সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় ৩ প্রকল্প

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় ৩ প্রকল্প

জীব বৈচিত্র্যের বৃহত্তম আধার বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ) এলাকা সুন্দরবন। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন কমতে কমতে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটারে। যা দেশের সংরক্ষিত বনভূমির ৫১ ভাগ। জলবায়ু পরিবর্তনসহ একশ্রেণীর ক্ষমতাবান অসৎ মানুষের কারণে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি।

এই অবস্থায় দেশের অক্সিজেনের ভান্ডার আমাদের ফুসফুস সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় ১৮৭ কোটি ৮৭ লাখ ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ৩টি প্রকল্প। চলতি অর্থ বছরে চলমান প্রকল্প ৩টি হচ্ছে সুন্দরবনে ২৫ কেটি টাকায় নতুন ৪টি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণ, ১৫৭ কোটি ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প ও সুন্দরবনে বাঘসহ বণ্যপ্রাণির সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৪টি পুকুর খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের কাজ শেষে হলে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি, ইকোট্যুরিজমসহ অবকাঠামোগত সমস্যার বহুলাংশের সমাধান হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

সুন্দরবনে নতুন ৪টি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প: সমগ্র সুন্দরবনের উপর ইকোট্যুরিষ্টদের চাপ কমানোসহ এই ম্যানগ্রোভ বনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন ৪টি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২৫ কেটি টাকা ব্যয়ে শরণখোলা রেঞ্জের আলিবান্ধা, চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক, খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগীতে নতুন ৪টি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। সুন্দরবনে প্রতিবেশ পর্যটন বা ইকোট্যুরিজম সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে এসব কেন্দ্রে সাড়ে ৬ হাজার বর্গমিটারের একটি আরসিসি ফুট ট্রেইল, একটি ইন্টারপ্রিটেশন ও ইনফরমেশন সেন্টার ও সাতটি স্যুভেনির শপ নির্মাণ, বন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইকোট্যুর অপারেটর, গাইড কো ম্যানেজমেন্ট কমিটির ৬০০ সদস্যকে প্রশিক্ষণ, স্থানীয়দের পাশাপাশি স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ ৭টি ফাইবার বডি ট্রলার, ৩টি পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, ৩ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক, পাবলিক টয়লেট, সাড়ে ৮ হাজার ঘনমিটার পুকুর খনন, প্রদর্শনী ম্যাপ সেড, আরসিসি বেঞ্চ ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া গাইড ম্যাপ, পর্যটকদের জন্য ১০টি পথ নির্দেশনা ও ঝুলন্ত সেতুসহ অন্য অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে তৈরি করা হবে। বর্তমানে সুন্দরবনে ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে করমজল, হাড়বাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলারচর, হিরণপয়েন্ট ও কলাগাছিয়া রয়েছে। নতুন ৪টি কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলতি অর্থ বছরের মধ্যে শেষ হলে সুন্দরবনে ১১টি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের সংখ্যা দাড়াবে ১১টিতে।

সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প: সুন্দরবন সুরক্ষা নামের বড় এই প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে ১৫৭ কোটি ৮৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে সুন্দবনের দুবলা, ককিলমুনি, শ্যালা, কচিখালী, চরখালী, তাম্বুলবুনিয়া, জোংড়া ও ঝাপসি টহলফাঁড়িসহ ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ বন অফিসে আরসিসি ভবন, পল্টুন ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ, বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বন সন্নিহিত এলাকায় পলি পড়ে ভরাট হওয়া বাইন্ডারী নদী-খাল পূন:খনন করা হবে। সুন্দরবনের পানি, মাটি, বৃক্ষরাজি ও বন্যপ্রানীসহ প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে ইকোলজিক্যাল মনিটরিং সিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব নিয়ে করা হবে উচ্চতর গবেষণা। খুলনায় সুন্দরবন বিভাগের অফিসে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে জিওগ্রাফি ইনফরমেশন সিস্টেম বা জিআইএস ল্যাব। এই ল্যাব দিয়ে সুন্দরবনের হাল নাগাদ মানচিত্র তৈরী করা হবে। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী একনেকে পাশ এই প্রল্পটির কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হলে সুন্দরবনের প্রানপ্রকৃতির হালনাগাদ চিত্র উঠে আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ একশ্রেণীর ক্ষমতাবান অসৎ মানুষের কারনে অত্বিস্ত সংকটে থাকা সুন্দরবনের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪৩ প্রজাতির মলাস্কা ও ১ প্রজাতির লবস্টার, সুন্দরী, গেওয়া,গরান, পশুরসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদরাজি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ীসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ৩১৫ প্রজাতির পাখি সুরক্ষায় দ্রুত বিজ্ঞান সম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বন বিভাগ।

আরও পড়ুন


সুদীপ্ত হত্যা: চার্জর্শীটে আওয়ামী লীগ নেতার নাম, জামিনে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা

পা দিয়ে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা দেয়া সেই ছুরাইয়ার স্বপ্ন প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার

স্বাস্থ্যবিধি মেনে টরন্টোয় শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের প্রস্তুতি

পটুয়াখালীর নিউমার্কেটে শতাধিক দোকান আগুনে ভস্মীভূত


৮৪টি পুকুর খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প: লবনাক্ত জলাভূমির সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস। বন্যপ্রাণীর দীর্ঘদিনের সুপেয় মিঠাপানির চাহিদা মেটানো পাশাপাশি বনের বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বনজীবী ও পর্যটকদের খাবার পানির জন ৪টি নতুন পুকুর খনন ও ৮০টি পুকুর পুন:খনন করা হচ্ছে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়ানে ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যায়ে এসব পুকুরের মধ্যে ৭০টিতে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা ঘাট। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর আধিক্য রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে এসব পুকুর খনন ও পুন:খননের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে। পুরাতন পুকুরগুলো ঝড়-জলোচ্ছাসে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রানীগুলো সুপেয় পানি সংকটের মধ্যে ছিল। এই অবস্থায় ৮৪টি পুকুর খনন ও পূন:খনন প্রকল্পের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হলে বন্যপ্রানীগুলোকে আর লবনাক্ত পানি খেতে হবে না। পাশাপাশি ঝড়-জলোচ্ছাসের সময় পুকুরের উচু পাড়ে আশ্রয় নিতে পারবে সুন্দরবনের বাঘসহ প্রাণীকূল।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো এবিষয়ে জানান, সুন্দরবনে এই প্রকল্প ৩টির কাজ শেষ হলে ইকোট্যুরিজমের উন্নয়ন ও দীর্ঘদিন ধরে বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রানীর সুপেয় পানি সমস্যার বহুলাংশের সমাধান হবে। অবকাঠামোগত সমস্যা অনেক কমে আসার পাশাপশি এই ম্যাগ্রোভ বনের প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে ইকোলজিক্যাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে গবেষণা করে সমস্য সমাধান করা সহজতর হবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে সংঘর্ষ

মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত চারজনের পরিচয় জানা গেছে

অনলাইন ডেস্ক

মাগুরা সদর উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দলাদলির ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ জগদল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের সাহাবাজ মোল্যার ছেলে সবুর মোল্যা, কবির হোসেন, চাচাতো ভাই রহমান মোল্যা এবং ইমরান। 

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


এলাকাবাসী জানায়, এই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি মেম্বার নজরুল হোসেন। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে তফসিল ঘোষণার পর এই ওয়ার্ড থেকে সৈয়দ আলি নামে অপর একজন মেম্বার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। 

এ ঘটনার পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় নজরুল মেম্বার এবং সৈয়দ আলি সমর্থিতদের মধ্যে বাদ বিবাদ চলছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পাসপোর্ট অফিসে টাকা দিলে সব মেলে

সৈয়দ রাসেল, সিলেট

অনিয়ম-দুনীর্তির কারণে দুর্ভোগ আর যন্ত্রণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, এসব অভিযোগে এ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হলেও তারা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এ কারণে দুর্নীতির মায়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নানা তৎপরতার পর থেমে নেই সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতি। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, পুলিশ ভেরিফিকেশন, জন্মনিবন্ধন সনদ আর সত্যায়িত করার সিল সবই আছে দালালের কাছে। দরকার শুধু টাকা। 

এসব অবৈধ কাজ দিনের পর দিন করছে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।

২০১১ সালে অনিয়মের অভিযোগে বদলি হন সিলেট পাসপোর্ট অফিসের তৎকালীন উপ পরিচালক এ.কে.এম মাজহারুল ইসলাম। ২০১৭ সালে ডিডি হয়ে সিলেটে এসে ফের অনিয়মে জড়ান এই কর্মকর্তা। আবারও বদলি করা হয়।  

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


তবে ২০১৯ সালে তৎকালীন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচালক হয়ে ফেরেন এই অফিসে। ফের  নতুন করে নানা অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে এই পাসপোর্ট অফিস।

নানা অভিযোগে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সরকারের একাধিক সংস্থা। তবে বরাবরের মতো অভিযোগ অস্বীকার করলেন এই কর্মকর্তা। এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম- দুর্নীতি বন্ধে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে দমন করা হবে: মিসবাহ

অনলাইন ডেস্ক

কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবার অশুভ উদ্দেশ্য মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্।

দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ,গণমাধ্যম কর্মীসহ বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দীর্ঘকালের ঐতিহ্য রয়েছে সুনামগঞ্জে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কেউ এটি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে, কঠোরভাবে তা দমন করা হবে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে: জাফরুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক


কুমিল্লার ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে: জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পূজামণ্ডপ রক্ষার মূল দায়িত্ব সরকারের, ব্যর্থতার দায়ও সরকারের। ব্যর্থতা আমাদেরও রয়েছে। তবে সরকারকে এ ঘটনার দায় নিতে হবে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আজ দুপুরে কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তরপাড়ে দর্পণ সংঘের ভাঙচুর হওয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলপাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জাফরুল্লাহ বলেন, এত পুলিশ থাকার পরও কীভাবে ঘটনাটি ঘটল? এটি দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। এত বড় ঘটনা ১৯৪৭-এর পর আর ঘটেনি। কক্সবাজার, নাসিরনগর, শাল্লা ও হাজীগঞ্জে আক্রমণ হয়েছে। তবে কুমিল্লার মতো এত বড় ঘটনা কোথাও ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে দেশে নৈরাজ্য হচ্ছে। এ জন্য জাতীয় সরকার দরকার। এখানে পুলিশের ব্যর্থতা আছে। তাদের সাসপেন্ড করা দরকার। ব্যর্থ পুলিশের ট্রাইব্যুনালে বিচার করা দরকার।

জাফরুল্লাহ বলেন, সরকারকে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার গঠন করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে। এ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করা উচিত। 

সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই মন্তব্য করে কুমিল্লার ঘটনায় লোক দেখানো ধরপাকড়ের নামে সরকার ঘটনাটি অন্য খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় পূজামণ্ডপটি পরিদর্শনে আসেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা নানুয়া দিঘির পাড় এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা এর বিচার চাই। মানুষ প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। সেটা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

এদিকে একই সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। ঐক্য পরিষদের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। রামু থেকে কুমিল্লা, কারও ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। রামুর ২২ মামলার অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

প্লাবন রহমান

মৃত সন্তান জন্ম দিয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন স্বামীর নির্যাতনে গায়ে আগুন দেয়া কিশোরী মা লাবণ্য। যৌতুকের টাকার চাপে শেষ পর্যন্ত নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় লাবণ্যের। মেয়েকে নির্যাতনকারী স্বামী শাহীন আলম ও তার পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন লাবণ্যের বাবা-মা।   

সুরাইয়া নেওয়াজ লাবন্য। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণী এখন না ফেরার দেশে। নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে নির্যাতন থেকে মুক্তি খুঁজে চলে গেছেন পরপারে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছেন সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য। বিয়ের এক বছর না যেতেই স্বামীর যৌতুকের চাপ-সেইসঙ্গে শশুর বাড়ির লোকজনের নানামুখী নির্যাতনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন এই স্ত্রী। পেটে সন্তানের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলছিল লাবন্যের ওপর শারিরীক-মানসিক নির্যাতন। এসব সইতে না পেরে নিজের শরীর নিজেই ঝলসে দেন আগুনে। পরে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার পৃথিবীর সব মায়া ছেড়ে চলে গেলেন লাবন্য। তার আগে শরীরের ৯০ ভাগ পোড়া নিয়ে হাসপাতালে জন্ম দেন পাঁচ মাসের মৃত কন্যা সন্তান।

অথচ গত বছর নভেম্বরে ভালবেসে বিয়ে করেন শাহীন আলম ও লাবণ্য। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে চাপে রেখেছিলেন স্বামী শাহীনসহ শশুর বাড়ির লোকজন। এরইমধ্যে সন্তান সম্ভবা হলেও এতটুকু সহানুভুতি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত লাবণ্যের ঠাই হয় বাপের বাড়ি। সেখানে থাকা অবস্থায়ও ফোনে স্বামী যৌতুক দাবি করলে, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই তরুণী। 

আরও পড়ুন:


নতুন সুখবর দিলেন জয়া

চট্টগ্রামে মা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশের সেই খুদে লেগস্পিনারকে নিয়ে যা বললেন শচীন! (ভিডিও)

মনোনয়ন ফরম কিনতে গিয়ে জানলেন ১১ বছর আগেই মৃত!


অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলতে চেষ্টা করলে স্বামী শাহীনের দুইটি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ফোনে শাহীনের বাবা আবু তাহের জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। বিস্তারিত কিছু জানেন না তিনি।

সুরাইয়া ইয়াসমিন লাবণ্যের শশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউরার খাগড়া এলাকায়। আর বাবার বাড়ি নেত্রোকোনার কলমাকান্দার গাখাজোড়া এলাকায়। পাঁচ দিন আগে ওই বাবার বাড়ি থাকা অবস্থায় ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা হওয়ার পরই গায়ে আগুন দেয় মেয়েটি।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর