছে। মরদেহটি প্রায় গলে গেছে।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, লাশ গুমে সহায়তা করে খুনির বাবা

নাটোর প্রতিনিধি

সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, লাশ গুমে সহায়তা করে খুনির বাবা

নাটোরের লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের আব্দুলপুর মধ্যপাড়া গ্রামের শিশু নুসরাত জাহান বাবলীকে (৭) একা পেয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হাঁসুয়ার আঘাতে হত্যা করে কিশোর ইলিয়াস হাসান ইমন (১৫)। 

মৃত্যু নিশ্চিতের পর মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে টয়লেটের ট্যাংকিতে ভরে রাখে ইমন। একদিন পর বাবলীর মৃতদেহ আবার ট্যাংকি থেকে তুলে বাবলীর বাড়ি অদূরে একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। 

নিখোঁজের পূর্বে বাবলী ইমনদের বাড়িতে আসার কথা জানাজানি হলে বাবা ফাইজুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করলে ইমন হত্যার কথা স্বীকার করে। তখন বাবা ফাইজুল বস্তাবন্দি মৃতদেহটি দূরের আরেকটি ধানক্ষেতে ফেলে আসে। 

আজ রোববার (২৪ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেন জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

এর আগে শনিবার রাতে কিশোর ইমন ও তার বাবা ফাইজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে লালপুর থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাঁসুয়াটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাবলী ওই গ্রামের বাবু হোসেনের মেয়ে।

আরও পড়ুন:


স্বামীকে হত্যার পর হাত-পা কেটে পাতিলে রাখেন দ্বিতীয় স্ত্রী!

যে ক্লাবের সদস্য হতেই লাগে দেড়শ' কোটি টাকা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিতর্কিত কিছু ঘটনা

লাখ টাকায় স্ত্রীকে বৃদ্ধের কাছে বিক্রি করে দিলো স্বামী!


পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, গত ১৯ শে অক্টোবর নিহত বাবলী ও হত্যাকারী ইমনসহ বেশ কয়েকজন শিশু পিকনিকের জন্য প্রতিবেশি আরশেদ আলীর বাড়িতে যায়। রান্না শেষে গোসলের জন্য সবাই বাড়ি গেলে ইমনও তার বাড়িতে চলে যায়। ইমন তার বাড়িতে একাকী থাকা অবস্থায় শিশু বাবলী তার বাড়িতে যায়। এ সময় বাবলীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে ইমন। বাবলী কান্নাকাটি করলে ইমন তার গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাবলী নিস্তেজ হয়ে পড়লে ধারালো হাঁসুয়ার উল্টোদিক দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করলে বাবলীর মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাবলীকে হত্যার পর তাৎক্ষণিক মরদেহ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে ফেলে দেয় কিশোর ইমন। পরদিন ২০ অক্টোবর রাতে টয়লেট থেকে মৃতদেহ তুলে বাবলীর বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে জিয়া মেম্বারের আম বাগানের পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। পরদিন বাবা ফাইজুল ইমনের কাছে জানতে চান তাদের বাড়িতে বাবলীর আসার ঘটনা সত্য কি না। এ সময় বাবার কাছে হত্যা ও মরদেহ রেখে আসার স্থান বলে দেয় ইমন। তখন বাবা ফাইজুল ছেলেকে বাঁচাতে ধানক্ষেত থেকে বস্তাটি সরিয়ে আরেকটু দূরে মাসুদ রানার ধানক্ষেতে ফেলে আসে।

লিটন কুমার সাহা আরও বলেন, হত্যার দিন দুপুরে আরশেদ আলীর বাড়িতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বাবা বাবু হোসেন আত্মীয় স্বজনদের জানানোর পাশাপাশি আব্দুলপুর এলাকায় মাইকিং ও রেলস্টেশনে পোস্টারিং করেন। নিখোঁজের চতুর্থ দিনে বাবা বাবু জানতে পারেন তার বাড়ির ৭০০ মিটার দূরে একটি জমিতে বস্তাাবন্দি অবস্থায় একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। এ সময় বাবু সেখানে গিয়ে মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ শনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জোবায়ের, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দীনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

স্বামীকে হত্যার পর হাত-পা কেটে পাতিলে রাখেন দ্বিতীয় স্ত্রী!

অনলাইন ডেস্ক

স্বামীকে হত্যার পর হাত-পা কেটে পাতিলে রাখেন দ্বিতীয় স্ত্রী!

পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বামীকে খুন করার পর দেহ থেকে হাত-পা কেটে পাতিলে রাখে দেন। ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড রুহিতা গ্রামের পণ্ডিতের পোল এলাকায় রোববার (২৪ অক্টোবর) ভোররাতে শিহালী বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছে। খুন হওয়া ব্যাক্তির নাম মো. ফরহাদ হোসেন টিটব মুন্সী (৪৫)।

ভোলা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত টিটব মুন্সী সদর উপজেলার উওর দিঘলদী ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড ঝড়ু মুন্সী বাড়ির বেলায়েত হোসেন মুন্সীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহত টিটব মুন্সীর দ্বিতীয় স্ত্রী নুরনাহার বেগমকে রক্তাক্ত দা’সহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলো তুরস্ক

যে ক্লাবের সদস্য হতেই লাগে দেড়শ' কোটি টাকা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিতর্কিত কিছু ঘটনা

লাখ টাকায় স্ত্রীকে বৃদ্ধের কাছে বিক্রি করে দিলো স্বামী!


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো টিটব গতকাল রাতে আলীনগরে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুর নাহার বেগমের বাড়িতে যান। সকালে তার স্ত্রীকে ঘরের সামনে রক্তাক্ত দা হাতে নিয়ে বসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ নাম্বারে ফোর করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ঘরের ভেতরের মেঝে থেকে টিটবের রক্তাক্ত মহদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক স্ত্রী নুরনাহারকে গ্রেপ্তার করেন।

ভোলা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, শনিবার রাতে ওই বাড়িতে তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাতে টিটব ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর স্ত্রী রাতের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘুমন্ত স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর টিটবের হাত-পা টুকরো টুকরো করে রান্না করার পাতিলে রাখেন।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

শ্যামলীতে শো-রুমে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৬

মাসুদা লাবনী

শ্যামলীতে শো-রুমে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৬

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ইডেন অটো'স মোটরসাইকেল শো-রুমে ডাকাতির ঘটনার মূল হোতা মোঃ জহিরুল ইসলাম জহিরসহ ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

আজ রবিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও ধামরাই থেকে লুন্ঠিত অর্থ ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‍্যাব  

আরও পড়ুন


যে কারণে মহিব উল্লাহসহ ৭ খুন সংঘটিত হয়!

ঘুরতে আসা তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা, মূল হোতা গ্রেপ্তার

পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ইকবালের সঙ্গে যে ৩ জনের যোগসূত্র

ঘটনা তৃতীয় পক্ষই ঘটিয়েছে, ইকবাল শুধু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন, তৃতীয় পক্ষ কারা?

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের বিপরীত পাশে ভবনের দ্বিতীয় তলার ‘ইডেন শোরুমে’ এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে দু’জন আহত হয়েছেন।

শোরুমটির একাংশের মালিক আব্দুল খালেক জানান, ১০-১২ জন ডাকাত সদস্য শোরুমে ঢুকেন। এর পরপরই তারা দু’জনকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে ক্যাশ ছিনিয়ে নিয়ে যান। তাদের সবার হাতেই চাপাতি ছিল।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

যে কারণে মহিব উল্লাহসহ ৭ খুন সংঘটিত হয়!

অনলাইন ডেস্ক

যে কারণে মহিব উল্লাহসহ ৭ খুন সংঘটিত হয়!

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচআর) চেয়ারম্যান মহিব উল্লাহকে হত্যায় জড়িত ছিল ১৯ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে মরকজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে সন্ত্রাসীরা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, মহিব উল্লাহকে থামাতে হবে। দিনে দিনে তিনি রোহিঙ্গাদের নেতা হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গাদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচজন অস্ত্রধারীসহ ১৯ জন মাত্র দুই মিনিটে গুলি করে হত্যা করে তাঁকে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) কর্মকর্তারা।

এদিকে গত শুক্রবার ভোরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার পর মহিব উল্লাহ খুনে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া আজিজুল হকসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। গতকাল শনিবার আসামি আজিজুল হক কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জেরিন সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর অগে আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াস মাঝি নামের এক আরসা মতাদর্শী সন্ত্রাসী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করছেন, শুক্রবারের ছয় খুনের সঙ্গে মহিব উল্লাহ খুনের যোগসূত্র তাঁরা পাননি। তবে রোহিঙ্গারা বলছে, আরসা ও এর মতাদর্শী সংগঠনের সন্ত্রাসীরাই দুই খুনের ঘটনায় জড়িত। তারা এলাকায় ভিন্ন কোনো সংগঠন এবং প্রত্যাবাসনের পক্ষে কার্যক্রম দেখতে চায় না। মহিব উল্লাহর মতোই ইসলামিক মাহাজ নামের একটি সংগঠন প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করছিল। তাদের বিরোধিতার কারণেই শুক্রবার ভোরে মাদরাসায় হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়।

এদিকে ছয় খুনের পর উখিয়ার ১৮ নম্বর ক্যাম্পে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাদরাসাটি ঘিরে পাহারা বসিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয় লোকজন বলছে, আশপশের ক্যাম্প থেকে আরসার মতাদর্শী আল ইয়াকিন ও ‘উলামা কাউন্সিলের’ শতাধিক সন্ত্রাসী এসে মাদরাসায় হামলা করে। এদের মধ্যে অন্তত ১০ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে আতঙ্কে আছে ক্যাম্পের বাসিন্দরা। ইসলামিক মাহাজ ও মহিব উল্লাহর মতাদর্শীদের বিরুদ্ধে আরো হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

গতকাল পর্যন্ত এপিবিএন সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে গত রাত পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো বাদী না পাওয়ায় মামলায় দেরি হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএন-১৪-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, গতকাল ভোর ৪টার দিকে কুতুপালং শিবিরের লম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী লোহার ব্রিজ এলাকা থেকে একটি ওয়ান শ্যুটার গানসহ আজিজুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর তথ্য মতে মোহাম্মদ রশিদ প্রকাশ মুর্শেদ আমিন, মোহাম্মদ আনাছ ও নূর মোহাম্মদ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সবাই কুতুপালং শিবিরের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে আজিজুল হক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন


ঘুরতে আসা তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা, মূল হোতা গ্রেপ্তার

পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ইকবালের সঙ্গে যে ৩ জনের যোগসূত্র

ঘটনা তৃতীয় পক্ষই ঘটিয়েছে, ইকবাল শুধু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন, তৃতীয় পক্ষ কারা?


জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে নাঈমুল হক বলেন, মহিব উল্লাহকে হত্যার দুই দিন আগে রাত ১০টার দিকে লম্বাশিয়া মরকজ পাহাড়ে একটি মিটিং করা হয়। ওই কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আজিজুল হকসহ চারজন উপস্থিত ছিলেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, মাস্টার মহিব উল্লাহ রোহিঙ্গাদের বড় নেতা হয়ে উঠেছেন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনসংক্রান্তে বিশেষ ভূমিকা পালন করায় দিনে দিনে মহিব উল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে উঠেছেন। তাই তাঁকে থামাতে হবে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজের পর গ্রেপ্তারকৃত মুর্শেদ আমিন প্রত্যাবাসন বিষয়ে কিছু লোক কথা বলবে জানিয়ে মহিব উল্লাহকে অফিসে ডেকে নিয়ে যান। অফিসে গেলে মুর্শেদ আমিন অন্য দুই সন্ত্রাসী আনাছ ও নুর মোহাম্মদকে জানান। এ দুজন কিলিং মিশনের অপেক্ষমাণ অন্য সদস্যদের সংবাদ দেন। সংবাদ পেয়ে মুখোশধারী সাতজন এসে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। অফিসে ঢুকে কিলারদের একজন মাস্টার মহিব উল্লাহকে বলেন, ‘মহিব উল্লাহ উঠ।’ তিনি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালে প্রথম কিলার একটি গুলি, দ্বিতীয় কিলার দুটি এবং সর্বশেষ আরেকজন একটি, মোট চারটি গুলি করেন। মহিব উল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হত্যাকাণ্ডের পর কিলাররা অফিসের পেছনের পেঁপেবাগান হয়ে পালিয়ে যান। এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ করে দেন। 

গত ২৯ সেপ্টেম্বর খুনের পরের দিন মহিব উল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। উখিয়া থানা পুলিশ আগে পাঁচজনকে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াস কক্সবাজার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সূত্র: কালের কণ্ঠ 

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর