সূরা বাকারা: আয়াত ১০৮-১১২, ইহুদীদের অবাঞ্ছিত আশা ও শিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১০৮-১১২, ইহুদীদের অবাঞ্ছিত আশা ও শিক্ষা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১০৮ থেকে ১১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১০৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

أَمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَسْأَلُوا رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ (108

‘‘তোমরা কি তোমাদের রাসূলের নিকট সে ধরনের প্রশ্ন বা আবদার করতে চাও যেরকম পূর্বে মূসাকে করা হয়েছিল? জেনে রাখ যে, এ ধরনের বাহানা এনে বিশ্বাসের পরিবর্তে যে অবিশ্বাসকে গ্রহণ করে, সে নিশ্চিতভাবে সরল পথ হারায়৷’’ (২:১০৮)

কিছু দুর্বল ঈমানের অধিকারী লোক অদ্ভুত ধরনের মোজেযা বা অলৌকিক শক্তি দেখানোর জন্য নবীজীর কাছে আবদার করত, যেমন বলত আমাদের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে একটি চিঠি নিয়ে আসুন। তাদের এ ধরনের দাবি ছিল হযরত মূসা (আ.) এর প্রতি বনী ইসরাইলের দাবির মত। বনী ইসরাইল বলেছিল, আমরা আল্লাহকে দেখতে চাই, আপনি আল্লাহকে দেখানোর বন্দোবস্ত করুন, তাকে আমরা স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈমান আনবো। মূলত: মোজেযার উদ্দেশ্য হলো নবুয়্যত প্রমাণিত করা। প্রত্যেকের ইচ্ছা পূরণ করা নবীর কাজ নয়। যেমন একজন প্রকৌশলী তার দাবির প্রমাণ হিসাবে কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করে। কিন্তু যে কেউ তাকে দালান কোঠা বানাতে বললেই সে বানায় না।

এরপর এই সূরার ১০৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (109

‘‘আহলে কিতাবদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও তাদের মধ্যে অনেকে হিংসার কারণে, তোমাদেরকে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী হিসাবে পেতে চায়। কিন্তু তোমরা তাদেরকে ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর, যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন ৷ আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান৷’’ (২:১০৯)

মদীনায় বসবাসরত ইহুদীরা সবসময় মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে সরিয়ে নেয়ার কিংবা তাদের ঈমান দুর্বল করার চেষ্টা করত। পবিত্র কোরআন এ প্রসঙ্গে মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে তারা নিজেদেরকে সত্যপন্থী মনে করে বলেই এ কাজ করছে। বরং তারা ইসলাম ও কোরআনের সত্যতা উপলদ্ধি করেছে, কিন্তু তাদের হিংসা ও বিদ্বেষের কারণে তারা এ কাজ করছে। সে সময় মুসলমানদের শক্তি কম থাকায় আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন, মুসলমানরা যাতে শত্রুদের প্রবল চাপ উপেক্ষা করে চলে এবং যতক্ষণ না কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ আসে ততক্ষণ আত্মসংশোধনে নিয়োজিত হয়। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রথমেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ঠিক নয়, বরং ইসলামী নৈতিকতা অনুযায়ী প্রথমে ক্ষমা প্রদর্শন করতে হবে যাতে তারা সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ পায়৷ এরপরও তারা সঠিক পথে না এলে তাদের মোকাবেলা করতে হবে ৷

এরপর সূরা বাকারা'র ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآَتُوا الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (110

"তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে আগে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।" (২:১১০)

দুশমনরা যখন মুসলমানদের ঈমান দুর্বল করতে চায় তখন আল্লাহ মুসলমানদের ঈমান শক্তিশালী করার জন্য তাদেরকে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একইসাথে যাকাতের মাধ্যমে অন্যান্য মুসলমান বিশেষ করে দুঃস্থদের সাথে সম্পর্ক জোরদারের আহবান জানান। পবিত্র কোরআনে সাধারণত নামাজের নির্দেশের পাশাপাশি যাকাতের কথাও বলা হয়েছে। এর কারণ সম্ভবত এটাই যে, মানুষের সেবা করা ছাড়া আল্লাহর এবাদত যথেষ্ট নয়। অপর পক্ষে শুধু মানব সেবার কথাও বলা হয়নি। কারণ আল্লাহর আনুগত্যহীন মানব সেবার ফলে জন্ম নিতে পারে অহঙ্কার, গর্ব ও অন্যকে হেয় করার প্রবণতা। মানুষের একটি সাধারণ আশঙ্কা হলো, অন্যরা বুঝি তার সেবা ও খেদমতের কথা জানাতে পারবে না এবং জানলেও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে না। তাই মানুষের মধ্যে ভালো কাজের প্রবণতা কমে যায়। এ আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা উদ্বিগ্ন হইও না কারণ তোমরা যা কিছু কর তার সব আল্লাহ দেখতে পান এবং পুরস্কার আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে।

আরও পড়ুন


মুনিয়ার বাসায় শেষ গিয়েছিল নুসরাতের ৩ সহযোগী

থ্রিলার ম্যাচে জিতলো মুস্তাফিজের রাজস্থান

আজ থেকে শুরু ঢাকা-আবুধাবি রুটে বিমানের ফ্লাইট

বাংলাদেশে অপরাজনীতির হোতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ সেলিম :কাদের মির্জা


এবারে সূরা বাকারা'র ১১১ ও ১১২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ দুই আয়াত বলা হয়েছে -

وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (111) بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (112

‘‘তারা বলে ইহুদী বা খ্রিস্টান ছাড়া আর কেউ কখনও বেহেশতে প্রবেশ করবে না। এটা তাদের মিথ্যা আশা। বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে প্রমাণ পেশ কর।’’ (২:১১১)

‘‘যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তার ফল তার প্রতিপালকের কাছে আছে এবং তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’’ (২:১১২)

মুসলমানদের মনোবল দুর্বল করার জন্য ইহুদী খ্রিস্টানদের একটি অন্যতম প্রচারণা ছিল যে, তারা বেহেশতকে নিজেদের অধীন বলে দাবি করত এবং বলত, বেহেশতে যেতে চাইলে তোমাদেরকে ইহুদী কিংবা খ্রিস্টান হতে হবে। পবিত্র কোরআন তাদের এ দাবির জবাবে বলেছে, তোমাদের এ ধারণা অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। এর পেছনে তোমাদের কোন যুক্তি প্রমাণ নেই৷ কারণ পবিত্র জান্নাত কোন গোত্র বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং বেহেশতে প্রবেশের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি। যে কেউ ওই মাপকাঠির ভিত্তিতে বেহেশতে যেতে পারে। বেহেশতে প্রবেশের চাবি হলো- আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। মানুষ আল্লাহর প্রতি নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে, যদি একমাত্র তারই উদ্দেশ্যে সৎকাজ করে তাহলে সে বেহেশতে যেতে পারে। কেউ যদি আল্লাহর নির্দেশের কিছু অংশ মান্য করে এবং কিছু অংশ বাদ দেয় তাহলে সে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হবে। প্রকৃতপক্ষে গোত্রীয় বিদ্বেষ ও বর্ণ-বিদ্বেষের সঙ্গে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনের কোন মিল নেই। দু'টি সম্পূর্ণ পরস্পর বিরোধী। ইসলাম যে সত্য ধর্ম-এটা বোঝার পরও যারা তাদের বিদ্বেষের কারণে ঈমান আনেনি, তারা বেহেশতে যেতে পারবে না। এমনকি তারা আহলে কিতাব বা পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি আল্লাহর দেয়া কিতাবের অনুসারী হলেও কোন লাভ হবে না। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে সে কোন কিছুকেই ভয় পায় না। সবসময় আল্লাহকে নিজের কাছে অনুভব করে এবং তারই আশ্রয়ে নিজেকে খুঁজে পায়।

এ কয়েকটি আয়াতের মূল শিক্ষা হচ্ছে -

১. মানুষ আল্লাহর অলী-আউলিয়াদের কাছ থেকে অনেক সময় যেসব অবাঞ্ছিত আশা বা দাবি করে আসলে তা কুফরী বা অবিশ্বাসের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। কারণ আল্লাহর অলীগণ মানুষের অর্থহীন দাবি পূরণ করেন না। ফলে ওই ব্যক্তির বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যায়।

২. কাফের-মুশরেকদের সাথে দৃঢ় আচরণের আগে আন্তরিক ব্যবহার ও ক্ষমা প্রদর্শন করতে হবে। এই সহৃদয় আচরণ দুর্বলতার নিদর্শন নয় বরং এ হলো তাদেরকে আকর্ষণ ও সংশোধনের উপায় ৷

৩. আমাদের কখনই ভাবা ঠিক নয় যে, বেহেশত কোন একটি নির্দিষ্ট জাতি বা গোত্রের জন্য নির্ধারিত। আমরা মুসলমান- কেবল এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই যে বেহেশতে যাবো তা নয়। বরং আমাদের বেহেশতে যাবার শর্ত হলো ঈমান ও সৎকাজ।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

নারীর অধিকার রক্ষায় কোরআনে যা বলা আছে

আলেমা মারিয়া মিম

নারীর অধিকার রক্ষায় কোরআনে যা বলা আছে

পবিত্র কোরআনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অধিকার নিশ্চিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নারীর অধিকার রক্ষায় পুরুষকেই নির্দেশনা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন নারীদের যেসব সম্মান ও অধিকার দিয়েছে নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

বেঁচে থাকার অধিকার

ইসলাম-পূর্ব নারীরা ছিল চরম অবহেলিত, ঘৃণিত। কন্যাসন্তান জন্মের সংবাদ শোনামাত্র তাদের মুখ অন্ধকার ও মলিন হয়ে যেত। এমনকি কন্যাসন্তানকে জীবিত মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্মম ঘটনাও ঘটেছিল সে সময়। বর্তমানেও কোনো কোনো অঞ্চলে এ ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মেয়েদের প্রতি তাদের এই ঘৃণ্য আচরণের নিন্দা জানিয়ে কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়, তার থেকে বাঁচতে সে নিজ সমপ্রদায় থেকে আত্মগোপন করে; সে চিন্তা করে যে হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে, তা কতই না নিকৃষ্ট।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)

উপার্জিত সম্পদে মালিকানার অধিকার

তৎকালীন সময়ে নারীদের অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরে মোহাম্মদ রশিদ রেজা (রহ.) বলেন, সে সময় নারীদের জন্তু-জানোয়ারের মতো কেনাবেচা হতো। স্বামীরা তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। মিরাস (উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি) তো পেতই না; উপরন্তু তারাও মিরাস হিসেবে বণ্টিত হতো। তারা অধিকারী ছিল না; ছিল অধীনস্থ। এমনকি স্বীয় উপার্জিত সম্পদে তাদের মালিকানা ছিল না, উপার্জন করে আনলেও স্বামীরা লুট করে নিত। অথচ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।’ (সুরা: নিসা, আয়াত : ৩২)

হালাল-হারামের বিধানে বৈষম্য পরিহার

জাহিলি যুগের পুরুষরা মনে করত নারী হলো অনুভূতিহীন প্রাণীর মতো। যার নিজস্ব কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই; কিন্তু দায়িত্ব আছে অনেক। তার জন্য মতামত  কিংবা কথা বলার অধিকার নেই। নির্বাক প্রাণীর মতো সর্বদাই মুখ বুঝে সহ্য করতে হবে তাদের। পুরুষের জন্য যা জায়েজ নারীর জন্য তা হারাম। নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক এ আচরণ বর্তমানেও দেখা যায়। কোরআনুল কারিমে তাদের এ বিদ্বেষমূলক আচরণের বর্ণনা এভাবে এসেছে, ‘তারা বলে, এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা বিশেষভাবে আমাদের পুরুষদের জন্য এবং আমাদের মহিলাদের জন্য হারাম। যদি তা মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসেবে সবাই সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের বর্ণনার শাস্তি দেবেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৩৯)

ইবাদত ও পুণ্যের ক্ষেত্রে নারীও সমান

জাহিলি যুগের পুরুষরা মনে করত ইবাদতের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভিন্নতা আছে। তাদের ধারণা ছিল, পুরুষের ইবাদত আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়, এর বিনিময়ে আছে সওয়াব। তবে নারীরা এর ব্যতিক্রম, তাদের ইবাদতে সওয়াব নেই। মহান আল্লাহ তাদের এ ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে আমি তোমাদের কোনো পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক।’(সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ১৯৫)

পিতার সম্পত্তিতে নারীর অংশের অধিকার

বর্তমানে নারীদের অবহেলিত একটি অধিকার হলো পিতার সম্পত্তিতে নারীর অংশ না দেওয়া বা ছলচাতুরি করে সম্পদের অংশের ভাগ থেকে তাকে দূরে রাখা। অথচ এই সম্পত্তিতে পুরুষ-নারীর উভয়েরই অংশ রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশি। এ অংশ নির্ধারিত।’ (সুরা: নিসা, আয়াত : ৭)

মোহরের মাধ্যমে সম্মান প্রদান

জাহেলি যুগে নারীদের মনে করা হতো সস্তা পণ্য। যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবহার করা হতো। কিন্তু ইসলাম তাদের দিয়েছে অনন্য সম্মান। কেউ যদি তাদের পেতে চায় তাহলে ওই ব্যক্তিকে সম্পদের কিছু অংশ ব্যয় করতে হবে তথা মোহর দিয়ে তাকে ব্যবহারের সুযোগ পাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা স্ত্রীদের তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশিমনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪)

নারীর সম্পদে হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমাণদাররা, বলপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকার গ্রহণ করা তোমাদের জন্য হালাল নয় এবং তাদের আটক রেখো না, যাতে তোমরা তাদের যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও। আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা করো এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তাহলে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গুনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯-২০)

তালাকপ্রাপ্তা নারীর খরচ বহন

বিচ্ছেদের পর পুরুষকে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে তার ওপর ইহসান করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কারণ এটা নারীর অধিকার। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেওয়া পরহেজগারদের ওপর কর্তব্য।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৪১)

দুগ্ধদানকারিণী মায়েদের পারিশ্রমিক

বিচ্ছেদের পর দুগ্ধদানকারিণী মায়েদের দুধ পান করানোর যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া—এটা তাদের প্রাপ্য অধিকার। এ প্রসঙ্গে কোরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যদি তারা তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করে, তবে তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেবে এবং এ সম্পর্কে পরস্পর সংযতভাবে পরামর্শ করবে। তোমরা যদি পরস্পর জেদ করো, তবে অন্য নারী স্তন্যদান করবে।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

আরও পড়ুন:


জান্নাত লাভের দোয়া

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান


সার কথা, এমন কোনো সভ্যতা, ধর্ম বা আইন-কানুন নেই, যা নারীকে এতটা অধিকার দিতে পেরেছে। পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে ইসলামই তাদের অধিকার যথাযথ নিশ্চিত করেছে। ইসলামের মহত্ব ও সৌন্দর্য এখানেই।

মহান আল্লাহ আমাদের নারীদের যথাযথ অধিকার রক্ষার তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

বিষধর প্রাণী থেকে বাঁচার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

বিষধর প্রাণী থেকে বাঁচার দোয়া

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিকেল বেলা এই দোয়াটি তিন বার পড়বে, সে রাতে কোনো বিষধর প্রাণী তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ 

উচ্চারণ: ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

বাংলা অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তার কাছে তার সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।’ -সুনানে তিরমিজি: ৩৬৬৫

আরও পড়ুন:


জান্নাত লাভের দোয়া

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান


মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বান্দাকে উক্ত আমলটি নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন এবং বিষধর প্রাণী থেকে রক্ষা করুন। আমিন।  

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

পরকালে যারা আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে

অনলাইন ডেস্ক

পরকালে যারা আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে

এমন কিছু মানুষ আছে, যারা কিয়ামত দিবসে দয়াময় আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে, তিনি তাদের দিকে তাকাবেন না, আর না তাদের প্রতি সুনজর দেবেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)।

আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত বাক্যগুলি তিনবার বললেন। আবূ যার্র বললেন, তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক! তারা কারা? হে আল্লাহর রসূল!

আরও পড়ুন: 

১০ মিনিটের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

এনআইডি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ


তিনি বললেন, (লুঙ্গি-কাপড়) পায়ের গাঁটের নীচে যে ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে লোকের কাছে দানের কথা বলে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে যে পণ্য বিক্রি করে। তাঁর অন্য বর্ণনায় আছে, যে লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে।[মুসলিম ১০৬, তিরমিযি ১২১১, নাসায়ি ২৫৬৩, ২৬৫৪, ৪৪৫৮, ৪৪৬৯, ৫৩৩৩, আবু দাউদ ৪০৮৭, ইবন মাজাহ ২২০৮, আহমদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমি ২৬০৫]

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে যা করণীয়

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে যা করণীয়

কারো সামনে কিংবা পেছনে অতিরিক্ত প্রশংসা করতে নিষেধ করেছেন রাসুল (সা.)। তিনি বলেন, ‘কারো সামনে তার প্রশংসা করা তার পিঠে ছুরি মারা বা তার গলা কেটে ফেলার সমান।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩৩৫)

অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কেউ তোমাদের সামনাসামনি প্রশংসা করলে তার মুখে তোমরা পাথর ছুড়ে মারো।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস :  ৩৪০)

একজন সাহাবি রাসুল (সা.)-এর কাছে অন্য এক সাহাবি সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করেন। তা শুনে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আফসোস, তুমি তো তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেললে! কথাটি নবীজি (সা.) তিনবার বলেন। অতঃপর বলেন, যদি কারো প্রশংসা করতেই হয়, তাহলে সে যেন এভাবে বলে যে আমি তার ব্যাপারে এমন এমন ধারণা পোষণ করি। কারণ তার প্রকৃত হিসাব মহান আল্লাহ জানেন।’ (মুসলিম, মিশকাত : ৪৮২৭)

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে করণীয় হলো, প্রশংসিত ব্যক্তি নিম্নের দোয়াটি পাঠ করতে পারেন—‘আল্লাহুম্মা লা তুআখিজনি বিমা ইয়াকুলুন, ওয়াগফিরলি মা লা ইয়ালামুন। অর্থ : হে আল্লাহ, তারা যা বলছে সে ব্যাপারে আমাকে পাকড়াও কোরো না এবং যে বিষয়ে তারা জানে না, সে বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ জনৈক সাহাবি এ দোয়াটি পাঠ করতেন।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৭৬১)

আরও পড়ুন:


জান্নাত লাভের দোয়া

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

উল্লেখ্য যে প্রশংসাকৃত ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে এবং এতে তার কল্যাণের সম্ভাবনা থাকলে প্রশংসা করা যেতে পারে। (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা : ২৬/১২৪)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

জান্নাত লাভের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

জান্নাত লাভের দোয়া

জান্নাত পাওয়ার জন্য যে দোয়াটি পড়তে হয় জেনে নিন।

হজরত শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দিনের শুরুতে সাইয়িদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে, সে ওই দিন ইন্তেকাল করলে জান্নাতি হবে, আর যদি সন্ধ্যায় পাঠ করে এবং রাতে তার ইন্তেকাল হয়, তাহলে সে জান্নাতি হবে।’

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজাম্বি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগিফরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।

আরও পড়ুন:


কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতির ওপর আছি যথাসম্ভব। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আমার ওপর আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আবার আমার গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ব্যতীত আর কেউ গোনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারবে না। -সহিহ বোখারি: ৬৩০৬

আল্লাহ তা'আলা সকলকে জান্নাত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর