রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো খুন, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধের অভয়ারণ্য

অনলাইন ডেস্ক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো খুন, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধের অভয়ারণ্য

কক্সবাজারের ৩৪ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, মাদক কিংবা মানব পাচার শরণার্থী ক্যাম্পের নিত্য ঘটনা। ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজেদের অবস্থান সংহত করতে প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া কিংবা রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। মাঝেমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের মুখে কেউ কেউ গ্রেফতার হলেও থামানো যাচ্ছে না শরণার্থী ক্যাম্পের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর অপরাধ তৎপরতা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পুলিশ। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১৪-এর পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল দেয় আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। এ ছাড়া চেকপোস্টে তল্লাশি হয় নিয়মিত।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। এ কাজগুলো শেষ হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে।

জানা যায়, বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা শরণার্থী ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার এবং দ্রুত ধনী হতে জড়িয়ে পড়েছে নানা অপরাধ কর্মকান্ডে। ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তৈরি করেছে অপরাধী গ্রুপ। তারা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও মানব পাচার, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। এতে প্রায়ই খুন, সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ঘটছে অপহরণের মতো ঘটনাও। এ ছাড়া ধর্ষণ, ডাকাতির ‘সাধারণ’ ঘটনায় পরিণত হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ইয়াবার আখড়ায় পরিণত করেছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসার কারণে দেশের মাদকের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টেও পরিণত হয়েছে ক্যাম্পগুলো। শরণার্থী ক্যাম্প হয়েই প্রতিদিন শত কোটি টাকার ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ক্যাম্পের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে কমপক্ষে অর্ধশত ইয়াবা মাফিয়া। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে কয়েকশ রোহিঙ্গা।

অপরাধী চক্রগুলোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় রয়েছে চার জঙ্গি সংগঠন। এ সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), ইসলামী মাহাজ এবং জমিয়তুল মুজাহিদীন। ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে ২৭টিতে রয়েছে আরসার আধিপত্য। সাতটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিচরণ রয়েছে আরএসও, ইসলামী মাহাজ ও জমিয়তুল মুজাহিদীনের। জঙ্গি সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও কোন্দলের জের ধরে প্রায়ই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে নিজেদের কয়েকজন নেতা অপহরণের অভিযোগ তুলেছে একে অপরের বিরুদ্ধে।

কক্সবাজারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধ পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধের ঊর্ধ্বগতির চিত্র। গত চার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সিংহভাগ হচ্ছে খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক এবং মানব পাচার মামলা।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে- ২০১৭ সালে নানান অপরাধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় ৭৬টি। যাতে আসামি ছিলেন ১৫৯ জন। পরের বছর ২০১৮ সালে মামলা ও আসামি সংখ্যা বেড়ে হয় দ্বিগুণ। ওই বছর ২০৮ মামলায় আসামি হন ৪১৪ জন। ২০১৯ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মোট মামলা হয় ২৬৩টি এবং আসামি হন ৬৪৯ জন। ২০২০ সালে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। করোনার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানান অপরাধে ১৮৪ মামলা দায়ের হয়। যাতে আসামি করা হয় ৪৪৯ জনকে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে মামলা দায়ের হয় ৬ শতাধিক। যাতে আসামি করা হয় হাজারের ওপরে।

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ১১৮-১২৩, সত্যকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে

দাপুটে জয়ে মিশন শুরু টাইগারদের

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি লন্ডন ও জার্মানি যাচ্ছেন

দুদিন গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়


উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ছয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আটক: কক্সবাজারের উখিয়ার টেকনাফে অবস্থিত ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেফতারে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে উখিয়ার কয়েকটি ক্যাম্প থেকে এপিবিএন সদস্যরা ছয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। গতকাল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে এসব সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক জানান, ক্যাম্প এলাকায় নানা অপরাধে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল ভোররাতে মধুছড়া ক্যাম্প থেকে আবদুল মান্নান, এনায়েতুল্লাহ ইরানি পাহাড় ক্যাম্প থেকে তাহের, লম্বাশিয়া ক্যাম্প থেকে নাজিম উদ্দিন, নুর বাশার, কুতুপালং ক্যাম্প থেকে ডা. উসমানকে গ্রেফতার করা হয়।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নাঈমুল হক জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি, হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল গ্রেফতারকৃতরা। আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তাদের উখিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

প্রোগ্রামে ‘বোরকা না পরার’ নির্দেশ ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রীর!

অনলাইন ডেস্ক

প্রোগ্রামে ‘বোরকা না পরার’ নির্দেশ ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রীর!

বোরকা পরে ছাত্রলীগের দলীয় কোন প্রোগ্রামে না আসার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগ নেত্রী মাসুমা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। একইসাথে ছাত্রলীগের যে কোন কর্মসূচির সময় ক্লাস থাকলেও সেটি বাদ দিয়ে প্রোগ্রামে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশন দিয়েছেন ওই নেত্রী। 

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, হল কমিটির পদ প্রত্যাশী ছাত্রলীগের ওই নেত্রী তার কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। এসব রাজনৈতিক প্রোগ্রামে বোরকা পরে অংশগ্রহণ করতে তিনি তার কর্মীদের নিষেধ করেছেন। তবে কেউ চাইলে হিজাব পরতে পারবে বলে তিনি কর্মীদের জানান। এছাড়া ছাত্রলীগের সব প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক বলে তিনি ঘোষণা দেন। 

শিক্ষার্থীরা জানান, রবিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে রোকেয়া হলে তার রুমে কর্মীদের ডাকেন মাসুমা ইয়াসমিন। এসময় কর্মীরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার রুমে আসলে প্রথমে তিনি তাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে বোরকা পরতে নিষেধ করেন। একইসঙ্গে প্রোগ্রাম থাকলে ক্লাসে না যাওয়ার জন্য বলেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই নেত্রীর কর্মীরা। তারা জানায়, কে কোন পোশাক পরে প্রোগ্রামে যাবে এটা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে নিষেধ করে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক কর্মী বলেন, ওইদিন রাতে সিনিয়রদের দিয়ে আপু আমাদের তার রুমে ডাকেন। রুমে যাওয়ার পর তিনি আমাদের সাথে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, সামনে হল কমিটি। এই দেড় মাসের মধ্যে কেউ যেন বোরকা পরে প্রোগ্রামে না যায়। তবে কেউ চাইলে শুধু হিজাব পরতে পারবে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মাসুমা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, 'আমি এ কথা বলিনি। আমি বলেছি, তোমাদের মধ্যে অনেকে আছো যারা ক্লাসের মধ্যে বোরকা পরো, কিন্তু বাইরে বোরকা ছাড়া যাও। সেক্ষেত্রে তোমরা চেষ্টা করবে বাইরে যেমন বোরকা ছাড়া যাও প্রোগ্রামের সময়ও এরকম যেতে। যার যেমন ইচ্ছে আরকি। তবে, তোমাদের যদি মনে হয় বোরকা পরে তুমি কমফোর্ট ফিল করো। তাহলে তোমরা সেভাবেই যাবে।'

আরও পড়ুন:


রাজধানীতে ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ

‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে সাকিব-মুস্তাফিজের কার্যকর বোলিংয়ে স্বস্তির জয়

বিশ্বে আবারও করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে

ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক


এ বিষয়ে ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হাসান বলেন, 'আমাদের গঠনতন্ত্রে এমন কোনো নির্দেশনা নাই। আমি নিজেও টুপি পাঞ্জাবি পরে রাজনীতি করি। যদি তিনি এমন কথা বলে থাকেন তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কথা বলেছেন। তিনি কোনোভাবেই একথা বলতে পারেন না।'

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা থাকলে সবাই বাধ্যতামূলকভাবে তা পালন করবে। আমাদের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা নাই। ছাত্রলীগের একেকটা ইউনিটের নেতাকর্মী তাদের কর্মীদের গোছানোর জন্য এরকম নির্দেশনা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা নাই। সূত্র: সময় টিভি

news24bd.tv রিমু  

 

 

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীতে ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ

১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর তুরাগে এ ঘটনা ঘটে।  

 ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইফতেখার আহমেদ নোমান পলাতক রয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় ওই কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার তুরাগ থানার এসআই জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরীর পরিবার থানায় ইফতেখার আহমেদ নোমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। পরে মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত নোমানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:


‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে সাকিব-মুস্তাফিজের কার্যকর বোলিংয়ে স্বস্তির জয়

বিশ্বে আবারও করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে

ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছিলেন

অনলাইন ডেস্ক

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছিলেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। 

তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মহানবী (সা.)- এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। করোনা মহামারিসহ আজকের দ্বন্ধ-সংঘাতসময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)- এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণে নিশ্চিত হতে পারে।’   
 
আজ ২০ অক্টোবর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বাণীতে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারি, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম এবং ওফাতের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল তথা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বিশ্ববাসী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি।”  

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন শান্তি, মুক্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য ‘রাহমাতুল্লিল আ’লামীন’ তথা সারা জাহানের রহমত হিসেবে। নবী করিম (সা.)-কে বিশ্ববাসীর রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)। মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করে এনেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। তিনি বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে বিশ্বে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বশান্তির অগ্রনায়ক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ নানা দিক বিবেচনা করে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন মানব ইতিহাসের প্রথম প্রশাসনিক সংবিধান ‘মদিনা সনদ’। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর অনবদ্য ভূমিকার আরেকটি অনন্য স্মারক হুদায়বিয়ার সন্ধি। বাহ্যিক পরাজয়মূলক হওয়া সত্ত্বেও কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তিনি এ সন্ধিতে স্বাক্ষর করেন। 

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


 

তিনি বলেন, তাঁর অমিত সাহস, ধৈর্য ও বিচক্ষণতা তখনকার মানুষকে যেমন বিমুগ্ধ করে, তেমনি অনাগত মানুষদের জন্যও শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকে। মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তিপূর্ণ ‘মক্কা বিজয়’ মানব ইতিহাসের এক চমকপ্রদ অধ্যায়। কার্যত তিনি বিনাযুদ্ধে, বিনা রক্তপাতে ও বিনাধ্বংসে মক্কা জয় করেন। শত অত্যাচার-নির্যাতন ও যুদ্ধ করে আজীবন যে জাতি নবী করিম (সা.)-কে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছে, সেসব জাতি ও গোত্রকে মক্কা বিজয়ের দিন তিনি অতুলনীয় ক্ষমা প্রদর্শন করে তাদের সঙ্গে উদার মনোভাব দেখিয়ে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষমা ও মহত্ত্বের দ্বারা মানুষের মন জয় করে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এমন নজির বিশ্বে দুর্লভ।

প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)- এর এই দিনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ্ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদেরকে মহানবী (সা.)- এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণ কাজ করার তৌফিক দান করুন।’  

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

রোমাঞ্চকর জয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বস্তি প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক

রোমাঞ্চকর জয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বস্তি প্রকাশ

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভে আগেই একটি পা দিয়ে রেখেছে স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে আজকের ম্যাচ জিততেই হতো টাইগারদের। এই কঠিন সমিকরণে দাড়িয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ওমানের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ। নিজেদের বাঁচা মরার লড়াইয়ে ওমানকে ২৬ রান হারিয়েছে টাইগাররা।ওমানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ম্যাচের পরপরই ওমানে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী। 

পাপন জানিয়েছেন, জয় হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় উদ্বেগে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীও। এ জয় স্বস্তিদায়ক। প্রধানমন্ত্রীও উদ্বেগে ছিলেন। তবে সবকিছুর পর দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


 

‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে খেলতে হবে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে। সুপার টুয়েলভে যেতে হলে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ খেলতে আসা পাপুয়া নিউগিনিকে হারাতেই হবে টাইগারদের।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

অনলাইন ডেস্ক

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

আজ বুধবার ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

দিনটি পালন করতে দেশব্যাপী নানা আয়োজন করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রায় ১৪০০ বছর আগে এদিনে (১২ রবিউল আউয়াল) বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.) জন্মগ্রহণ করেন। আবার ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ এক বাণীত বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। মহানবী (সা.)- এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। করোনা মহামারিসহ আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয় নবী (সা.) এর অনুপম জীবনাদর্শ, তার সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।   

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মসজিদে-মসজিদে এবং নিজ-নিজ বাসায় কোরআন খতম ও জিকির আজকারের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমত কামনা করেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলাসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনীর উপর পক্ষকালব্যাপী আলোচনা সভা ও মাহফিলসহ বিশেষ কর্মসূচি মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পালন শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর