সূরা বাকারা: আয়াত ১০৮-১১২, ইহুদীদের অবাঞ্ছিত আশা ও শিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১০৮-১১২, ইহুদীদের অবাঞ্ছিত আশা ও শিক্ষা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১০৮ থেকে ১১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১০৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

أَمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَسْأَلُوا رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ (108

‘‘তোমরা কি তোমাদের রাসূলের নিকট সে ধরনের প্রশ্ন বা আবদার করতে চাও যেরকম পূর্বে মূসাকে করা হয়েছিল? জেনে রাখ যে, এ ধরনের বাহানা এনে বিশ্বাসের পরিবর্তে যে অবিশ্বাসকে গ্রহণ করে, সে নিশ্চিতভাবে সরল পথ হারায়৷’’ (২:১০৮)

কিছু দুর্বল ঈমানের অধিকারী লোক অদ্ভুত ধরনের মোজেযা বা অলৌকিক শক্তি দেখানোর জন্য নবীজীর কাছে আবদার করত, যেমন বলত আমাদের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে একটি চিঠি নিয়ে আসুন। তাদের এ ধরনের দাবি ছিল হযরত মূসা (আ.) এর প্রতি বনী ইসরাইলের দাবির মত। বনী ইসরাইল বলেছিল, আমরা আল্লাহকে দেখতে চাই, আপনি আল্লাহকে দেখানোর বন্দোবস্ত করুন, তাকে আমরা স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈমান আনবো। মূলত: মোজেযার উদ্দেশ্য হলো নবুয়্যত প্রমাণিত করা। প্রত্যেকের ইচ্ছা পূরণ করা নবীর কাজ নয়। যেমন একজন প্রকৌশলী তার দাবির প্রমাণ হিসাবে কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করে। কিন্তু যে কেউ তাকে দালান কোঠা বানাতে বললেই সে বানায় না।

এরপর এই সূরার ১০৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (109

‘‘আহলে কিতাবদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও তাদের মধ্যে অনেকে হিংসার কারণে, তোমাদেরকে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী হিসাবে পেতে চায়। কিন্তু তোমরা তাদেরকে ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর, যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন ৷ আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান৷’’ (২:১০৯)

মদীনায় বসবাসরত ইহুদীরা সবসময় মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে সরিয়ে নেয়ার কিংবা তাদের ঈমান দুর্বল করার চেষ্টা করত। পবিত্র কোরআন এ প্রসঙ্গে মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে তারা নিজেদেরকে সত্যপন্থী মনে করে বলেই এ কাজ করছে। বরং তারা ইসলাম ও কোরআনের সত্যতা উপলদ্ধি করেছে, কিন্তু তাদের হিংসা ও বিদ্বেষের কারণে তারা এ কাজ করছে। সে সময় মুসলমানদের শক্তি কম থাকায় আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন, মুসলমানরা যাতে শত্রুদের প্রবল চাপ উপেক্ষা করে চলে এবং যতক্ষণ না কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ আসে ততক্ষণ আত্মসংশোধনে নিয়োজিত হয়। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রথমেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ঠিক নয়, বরং ইসলামী নৈতিকতা অনুযায়ী প্রথমে ক্ষমা প্রদর্শন করতে হবে যাতে তারা সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ পায়৷ এরপরও তারা সঠিক পথে না এলে তাদের মোকাবেলা করতে হবে ৷

এরপর সূরা বাকারা'র ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآَتُوا الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (110

"তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে আগে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।" (২:১১০)

দুশমনরা যখন মুসলমানদের ঈমান দুর্বল করতে চায় তখন আল্লাহ মুসলমানদের ঈমান শক্তিশালী করার জন্য তাদেরকে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একইসাথে যাকাতের মাধ্যমে অন্যান্য মুসলমান বিশেষ করে দুঃস্থদের সাথে সম্পর্ক জোরদারের আহবান জানান। পবিত্র কোরআনে সাধারণত নামাজের নির্দেশের পাশাপাশি যাকাতের কথাও বলা হয়েছে। এর কারণ সম্ভবত এটাই যে, মানুষের সেবা করা ছাড়া আল্লাহর এবাদত যথেষ্ট নয়। অপর পক্ষে শুধু মানব সেবার কথাও বলা হয়নি। কারণ আল্লাহর আনুগত্যহীন মানব সেবার ফলে জন্ম নিতে পারে অহঙ্কার, গর্ব ও অন্যকে হেয় করার প্রবণতা। মানুষের একটি সাধারণ আশঙ্কা হলো, অন্যরা বুঝি তার সেবা ও খেদমতের কথা জানাতে পারবে না এবং জানলেও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে না। তাই মানুষের মধ্যে ভালো কাজের প্রবণতা কমে যায়। এ আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা উদ্বিগ্ন হইও না কারণ তোমরা যা কিছু কর তার সব আল্লাহ দেখতে পান এবং পুরস্কার আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে।

আরও পড়ুন


মুনিয়ার বাসায় শেষ গিয়েছিল নুসরাতের ৩ সহযোগী

থ্রিলার ম্যাচে জিতলো মুস্তাফিজের রাজস্থান

আজ থেকে শুরু ঢাকা-আবুধাবি রুটে বিমানের ফ্লাইট

বাংলাদেশে অপরাজনীতির হোতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ সেলিম :কাদের মির্জা


এবারে সূরা বাকারা'র ১১১ ও ১১২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ দুই আয়াত বলা হয়েছে -

وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (111) بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (112

‘‘তারা বলে ইহুদী বা খ্রিস্টান ছাড়া আর কেউ কখনও বেহেশতে প্রবেশ করবে না। এটা তাদের মিথ্যা আশা। বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে প্রমাণ পেশ কর।’’ (২:১১১)

‘‘যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তার ফল তার প্রতিপালকের কাছে আছে এবং তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’’ (২:১১২)

মুসলমানদের মনোবল দুর্বল করার জন্য ইহুদী খ্রিস্টানদের একটি অন্যতম প্রচারণা ছিল যে, তারা বেহেশতকে নিজেদের অধীন বলে দাবি করত এবং বলত, বেহেশতে যেতে চাইলে তোমাদেরকে ইহুদী কিংবা খ্রিস্টান হতে হবে। পবিত্র কোরআন তাদের এ দাবির জবাবে বলেছে, তোমাদের এ ধারণা অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। এর পেছনে তোমাদের কোন যুক্তি প্রমাণ নেই৷ কারণ পবিত্র জান্নাত কোন গোত্র বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং বেহেশতে প্রবেশের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি। যে কেউ ওই মাপকাঠির ভিত্তিতে বেহেশতে যেতে পারে। বেহেশতে প্রবেশের চাবি হলো- আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। মানুষ আল্লাহর প্রতি নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে, যদি একমাত্র তারই উদ্দেশ্যে সৎকাজ করে তাহলে সে বেহেশতে যেতে পারে। কেউ যদি আল্লাহর নির্দেশের কিছু অংশ মান্য করে এবং কিছু অংশ বাদ দেয় তাহলে সে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হবে। প্রকৃতপক্ষে গোত্রীয় বিদ্বেষ ও বর্ণ-বিদ্বেষের সঙ্গে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনের কোন মিল নেই। দু'টি সম্পূর্ণ পরস্পর বিরোধী। ইসলাম যে সত্য ধর্ম-এটা বোঝার পরও যারা তাদের বিদ্বেষের কারণে ঈমান আনেনি, তারা বেহেশতে যেতে পারবে না। এমনকি তারা আহলে কিতাব বা পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি আল্লাহর দেয়া কিতাবের অনুসারী হলেও কোন লাভ হবে না। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে সে কোন কিছুকেই ভয় পায় না। সবসময় আল্লাহকে নিজের কাছে অনুভব করে এবং তারই আশ্রয়ে নিজেকে খুঁজে পায়।

এ কয়েকটি আয়াতের মূল শিক্ষা হচ্ছে -

১. মানুষ আল্লাহর অলী-আউলিয়াদের কাছ থেকে অনেক সময় যেসব অবাঞ্ছিত আশা বা দাবি করে আসলে তা কুফরী বা অবিশ্বাসের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। কারণ আল্লাহর অলীগণ মানুষের অর্থহীন দাবি পূরণ করেন না। ফলে ওই ব্যক্তির বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যায়।

২. কাফের-মুশরেকদের সাথে দৃঢ় আচরণের আগে আন্তরিক ব্যবহার ও ক্ষমা প্রদর্শন করতে হবে। এই সহৃদয় আচরণ দুর্বলতার নিদর্শন নয় বরং এ হলো তাদেরকে আকর্ষণ ও সংশোধনের উপায় ৷

৩. আমাদের কখনই ভাবা ঠিক নয় যে, বেহেশত কোন একটি নির্দিষ্ট জাতি বা গোত্রের জন্য নির্ধারিত। আমরা মুসলমান- কেবল এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই যে বেহেশতে যাবো তা নয়। বরং আমাদের বেহেশতে যাবার শর্ত হলো ঈমান ও সৎকাজ।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আত্মহত্যার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

আত্মহত্যার শাস্তি

ফাইল ছবি

ইসলামে আত্মহত্যা হারাম ও কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যাকারীর গন্তব্য জাহান্নাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এ ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের জীবন ধ্বংসের মুখে ফেলো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৭৬; মুসলিম, হাদিস : ১১৩)


আরও পড়ুন:

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সবাই পুরুষ

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিন: সরকারকে রিজভী

ফাঁকিবাজ সরকার বলেই সত্য বললেও মানুষ বিশ্বাস করেনা: মান্না


আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

প্রতীকী ছবি

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যেমন দোয়া করা উচিত তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিত। সুস্থ থাকাটা হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীরের সাদকাহ আদায়ের কথা বলেছেন। মানবদেহে অনেক জোড়া রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার হক আদায় করার কথাও বলেছেন তিনি। শরীরের এ সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায়ে প্রতিদিন সালাতুজ জোহা বা চাশতের নামাজ পড়তে বলেছেন।

যারা চাশতের ২ কিংবা ৪ রাকাআত নামাজ পড়বে, ওই ব্যক্তি শরীরের সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায় হয়ে যাবে। আবার ভালো কাজ ও ভালো আচরণেও শরীরের হক আদায় হয় বলেছেন বিশ্বনবী।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শরীরকে সুস্থ রাখতে সকাল সন্ধ্যা দোয়ার আমল করতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায়

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

উপকার: আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, আব্বাজান, আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি যে আপনি এই দোয়া পাঠ করছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

অনলাইন ডেস্ক

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক। আরবি হাক্ক শব্দটিকে বাংলায় হক বলা হয়। অর্থ কয়েক রকম আছে, তার মধ্যে এক অর্থ হলো অধিকার, হক, দাবি, পাওনা। এখানে হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক, আল্লাহর পাওনা।

আমরা সচরাচর যে ক্ষমা প্রসঙ্গে জানি তা হলো, হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল অবশ্যই সে চরম ভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো।(সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ১১৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল, অবশ্যই সে মহাপাপ রচনা করল।’ (আন-নিসা, আয়াত : ৪)

উল্লিখিত আয়াতে গুনাহ হচ্ছে সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত, যেগুলো আল্লাহর হক সেগুলো পালন না করা যা আল্লাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন, কারণ এগুলো আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ বলেন, ‘আর আসমান ও জমিনের কর্তৃত্ব আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১৪)

হাদিসে এসেছে, মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আমি একটি গাধার পিঠে রাসুলের সঙ্গী ছিলাম। যে উটকে ‘উফাইর’ বলা হয়। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘হে মুআজ, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার কী কী হক রয়েছে? এবং আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার কী কী হক রয়েছে? আমি উত্তর দিলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) ভালো জানেন। তিনি বলেন, বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার হক হচ্ছে, তারা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না।’

আরও পড়ুন:


তাইজুল ম্যাজিকে লিড পেলো বাংলাদেশ

হেফাজত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম আইসিইউতে

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা করে পেট চিরে বাচ্চা চুরি!


আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার হক হচ্ছে, যে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দেবেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমি কি সবাইকে এর সুসংবাদ জানিয়ে দেব না? তিনি বলেন, তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

‘ইন্না লিল্লাহ’র বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

‘ইন্না লিল্লাহ’র বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

 

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, মানুষের মৃত্যুসংবাদ পেলে কেবল এটি পড়তে হয়। অথচ এই পবিত্র বাক্য আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ রাখার বড় উপায়। 

একটি হাদিসে উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তি যখন কোনো বিপদ-আপদে আক্রান্ত হয় এবং আল্লাহ তাকে যা বলতে বলেছেন (নিচে উল্লেখিত) তা বলে, তখন আল্লাহ তাকে ওই মুসিবতের উত্তম বদলা এবং আগের চেয়ে উত্তম বিকল্প দান করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯১৮)।

দোয়াটির আরবি :

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

উচ্চারণ : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি; ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।

আরও পড়ুন:


দ. আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন খুবই ভয়ঙ্কর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একই ইউপিতে বাবা-ছেলে ও আপন দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী!

বেগম জিয়ার জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই: হানিফ


অর্থ : আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে আমার এই বিপদে বিনিময় দান করুন এবং আমার জন্য এরচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা করে দিন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ

অনলাইন ডেস্ক

শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ

প্রতীকী ছবি

শীতকালে সহজে অনেক আমল করা যায়, আর এসব আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব ও পুণ্যও লাভ হয়।

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১৬৫৬)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে। (বায়হাকি, হাদিস : ৩৯৪০)

শীতকালে সবার জন্য সুবিধাজনক ও সহজে আদায় করা যায়— এমন কিছু আমল হলো-

অনেকের কাছে শীতের সময়ে অজু করা কষ্টদায়ক। কিন্তু শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ। গরম পানি দিয়ে অজু করলেও সমপরিমাণ সওয়াব লাভ হবে।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না; যার কারণে আল্লাহ তাআলা পাপ মোচন করবেন এবং জান্নাতে তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর রাসুল! রাসুল (সা.) বললেন, মন না চাইলেও ভালোভাবে ওজু করা, অধিক পদক্ষেপে মসজিদে যাওয়া এবং এক নামাজের পর আরেক নামাজের জন্য অপেক্ষা করা।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫১)

রাতের গভীরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা সিজদাহ, আয়াত : ১৬)

আরও পড়ুন:

প্রতি নামাজের পর সম্পদলাভের দোয়া


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর