গাজীপুরে পোশাক শ্রমিককে ডেকে নিয়ে হত্যা, ১৯ ঘন্টা পর লাশ উদ্ধার
গাজীপুরে পোশাক শ্রমিককে ডেকে নিয়ে হত্যা, ১৯ ঘন্টা পর লাশ উদ্ধার

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিককে ডেকে নিয়ে হত্যা, ১৯ ঘন্টা পর লাশ উদ্ধার

Other

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কালামপুর খাঁজার ডেক এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ডেকে পোশাক শ্রমিককে হত্যার পর রেললাইনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর খাঁজার ডেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

৯৯৯-এ ফোন দিলে ঘটনার ১৯ ঘন্টা পর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ লাশ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তুলকালাম কাণ্ড।

নিহত হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকার আব্দুল সামাদের ছেলে রাসেল হাসান (৩২)। তিনি স্থানীয় এপ্রেক্স কারখানার লাইন সুপারভাইজার ছিলেন।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার, থানা ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কে বা কারা মোবাইল ফোনে রাসেলকে ডেকে পাঠায়। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে পাশের খাঁজার ডেক এলাকায় রেললাইনের পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন নিহতের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।  

আরও পড়ুন


রোহিঙ্গাদের নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ জিকরুল্লাহ'র মৃত্যু

রাষ্ট্রীয় নথি জালসহ কয়েকটি অপরাধে ফেঁসে যাচ্ছেন নাসির-তামিমা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু


প্রথমে ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে এমন ভাবলেও পরে লাশ দেখে পরিবারসহ স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ৯৯৯-এ ফোন দিলে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ নিহতের বাড়িতে যায়। কিন্তু তারা নিহতের লাশ উদ্ধার না করে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়।  

খবর পেয়ে স্থানীয় রেল ষ্টেশনের লোকজন নিহতের লাশ উদ্ধার না করে চলে যায়। এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ, গত ৪/৫ দিন আগে রাসেলদের  দোকানের বকেয়া আদায় নিয়ে তার সাথে কয়েক জনের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কা ধাক্কির ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে এর জেরে তাকে হত্যার পর ওই রেললাইনের পাশে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।  

এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন হলে ওই রাতেই স্থানীয় মাতব্বর, রেল স্টেশনের লোকজন, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নিহতের লাশ দাফন না হলে ও হত্যার গুঞ্জন উঠলে পরের দিন (০২ অক্টোবর) শনিবার সকালে আবারও কালিয়াকৈর থানা পুলিশ নিহতের বাড়িতে যায়। তবুও জটিলতার কথা বলে নিহতের লাশ উদ্ধার করেনি থানা পুলিশ।  

দুপুরে রেলওয়ে পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে জটিলতা দেখিয়ে লাশ উদ্ধারে অনিহা প্রকাশ করে। নানা আলোচনা সমালোচনা শেষে ঘটনার ১৯ ঘন্টা পর দুপুর ২টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।  

জয়দেবপুর রেল জংশনের উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, লাশটি রেললাইনের পাশে না থাকায় জটিলতার সৃষ্টি হলে উদ্ধারের বিলম্ব হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।  

কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম জানান, নিহতের লাশ রেললাইনের পাশে পড়ে থাকায় এটা থানার আওতায় পড়ে না। এ কারণেই আমরা লাশ উদ্ধার করি নাই। রেলওয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

news24bd.tv/ কামরুল