মাইগ্রেন থেকে মুক্তি মিলবে যেসব খাবারে

অনলাইন ডেস্ক

মাইগ্রেন থেকে মুক্তি মিলবে যেসব খাবারে

মাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে অনেক সময় পুরো মাথায় ব্যথা করে। এতে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে, সেগুলো মাথাব্যথার শুরুতে স্ফীত হয়ে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।

সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় অন্য সমস্যার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেন একধরনের প্রাইমারি হেডেক, যা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসকের অধীনে এবং নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা উচিত। মাইগ্রেনের ব্যথা চোখের কোনো সমস্যার জন্য হয় না।

মাইগ্রেনের সমস্যা সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো সময় হঠাৎ করে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। মাইগ্রেনের কারণে মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা হয়। বমিভাব, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণ।

এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা মাইগ্রেনের সমস্যা কম করতে পারে।আসুন, সেসব খাবার সম্পর্কে জেনে নিই—

আদা
মাইগ্রেন থেকে মুক্তি দিতে পারে আদা। লেবু ও আদার রস একসঙ্গে বা আদা চা মাইগ্রেনের যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আদা কুচি করে চিবালেও উপকার পাওয়া যায়।

সবুজ শাকসবজি 
সবুজ শাকসবজিতে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। মাইগ্রেনের ব্যথায় ম্যাগনেসিয়াম খুবই কার্যকর। শস্য, সামুদ্রিক খাবার এবং গমেও প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

আরও পড়ুন


আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের দেওয়ালে পানি দিতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু

২১ জনের মৃত্যুর দিনে বাড়ল শনাক্ত

৫ দিনের রিমান্ডে কনক সারোয়ারের বোন

‘নোবেল অসুস্থ, মাদক ও নারীতে আসক্ত’, বললেন স্ত্রী


মাছ
মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। এ দুটি উপাদান মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

বাদাম
কাজুবাদাম, ওয়ালনাট ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ, তাই মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে এগুলো খেতে পারেন।

দুধ
মাইগ্রেনের সমস্যায় ফ্যাট-ফ্রি দুধ পান করা খুবই উপকারী। দুধে ভিটামিন-বি পাওয়া যায়, যা কোষকে এনার্জি জোগায়।

কফি
সাধারণ মাথাব্যথার ক্ষেত্রে যেমন কফি বা চা পান করা উপকারী হয়, তেমনই এটি মাইগ্রেনের ক্ষেত্রেও সহায়ক।

আঙুর
মাইগ্রেনের যন্ত্রণা কমাতে আঙুর বা আঙুরের রস খেতে পারেন। অল্প পানিতে আঙুরের রস মিশিয়ে খেতে পারলে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ব্রকলি
ব্রকলিতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়, যা মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আমলকী যেসকল রোগের উপকার করে

অনলাইন ডেস্ক

আমলকী যেসকল রোগের উপকার করে

ইদানীং সুপার ফুড বলে একটা কথা চালু হয়েছে। যে ফল বা খাবারের গুণাগুণ সাধারণ ফলের তুলনায় অনেক বেশি, সেসব ফলেরই এমন তকমা মেলে। আমলকীর গুণাগুণের কথা বিবেচনা করলে একে সুপার ফুডের চেয়েও এগিয়ে রাখা যায়। আমলকি টক আর তেতো স্বাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। আমরা কম বেশি অনেকেই আমলকি পছন্দ করি। এর স্বাদ প্রথমে তিক্ত লাগলেও খাওয়া শেষে মুখে মিষ্টি ভাব আসে। আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকির জুড়ি নেই। এছাড়া লিভার, জন্ডিস, পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম আমলকীতে ভিটামিন সি আছে ৪৬৩ মিলিগ্রাম। আমলকীতে পেয়ারার তিন গুণ ও কাগজি লেবুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। এ ছাড়া কমলার চেয়ে ১৫, আপেলের চেয়ে ১২০, আমের চেয়ে ২৪ ও কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে এতে।

আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করা ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতেও আমলকি দারুণ সাহায্য করে। তাছাড়া আমলকির ভিটামিন সি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর মুক্ত মৌলগুলোর (ফ্রি রেডিকেল) প্রভাব থেকে রক্ষা করে। 

আমলকি যেসকল রোগের উপকার করে:
আমলকি একটি ফল যা আমাদের অনেক দিক দিয়ে উপকার করে। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও অনেক সমস্যার সমাধান দেয়। আর তাই আমলকির গুনাগুন সম্পর্কে জানতে হবে।

১। অতিরিক্ত বমি বন্ধ করতে সাহাযয় করে।

২। আমলকি আমাদের রুচি বাড়ায়।

৩। হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের উপকার করে।

৪। আমলকি দাত, চুল ও ত্বক ভাল রাখতে কাজ করে।

৫। আমলকি কেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের কাজ করে।

৬। বহুমুত্র রোগে কার্যকরি।

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনা


 

৭। চোখের সমস্যা যেমন চোখ উঠলে আমলকির রস দিলে চোখ উঠা ভালো হয়।

৮। চুল উঠা দূর করতে আমলকি অনেক কার্যকরি।

৯। আমলকি মাথায় খুশকি সমস্যা সমাধান করে।

১০। পেটের পিড়া সারাতে সাহায্য করে।

১১। সর্দি কাশি সারায়।

১২। রক্তহীনতার জন্য খুব উপকারী।

১৩। লিবার ও জন্ডিস রোগ সারাতে আমলকি অনেক উপকারী।

২০০৭ সালে ভারতের বিজ্ঞানী কে তারভাদি ও ভি আগতে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকলেও এর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট গুণাগুণের পেছনে অন্য পুষ্টি উপাদানের ভূমিকাই বেশি। তাঁদের মতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টরূপে কার্যকারিতার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে এলাজিটানিন নামক কিছু পদার্থ। এতে আরও আছে পানিক্যাফোলিন ও পলিফেনল। ফলে ডায়বেটিস, ক্যানসার, লিভারের রোগ ইত্যাদি সবই প্রতিরোধ করে এই ফল।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

যেভাবে সহজেই বানাবেন আপেলের রস

অনলাইন ডেস্ক

যেভাবে সহজেই বানাবেন আপেলের রস

ছবি: সংগৃহীত

সারা সকালের ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে যেতে পারে একগ্লাস আপেলের রসে। এখন যদিও সারা বছর আপেল পাওয়া যায় বাজারে তবে শীতের সময়েই সবচেয়ে সুস্বাদু আপেলের খোঁজ পাওয়া যায়। গোটা আপেল যেমন যে কোনও সময়ে খিদে মিটিয়ে দিতে পারে, তেমনই শীতের সময়ে আপেলের স্যালাড, আপেল পাই, আপেলের হালুয়ার মতো নানা পদ উপভোগ করা যেতে পারে।

কোনও রকম যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই কিভাবে সহজেই আপেলের রস বানিয়ে ফেলতে পারবেন চলুন জেনে নেই। 

১। প্রথমেই আপেল ভাল করে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

২। হয়ে গেলে ফ্রিজার থেকে বার করে একটি পরিষ্কার পাত্রে রাখুন।

আরও পড়ুন:

এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমেছে


৩। দু’-তিন ঘণ্টা রেখে দিন ডিফ্রস্ট করার জন্য। 

৪। বরফ গলে গেলে দেখবেন আপেল একদম নরম তুলতুলে হয়ে গিয়েছে। হাত দিয়েই চিপে সহজে রস বার করে নিতে পারবেন।

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর

সিওপিডি সম্পর্কে যা না জানলেই নয়

অনলাইন ডেস্ক

সিওপিডি সম্পর্কে যা না জানলেই নয়

ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি, রোগের একটি ধরণকে বুঝায় যা বায়ুপ্রবাহে বাধা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে। এদের মধ্যে এমফিসেমা ও ক্রনিক ব্রোঙ্কাইটিস বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর শীর্ষ তিনটি কারণের একটি। উল্লেখ্য যে, এই রোগে মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে থাকে।  

সিওপিডি একটি প্রগতিশীল রোগ এবং সময়ের সাথে সাথে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তবে এটি নিরাময়যোগ্য। যথাযথ ব্যবস্থাপনা সিওপিডি আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীকে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সাহায্য করে। সময় বাড়ার সাথে সাথে সিওপিডি’র উপসর্গগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে, যাকে এক্সারসিবেশন বা তীব্রতা বলা যায়।

কারণসমূহ 
সিওপিডি-তে আক্রান্তের সম্ভব্য ঝুঁকিসমূহ হলো- 
১) ধূমপান- দীর্ঘসময় যাবত ধূমপায়ীদের সিওপিডি-তে আক্রান্তের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আপনি যত বেশি সময় ধরে ধূমপানে আসক্ত, সিওপিডি’র ঝুঁকি তত বেশি। সিগারেট, গাঁজা, পাইপ বা হুঁক্কা ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি দীর্ঘসময় যাবত ধূমপায়ীদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিরাও সিওপিডি’র ঝুঁকিতে থাকে। 

২) অ্যাজমা আক্রান্ত রোগী– অ্যাজমা একটি ক্রনিক ইনফ্ল্যামেটরি এয়ারওয়ে ডিজিজ। অ্যাজমা রোগীদের সিওপিডি-তে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। যেসকল অ্যাজমা রোগী ধূমপানে আসক্ত, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। 

৩) ধুলোবালি এবং কেমিক্যালের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি– দীর্ঘসময় যাবত ধুলোবালি, ধোঁয়া এবং কেমিক্যালের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে কারখানার কর্মীদের সিওপিডি-তে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। 

৪) জ্বালানীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিরা– জ্বালানী পোড়ানো, জ্বালানী উত্তোলন ইত্যাদি কাজের সাথে যুক্ত কর্মীদের সিওপিডি-তে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া, রান্নাকালীন ধোঁয়াও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। 

৫) জিনগত– আলফা-১-অ্যান্টিট্রিপসিন একটি জিনগত রোগ যা সচরাচর দেখা না গেলেও এতে সিওপিডি-তে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ জিনগত সমস্যার কারণে ধূমপায়ীরা সিওপিডি আক্রান্ত হতে পারেন।


উপসর্গসমূহ
সিওপিডি’র উপসর্গগুলো হলো, ডিসপেনসিয়া বা শ্বাসকষ্ট। এটি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়, সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় এবং শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করার সময় বেড়ে যায়; দীর্ঘ সময় ধরে কাশি; ঘন ঘন এবং অতিরিক্ত মাত্রায় থুথু আসা ইত্যাদি।

সাধারণ সিওপিডি রোগীদের ক্ষেত্রে ডিসপেনসিয়া হলে শ্বাস নেওয়ার বাড়তি চেষ্টা, শরীরচর্চার সময় শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পাওয়া, বুক ভারী হয়ে যাওয়া এবং হাঁপাতে থাকা ইত্যাদি বেশি মাত্রায় লক্ষ্য করা যায়। ফুসফুসের লক্ষ্যণীয় ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত সিওপিডি উপসর্গগুলো ঠিক মতো বোঝা যায় না। উপসর্গগুলো সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে, বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে।   

পরীক্ষা 
সিওপিডি নির্ণয় করা হয় এর উপসর্গ, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এবং স্পিরোমেট্রি বা পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে। সিওপিডি নির্ণয়ের জন্য স্পিরোমেট্রিতে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় বায়ুপ্রবাহের সীমাবদ্ধতা আবশ্যক। বুকের এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যান করতে রেডিওলজি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। সিওপিডি আক্রান্ত রোগীকে স্পাইরোমেট্রিতে বায়ুপ্রবাহের সীমাবদ্ধতা, ডিসপেনিয়ার মাত্রা এবং এক্সারসিবেশনের ভিত্তিতে এ, বি, সি এবং ডি বিভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।

চিকিৎসা 
সিওপিডি’র উপসর্গ কমাতে, ফ্রিকোয়েন্সি ও এক্সারসিবেশনের উপসর্গ কমাতে, শরীরচর্চার সহনশীলতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবস্থা উন্নত করতে ফার্মাকোলজিক্যাল থেরাপি দেওয়া হয়। ব্রোঙ্কোডিলেটর ও ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড হলো ফার্মাকোলজিক্যাল-এর প্রধান দুটি ধরণ। সিওপিডি’র অবস্থার উপর ভিত্তি করে ঔষধ প্রদান করা হয়, যার অধিকাংশই  ইনহেলেশনাল ফর্মে অর্থাৎ ইনহেলার, নেবুলিস্টিয়ান আকারে নির্ধারিত হয়।

সাপ্লিমেন্টাল অক্সিজেন ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগীর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকলে একটি বহনযোগ্য অক্সিজেন ট্যাংক ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া সিওপিডি গুরুতর পর্যায়ে চলে গেলে এলভিআরএসজিরো এবং ব্রঙ্কোস্কোপিক ইন্টারভেনশন-এর মতো পদ্ধতি দ্বারা লাং ভলিউম রিডাকশন সার্জারি করা সম্ভব।

পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা সিওপিডি’র নানান কৌশল সম্পর্কে আমাদের শিক্ষা দেয়। এর মাধ্যমে মানুষ আরও ভালোভাবে শ্বাস নেওয়া ও শক্তি সঞ্চয় করা, যথাযথ খাদ্য গ্রহণ, যথাযথ শরীরচর্চা করা ইত্যাদি শিখতে পারে।

ঝুঁকি ও জটিলতাসমূহ 
সিওপিডি’র ফলে বিভিন্ন ঝুঁকি ও জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন; 

১) রিসপিরেটরি ইনফেকশনস– সিওপিডি আক্রান্তদের ফ্লু, সর্দি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেকোন রিসপিরেটরি ইনফেকশনের ফলে শ্বাস গ্রহণ জটিল হতে পারে, যার ফলে পরবর্তীতে লাং টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে। 

২) হার্ট জনিত সমস্যা– যথাযথভাবে নিশ্চিত না হওয়া গেলেও, সিওপিডি হার্ট অ্যাটাক সহ হার্ট জনিত ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

 ৩) ফুসফুসের ক্যান্সার– সিওপিডি ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। 

৪) ফুসফুসের উচ্চ রক্তচাপ– সিওপিডি’র ফলে ফুসফুসের আর্টারিতে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, এতে করে ফুসফুসে রক্ত চলে আসে। একে পালমোনারি হাইপারটেনশনও বলা হয়। 

৫) ডিপ্রেশন– শ্বাসকষ্টের কারণে রোগী এমন অনেক কিছুই করতে ব্যর্থ হন, যা তিনি করতে চান বা ভালোবাসেন। এসব বিষয়গুলো ধীরে ধীরে মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত করে, রোগী হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন, নিজেকে অন্যের তুলনায় দুর্বল ভাবতে থাকেন। এসবের ফলে এবং জটিল রোগ মোকাবিলা করতে করতে রোগী ডিপ্রেশনে ভুগেন।  

এছাড়া, সিওপিডিহীন প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় সিওপিডি আক্রান্তরা দৈনিক কার্যক্রম সীমিত থাকে। হাঁটতে, বিশেষ করে উঁচু স্থানে এবং সিঁড়ি বাইতে কষ্ট হয়; বহনযোগ্য অক্সিজেন ট্যাংকের মতো বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়; সকলের সাথে একা কিংবা বন্ধু ও আত্মীয়দের সাথে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, খেতে যাওয়া, উপাসনালয়ে যাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে অনিশ্চয়তা; যেকোন কাজ করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা; কাজে বিভ্রান্তি বোধ করা বা ভুলে যাওয়া, ডিপ্রেশনে বা অন্যান্য মানসিক সমস্যায় ভুগা; হাসপাতালের যাতায়াত বেড়ে যাওয়া, এমনকি রাত্রিযাপনের প্রয়োজন হওয়া; হার্ট-ফেইলিওর, আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, হার্টের করোনারি রোগ, স্ট্রোক, অ্যাজমা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হন।   

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


 

প্রতিকার 
সিওপিডি রোগের কারণগুলো যেমন স্পষ্ট, তেমনই এর প্রতিকারের পথও স্পষ্ট। এমনকি এটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনাও সম্ভব। ধূমপায়ীরা সিওপিডি’র প্রধান শিকার। তাই ধূমপান ত্যাগই এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার।

দীর্ঘদিন যাবত ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই সহজ বিষয়গুলো ততটা সহজ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যদি তাঁরা ইতোপূর্বে ধূমপান ত্যাগের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে থাকেন। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। ধূমপান বন্ধে সাহায্যকারী কোন প্রোগ্রাম বা পদ্ধতি খুঁজে বের করা মুশকিল হলেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর দ্বারাই ফুসফুসের সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।   
 
কারখানা কর্মী যারা রাসায়নিক পদার্থ, ধুলোবালি, কালো ধোঁয়া ইত্যাদির সংস্পর্শে কাজ করে, তারা সিওপিডি’র ঝুঁকিতে থাকে। যদি কর্মক্ষেত্রে ফুসফুসের জ্বালাপোড়া হয় বা কোন সমস্যা অনুভূত হয় তবে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা উচিৎ। সেক্ষেত্রে, রিসপিরেটরি প্রোটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট-এর ব্যবহার করা যেতে পারে।   

সিওপিডি প্রতিকারে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তা হলো, ধূমপান বর্জন করা। এতে করে ফুসফুস এবং হার্টের ঝুঁকি কমে যায়; নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক গ্রহণ। এর মাধ্যমে অসুস্থতার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব; চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ। বিশেষ করে মানসিক অশান্তি, অসহায়ত্ববোধ, একাকীত্ববোধ ইত্যাদি সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ এবং ডিপ্রেশনকে অবশ্যই গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিৎ।

লেখক: ডা. চেতান রাও ভাদেপাল্লি।কনসালটেন্ট পালমোনোলজিস্ট।ইয়াশোদা হসপিটাল, হায়দ্রাবাদ। 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

মুখ-গলা শুকিয়ে 'কাঠ' হয়ে গেলে যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক

মুখ-গলা শুকিয়ে 'কাঠ' হয়ে গেলে যা করবেন

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমাদের প্রায়ই এমন মনে হয় যে মুখ-গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, জিবে মুখে কোনো লালা নেই। প্রচণ্ড পিপাসা পেলে, বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বা অনেক সময় উদ্বেগ কিংবা দুশ্চিন্তায় এমনটা হয়। কিন্তু প্রায়ই আপনার মুখ-জিব শুকিয়ে খটখটে হয়ে এলে একটু ভাবতে হয় বৈকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে জেরোস্টোমিয়া। মুখের লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসরণ কমে গেলেই এটা হয়।

মনে রাখবেন, মূলত জেরোস্টোমিয়া নামক রোগের কারণে মুখে লালা কমে যায়। যার জন্য এই ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কোন কারণে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণেও এই রোগ হতে পারে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হতাশা, ব্যাথা ও পেশি শিথিলতার জন্য যে যে ওষুধ খেতে হয়, তার ফলে মুখ শুষ্ক হয়ে আসতে পারে।

কিছুক্ষেত্রে দেখা যায় আমরা অনেকে ঘুমানোর সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে থাকি। মূলত, হাইপোসালিভেশনের কারণে এমনটা হয়। সে সময়ে মুখ শুকিয়ে যায়। নাক দিয়ে না শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া একধরনের অভ্যাস বলেো মনে করেন অনেকে। তাই ইএনটি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

যারা ধূমপান ও অ্যালকোহল পান করেন তাদেরও এই সমস্যা হতে পারে। জার্নাল অব ডেন্টাল রিসার্চের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা প্রতিদিন ধূমপান ও অ্যালকোহল ৩৯ শতাংশ মানুষের মুখের লালা উৎপাদন কমে গিয়েছে।

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


 

এছাড়া ডায়াবেটিস হলে মুখ শুকিয়ে আসতে পারে। তাই ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মুখ শুকিয়ে এলে পরামর্শ নিন ডাক্তারের। আপনার শরীরে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ঠিক কতটা তা না জানা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ, এই উপসর্গ কিছু ক্ষেত্রে জানান দেয় শরীরে ডায়াবেটিসের উপস্থিতি।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

হাড় ক্ষয় রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

হাড় ক্ষয় রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ অস্টিওপোরোসিস । এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতিবছর বিশ্বে ৯০ লাখের বেশি মানুষের হাড় ভাঙে অস্টিওপোরোসিসের কারণে।  অস্টিওপেনিয়ার সময়ই হাড়কে দুর্বল করে ফেলে এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই নীরবে এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে। হাড় ভেঙে যাওয়ার আগে এই রোগের তেমন একটা লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশে ৬০ লাখের মতো মানুষ হাড় ক্ষয়রোগে ভুগছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের এই রোগের ঝুঁকি ৫.১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩.১ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনের অসামঞ্জস্যের (স্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন) কারণে হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি হয়।

অস্টিওপোরোসিস  এর কারণ
হাড়ক্ষয়ের পেছনে নানা ধরনের কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হলো : খাদ্য : পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘বি’, ভিটামিন ‘বি ১২’ ইত্যাদির অভাব হাড়ক্ষয়ের জন্য দায়ী। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন গড়ে ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন, সেখানে প্রতিদিন গড় ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ৩০৩ মিলিগ্রাম।

বংশগত : বংশে হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ইতিহাস থাকলে।
হরমোনাল : কম বয়সে মেনোপজ হলে, হাড়ের ঘনত্ব কম থাকলে।

অন্যান্য রোগ : রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম, ক্রনিক লিভার ডিজিজ থাকলে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : স্টেরয়েড (যেমন প্রেডনিসোলোন, ডেক্সামেথাসন, প্রটন পাম্প ইনহিবিটর ইত্যাদি সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাড়ক্ষয় হতে পারে।

কায়িক শ্রম না করা : দৈনন্দিন জীবনে কায়িক শ্রম বা ব্যায়ামের অভ্যাস না গড়ে তোলা হাড় গঠনের জন্য বড় সমস্যা।

লক্ষণ

হাড়ক্ষয় একটি নীরব ঘাতক। তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। এরপরও কিছু লক্ষণ হলো, পিঠের পেছন দিকের অস্থিতে ব্যথা অনুভব হওয়া, হিপ, কোমর ও মেরুদণ্ডে ক্ষয় দেখা দেওয়া, উচ্চতা কিছুটা কমে যাওয়া, হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় ঝুঁকে থাকা, হঠাৎ পড়ে গেলে হার ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি।

হাড়ক্ষয় প্রতিরোধে করণীয়
সঠিক খাদ্যাভ্যাস : হাড় ক্ষয়রোগীদের দুধ, দই, পনির, সয়াবিন, বাদাম, ঋতুকালীন সবুজ শাকসবজি, লেটুস, ব্রকলি, মাশরুম জাতীয় খাবার, মাছ খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:


দ. আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন খুবই ভয়ঙ্কর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একই ইউপিতে বাবা-ছেলে ও আপন দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী!

বেগম জিয়ার জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই: হানিফ


ক্যালসিয়াম : দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন রকম থাকে। গড়ে তিন বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম, চার থেকে আট বছর পর্যন্ত ৮০০ মিলিগ্রাম, ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সে ১৩০০ মিলিগ্রাম, ১৯ থেকে ৫০ বছরে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং ৫১ বছর বা তদুর্ধ্বে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাবার থেকে গ্রহণ করা উচিত। দুধ ছাড়াও বাদাম, শাকসবজি, ছোট মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে।
প্রোটিন : কাঁটাসহ সার্ডিন মাছ, অ্যালমন্ড, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি খাবার গ্রহণ।

ভিটামিন ‘ডি’ : একজন মানুষের ভিটামিন ‘ডি’র চাহিদা দৈনিক১০-১২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাত্র ১ শতাংশ লোক যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করে থাকে। ক্যালসিয়াম শোষণ, শক্তিশালী হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘ডি’। কিন্তু শুধু খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে যথেষ্ট ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া কঠিন। সূর্যের আলো ভিটামিন ‘ডি’র সবচেয়ে ভালো উৎস। তাই প্রতিদিন ২৫-৩০ মিনিট রোদে থাকা ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। এ ছাড়া চর্বিযুক্ত টুনা, স্যালমন মাছ, ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাওয়া উচিত।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর