সফলতা লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

অনলাইন ডেস্ক

সফলতা লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

সফলতার পেছনে আমরা দৌড়াতে থাকি। কিন্তু সফলতা লাভের নিগুঢ় রহস্যগুলো সব আমাদের জানা নেই। আবার অনেকে জানলেও সফলতা লাভের নিয়ম বা উপায়গুলো মানে না। ফলে সফলতা লাভের চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায় না।

সফল হতে হলে প্রত্যেককেই মহান আল্লাহর দেখানো পথে যেমন হাঁটতে হবে। তেমনি দুনিয়ার সব কাজে সফল হতে আল্লাহর কাছে তাঁরই শেখানো ভাষায় সাহায্য কামনা করতে হবে। তবেই দুনিয়ার সব সফলতা লাভে সফল হবে।

পবিত্র কোরআনুল কারিমের এ আবেদনই মানুষকে সর্বোত্তম সফলতার পথে পরিচালিত করবে, যা বেশি বেশি পড়ার পাশাপাশি এর ওপর আমলও করতে হবে। তবেই মুমিন বান্দা সফলতা লাভে সফল হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَل لِّي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا

উচ্চারণ : ‘রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিও ওয়া আখরিঝনি মুখরাঝা সিদকিও ওয়াঝ্আললি মিল্লাদুংকা সুলত্বানান নাসিরা।’ (সূরা: বনি ইসাইল, আয়াত: আয়াত ৮০)।

অনুবাদ : হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে সত্যরূপে প্রবেশ করান এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে। আমাকে আপনার কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য দান করুন।

জীবনে সফলতা পেতে বেশি বেশি এ আয়াত পড়ার পাশাপাশি এ আয়াতের বাস্তব আমলে নিজেদের সাজানোর বিকল্প নেই। তবেই সম্ভব ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরিসহ যাবতীয় কাজকর্মে সফলতা লাভ করা।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বোত্তম সফলতা লাভ করতে উল্লেখিত আয়াতের বাস্তব আমল যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

কিয়ামতের দিন যে মাঠে পৃথিবীর আদি-অন্ত সব মানুষকে সমবেত করা হবে ওই মাঠকে হাশরের মাঠ বা কিয়ামতের ময়দান বলা হয়। পরকালে বিচারের জন্য কবর থেকে উত্থিত হয়ে সব প্রাণী এই মাঠে দণ্ডায়মান থাকবে। পৃথিবীই হবে হাশরের মাঠ। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর উপরিভাগে একটি চাদর আছে, একে পার্শ্ব ধরে টান দেওয়া হবে। ফলে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত সাগরে পতিত হবে। অতঃপর সমতল হয়ে যাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি (আল্লাহ) জমিনের উপরিভাগকে (বিচার দিবসে) উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ৮)

হাশরের ময়দানে মানুষ একটি নতুন পৃথিবী দেখতে পাবে, যার চিত্র ও দৃশ্য এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে দিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশও (পরিবর্তিত হবে) আর মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে—যিনি এক, পরাক্রমশালী।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪৮)

আকাশ ও পৃথিবী পাল্টে দেওয়ার এমন অর্থও হতে পারে যে এগুলোর আকার ও আকৃতি পাল্টে দেওয়া হবে। সে সময় গোটা ভূ-পৃষ্ঠ একটি সমতল ভূমিতে পরিণত করে দেওয়া হবে। এতে কোনো গৃহের ও বৃক্ষের আড়াল থাকবে না। পাহাড়, টিলা, গর্ত ও গভীরতা কিছুই থাকবে না। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতল ভূমি করে ছাড়বেন। তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১০৬ ও ১০৭)

কিয়ামতের দিন জমিনের সব স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হয়ে যাবে। সাহল ইবনে সাদ সাঈদ (রা.) থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন মানুষকে সাদা ধবধবে রুটির মতো জমিনের ওপর একত্র করা হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সেখানে কারো কোনো পরিচয়ের পতাকা থাকবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫২১)

আরও পড়ুন:


পীরগঞ্জের ঘটনায় রিমান্ড শেষে ৩৭ জন জেলহাজতে

সাকিব-নাসুমের পর সাইফুদ্দিনের আঘাত


হাশরের মাঠে একজন দর্শক সবাইকে দেখতে পাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে এক খাবারের দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সামনে (রান্না করা) ছাগলের বাহু আনা হলো, এটা তাঁর খুব পছন্দনীয় ছিল। তিনি সেখান থেকে এক খণ্ড খেলেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন মানবজাতির সরদার হব। তোমরা কি জানো? আল্লাহ কিভাবে (কিয়ামতের দিন) একই সমতলে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব মানুষকে একত্র করবেন? যেন একজন দর্শক তাদের সবাইকে দেখতে পায় এবং একজন আহ্বানকারীর আহ্বান সবার নিকট পৌঁছায়। সূর্য তাদের অতি কাছে এসে যাবে। তখন কোনো কোনো মানুষ বলবে, তোমরা কি লক্ষ করোনি, তোমরা কি অবস্থায় আছ এবং কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছ...। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৪০)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

সূরা আল-মূলক পাঠের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা আল-মূলক পাঠের ফজিলত

সূরা আল-মূলক কুরআনুল কারিমের ৬৭তম সূরা। এটি পবিত্র নগরী মক্কায় অবর্তীণ। এর আয়াত সংখ্যা ৩০। রুকু আছে ২টি। সূরা আল-মূলকের গুরুত্ব ও ফজিলত পরিসীম। এই সূরাটি যারা তেলাওয়াত করবে তাদের ক্ষমা না করা পর্যন্ত সুপারিশ করত থাকবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতদের মুক্তির পথ দেখাতে কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন সূরা ও আয়াত সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করেছেন। যাতে করে গোনাহ থেকে মুক্তি পায় মানুষ।

হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে - হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তুমি নিজে সূরা মূলক পড় এবং পরিবারের সবাইকে ও প্রতিবেশীকে উহা শিক্ষা দাও। কারণ উহা মুক্তিদানকারী ও ঝগড়াকারী। কেয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে ঝগড়া করে উহার পাঠকারীকে সে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবে এবং কবরের আজাব থেকে বাঁচিয়ে রাখবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার একান্ত কামনা যে, এই সূরাটি আমার প্রত্যেক উম্মতের অন্তরে গেঁথে থাকুক।’ (ইবনে কাসির)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরআন মাজিদে ৩০ (ত্রিশ) আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার আগ পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। আর সূরাটি হলো تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ অর্থাৎ সূরা মূলক।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

আর একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমার মন চায় প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে যেন সূরা মূলক মুখস্ত থাকে।’ (বাইহাকি)

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ার কারাগারে হামলা

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ‘তোমরা সূরা মূলক শিখে নাও এবং নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদের শেখাও। এটা কবরের আজাব হতে রক্ষা করবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে এই সূরা পাঠকারীর পক্ষে কথা বলে তাকে মুক্ত করবে।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা মূলক তেলাওয়াতের আমল করবে সে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে।’ (তিরমিজি, মুসতাদরাকে হাকেম)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ১৪৩-১৪৭, পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১৪৩-১৪৭, পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১৪৩ থেকে ১৪৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১৩৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন - 

وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ (143)

‘‘এভাবেই তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পার এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পারে। (হে রাসূল!) আপনি এ যাবত যে কেবলা অনুসরণ করেছিলেন, তাকে এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম-যাতে জানতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে এবং কে ফিরে যায়। আল্লাহ যাদের সৎ পথে পরিচালিত করেছেন তারা ব্যতীত অপরের নিকট তা নিশ্চয় কঠিন। আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের বিশ্বাসকে ব্যর্থ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি স্নেহশীল দয়াময়।’’ (২:১৪৩)

গত পর্বে কেবলা পরিবর্তন সম্পর্কে ইহুদীদের আপত্তিগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ এ সব আপত্তির জবাবে বলেছেন, পূর্ব পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন। আল্লাহর নির্দেশিত সরল পথে চলার মধ্যেই রয়েছে মুক্তি বা সুপথ। এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই যে, আল্লাহ পূর্বে অথবা পশ্চিমে বিরাজ করছেন এবং শুধু সেদিকেই মুখ ফেরাতে হবে। এই আয়াতে মুসলিম জাতিকে সব ধরনের চরমপন্থা থেকে মুক্ত মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম জাতি জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে বস্তুগত, অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, বিশ্বাসগত প্রভৃতি সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্যের সীমানার মধ্যে রয়েছে। এ আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য উপযোগী। এটা স্পষ্ট যে, সমস্ত মুসলমান এরকম নয় এবং মুসলমানদের অনেকেই চিন্তা অথবা কাজে চরমপন্থা অবলম্বন করে থাকতে পারে। তাহলে এ আয়াতের মূল উদ্দেশ্য কি?

এই আয়াতের মূল উদ্দেশ্য এটা বোঝানো যে, ইসলামী বিধান বা ধর্ম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী ধর্ম। কেউ যদি ইসলামের সমস্ত বিধান মেনে চলে, তাহলে একমাত্র সেই এমন অবস্থানে উপনীত হবে যে আল্লাহ তাকে মানুষের জন্য তার নিজের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করবেন। যেমনটি রাসূল (সা.)-এর আহলে বাইতগণ ঐশী নির্দেশনাবলীর প্রথম বাস্তবায়নকারী ও বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং সত্যিকারের মুসলিম জাতির পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী বা আদর্শ ছিলেন। তারা বলেছেন, মধ্যপন্থী জাতি বলে আল্লাহ যাদেরকে মানুষের ওপর তার নিজের সাক্ষী বলে ঘোষণা করেছেন, আমরাই হলাম সেই জাতি।

এই আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আল্লাহর অন্যান্য নির্দেশের মতই একটি নির্দেশ ও পরীক্ষা-যাতে এটা জানা যায় যে কারা আল্লাহর অনুগত এবং কারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আর এ জন্যেই যারা আল্লাহর পথ নির্দেশনা বা হেদায়াত থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য এ নির্দেশ পালন করা কঠিন এবং তারাই এ ক্ষেত্রে আপত্তি ও প্রশ্ন তুলছে।

এরপর ১৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ (144)

‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের (কাবা শরীফের) দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, (এ ধর্মগ্রন্থ) তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহর অজানা নেই।’’ (২:১৪৪)

ইহুদীরা যখন মুসলমানদের এই বলে বিদ্রুপ করছিল যে, তাদের কোন স্বতন্ত্র কেবলা নেই, তখন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ জোহরের নামাজের সময় আল্লাহর রাসূলের ওপর এ নির্দেশ অবতীর্ণ হয় এবং রাসূল (সা.) বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে মুখ ফিরিয়ে মক্কার দিকে মুখ করায় তার পেছনে জামাতে সমবেত মুসলমানরাও কাবামুখী হয়। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো- পূর্ববর্তী ঐশী গ্রন্থে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামের নবী দুই কেবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়বেন এবং ইসলামের নবীর অন্যতম এক নিদর্শন হবে এই ঘটনা। তাই এই আয়াতে আহলে কিতাবদের হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে- তোমরাই যখন জান যে, এই নির্দেশ সত্য তবুও কেন প্রতিবাদ করছ?

এরপর ১৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آَيَةٍ مَا تَبِعُوا قِبْلَتَكَ وَمَا أَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ (145)

‘‘হে নবী জেনে রাখুন যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আপনি যদি তাদের কাছে সমস্ত দলীল পেশ করেন তবুও তারা আপনার কেবলার অনুসারী হবে না এবং আপনিও তাদের কেবলার অনুসারী নন এবং যেমনটি তাদের কেউ কেউ অন্য কারো কেবলার অনুসারী হবে না। আপনার কাছে জ্ঞান আসার পরও আপনি যদি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি হবেন অত্যাচারীদের অন্তর্ভূক্ত।’’ (২:১৪৫)

এই আয়াতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হচ্ছে-যদি আহলে কিতাব আপনার কেবলাকে গ্রহণ না করে, তবে আপনি দুঃখিত হবেন না। কারণ হিংসা তাদেরকে সত্য গ্রহণের সুযোগ দেবে না। তাই আপনি যত যুক্তিই দেখান না কেন, তারা কিছুতেই যুক্তি গ্রহণ করবে না। কিন্তু তারা গ্রহণ না করলেও আপনি যেন আপনার কেবলা সম্পর্কে নীরব না হন বরং দৃঢ়তার সাথে এটা ঘোষণা করবেন যে, আমরা এসব হৈ-চৈ বা আপত্তিতে নত হব না এবং আমাদের অবস্থান থেকে মোটেই পিছু হটব না। ইসলাম ধর্মে সবার জন্য একই বিধান থাকায় আল্লাহ তার নবীকেও হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, আপনি নিজেও যদি তাদের প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে নিজের সঠিক কেবলার অনুসরণ না করেন তাহলে আপনি নিজের উম্মতের ওপর বড় ধরনের জুলুম করার দায়ে দোষী হবেন।

আরও পড়ুন


বেপরোয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাম্পে

দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ এরদোয়ানের

নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ঢুকে হাফেজ-ইমামসহ ৪ জনকে হত্যা : গ্রেফতার ৮


এরপর ১৪৬ ও ১৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

الَّذِينَ آَتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ (146) الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ (147)

‘‘আমি যাদেরকে গ্রন্থ দিয়েছি, তারা তাকে সেরূপ জানে, যেরূপ জানে আপন সন্তানগণকে এবং তাদের একদল জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।’’ (২: ১৪৬)

‘‘সত্য তোমার প্রতিপালকের, সুতরাং তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।’’ (২: ১৪৭)

তাওরাত ও ইঞ্জিল গ্রন্থে শেষ নবীর বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। আর তাই আহলে কিতাবগণ নবী (সাঃ) কে চিনত কিন্তু বিদ্বেষ ও একগুঁয়েমীর কারণে তারা এই সত্যকে অন্যদের কাছে গোপন রাখত বা সত্যকে বিকৃত করত। অবশ্য আহলে কিতাব রাসূল (সা.) এর বৈশিষ্ট্য দেখে তার প্রতি ঈমান এনেছিল। এইসব শারীরিক ও আত্মিক বৈশিষ্ট্য পূর্ববর্তী গ্রন্থে এমনভাবে উল্লেখিত হয়েছিল যে, কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তারা নবী (সা.)কে নিজের সন্তানের মতই চিনত। শেষের এই আয়াতে যে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেয়া হয়েছে তা হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নাজেল হয়েছে একমাত্র তাই সত্য। মানুষের বিরোধিতা এমনকি অধিকাংশ মানুষও যদি বিরোধিতা করে তাহলেও ঐশী নির্দেশের সত্যতার ব্যাপারে বিন্দুমাত্রও সন্দিহান হওয়া উচিত নয়।

এবারে সূরা বাকারার ১৪৩ থেকে ১৪৭ নম্বর আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক -

১. কেবলায় একদিকে যেমন রয়েছে স্বাধীনতার রহস্য, তেমনি এটি আত্মসমর্পনেরও নিদর্শন। স্বাধীনতা বলতে কর্তৃত্বকামী সকল ধর্ম ও জাতি থেকে মুসলমানরা আলাদা বা স্বতন্ত্র। আত্মসমর্পন বলতে বোঝায়, আল্লাহ যে নির্দেশই দেন না কেন নির্দ্বিধায় কোন প্রশ্ন ছাড়াই তা মেনে নেয়া।

২. ইসলাম হলো ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী ধর্ম। যদি মুসলমানরা আল্লাহর নির্দেশিত সঠিক পথে চলে তাহলে তারা অন্যান্য জাতির জন্য আদর্শ ও তাদের জন্য সাক্ষী হতে পারে।

৩. গোঁয়ার্তুমী ও বিদ্বেষ সব ধরনের যুক্তি, বিদ্বেষ ও সত্য অনুসন্ধানের বিরোধী। আর তাই ধর্ম এই দাম্ভিক মনোভাবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। 

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

যে ৫ কাজ করলে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়

আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)

যে ৫ কাজ করলে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়

মনের প্রশান্তি ও স্থিরতা অনেক বড় সম্পদ। মনের একাগ্রতা নষ্টকারী বহু বিষয় আছে। তার কয়েকটি হলো—

১. স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকা : নিজের অসতর্কতার ফলে স্বাস্থ্য খারাপ করা। ইবাদতে একাগ্রতা ধরে রাখতে শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখা আবশ্যক। মস্তিষ্ক সজীব রাখা এবং মনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এত কম খাদ্য গ্রহণ না করা যাতে শরীর দুর্বল ও শুষ্ক হয়ে যায়। আবার এত বেশি না খাওয়া যাতে বদহজম হয়। ঘুমের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।

২. খাবারের লোভ : বিনা প্রয়োজনে উন্নত খাবারের চিন্তায় লিপ্ত হলেও মন অস্থির হয়।

৩. অনর্থক সাজসজ্জা : অর্থহীন সাজসজ্জাও মানুষের মন অস্থির করে তোলে। কোনো এক কবি বলেন, ‘এত সাজসজ্জা ও পেটপূজার চিন্তার ফলে দ্বিন বিদায় নেবে।’ তবে একেবারে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকাও খারাপ। কেননা এতে অন্তর ময়লা হয়ে যায়। সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। তবে চিন্তাভাবনা ছাড়া যদি ভালো খাবার ও ভালো পোশাক পাওয়া যায় এবং এর ফলে নফসের মধ্যে কোনো মন্দ চরিত্র সৃষ্টির ভয় না থাকে, তবে তাকে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করে ব্যবহার করা এবং তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা উচিত।

৪. সম্পদের মোহ : সম্পদের মোহ ও তা সঞ্চয়ের চিন্তা মানুষের একাগ্রতা নষ্ট করে। একইভাবে সম্পদের অপব্যয়ও মানুষকে অস্থির করে তোলে। সম্পদ আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম।

৫. বন্ধুত্ব ও শত্রুতা : কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব ও শত্রুতায় জড়ালেও মানুষের একাগ্রতা নষ্ট হয়। বন্ধু তার সময় নষ্ট করে আর শত্রু তাকে ভয়ের মধ্যে ফেলে দেয়।

আরও পড়ুন


বেপরোয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাম্পে

দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ এরদোয়ানের

নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ঢুকে হাফেজ-ইমামসহ ৪ জনকে হত্যা : গ্রেফতার ৮


এভাবে যেসব বিষয় মানুষকে অস্থির করে তোলে, অথচ তা আবশ্যক ও প্রয়োজনীয় কিছু নয়, তা থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা জরুরি। তবে পেরেশানির কাজ না করেও কোনো পেরেশানির মধ্যে পড়ে যায় বা শরয়ি প্রয়োজনে কোনো কাজ করার পর পেরেশানি দেখা দেয়। কোনো সুদখোর ব্যক্তির উপহার প্রত্যাখ্যানের ফলে তার সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হওয়া। এমন অস্থিরতার সময়ে অস্থির না হয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা।

এমন অস্থিরতা ব্যক্তির আধ্যাত্মিক কোনো ক্ষতি হয় না। বরং সে আল্লাহর সাহায্য লাভ করে। যদি সে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে এর বিনিময় প্রত্যাশা করে, তবে আশা করা যায় আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ইস্তেগফারের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ইস্তেগফারের ফজিলত

‘ইস্তেগফার’ শব্দের অর্থ কৃত পাপকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহর অসংখ্য মহান গুণাবলির একটি হলো ক্ষমা। 

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ইমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।’ (সূরা তাহা, আয়াত: ৮২) 

ইস্তেগফারের ফজিলত:

ইস্তেগফারের উপকারিতা অনেক। কোরআন-হাদীসের আলোকে কিছু উপকারের কথা নিচে তুলে ধরা হলো।

এক. গোনাহখাতা মাফ হয়। 
কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা নূহ-১০)

দুই. অনাবৃষ্টি দূর হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তিনি (আল্লাহ) আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। (নূহ-১১)

তিন. সন্তান ও সম্পদ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে :  তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন। (নূহ-১২)

চার. সবুজ-শ্যামল পরিবেশ লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান। (নূহ-১২)

পাঁচ. নদ-নদীর ব্যবস্থা হবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। (নূহ-১২)

ছয়. উপভোগ্য জীবন লাভ হবে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমরা তোমাদের রবের কাছে গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও (ভবিষ্যতে গোনাহা না করার এবং আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করার দৃঢ় সংকল্প করো)। তিনি তোমাদের নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন। (সূরা হুদ-৩)

সাত. শক্তি-সামর্থ্য বাড়বে।
ইরশাদ হচ্ছে : তোমাদের শক্তির সাথে বাড়তি আরো শক্তি জোগাবেন। (হুদ-৫২)

আট. আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপত্তা দান করবে। 
ইরশাদ হচ্ছে : তারা ইস্তেগফারে রত থাকাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাদের শাস্তি দেবেন না। (আনফাল-৩৩)

নয়. সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তা’আলা তার সর্বপ্রকার সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দেবেন।

দশ. উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা দূর হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন : সর্বপ্রকার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা লাঘব করে স্বস্তি ও আনন্দ দান করবেন।

এগারো. অকল্পনীয় রিযিকের ব্যবস্থা হবে। 
রাসূল (সা.) বলেন :তাকে কল্পনাতীত রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর