সূরা বাকারা: আয়াত ১১৩-১১৭, শিক্ষাণীয় বিষয়

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১১৩-১১৭, শিক্ষাণীয় বিষয়

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১১৩ থেকে ১৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১১৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَى شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ (113

"ইহুদীরা বলে খ্রিস্টানদের কোন ভিত্তি নেই অর্থাৎ তারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং খ্রিস্টানরা বলে ইহুদীরা সত্যের অনুসারী নয়,অথচ তারা (উভয় সম্প্রদায়ই) আল্লাহর গ্রন্থ পাঠ করে। একইভাবে মূর্তি পুজারী ও মুশরিকরা যারা (আল্লাহর গ্রন্থ সম্পর্কে) কিছুই জানে না তারাও অনুরূপ কথা বলে। সুতরাং যে বিষয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে, আল্লাহ পুনরুত্থান দিবসে তার মীমাংসা করবেন৷" (২:১১৩)

আগের পর্বে আমরা বলেছি, ইহুদী এবং খ্রিস্টানরা বেহেশতকে একমাত্র তাদের জন্য নির্ধারিত বলে মনে করে৷ এই আয়াতে তাদের এই চিন্তাধারাকে নাকচ করে দিয়ে বলা হয়েছে যে, অন্যায় বিদ্বেষ বা হিংসার কারণেই ইহুদী ও খ্রিস্টানরা পরস্পরকে বিভ্রান্ত বলে মনে করে। অথচ এ দুই জাতির কাছেই ঐশী গ্রন্থ নাজেল হয়েছিল এবং তারা ছিল আল্লাহর নবীদেরই উম্মত বা অনুসারী। কিন্তু মজার বিষয় হলো-মুশরিক ও মূর্তিপূজারীরা ঐশী বা খোদায়ী গ্রন্থের অনুসারী না হওয়া সত্ত্বেও তারা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের মত একই দাবি করত। অর্থাৎ দাবি করত যে, একমাত্র তারাই বেহেশতে যাবে-অন্য কেউ নয়৷ আসলে হিংসা ও প্রধান্য বিস্তারের মনোভাব মানুষকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে৷ ফলে তারা সত্যকে মেনে নিতে পারে না, শুধু নিজেদেরকেই সত্যের অনুসারী বলে মনে করে এবং অন্যরা যাই হোক না কেন তাদের মতে সত্যের অনুসারী নয়। এই আয়াতে স্পষ্ট করে এটাও বলা হয়েছে যে, মানুষ যখন অন্যায়ভাবে বিদ্বেষী হয়ে পড়ে, তখন জ্ঞানীই হোক আর মুর্খই হোক সবাই একই ধরনের চিন্তা-ভাবনা করে। আহলে কিতাব বা আসমানী কিতাবের অনুসারীরা তাওরাত ও ইঞ্জিল সম্পর্কে অবহিত হওয়া সত্ত্বেও মূর্তিপূজারী ও মুশরিক-মূর্খদের মত একই কথা বলেছে এবং এরা কোন যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই অন্যদেরকে বাতিল বা মিথ্যার অনুসারী বলে মনে করে।

এরপর ১১৪নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآَخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ (114

"যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় জালেম আর কে হতে পারে? এদের পক্ষে মসজিদে প্রবেশ করা সঙ্গত নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। তাদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।" (২:১১৪)

ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় দেখা গেছে, বহুবার আল্লাহর ঘর বা মসজিদ হয় ধ্বংস করা হয়েছে নতুবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ কারণ মসজিদ ও উপাসনালয় সব সময়ই ঐশী ধর্ম পরিচালনার কেন্দ্র এবং ঐশী ধর্মের অনুসারীদের সংগঠিত হওয়ার ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই অত্যাচারী শাসক ও বিভ্রান্ত ব্যক্তিরা সব সময়ই মসজিদের আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক কাঠামো বা ভিত্তি ধবংসের চেষ্টা করেছে। যেমন, মক্কার মুশরিকরা অনেক বছর ধরে মুসলমানদের জন্য কাবা ঘর বা বায়তুল হারামে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। বর্তমানেও ইসলামের শত্রুরা বায়তুল মোকাদ্দাসে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদকে ধবংসের চেষ্টা করছে। ভারতে ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ধ্বংস করেছে। অবশ্য মসজিদ ধবংসের অর্থ শুধু মসজিদের বাহ্যিক ভিত্তি ধ্বংস করা নয়। যেমনটি মসজিদের উন্নয়নের অর্থ শুধু মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়। প্রকৃতপক্ষে যেসব কাজ মসজিদের প্রভাব বা মসজিদের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেয় এবং যেসব কাজের ফলে মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায় ও মসজিদ থেকে দূরে থাকে সেসব কাজ করাও মসজিদের ধ্বংস সাধনের শামিল। অনৈতিক ছবি, ভিডিও বা সিনেমা প্রদর্শন হচ্ছে ইসলামী বা মুসলিম দেশের যুব সমাজকে মসজিদ ও ধর্মীয় সভা থেকে দূরে রাখার লক্ষ্য সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র।

এর পরের আয়াত অর্থাৎ ১১৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

\وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ (115)

"পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই জন্য, অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও সে দিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী, মহাজ্ঞানী ৷(২:১১৫)

আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানরা যখন বায়তুল মোকাদ্দাসের পরিবর্তে মক্কাকে তাদের কেবলা হিসেবে নির্ধারণ করে, তখন ইহুদীরা কিছু প্রশ্ন তোলে। এসব সম্পর্কে আমরা এর আগেও আলোচনা করেছি। যেমন তারা এ প্রশ্ন তোলে যে, যদি আগের কেবলাই সঠিক ছিল, তাহলে কেন তা পরিবর্তন করা হলো? আর যদি আগের কেবলা সঠিক না হয়, তাহলে আগের ইবাদত কি সঠিক হবে? এই সন্দেহ বা প্রশ্নের উত্তরে এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর কোন নির্দিষ্ট স্থান বা এলাকা নেই। পূর্ব ও পশ্চিম সব দিকেই আল্লাহ আছেন। অর্থাৎ যেদিকেই মুখ ফেরানো হোক না কেন আল্লাহ সেদিকেই আছেন। যদি কাবাঘর অথবা বায়তুল মোকাদ্দাসকে কেবলা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে তা এই অর্থে যে, নামাজ ও অন্যান্য সামষ্টিক ইবাদতের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে। যেসব উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি করে এবং সব সময় মুসলমানদেরকে এইসব উদ্দেশ্যের প্রতি আকৃষ্ট করে। যতদিন পর্যন্ত ইহুদীরা বায়তুল মোকাদ্দাসকে কেবলা হিসেবে গ্রহণ করার কারণে মুসলমানদের মুসলমানদেরকে কটাক্ষ করেনি ততদিন মুসলমানরা ওই দিকে ফিরে নামাজ আদায় করত। কিন্তু যখন এই কেবলাকে মুসলমানদের দুর্বল করার ও তাদেরকে হেয় করার মাধ্যমে পরিণত করা হয় তখন আল্লাহ তালা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর স্মৃতির নিদর্শন কাবা ঘরকে মুসলমানদের কেবলা হিসাবে নির্ধারণ করেন ৷

এরপর ১১৬ ও ১১৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلٌّ لَهُ قَانِتُونَ (116) بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (117)

"তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন।" ২:১১৬

"তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে এ কথাই বলেন, 'হয়ে যাও' তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।" (২:১১৭)

ঐশী গ্রন্থের অনুসারী ইহুদী ও খ্রিস্টানরা তাদের ধর্মের সত্যতা প্রদর্শনের জন্য যেসব ভুল ধারণা প্রচার করত, সেসবের মধ্যে অন্যতম হল তাদের নবীরা নাকি ছিলেন আল্লাহর সন্তান। ইহুদীরা বলতো, উজাইর ছিল আল্লাহর সন্তান। খ্রিস্টানরা বলতো, ঈসা (আ.) আল্লাহর পুত্র। মজার বিষয় হলো, মক্কার মুশরিকরাও ফেরেশতাদেরকে 'আল্লাহর কন্যা' বলে মনে করত। আর তাদের মতে 'আল্লাহর কন্যারা' নাকি আল্লাহর কাজ সম্পন্ন করত। এই আয়াতে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রচলিত এসব ভুল ও অযৌক্তিক ধারণাকে নাকচ করা হয়েছে এবং আল্লাহকে সন্তান-সন্ততি থেকে মুক্ত ও পবিত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ যুক্তি দেখিয়ে বলছেন, আল্লাহ সমস্ত আকাশ ও জমিনের এবং সেসবের ওপর তাঁরই আধিপত্য রয়েছে। তাই আল্লাহর এমন কি কম রয়েছে যে, এই অভাব বা চাহিদা পুরণের জন্যে তাকে সন্তান গ্রহণ করতে হবে? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ বা প্রভুর সাথে মানুষের তুলনা এবং আল্লাহকে মানুষের মত করে চিন্তা করা হচ্ছে-এমন এক ভ্রান্ত চিন্তা যে, এর ফলে মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা, আশা-আকাঙ্ক্ষাকে আল্লাহর সত্ত্বার বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে। অথচ আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, কোন কিছুই আল্লাহর মত কিংবা তাঁর সমতুল্য নয়।

আরও পড়ুন


দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প অনুভূত

মালদ্বীপের কাছে ২-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে স্টকহোমে মামলা

জলে স্থলে অন্তরীক্ষে দেশের বিজয়কেতনের ভিত গড়েছেন বঙ্গবন্ধু : তথ্যমন্ত্রী


এ পর্বের আলোচিত আয়াত ক'টির শিক্ষণীয় দিকগুলো একে একে তুলে ধরা হলো-

১. মসজিদ হলো- কুফর ও শিরকের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ঘাঁটি। আর এ জন্যেই ইসলামের শত্রুরা মসজিদের বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তি ধ্বংসের চেষ্টা করে। তাই আমাদেরকে এমনভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে যাতে মসজিদ হয় মুসল্লিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ এবং যাতে শত্রুরা মসজিদে প্রভাব ফেলতে ভয় পায়।

২. বাবা-মা, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন সাহেব এটা মনে রাখতে হবে যে, এমন কোন আচরণ করা উচিত হবে না যাতে কিশোর বা যুবকরা মসজিদে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বরং সব সময়ই শিশু-কিশোরদেরকে মসজিদে যেতে উৎসাহিত করা তাদের দায়িত্ব।

৩. আল্লাহ কোন বিশেষ দিকে বা স্থান জুড়ে বিরাজ করেন না। আমরা যেদিকেই মুখ ফেরাবো সেদিকেই তাকে পাব। অর্থাৎ তিনি আছেন সব দিকেই, কিন্তু কেবলার তাৎপর্য হলো ইবাদতের বৃহৎ সমাবেশ হবে একমূখী ও সমন্বিত। আর তাও হবে তৌহিদের প্রথম কেন্দ্র কাবা অভিমূখী।

৪. আল্লাহ মানুষ নন। তাই তার সন্তান ও স্ত্রীর প্রয়োজন নেই। তিনি সকল নারী, পুরুষ ও তাদের সন্তানদের সৃষ্টিকর্তা। কারণ তিনিই সমগ্র সত্ত্বা ও অস্তিত্বের স্রষ্টা ও সব কিছুর ওপরই কর্তৃত্বের অধিকারী। আমরা আল্লাহ সম্পর্কে যেসব অলীক কল্পনা করি সেসব তারই সৃষ্টি ও সেসব আমাদের স্রষ্টা নয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আত্মহত্যার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

আত্মহত্যার শাস্তি

ফাইল ছবি

ইসলামে আত্মহত্যা হারাম ও কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যাকারীর গন্তব্য জাহান্নাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এ ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের জীবন ধ্বংসের মুখে ফেলো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৭৬; মুসলিম, হাদিস : ১১৩)


আরও পড়ুন:

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সবাই পুরুষ

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিন: সরকারকে রিজভী

ফাঁকিবাজ সরকার বলেই সত্য বললেও মানুষ বিশ্বাস করেনা: মান্না


আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

প্রতীকী ছবি

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যেমন দোয়া করা উচিত তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিত। সুস্থ থাকাটা হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীরের সাদকাহ আদায়ের কথা বলেছেন। মানবদেহে অনেক জোড়া রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার হক আদায় করার কথাও বলেছেন তিনি। শরীরের এ সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায়ে প্রতিদিন সালাতুজ জোহা বা চাশতের নামাজ পড়তে বলেছেন।

যারা চাশতের ২ কিংবা ৪ রাকাআত নামাজ পড়বে, ওই ব্যক্তি শরীরের সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায় হয়ে যাবে। আবার ভালো কাজ ও ভালো আচরণেও শরীরের হক আদায় হয় বলেছেন বিশ্বনবী।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শরীরকে সুস্থ রাখতে সকাল সন্ধ্যা দোয়ার আমল করতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায়

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

উপকার: আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, আব্বাজান, আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি যে আপনি এই দোয়া পাঠ করছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

অনলাইন ডেস্ক

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক। আরবি হাক্ক শব্দটিকে বাংলায় হক বলা হয়। অর্থ কয়েক রকম আছে, তার মধ্যে এক অর্থ হলো অধিকার, হক, দাবি, পাওনা। এখানে হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক, আল্লাহর পাওনা।

আমরা সচরাচর যে ক্ষমা প্রসঙ্গে জানি তা হলো, হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল অবশ্যই সে চরম ভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো।(সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ১১৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল, অবশ্যই সে মহাপাপ রচনা করল।’ (আন-নিসা, আয়াত : ৪)

উল্লিখিত আয়াতে গুনাহ হচ্ছে সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত, যেগুলো আল্লাহর হক সেগুলো পালন না করা যা আল্লাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন, কারণ এগুলো আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ বলেন, ‘আর আসমান ও জমিনের কর্তৃত্ব আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১৪)

হাদিসে এসেছে, মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আমি একটি গাধার পিঠে রাসুলের সঙ্গী ছিলাম। যে উটকে ‘উফাইর’ বলা হয়। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘হে মুআজ, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার কী কী হক রয়েছে? এবং আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার কী কী হক রয়েছে? আমি উত্তর দিলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) ভালো জানেন। তিনি বলেন, বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার হক হচ্ছে, তারা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না।’

আরও পড়ুন:


তাইজুল ম্যাজিকে লিড পেলো বাংলাদেশ

হেফাজত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম আইসিইউতে

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা করে পেট চিরে বাচ্চা চুরি!


আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার হক হচ্ছে, যে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দেবেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমি কি সবাইকে এর সুসংবাদ জানিয়ে দেব না? তিনি বলেন, তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

‘ইন্না লিল্লাহ’র বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

‘ইন্না লিল্লাহ’র বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

 

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, মানুষের মৃত্যুসংবাদ পেলে কেবল এটি পড়তে হয়। অথচ এই পবিত্র বাক্য আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ রাখার বড় উপায়। 

একটি হাদিসে উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তি যখন কোনো বিপদ-আপদে আক্রান্ত হয় এবং আল্লাহ তাকে যা বলতে বলেছেন (নিচে উল্লেখিত) তা বলে, তখন আল্লাহ তাকে ওই মুসিবতের উত্তম বদলা এবং আগের চেয়ে উত্তম বিকল্প দান করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯১৮)।

দোয়াটির আরবি :

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

উচ্চারণ : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি; ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।

আরও পড়ুন:


দ. আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন খুবই ভয়ঙ্কর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একই ইউপিতে বাবা-ছেলে ও আপন দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী!

বেগম জিয়ার জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই: হানিফ


অর্থ : আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে আমার এই বিপদে বিনিময় দান করুন এবং আমার জন্য এরচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা করে দিন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ

অনলাইন ডেস্ক

শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ

প্রতীকী ছবি

শীতকালে সহজে অনেক আমল করা যায়, আর এসব আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব ও পুণ্যও লাভ হয়।

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১৬৫৬)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে। (বায়হাকি, হাদিস : ৩৯৪০)

শীতকালে সবার জন্য সুবিধাজনক ও সহজে আদায় করা যায়— এমন কিছু আমল হলো-

অনেকের কাছে শীতের সময়ে অজু করা কষ্টদায়ক। কিন্তু শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ। গরম পানি দিয়ে অজু করলেও সমপরিমাণ সওয়াব লাভ হবে।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না; যার কারণে আল্লাহ তাআলা পাপ মোচন করবেন এবং জান্নাতে তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর রাসুল! রাসুল (সা.) বললেন, মন না চাইলেও ভালোভাবে ওজু করা, অধিক পদক্ষেপে মসজিদে যাওয়া এবং এক নামাজের পর আরেক নামাজের জন্য অপেক্ষা করা।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫১)

রাতের গভীরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা সিজদাহ, আয়াত : ১৬)

আরও পড়ুন:

প্রতি নামাজের পর সম্পদলাভের দোয়া


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর