ঘুম না এলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

ঘুম না এলে যে দোয়া পড়বেন

অনেকেরই রাতে ঘুম আসে না। বিছানায় শুয়ে ছটপট করতে থাকেন। যারা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া রয়েছে। সেই দোয়া ও আমল করলে, ইনশাআল্লাহ সমস্যার সমাধান হবে।

জায়েদ ইবনু সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে আমার দীর্ঘদিনের অনিদ্রা রোগের ব্যাপারে অভিযোগ করলাম। তিনি বললেন, বলো

আরবি : 

اَللّٰهُمَّ غَارَتِ النُّجُوْمُ، وَهَدَأَتِ الْعُيُوْنُ، وَأَنْتَ حَيٌّ قَيُّوْمٌ، لاَ تَأْخُذُكَ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ أَهْدِئْ لَيْلِيْ، وَأَنِمْ عَيْنِيْ

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা গা-রাতিন নুজুম, ওয়া হাদাআতিল উ’য়ুন, ওয়া আনতা ‘হাইয়ুন ক্বাইয়ুম, লা তাঅ্খুযুকা সিনাতুউ ওয়ালা নাওম, ইয়া ‘হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ুম, আহদিঅ্ লাইলী ওয়া আনিম ‘আইনি।

অর্থ : হে আল্লাহ! তারকারাজি নিভে গেছে; (মানুষের) চোখগুলো (ঘুমে) শান্ত হয়ে গেছে; আর আপনি তো চিরঞ্জীব-চিরস্থায়ী-তন্দ্রা ও নিদ্রা যাকে স্পর্শ করতে পারে না। হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আমার রাতকে শান্তিময় করুন এবং আমার চোখে ঘুম দিন। (যায়েদ (রা.) বলেন আমি এটি বললাম এবং মহামহিম আল্লাহ আমার সমস্যা দূর করে দিলেন। (বুসিরি, ইতহাফুল খিয়ারাহ: ৬/৪৬২; হাদিসটি দুর্বল, তবে আমলযোগ্য)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সূরা আল-মূলক পাঠের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা আল-মূলক পাঠের ফজিলত

সূরা আল-মূলক কুরআনুল কারিমের ৬৭তম সূরা। এটি পবিত্র নগরী মক্কায় অবর্তীণ। এর আয়াত সংখ্যা ৩০। রুকু আছে ২টি। সূরা আল-মূলকের গুরুত্ব ও ফজিলত পরিসীম। এই সূরাটি যারা তেলাওয়াত করবে তাদের ক্ষমা না করা পর্যন্ত সুপারিশ করত থাকবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতদের মুক্তির পথ দেখাতে কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন সূরা ও আয়াত সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করেছেন। যাতে করে গোনাহ থেকে মুক্তি পায় মানুষ।

হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে - হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তুমি নিজে সূরা মূলক পড় এবং পরিবারের সবাইকে ও প্রতিবেশীকে উহা শিক্ষা দাও। কারণ উহা মুক্তিদানকারী ও ঝগড়াকারী। কেয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে ঝগড়া করে উহার পাঠকারীকে সে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবে এবং কবরের আজাব থেকে বাঁচিয়ে রাখবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার একান্ত কামনা যে, এই সূরাটি আমার প্রত্যেক উম্মতের অন্তরে গেঁথে থাকুক।’ (ইবনে কাসির)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরআন মাজিদে ৩০ (ত্রিশ) আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার আগ পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। আর সূরাটি হলো تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ অর্থাৎ সূরা মূলক।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

আর একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমার মন চায় প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে যেন সূরা মূলক মুখস্ত থাকে।’ (বাইহাকি)

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ার কারাগারে হামলা

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ‘তোমরা সূরা মূলক শিখে নাও এবং নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদের শেখাও। এটা কবরের আজাব হতে রক্ষা করবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে এই সূরা পাঠকারীর পক্ষে কথা বলে তাকে মুক্ত করবে।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা মূলক তেলাওয়াতের আমল করবে সে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে।’ (তিরমিজি, মুসতাদরাকে হাকেম)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ১৪৩-১৪৭, পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১৪৩-১৪৭, পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১৪৩ থেকে ১৪৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১৩৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন - 

وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ (143)

‘‘এভাবেই তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পার এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পারে। (হে রাসূল!) আপনি এ যাবত যে কেবলা অনুসরণ করেছিলেন, তাকে এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম-যাতে জানতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে এবং কে ফিরে যায়। আল্লাহ যাদের সৎ পথে পরিচালিত করেছেন তারা ব্যতীত অপরের নিকট তা নিশ্চয় কঠিন। আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের বিশ্বাসকে ব্যর্থ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি স্নেহশীল দয়াময়।’’ (২:১৪৩)

গত পর্বে কেবলা পরিবর্তন সম্পর্কে ইহুদীদের আপত্তিগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ এ সব আপত্তির জবাবে বলেছেন, পূর্ব পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন। আল্লাহর নির্দেশিত সরল পথে চলার মধ্যেই রয়েছে মুক্তি বা সুপথ। এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই যে, আল্লাহ পূর্বে অথবা পশ্চিমে বিরাজ করছেন এবং শুধু সেদিকেই মুখ ফেরাতে হবে। এই আয়াতে মুসলিম জাতিকে সব ধরনের চরমপন্থা থেকে মুক্ত মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম জাতি জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে বস্তুগত, অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, বিশ্বাসগত প্রভৃতি সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্যের সীমানার মধ্যে রয়েছে। এ আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য উপযোগী। এটা স্পষ্ট যে, সমস্ত মুসলমান এরকম নয় এবং মুসলমানদের অনেকেই চিন্তা অথবা কাজে চরমপন্থা অবলম্বন করে থাকতে পারে। তাহলে এ আয়াতের মূল উদ্দেশ্য কি?

এই আয়াতের মূল উদ্দেশ্য এটা বোঝানো যে, ইসলামী বিধান বা ধর্ম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী ধর্ম। কেউ যদি ইসলামের সমস্ত বিধান মেনে চলে, তাহলে একমাত্র সেই এমন অবস্থানে উপনীত হবে যে আল্লাহ তাকে মানুষের জন্য তার নিজের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করবেন। যেমনটি রাসূল (সা.)-এর আহলে বাইতগণ ঐশী নির্দেশনাবলীর প্রথম বাস্তবায়নকারী ও বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং সত্যিকারের মুসলিম জাতির পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী বা আদর্শ ছিলেন। তারা বলেছেন, মধ্যপন্থী জাতি বলে আল্লাহ যাদেরকে মানুষের ওপর তার নিজের সাক্ষী বলে ঘোষণা করেছেন, আমরাই হলাম সেই জাতি।

এই আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আল্লাহর অন্যান্য নির্দেশের মতই একটি নির্দেশ ও পরীক্ষা-যাতে এটা জানা যায় যে কারা আল্লাহর অনুগত এবং কারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আর এ জন্যেই যারা আল্লাহর পথ নির্দেশনা বা হেদায়াত থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য এ নির্দেশ পালন করা কঠিন এবং তারাই এ ক্ষেত্রে আপত্তি ও প্রশ্ন তুলছে।

এরপর ১৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ (144)

‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের (কাবা শরীফের) দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, (এ ধর্মগ্রন্থ) তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহর অজানা নেই।’’ (২:১৪৪)

ইহুদীরা যখন মুসলমানদের এই বলে বিদ্রুপ করছিল যে, তাদের কোন স্বতন্ত্র কেবলা নেই, তখন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ জোহরের নামাজের সময় আল্লাহর রাসূলের ওপর এ নির্দেশ অবতীর্ণ হয় এবং রাসূল (সা.) বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে মুখ ফিরিয়ে মক্কার দিকে মুখ করায় তার পেছনে জামাতে সমবেত মুসলমানরাও কাবামুখী হয়। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো- পূর্ববর্তী ঐশী গ্রন্থে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামের নবী দুই কেবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়বেন এবং ইসলামের নবীর অন্যতম এক নিদর্শন হবে এই ঘটনা। তাই এই আয়াতে আহলে কিতাবদের হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে- তোমরাই যখন জান যে, এই নির্দেশ সত্য তবুও কেন প্রতিবাদ করছ?

এরপর ১৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آَيَةٍ مَا تَبِعُوا قِبْلَتَكَ وَمَا أَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ (145)

‘‘হে নবী জেনে রাখুন যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আপনি যদি তাদের কাছে সমস্ত দলীল পেশ করেন তবুও তারা আপনার কেবলার অনুসারী হবে না এবং আপনিও তাদের কেবলার অনুসারী নন এবং যেমনটি তাদের কেউ কেউ অন্য কারো কেবলার অনুসারী হবে না। আপনার কাছে জ্ঞান আসার পরও আপনি যদি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি হবেন অত্যাচারীদের অন্তর্ভূক্ত।’’ (২:১৪৫)

এই আয়াতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হচ্ছে-যদি আহলে কিতাব আপনার কেবলাকে গ্রহণ না করে, তবে আপনি দুঃখিত হবেন না। কারণ হিংসা তাদেরকে সত্য গ্রহণের সুযোগ দেবে না। তাই আপনি যত যুক্তিই দেখান না কেন, তারা কিছুতেই যুক্তি গ্রহণ করবে না। কিন্তু তারা গ্রহণ না করলেও আপনি যেন আপনার কেবলা সম্পর্কে নীরব না হন বরং দৃঢ়তার সাথে এটা ঘোষণা করবেন যে, আমরা এসব হৈ-চৈ বা আপত্তিতে নত হব না এবং আমাদের অবস্থান থেকে মোটেই পিছু হটব না। ইসলাম ধর্মে সবার জন্য একই বিধান থাকায় আল্লাহ তার নবীকেও হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, আপনি নিজেও যদি তাদের প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে নিজের সঠিক কেবলার অনুসরণ না করেন তাহলে আপনি নিজের উম্মতের ওপর বড় ধরনের জুলুম করার দায়ে দোষী হবেন।

আরও পড়ুন


বেপরোয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাম্পে

দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ এরদোয়ানের

নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ঢুকে হাফেজ-ইমামসহ ৪ জনকে হত্যা : গ্রেফতার ৮


এরপর ১৪৬ ও ১৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

الَّذِينَ آَتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ (146) الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ (147)

‘‘আমি যাদেরকে গ্রন্থ দিয়েছি, তারা তাকে সেরূপ জানে, যেরূপ জানে আপন সন্তানগণকে এবং তাদের একদল জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।’’ (২: ১৪৬)

‘‘সত্য তোমার প্রতিপালকের, সুতরাং তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।’’ (২: ১৪৭)

তাওরাত ও ইঞ্জিল গ্রন্থে শেষ নবীর বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। আর তাই আহলে কিতাবগণ নবী (সাঃ) কে চিনত কিন্তু বিদ্বেষ ও একগুঁয়েমীর কারণে তারা এই সত্যকে অন্যদের কাছে গোপন রাখত বা সত্যকে বিকৃত করত। অবশ্য আহলে কিতাব রাসূল (সা.) এর বৈশিষ্ট্য দেখে তার প্রতি ঈমান এনেছিল। এইসব শারীরিক ও আত্মিক বৈশিষ্ট্য পূর্ববর্তী গ্রন্থে এমনভাবে উল্লেখিত হয়েছিল যে, কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তারা নবী (সা.)কে নিজের সন্তানের মতই চিনত। শেষের এই আয়াতে যে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেয়া হয়েছে তা হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নাজেল হয়েছে একমাত্র তাই সত্য। মানুষের বিরোধিতা এমনকি অধিকাংশ মানুষও যদি বিরোধিতা করে তাহলেও ঐশী নির্দেশের সত্যতার ব্যাপারে বিন্দুমাত্রও সন্দিহান হওয়া উচিত নয়।

এবারে সূরা বাকারার ১৪৩ থেকে ১৪৭ নম্বর আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক -

১. কেবলায় একদিকে যেমন রয়েছে স্বাধীনতার রহস্য, তেমনি এটি আত্মসমর্পনেরও নিদর্শন। স্বাধীনতা বলতে কর্তৃত্বকামী সকল ধর্ম ও জাতি থেকে মুসলমানরা আলাদা বা স্বতন্ত্র। আত্মসমর্পন বলতে বোঝায়, আল্লাহ যে নির্দেশই দেন না কেন নির্দ্বিধায় কোন প্রশ্ন ছাড়াই তা মেনে নেয়া।

২. ইসলাম হলো ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী ধর্ম। যদি মুসলমানরা আল্লাহর নির্দেশিত সঠিক পথে চলে তাহলে তারা অন্যান্য জাতির জন্য আদর্শ ও তাদের জন্য সাক্ষী হতে পারে।

৩. গোঁয়ার্তুমী ও বিদ্বেষ সব ধরনের যুক্তি, বিদ্বেষ ও সত্য অনুসন্ধানের বিরোধী। আর তাই ধর্ম এই দাম্ভিক মনোভাবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। 

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

যে ৫ কাজ করলে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়

আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)

যে ৫ কাজ করলে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়

মনের প্রশান্তি ও স্থিরতা অনেক বড় সম্পদ। মনের একাগ্রতা নষ্টকারী বহু বিষয় আছে। তার কয়েকটি হলো—

১. স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকা : নিজের অসতর্কতার ফলে স্বাস্থ্য খারাপ করা। ইবাদতে একাগ্রতা ধরে রাখতে শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখা আবশ্যক। মস্তিষ্ক সজীব রাখা এবং মনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এত কম খাদ্য গ্রহণ না করা যাতে শরীর দুর্বল ও শুষ্ক হয়ে যায়। আবার এত বেশি না খাওয়া যাতে বদহজম হয়। ঘুমের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।

২. খাবারের লোভ : বিনা প্রয়োজনে উন্নত খাবারের চিন্তায় লিপ্ত হলেও মন অস্থির হয়।

৩. অনর্থক সাজসজ্জা : অর্থহীন সাজসজ্জাও মানুষের মন অস্থির করে তোলে। কোনো এক কবি বলেন, ‘এত সাজসজ্জা ও পেটপূজার চিন্তার ফলে দ্বিন বিদায় নেবে।’ তবে একেবারে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকাও খারাপ। কেননা এতে অন্তর ময়লা হয়ে যায়। সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। তবে চিন্তাভাবনা ছাড়া যদি ভালো খাবার ও ভালো পোশাক পাওয়া যায় এবং এর ফলে নফসের মধ্যে কোনো মন্দ চরিত্র সৃষ্টির ভয় না থাকে, তবে তাকে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করে ব্যবহার করা এবং তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা উচিত।

৪. সম্পদের মোহ : সম্পদের মোহ ও তা সঞ্চয়ের চিন্তা মানুষের একাগ্রতা নষ্ট করে। একইভাবে সম্পদের অপব্যয়ও মানুষকে অস্থির করে তোলে। সম্পদ আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম।

৫. বন্ধুত্ব ও শত্রুতা : কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব ও শত্রুতায় জড়ালেও মানুষের একাগ্রতা নষ্ট হয়। বন্ধু তার সময় নষ্ট করে আর শত্রু তাকে ভয়ের মধ্যে ফেলে দেয়।

আরও পড়ুন


বেপরোয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাম্পে

দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ এরদোয়ানের

নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ঢুকে হাফেজ-ইমামসহ ৪ জনকে হত্যা : গ্রেফতার ৮


এভাবে যেসব বিষয় মানুষকে অস্থির করে তোলে, অথচ তা আবশ্যক ও প্রয়োজনীয় কিছু নয়, তা থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা জরুরি। তবে পেরেশানির কাজ না করেও কোনো পেরেশানির মধ্যে পড়ে যায় বা শরয়ি প্রয়োজনে কোনো কাজ করার পর পেরেশানি দেখা দেয়। কোনো সুদখোর ব্যক্তির উপহার প্রত্যাখ্যানের ফলে তার সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হওয়া। এমন অস্থিরতার সময়ে অস্থির না হয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা।

এমন অস্থিরতা ব্যক্তির আধ্যাত্মিক কোনো ক্ষতি হয় না। বরং সে আল্লাহর সাহায্য লাভ করে। যদি সে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে এর বিনিময় প্রত্যাশা করে, তবে আশা করা যায় আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ইস্তেগফারের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ইস্তেগফারের ফজিলত

‘ইস্তেগফার’ শব্দের অর্থ কৃত পাপকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহর অসংখ্য মহান গুণাবলির একটি হলো ক্ষমা। 

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ইমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।’ (সূরা তাহা, আয়াত: ৮২) 

ইস্তেগফারের ফজিলত:

ইস্তেগফারের উপকারিতা অনেক। কোরআন-হাদীসের আলোকে কিছু উপকারের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।

এক. গোনাহখাতা মাফ হয়। 
কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা নূহ-১০)

দুই. অনাবৃষ্টি দূর হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তিনি (আল্লাহ) আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। (নূহ-১১)

তিন. সন্তান ও সম্পদ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে :  তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন। (নূহ-১২)

চার. সবুজ-শ্যামল পরিবেশ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান। (নূহ-১২)

পাঁচ. নদ-নদীর ব্যবস্থা হবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। (নূহ-১২)

ছয়. উপভোগ্য জীবন লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও (ভবিষ্যতে গোনাহা না করার এবং আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করার দৃঢ় সংকল্প করো)। তিনি তোমাদের নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন। (সূরা হুদ-৩)

সাত. শক্তি-সামর্থ্য বাড়বে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের শক্তির সাথে বাড়তি আরো শক্তি জোগাবেন। (হুদ-৫২)

আট. আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপত্তা দান করবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তারা ইস্তেগফারে রত থাকাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাদের শাস্তি দেবেন না। (আনফাল-৩৩)

নয়. সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তা’আলা তার সর্বপ্রকার সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দেবেন।

দশ. উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা দূর হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : সর্বপ্রকার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা লাঘব করে স্বস্তি ও আনন্দ দান করবেন।

এগারো. অকল্পনীয় রিযিকের ব্যবস্থা হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন :তাকে কল্পনাতীত রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যেসব কারণে রাগ করেছেন মহানবী (সা.)

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

যেসব কারণে রাগ করেছেন মহানবী (সা.)

মহানবী (সা.) কখনো ব্যক্তিগত কারণে কারো ওপর রাগ করেননি। কখনো ব্যক্তি আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কারো ওপর প্রতিশোধ নেননি। তবে আল্লাহর বিধানের ব্যতিক্রম, অবান্তর চিন্তাধারা ও বাড়াবাড়ি দেখলে তখন তাঁর চেহারায় রাগের ছাপ প্রকাশ পেয়েছে। নিম্নে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো—

ঘরে প্রাণীর ছবি রাখা : ইসলামের দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবি অঙ্কন এবং তা ঘরে টানিয়ে রাখা হারাম। তাই রাসুল (সা.) তাঁর ঘরে ছবিযুক্ত পর্দা দেখে রাগান্বিত হয়েছিলেন।  আয়েশা (রা.) বলেন, একবার নবী (সা.) আমার কাছে এলেন। তখন ঘরে একটি পর্দা ঝুলানো ছিল, যাতে ছবি ছিল। তা দেখে নবী (সা.)-এর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি পর্দাটি হাতে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) লোকদের মধ্যে বলেন, ‘কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে সেসব মানুষের, যারা এ সব ছবি অঙ্কন করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১০৯)

নামাজে রোগী-বৃদ্ধদের বিবেচনা না করা : নামাজে রোগী ও বৃদ্ধদের বিবেচনা না করে নামাজ বেশি লম্বা করায়ও মহানবী (সা.) রাগান্বিত হয়েছেন। আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, অমুক ব্যক্তি নামাজ দীর্ঘ করে। যে কারণে আমি ফজরের নামাজ থেকে পেছনে থাকি (অর্থাৎ জামাতে পড়তে পারি না)। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কোনো ওয়াজের মধ্যে সেদিনের চেয়ে অধিক রাগান্বিত হতে দেখিনি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঘৃণা সৃষ্টিকারী আছে। সুতরাং তোমাদের যে কেউ লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাদের মধ্যে রোগী, বৃদ্ধ এবং কাজের লোক থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১১০)

মসজিদ অপরিষ্কার করা : আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, একবার নবী (সা.) নামাজ আদায় করেন। তখন তিনি মাসজিদের কিবলার দিকে নাকের শ্লেষ্মা দেখতে পান। এরপর তিনি তা নিজ হাতে খুঁচিয়ে সাফ করলেন এবং রাগান্বিত হয়ে বলেন, তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাজে থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার চেহারার সম্মুখে থাকেন। কাজেই নামাজরত অবস্থায় কখনো সামনের দিকে নাকের শ্লেষ্মা ফেলবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১১১)

অহেতুক অতিরিক্ত প্রশ্ন করা : আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কতকগুলো বিষয়ে প্রশ্ন করা হলো, যা তিনি অপছন্দ করেন। লোকেরা যখন তাঁকে বেশি বেশি প্রশ্ন করতে লাগল, তিনি রাগাম্বিত হলেন এবং বলেন, আমাকে প্রশ্ন করো। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার পিতা কে? তিনি বলেন, তোমার পিতা হল হুজাফা। এরপর আরেকজন দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার পিতা কে? তিনি বলেন, তোমার পিতা শায়বাহর আজাদকৃত গোলাম সালিম। ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় রাগের আলামত দেখে বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করছি।’ (বুখারি, হাদিস : ৭২৯১)

নফল নিয়ে বাড়াবাড়ি করা : জায়দ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, একবার নবী (সা.) খেজুরের পাতা দিয়ে, অথবা চাটাই দিয়ে একটি ছোট হুজরা তৈরি করলেন এবং ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ওই হুজরায় (রাতে নফল) নামাজ আদায় করতে লাগলেন। তখন একদল লোক তাঁর খোঁজে এসে তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করতে লাগল। পরবর্তী রাতেও লোকজন সেখানে এসে হাজির হলো। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) দেরি করেন এবং তাদের দিকে বেরিয়ে এলেন না। তারা উচ্চ স্বরে আওয়াজ দিতে লাগল এবং ঘরের দরজায় কংকর নিক্ষেপ করল। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে তাদের কাছে বেরিয়ে এসে বলেন, তোমরা যা করছ তাতে আমি ভয় করছি যে এটি না তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয়। সুতরাং তোমাদের উচিত যে তোমরা ঘরেই নামাজ আদায় করবে। কারণ ফরজ ছাড়া অন্য নামাজ নিজ নিজ ঘরে পড়াই উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১১৩)

নবীদের মর্যাদা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হওয়া : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একবার এক ইহুদি তার কিছু দ্রব্য সামগ্রী বিক্রির জন্য পেশ করছিল, তার বিনিময়ে তাকে এমন কিছু দেওয়া হলো, যা সে পছন্দ করল না। তখন সে বলল, না! সেই সত্তার কসম, যিনি মুসা (আ.)-কে মানব জাতির ওপর মর্যাদা দান করেছেন। এ কথাটি একজন আনসারি শুনলেন, তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। আর তার মুখের ওপর এক চড় মারলেন। আর বলেন, তুমি বলছ, সেই সত্তার কসম! যিনি মুসাকে মানব জাতির ওপর মর্যাদা দান করেছেন, অথচ নবী (সা.) আমাদের মধ্যে অবস্থান করছেন। তখন সে ইহুদি লোকটি নবী (সা.)-এর কাছে গেল এবং বলল, হে আবুল কাসিম, নিশ্চয়ই আমার জন্য নিরাপত্তা এবং অঙ্গীকার আছে অর্থাৎ আমি একজন জিম্মি। অমুক ব্যক্তি কী কারণে আমার মুখে চড় মারল? তখন নবী (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি তার মুখে চড় মারলে? আনসারি লোকটি ঘটনা বর্ণনা করল। তখন নবী (সা.) রাগান্বিত হলেন। এমনকি তাঁর চেহারায় তা দেখা গেল। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর নবীদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর মর্যাদা দান করো না। কেননা কিয়ামতের দিন যখন শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাকে চাইবেন সে ছাড়া আসমান ও জমিনের বাকি সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয়বার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে। তখন সর্বপ্রথম আমাকেই উঠানো হবে। তখনই আমি দেখতে পাব মুসা (আ.) আরশ ধরে আছেন। আমি জানি না, তুর পর্বতের ঘটনার দিন তিনি যে বেহুঁশ হয়েছিলেন, এটা কি তারই বিনিময়, নাকি আমার আগেই তাঁকে বেহুঁশি থেকে উঠানো হয়েছে?’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪১৪)

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’


জায়েজ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা : আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি কাজকে জায়েজ করলেন, অন্য কিছু লোক তা খারাপ মনে করল। এ কথা নবী (সা.)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি রেগে গেলেন; এমনকি তাঁর মুখায়বে রাগ প্রকাশ পেল। তখন তিনি বলেন, লোকদের কী হলো যে আমার জন্য বৈধ একটা কাজে তারা আগ্রহ প্রকাশ করছে না। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই আল্লাহ সম্পর্কে তাদের চেয়ে বেশি জানি এবং তাঁকে বেশি ভয় করি।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬০০৫)

news24bd.tv রিমু    

পরবর্তী খবর