তাঁরা কেউ-ই ইংরেজিতে লেখেননি, কারণ কাজটি অনুবাদকের!

তাঁরা কেউ-ই ইংরেজিতে লেখেননি, কারণ কাজটি অনুবাদকের!

সৈয়দ শামসুল হক সাহিত্যিক ইংরেজি কম জানতেন না। মোহাম্মদ রফিক কম জানেন না। দেবেশ রায় বা শংখ ঘোষও কম জানতেন না। কিন্তু তাঁরা কেউ-ই ইংরেজিতে লেখেননি। 

ইংরেজির মাধ্যমে নিজের লেখা বিশ্বব্যাপী পরিব্যাপ্ত হোক, তা সবাই চাইতেন। কিন্তু মনে করতেন সেই কাজটি তাঁদের নয়। অনুবাদকের। নিজের লেখা নিজে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গেলে যতটা সময় ও শ্রম ব্যয় হবে, সেই সময়ে নতুন আরেকটি লেখাতেই মনোনিবেশ করতেন তাঁরা।

এমন নয় যে তাঁরাও বুকার বা নোবেলের প্রত্যাশী ছিলেন না। কিন্তু সেই দৌড়ে নামলে যত সময় এবং যত কাণ্ড-কারখানার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তাতে অংশগ্রহণ করার মনোভাব বা শক্তিব্যয়ের সক্ষমতাও তাঁদের ছিল না। তবু কেউ অন্য ভাষায় তাঁদের লেখা অনুবাদ করতে চাইলে খুশি হতেন নিশ্চিত।

আরও পড়ুন:


সাধারণ হাজতির মতোই থাকতে হবে আরিয়ানকে, মানতে হবে রুটিন

টিভির পর্দায় লাল রঙের পানীয় পান করতে পারবে না নারীরা

প্রেমিকার সঙ্গে হোটেলে শারীরিক সম্পর্ক, সকালে পালালো যুবক

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যৌনকর্মীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা


আমি, সত্যি বলতে, ইংরেজি জানিই না প্রায়। তার জন্য কোনও হীনম্মন্যতাও নাই। লিখতে শুরু করার দিন থেকে এত বছর ধরে বাংলাভাষাটিই ভালোভাবে শেখার সাধনা করে যাচ্ছি। 

সেই আমিও চাই আমার লেখা ইংরেজি তো বটেই, স্প্যানিশ, হিন্দি, উর্দু এবং আরবিতে অনূদিত হোক। আরো অন্য কোনো ভাষাতে অনূদিত হলে সেটি বাড়তি পাওয়া।

আমার লেখার অনুবাদ কামনা করি কারণ আমার কাছে বুকার, নোবেলের চাইতে ভিন্ন ভাষার ঋদ্ধ পাঠকের কাছে পৌঁছানোটাই বড় পুরস্কার। বাংলাদেশের ঋদ্ধ পাঠকরা আমাকে গ্রহণ করেছেন, এটি আমাকে সাহস জোগায়। আমার পায়ের তলার মাটি হচ্ছেন বাংলার পাঠকরা।
এবার একটু তিক্ত সত্যি কথা বলি। 

ভারতের মতো বাংলাদেশেও বিদেশী প্রকাশনা সংস্থার স্কাউটরা আসেন ভালো বইয়ের খোঁজে। কিন্তু ভারতের, এমনকী শুধু কলকাতার যত লেখকের বই ইংরেজি প্রকাশনা সংস্থাগুলো থেকে ছাপা হয়, বাংলাদেশের লেখকরা সেই তুলনায় গণনাতেই আসেন না। তারমানে কি বাংলাদেশের সাহিত্যের মান খুব খারাপ?

আসল উত্তরটা জানাই।

বিদেশী প্রকাশকদের স্কাউট, প্রতিনিধিরা আসেন কিছু প্রতিষ্ঠানে। আর কিছু ব্যক্তির কাছে। তারা জানতে চান ভালো লেখক এবং বইয়ের খবর। ঐসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ভালো বইয়ের খোঁজ না দিয়ে নিজেদের বই গছিয়ে দেন তাদের হাতে। ব্যক্তিপর্যায়ের লেখকরাও সেটাই করেন।

সেইসব বই যখন বিশেষজ্ঞদের কাছে উপস্থাপন করে প্রকাশনীগুলো, তখন সবগুলোই বাতিল হয়ে যায় নিম্নমান বা গড়মানের কারণে। বিদেশী বড় প্রকাশকরা তো আর আমাদের দেশের মতো মুখ চিনে, পদ-পদবি দেখে বা পয়সা নিয়ে বই ছাপে না। বছরের পর এমন ঘটনা ঘটার কারণে বিদেশী প্রকাশকরা আর বাংলাদেশে স্কাউট পাঠানোই বন্ধ করে দিয়েছে প্রায়।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

একটা মাত্র জীবন, অন্যকে নিয়ে আর কত টেনশন করবেন?

অনলাইন ডেস্ক

একটা মাত্র জীবন, অন্যকে নিয়ে আর কত টেনশন করবেন?

রাখি নাহিদ

মানুষের আনন্দ হচ্ছে মেয়েদেরকে অসহায় নির্যাতিতা দেখার মধ্যে। মেয়েরা চামড়া পুড়ায়ে রান্না করবে, বাচ্চা পালতে পালতে কাহিল হয়ে যাবে, আনম্যানেজেবল কাপড় চোপড়ের নিচে চাপা পড়ে থাকবে, সবার খাওয়া শেষ হলে তলানিতে পড়ে থাকা খাবার খাবে, সবার আগে ঘুম থেকে উঠবে, সবার পরে ঘুমাতে যাবে। 

এইসব দেখাও একটা আনন্দ। ইনডিপেন্ডেন্ট, সেলফরেস্পেক্টওয়ালা মেয়ে দেখলে এই সোসাইটির বদ হজম হয়ে যায়। নিজের মত কোন মেয়ে বাঁচতে পারছে এটা দেখাটা অনেকের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের মত পেইনফুল। 

এইজন্য হাতে পায়ে বড় না হতে হতেই, পড়ালেখা শেষ হতে না হতেই ঘরের মানুষের থেকে বাইরের বেশী মানুষের চিন্তা শুরু হয় - এই ধ্যারাইঙ্গা মেয়ের বিয়ে দেয়না না কেন এর বাপ মা? বিয়ে হলে শুরু হয়, বাচ্চা নেয়না ক্যান? 

আর কোন ডিভোর্সি মেয়ে যদি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হয় তাহলে তো কথাই নাই। স্বামী ছাড়া আছে কিভাবে একা এই চিন্তায় পাড়াপ্রতিবেশীর ঘুম হারাম। 

কোন মেয়ে যদি বিয়ে বাচ্চা স্বামী সংসার সব সামলেও পারফেক্ট থাকে, আনন্দে থাকে তাহলেও সমস্যা আছে। একদল বলবে সব ভান, খোঁজ নিয়ে দেখেন সংসারে ঝামেলা ঠিকই আছে।

কোন মেয়ে যদি কারো উপর নিরভরশীল না হয়ে নিজের ইচ্ছা মত বাঁচে, নিজের পছন্দের কাপড় পরে, নিজের পয়সায় বাড়ি গাড়ি কেনে এবং কোন ভাবেই যদি তার কোন প্রত্যক্ষ দোষ না পাওয়া যায় তাহলে শেষ অস্ত্র - এই মেয়ের চালচলন ঠিক নাই, এই মেয়ে নিশ্চয়ই দুই নাম্বার। 

অফিসে উন্নতি হলে - আরে এমনে এমনেই উন্নতি হয় নাকি, বস এর সাথে নিশ্চয়ই সিস্টেম আছে। 

এই হচ্ছে মেয়েদের অবস্থা। 

একটা মাত্র জীবন পাড়া প্রতিবেশী ডিসাইড করে দেয় কতটুকু পড়তে হবে, কবে বিয়ে করতে হবে,বাচ্চা কখন এবং কয়টা নিতে হবে, কি কাপড় পরতে হবে। 

এই যেমন আমি এখন স্বামীকে রেখে বিদেশ আছি। এতে অনেকের চিন্তা- ঘটনাটা কি ? স্বামী বাচ্চা দেখে ফেলে রেখে বিদেশে পড়ে আছে কেন? হাজবেন্ড এর সাথে ঝামেলা ? ডিভোর্স হইসে ? কুচ তো গারবার হ্যায় দায়া।ডাল মে জরুর কুচ কালা হ্যায়। 


আরও পড়ুন:

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তি, কাটাখালীর মেয়র আটক

শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস

আজ থেকে ঢাকার গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক কার্যকর


আমারে নিয়ে এইসব চিন্তায় যাদের ঘুম হারাম তাদের আজকে উত্তর দিয়েই দেই। 

- আমি চিল করতে বিদেশ আসছি। স্ত্রী হলে, মা হলেই চিল করা যাবেনা এমন কোন কথা কোন কিতাবে লেখা নাই।যখন সংসার করার দরকার ছিল তখন মনোযোগ দিয়ে সংসার করসি। 

এখন কিছুদিন চিল করব। এরপর ইচ্ছা হলে গ্রামে যেয়ে হাঁস মুরগীর খামার দিব। তারপর ইচ্ছা হলে গেরুয়া পরে সন্যাসিনি হয়ে বনে চলে যাবো। 

আপনারাও আমাকে নিয়ে চিন্তা না করে চিল করেন। একটা মাত্র জীবন, অন্যকে নিয়ে আর কত টেনশন করবেন? 

চিল করেন, চিল...

লেখাটি রাখি নাহিদের ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ভারতের মতো প্রতিষ্ঠান কি আমরা গড়ে তুলতে পারি না?

রউফুল আলম

ভারতের মতো প্রতিষ্ঠান কি আমরা গড়ে তুলতে পারি না?

রউফুল আলম

ভারতের যে ছেলেটাকে টুইটারের সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার বয়স সাইত্রিশ। ২০০৫ সালে মুম্বাই আইআইটি থেকে সে ব‍্যাচেলর শেষ করে একুশ বছর বয়সে। সে বছরই আমেরিকার স্ট‍্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যায় পিএইচডি করতে। পিএইচডি শেষ করার আগেই সে সিলিকন ভ‍্যালির সাথে মিশে যায়।

এই ছেলেটা হয়তো এক্সট্রা অর্ডিনারি। এক্সেপশনাল। আমি নিদির্ষ্ট করে তাকে নিয়ে বলবো না। কিন্তু সে যেই শিক্ষার পরিবেশটার মধ‍্য দিয়ে বেরিয়ে এসেছে আমি সে পরিবেশটা নিয়ে বলছি।

ভারতের আইআইটিগুলো এমন অসংখ‍্য ছেলে-মেয়ে তৈরি করছে। তাদের সবাই হয়তো সিইও হচ্ছে না কিন্তু তারা ভারত ও ভারতের বাইরে অনেক বড়ো বড়ো ভূমিকা রাখছে। ভারত যে মহাকাশ গবেষণা, পরমাণু শক্তি গবেষণা, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, ক‍েমিক‍্যাল এন্ড বায়োকেমিক‍্যাল গবেষণাসহ বহু ফিল্ডে অভাবনীয় সফলতা দেখাচ্ছে, তার মূলে হলো এই আইআইটিগুলো। 

ভারতের আইআইটিগুলো এখন বিশ্বমানের পিএইচডি তৈরি করছে। এটা যে কতো বড়ো একটা বিষয় এবং ভারতের ভবিষ‍্যতের জন‍্য কতো বড়ে ভূমিকা রাখছে—সেটা অভাবনীয়।

আপনি একবার ভাবুন, আমাদের দেশে শতবর্ষী একটা বিশ্ববিদ‍্যালয় আছে। কিন্তু আমরা আজো প্রতি বছর বিশ্বমানের মাত্র দুইশ পিএইচডি তৈরি করতে পারছি না! —এটা কি দুর্ভাগ‍্য নয়? —এটা কি আশংকাজনক নয়? —এটা কি লজ্জাজনক নয়?

ভারতের অসংখ‍্য মানুষ এখনো খেতে পায় না। ভারতের অস‍ংখ‍্য মানুষ এখনো মৌলিক সমস‍্যা নিয়ে লড়াই করছে। তাই বলে কি ভারতের উচ্চশিক্ষা দুর্বল হয়ে আছে? তাই বলে কি তারা বিশ্বমানের তরুণ তৈরিতে ছাড় দিচ্ছে? তাই বলে কি তাদের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোর মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ বন্ধ আছে?

আইআইটিগুলো থেকে পড়াশুনা করে অনেকে ভারতেই থেকে যায়। অনেকে বিদেশে গিয়ে ক‍্যারিয়ার গড়ে। অনেকে বিদেশে গিয়ে সেরা সেরা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা শিখে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানেই আবার ফিরে আসে। আইআইটিগুলো সারাদুনিয়া থেকে সেরা সেরা তরুণদের খুঁজে শিক্ষক-গবেষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করে। সেইসব তরুণ গবেষকরা কি নিয়ে ফিরে আসে? তারা নিয়ে আসে শিক্ষা ও গবেষণার চলমান ফ‍্যাশন ও ট্রেন্ড নিয়ে। সারা দুনিয়ায় কি হচ্ছে, কি করছে, কি সমস‍্যা সমাধানে ব‍্যাকুল হয়ে আছে—এই বিষয়গুলো নিয়ে এসে তারা স্টুডেন্টদের শেখায়।

আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠান কি আমরা গড়ে তুলতে পারি না? —অবশ‍্যই পারি। বুয়েট আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয় আছে। বছর বছর গণহারে বিপ্রবি তৈরি না করে পাঁচটা প্রতিষ্ঠানকে আগে বিশ্বমানের তৈরি করার চেষ্টা করুন। বিশ্ববিদ‍্যালয়ে সেই মানের শিক্ষক নিয়োগ দেন। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করুন। তাদেরকে গবেষণার জন‍্য অর্থ দেন। সারা দুনিয়া থেকে ট‍্যালেন্ট হান্ট করুন। যে সেরা তার জন‍্য সেরা রিওয়ার্ড নিয়ে বসে থাকুন। হাজার কোটি টাকা খরচ করে চাইনিজ প্রতিষ্ঠান দিয়ে ব্রিজ করেন ঠিক আছে। কিন্তু শত কোটি টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে কিছু শিক্ষক-গবেষকও আনুন। দেশের তরুণদের শেখান। তাদেরকে ভবিষ‍্যতের জন‍্য প্রস্তুত করুন।

সিঙ্গাপুর-সুইজাল‍্যান্ড চাই না। আপাতত ভারতের মতো একটা উচ্চশিক্ষা কি দেশকে উপহার দিতে পারবেন? —প্লিজ!

আরও পড়ুন


রিসোর্টে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, টিকটকার মাসুদ গ্রেপ্তার

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

অর্থনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রাধান্য পাবে মানুষ

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

অর্থনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রাধান্য পাবে মানুষ

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে আসায় মহামারি-উত্তর বাস্তবতা চোখের সামনে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সমঝোতা ও ব্যবস্থাপনার একটি ক্রমঅগ্রসরমান রূপ ফুটে উঠেছে, যা কি না বিকাশমান বিশ্ব ব্যবস্থার ভিত্তি।

অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, মন্দার পর আসে চাঙ্গাভাব। ভারতের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, অর্থনৈতিক উৎপাদন ও কার্যক্রম চাঙ্গা হচ্ছে ক্রমশ। নজিরবিহীন মাত্রা ও জটিলতার এক টিকাদান কর্মসূচি স্বাস্থ্য নিরাপত্তার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। রেকর্ড কম সময়ে তা বিপন্নতার মাত্রা কমিয়েছে। বলা যায়, স্বাভাবিকতায় ফিরে এসে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মঞ্চটা এখন তৈরি।

এ কারণে এটি ভারতের জন্য এক সুযোগের মুহূর্ত। এই ক্রান্তিলগ্নে ভারত যেসব সিদ্ধান্ত নেবে তা থেকেই ইঙ্গিত মিলবে, অধিকতর সুন্দর এক ভবিষ্যৎ কোথায় নিহিত বলে মনে করছে দেশটি।

করোনাভাইরাস মহামারি দেখিয়েছে, বর্তমানের চেয়ে কম তো নয়ই, বরং আমাদের দরকার আরো আন্ত সংযুক্ত একটি বিশ্ব। অভিন্ন সমস্যাগুলোর অবশ্যই অভিন্ন সমাধান থাকা দরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত কয়েক মাস ধরে জি-৭, জি-২০, কপ-২৬, প্রথম কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি, ব্রিকস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন কাউন্সিলে মহামারি-পরবর্তী বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নতুন এক বিশ্ব ব্যবস্থার রূপকল্প তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চের মাধ্যমে একগুচ্ছ কৌশল এবং লক্ষ্য তুলে ধরেছেন, যা ভারতের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে সবার জন্য ভালো এক আগামীর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করবে। ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা প্রদানে ভূমিকা রেখেছে। উন্নয়নমূলক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছি।

সাম্প্রতিকতম ঘটনায় গ্লাসগোতে কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ‘পঞ্চামৃতের’ মাধ্যমে ভারতের জলবায়ু ভাবনার রূপরেখা দিয়েছেন। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অজীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা ৫০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকে শক্তির চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ করার পথ ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণ এক বিলিয়ন টন হ্রাস ও কার্বনের তীব্রতা ৪৫ শতাংশের নিচে আনা হবে। আর কার্বন নিঃসরণ ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’তে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্বেগের কথা তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়ন এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়েও তাদের তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতের সূচনা করা দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স এবং কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন এবং অভিযোজন প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই সংস্থাগুলোর অধীন বৈশ্বিক পর্যায়ে আন্ত সংযুক্ত সৌরশক্তি অবকাঠামোর জন্য ‘এক সূর্য, এক বিশ্ব, এক গ্রিড’ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রতিরোধী অবকাঠামোর জন্য ‘ঘাতসহ দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য অবকাঠামো’ কর্মসূচি চালু করেছেন।

ভারত জাতীয় হাইড্রোজেন মিশনের অধীনে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ও রপ্তানির এক বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ারও চেষ্টা করছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে টেকসই জীবনাচরণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে বক্তব্য দিয়েছেন, রোমে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে তা প্রশংসিত হয়। তিনি ‘লাইফ’ (Life) নামে এক শব্দের এক বিশ্ব আন্দোলনেরও প্রস্তাব করেছেন। এর মূল বিষয় হচ্ছে, পরিবেশ অনুকূল জীবনধারা। টেকসই জীবনধারার ব্যাপারে ভারতের নিজস্ব উদাহরণ বৈশ্বিকভাবে গ্রহণ করা গেলে তা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লড়াইকে আমূল বদলে দেবে।

করোনা মহামারি সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিমুক্ত ও আরো স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের সরবরাহ চেইন উন্নত করার জন্য তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন : বিশ্বস্ত উৎস, স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত সময়সীমা।

‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’ কর্মসূূচি স্থিতিস্থাপকতা এবং নির্ভরযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে। এটি ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চেইন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

এটি আর্থিক সহায়তা, তারল্য সরবরাহ, শিল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা, ব্যবসা করার পদ্ধতি আরো সহজ করা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর নীতি কাঠামোরই একটি অংশ।

একটি উৎপাদনসংক্রান্ত বিশেষ প্রণোদনা স্কিম বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। এটি দেশীয় উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় সক্ষম ভারতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। মহাকাশ, প্রতিরক্ষা এবং পারমাণবিক শক্তির মতো এত দিনের নিয়ন্ত্রিত খাতগুলোতে বেসরকারি অংশগ্রহণের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় একুশ শতকের উপযোগী কর্মশক্তি গড়ে তোলা ও ভারতকে বৈশ্বিক শিক্ষা ও দক্ষতা তৈরির কেন্দ্রে পরিণত করার কাঠামো তৈরি হচ্ছে।

ভারত তার অবকাঠামোর উন্নতিতেও বিশাল সরকারি বিনিয়োগ করছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘গতি শক্তি’ কর্মসূচি (মাল্টিমোডাল সংযোগ বিষয়ক জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান) সারা দেশকে সংযুক্ত করবে। এটি সংযোগের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি আনার পাশাপাশি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষকে এক ছাতার নিচে আনবে।

ভৌত অবকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি থাকবে ডিজিটাল সংযুক্তি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ইমিউনাইজেশনের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচি ‘জন ধন’ ও আধারের মতো বিশ্বেও বৃহত্তম বায়োমেট্রিক কর্মসূচি সরাসরি সহায়তার অর্থ সরবরাহকে ব্যাপকভাবে এগিয়ে নিয়েছে। এটি এখন অর্থ-প্রযুক্তিগত বিপ্লবে গতি সঞ্চার করছে। জয় জীবন ও আয়ুষ্মান ভারত সবাইকে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মাধ্যমে জীবনকে বদলে দিচ্ছে।

এসডিজি-৩-এর আওতায় আমাদের ওপর সব বয়সের সবার স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বের জন্য ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’ বিষয়ে সামগ্রিক রূপকল্প তুলে ধরেন।

করোনাভাইরাস মহামারি আন্তর্জাতিক কর্মপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল পরিসরে নিয়ে গেছে। দক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচির পোর্টাল কোউইন থেকে শুরু করে ডিজিটাল ভারত উদ্যোগ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রমাণ করছে ভারত নিজেকে অনেকটাই ডিজিটাল করে নিয়েছে।

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারত অনেক উন্নয়নমূলক সমস্যার জন্য উপযুক্ত সমাধানগুলো তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এ দেশ উন্নয়নের এক প্রমাণস্থল। ভারতের সাউথ-সাউথ উন্নয়ন সহযোগিতার বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশকে তারা অনেক ধারণা দিয়ে সহায়তা দিতে পারবে। এর আগে জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের তৈরি ওপেন সোর্স ডিজিটাল সলিউশনগুলো সবাইকে উপকৃত করবে।

করোনা মহামারির অন্ধকারতম দিনগুলোতেও ভারত ভুলে যায়নি যে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি অংশ। সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে ভারত দেড় শতাধিক দেশে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর বিনিময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সবার সমর্থনও পেয়েছে ভারত।

নিজ দেশে সফল টিকাকরণ অভিযান চলমান অবস্থায় ভারত তার প্রতিবেশী এবং অংশীদারদের কাছে আবার টিকা রপ্তানি শুরু করেছে। এগুলোসহ আরো অনেক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরিতে অন্যতম এবং গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। সে হবে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা, যা নিছক অর্থনীতির সীমা ছাড়িয়ে মানুষ ও তার মঙ্গলকেই চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হিসেবে দেখবে।

লেখক: ভারতের পররাষ্ট্রসচিব

আরও পড়ুন


এত খাবার তাহলে কে খায়?

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

নিয়ম অনুযায়ী ১৮+ বয়সীরা একাউন্ট খুলতে পারবে

এমি জান্নাত

নিয়ম অনুযায়ী ১৮+ বয়সীরা একাউন্ট খুলতে পারবে

এমি জান্নাত

বতর্মান বিশ্বে যোগাযোগের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম সোশ্যাল মিডিয়া। এর মাধ্যমে যেকোনো খবর খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বে। আর সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফেসবুক। যেখানে সব শ্রেণীর মানুষের বিচরণ সবচেয়ে বেশি। কারণ এটি সহজবোধ্যও বটে।

কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা থেকে পরিলক্ষিত হয়, ফেসবুকের অপব্যবহার দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন উদ্ভট নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন মিথ্যা খবর প্রচার করা হয়। বিভিন্ন ছবি, ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে খবর অপপ্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয় জনমনে। তাছাড়া কমেন্টের মাধ্যমে হয়রানি তো রয়েছেই। যেগুলো যৌন হয়রানিমূলক কমেন্ট বা পোস্ট, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, এমনকি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অপপ্রচারের কারণে সংঘর্ষও তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো এগুলো কে বা কারা করছে? সহজ উত্তর হচ্ছে, যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ধরণের অপকর্ম চালাচ্ছে তারা অধিকাংশই ফেইক অর্থাৎ ভুয়া নামে একাউন্ট ব্যবহার করে। এতে পরিচিত গন্ডির মধ্যে হলেও তাদের চেনা বা "আইডেন্টিফাই" করা যায় না। ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী ১৮+ বয়সীরা একাউন্ট খুলতে পারবে। কিন্তু স্কুলের ছেলেমেয়েরাও বয়স বাড়িয়ে দিয়ে একাউন্ট খুলতে পারছে কারণ এখনো ভোটার আইডি বা জন্ম নিবন্ধন কার্ড নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খোলার অনুমোদন চালু হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন। 

আর একটা বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো ফেসবুকের এসব অপপ্রচার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা কার কাছে যাবো? কতৃপক্ষের কাছে যেতে হলে আমরা সরাসরি নিশ্চয়ই ফেসবুক অথোরিটির সাথে এক ধাপে যোগাযোগ করতে পারবো না। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই তাদের অফিস রয়েছে যেখানে এই সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সমাধানে চাইলেই সরাসরি সেসব দেশের মানুষ যোগাযোগ করতে পারে।

আমাদের দেশের মানুষের জন্য সেই সুযোগটা নেই। শুধু হয়রানি বা অপপ্রচার নয়, ফেসবুক সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় জানতে আমরা কতৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারিনা। তাই বাংলাদেশেও সেই ব্যবস্থা থাকাটা দরকার যেন চাইলে সহজেই অথোরিটির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়। কারণ সব বিষয়ের জন্য সব সময় আইনের হস্তক্ষেপ দরকার পরে না, বরং প্রয়োজন হয় ফেসবুক অথোরিটির সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ। বাংলাদেশ থেকে সেই পর্যন্ত যেতে প্রসিডিওর এত দীর্ঘ হয় যে কেউ আর এগোতে চায় না। 

তাই ফেসবুকের মাধ্যমে যেকোনো অপকর্ম রোধে সরকারের নজরদারি যেমন অধিক প্রত্যাশিত  তেমনি সহজবোধ্য বলেই অপব্যবহারের জন্য যেন সহজলভ্য না হয় সেদিকটা সুনিশ্চিত করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন  শিক্ষমূলক পেইজ থেকে জ্ঞানার্জন, অনলাইন ব্যবসায় আয়ের মাধ্যম হিসেবে বিভিন্নভাবে ফেসবুক আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং সহজ করে দিয়েছে। তাই এই মাধ্যমটি "প্রটেক্টিভ" অর্থাৎ সংরক্ষণশীল হওয়াটা ভীষনভাবে জরুরি।

আরও পড়ুন:

খোলামেলা দৃশ্যে জোর করে অভিনয় করানো হয়েছিল উরফিকে


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

নাজনীন আহমেদ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

নাজনীন আহমেদ

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত। এই অর্জন আমাদের জন্য যেমন আনন্দের, সম্মানের ও সম্ভাবনার, একই সাথে নানা রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হবে।

এ সম্পর্কে যাদের ধারণা অস্পষ্ট তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যারা অর্থনৈতিক সূচকের নানান দিকে পিছিয়ে এবং যাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুর্বল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, সেরূপ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত করে। জাতীয় আয় ও মানবসম্পদের উন্নয়ন কিছু নির্দিষ্ট মাত্রার উপরে নিতে পারলে এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা কমাতে পারলে কিছু কঠিন শর্ত পূরণ করে একটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ভুক্ত উন্নয়নশীল দেশ সেই তালিকা থেকে বের হয়ে যেতে পারে। একেই বলে LDC graduation.

২০২৬ সালে যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাব তখন স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবসা বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ, অর্থ ঋণের উপর সুদের হার, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহযোগিতায় অগ্রাধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার একটি smooth transition strategy (STS) করার প্রক্রিয়ায় আছে।

সরকার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে মিলে কাজ করছে। আমার বর্তমান কর্মপ্রতিষ্ঠান UNDP‌ বাংলাদেশের জন্য একটি STS তৈরি করতে Economic Relations Division (ERD) এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের এই যুগান্তকারী অর্জনকে অর্থবহ ও সাধারণ মানুষের জন্য fruitful করার প্রক্রিয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা সবাই মিলে সে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করবো। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের অনেক দায়িত্ব আছে। আমাদের আচার-আচরণে মানব সেবায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। আমি আশাবাদী মানুষ তাই LDC Graduation কে সুযোগ হিসেবে মনে করি বেশি।

আরও পড়ুন


টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর