এক সপ্তাহে ২৩ কেজি উদ্ধার

বিমানবন্দর যেন সোনার খনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিমানবন্দর যেন সোনার খনি

দেশের বিমানবন্দরগুলো যেন সোনার খনিতে পরিণত হয়েছে। প্রায় নিয়মিতই বিমানবন্দরগুলোতে সোনা আটক ও উদ্ধার হচ্ছে। গত এক সপ্তাহেই ২৩ কেজির বেশি সোনা উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দারা। সবশেষ ৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেলাল উদ্দিন নামে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক নিরাপত্তাকর্মীর দেহ তল্লাশি করে ৮০টি সোনার বার জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা। 

এসব সোনার ওজন ৯ কেজি ২৮০ গ্রাম, বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর আগে গত ৫ অক্টোবর দুবাই থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটের টিস্যু বক্স থেকে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি)। ১৩.৯২ কেজি ওজনের বারগুলোর মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সোনা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ধরা যাচ্ছে না।

বিমানবন্দর কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাচারকালে যে পরিমাণ সোনা উদ্ধার হচ্ছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ বাইরে চলে যাচ্ছে। বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বন্ধ হচ্ছে না চোরাচালান। বাংলাদেশকে সোনা পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা।  

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সব রুটে ফ্লাইট বন্ধ ছিল। কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক রুটে যে কটি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে তাতেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ছয় মাসে এক মণের বেশি সোনা জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একাধিক কর্মীকে আটকও করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সবশেষ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেলাল উদ্দিন নামে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক নিরাপত্তাকর্মীর দেহ তল্লাশি করে ৮০টি সোনার বার জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা।

গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপ-পরিচালক সানজিদা শারমিন জানান, সোনাসহ আটক হওয়ার পর জোর-জবরদস্তি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বেলাল উদ্দিন। বিমানবন্দরে উপস্থিত এনএসআই কর্মকর্তাদের সহায়তায় অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে বেল্টের নিচ থেকে তিনটি প্যাকেট জব্দ করা হয়। প্যাকেটগুলো হলুদ স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। তিনটি প্যাকেটে ৮০টি সোনার বার পাওয়া যায়। 

এসব সোনার ওজন ৯ কেজি ২৮০ গ্রাম, বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়-চলতি অর্থবছরে (২০২১-২০২২) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এখন পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ১১ কেজি সোনা জব্দ করেছে, যার আনুমানিক দাম প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৭৪ দশমিক ৪৯ কেজি এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৮০ দশমিক ৩৫ কেজি সোনা জব্দ করা হয়। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দরের ডিপারচার নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। যাতে কোনো ধরনের অবৈধ মালামাল আনা-নেওয়া না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকি আমরা। তারপরও প্রায়ই অবৈধ সোনার বড় বড় চালান ধরা পড়ছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে।’

বাংলাদেশ সোনা চোরাচালানের রুট : 
সূত্র জানায়, ভারতের বাজারে সোনার দাম বেশি থাকায় বাংলাদেশকে সোনা চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিরা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে একের পর এক চালান আটক করে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা এমন তথ্য দিয়েছেন। আর এ কাজে জড়িত রয়েছেন এ দেশেরই বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। তাদের সঙ্গে আছেন বেশ কিছু অসাধু সোনা ব্যবসায়ীও। শুধু ভারতে পাচারই নয়, রাজধানীর পুরান ঢাকাসহ কিছু এলাকার সোনা ব্যবসায়ী চোরাকারবারিদের কাছ থেকে সোনার বার সংগ্রহ করছে। এ চক্র দেশের অভ্যন্তরে সোনা পাচারের পর সড়কপথে ভারতেও উচ্চমূল্যে পাচার করছে। সম্প্রতি কয়েকটি চালান আটকের পর পুলিশ, র‌্যাব ও শুল্ক গোয়েন্দারা এ তথ্য জানিয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে চোরাই সোনা কেনাবেচা করছে একটি চক্র। এ কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দিনের পর দিন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু সোনা ব্যবসায়ীরা অবৈধ পথে সোনার বার নিয়ে আসছে। চোরাই সোনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিমানবন্দর কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ও আর্মড পুলিশের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে।

আরও পড়ুন:


মমতার ভাগ্য নির্ধারণ আজ

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বোমা হামলা মামলার রায় আজ

টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে আদালতে ট্রাম্প

করোনা প্রতিরোধে টিকার বিকল্প কোভিড পিলের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সাফল্য


 

বিচিত্র জায়গায় মেলে সোনা : সোনা পাচার মামলার এক তদন্ত কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি দুবাই থেকে এ দেশে সোনা পাঠানোর কাজ করেন। এই পাচারকারী চক্রের লোকজন সিঙ্গাপুর, দোহায়ও সক্রিয়। এসব রুটের যাত্রীকে দিয়ে টাকা অথবা বিমান টিকিটের বিনিময়ে কখনো ফুলদানির ভিতর, কখনো বা জুতার ভিতর কার্বন পেপারে মুড়িয়ে সোনার বার এ দেশে পাচার করা হয়। গত ৬ অক্টোবর দুবাইফেরত বিমানের শৌচাগারে টিস্যু পেপারবক্স থেকে ১৩.৯২ কেজি ওজনের সোনার বার উদ্ধার করেছিল শুল্ক গোয়েন্দারা। দুবাই থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটের টিস্যু বক্স থেকে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি)। 

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে আসা ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটের ময়লার বাক্স থেকেও পাওয়া গেছে ৬০টি সোনার বার। যার মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা। বারগুলো লুকানো ছিল ওই ফ্লাইটের ময়লার বাক্সের নোংরা খাবারের নিচে। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ কেজির বেশি ওজনের ১৫০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয় আবুধাবি থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ ফ্লাইট বিজি১২৮-এ। ১০ কোটি টাকা মূল্যের ওই সোনাগুলো রাখা হয়েছিল ২৬এ ও ১৮এফ সিটের পাশের এয়ার কন্ডিশন প্যানেলের মধ্যে। 

চলতি বছরের ৩১ মার্চ সাড়ে ৪ কেজি ওজনের ৩৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয় বিমান বাংলাদেশ ফ্লাইট বিজি০৪৮-এর আসন ৩এ-এর নিচ থেকে। ওই একই দিনে ৩ কেজি ওজন ও ২.০৬ কোটি মূল্যের ২৮টি সোনার বার উদ্ধার করা হয় দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশের আরেকটি ফ্লাইটের আসনের নিচ থেকে। ১ এপ্রিল দুবাই থেকে আসা ফ্লাইট বিজি৫০৪৬ থেকে ঝন্টু চন্দ্র বর্মণ নামে বাংলাদেশ বিমানের একজন এয়ারক্রাফট টেকনিশিয়ান হেল্পারকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্য অনুসারে ওই বিমানের সিটের হাতল থেকে ১.১ কেজি ওজনের ৭০ লাখ টাকার সোনা উদ্ধার করা হয়। 

এর আগে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর সোনা পাচারের জন্য টয়লেট পেপার বক্সও ব্যবহৃত হয়েছিল। সেদিন ফ্লাইট বিজি২৪৮-এর একটি ওয়াশরুমের টয়লেট পেপার বক্সের নিচ থেকে ৪.৭৩ কোটি টাকা মূল্যের ৬৮টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ২ জুলাই কাস্টমস কর্মকর্তারা একটি প্যাসেঞ্জার সিটের পেছনের টিস্যু পেপার বক্স থেকে ৬.৩৮ কোটি মূল্যের সোনার বার উদ্ধার করেন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

মৃত্যু ও ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে সরকারকে বিব্রত করতে

অনলাইন ডেস্ক

মৃত্যু ও ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে সরকারকে বিব্রত করতে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শেখ হাসিনা সরকারকে বিব্রত করতে মূলত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৃত্যু ও ধর্ষণের গল্প ছড়ানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ধর্মীয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ জন মারা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৪ জন মুসলমান এবং তারা হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। দুজন হিন্দু মারা যায়, এদের একজনের সাধারণ মৃত্যু এবং অন্যজন ডুবে মারা যায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে ধর্ষণ ও একটি মন্দিরও অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংস করা হয়নি। তবে সম্পদ বা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

আরও পড়ুন:


নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: ওসি-এসআইকে বরখাস্তের নির্দেশ

প্রেমিকাকে গলা কেটে ‌‘হত্যাকারী’ মনিরও মারা গেল

মাওলানা আজহারীর লন্ডন সফরের পক্ষে বিপক্ষে নানা তৎপরতা

প্রবাসীদের জন্য যে সুখবর দিল মালয়েশিয়া


 

‘পুড়িয়ে দেওয়া ঘর পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত সবাই ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। কিন্ত দুর্ভাগ্য কিছু উৎসাহী মিডিয়া এবং ব্যক্তি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শেখ হাসিনা সরকারকে বিব্রত করতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যা ও ধর্ষণের গল্প ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিটি পুজামণ্ডেপের জন্য সরকার অর্থ প্রদান করে এবং পুলিশ বাহিনীর ঘাটতি থাকায় সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখতে বলা হয়েছে। এই ধরনের অপব্যবহারের ঘটনা এড়াতে পুজামণ্ডপ আয়োজকদের উচিত মণ্ডপগুলোকে অযত্নে না রাখা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পুজামণ্ডপে কোনো উপাসক বা আয়োজক না থাকা অবস্থায় একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের একটি কপি মণ্ডপে রেখে যায়। অন্য একজন তার একটি ছবি তুলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। যা ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের দিকে নিয়ে যায়।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

প্রেমিক ও বিবাহিত বন্ধু মিলে দিনের পর দিন কিশোরীকে ধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রেমিক ও বিবাহিত বন্ধু মিলে দিনের পর দিন কিশোরীকে ধর্ষণ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে কিশোরীকে হোটেলে তুলে মেলামেশার ভিডিও ধারণ করে পরে দুই বন্ধু মিলে দিনের পর দিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের অফিসপাড়া থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) ভোররাতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন- অফিসপাড়ার মো. রফিকের ছেলে মো. আলমগীর (২২) ও মোহাম্মদ শাহ ঘোনার মোহাম্মদ হোছাইনের ছেলে মো. আনোয়ার (২৬)।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হাই জানান, উপজেলার এক কিশোরীর (১৫) সঙ্গে ছয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী অফিসপাড়ার মো. আলমগীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ভ্রমণের কথা বলে কথিত প্রেমিক আলমগীর ওই কিশোরীকে গত ১১ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর বাজারে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে তারা রাতযাপন করেন। সেদিনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য কিশোরীর অজান্তে মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন আলমগীর।

আরও পড়ুন:


নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: ওসি-এসআইকে বরখাস্তের নির্দেশ

প্রেমিকাকে গলা কেটে ‌‘হত্যাকারী’ মনিরও মারা গেল

মাওলানা আজহারীর লন্ডন সফরের পক্ষে বিপক্ষে নানা তৎপরতা

প্রবাসীদের জন্য যে সুখবর দিল মালয়েশিয়া


 

পুলিশ জানায়, ঘটনার কয়েক দিন পর সেদিনের ভিডিও চিত্রটি আলমগীরের কথিত বন্ধু মো. আনোয়ারকে দেখায়। সেই ভিডিওটি আনোয়ারও সংরক্ষণ করে রাখে। পরে ওই কিশোরীকে ভিডিও চিত্রের ভয় দিয়ে কুপ্রস্তাব দেয় আনোয়ার। প্রস্তাবে রাজি না হলে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে লোকলজ্জার ভয়ে কিশোরী মেয়েটি রাজি হয়ে যায়। এভাবে কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন দুজনেই।

‌‘গ্রেপ্তার দুজনের মানসিক ও শারীরিক চাপ সইতে না পেরে একপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পুরো ঘটনা তার মাকে খুলে বলেন। সর্বশেষ গত ২৬ অক্টোবর মহেশখালী থানায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে কথিত প্রেমিক আলমগীর ও আনোয়ারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।’

ওসি মো. আব্দুল হাই বলেন, কিশোরীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি আমরা। আমাদের চাওয়া মেয়েরা যেন সুরক্ষিত থাকে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণের পরামর্শ দেন ওসি।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ভাসানচর থেকে পালাচ্ছিল ২৫ রোহিঙ্গা

আকবর হোসেন সোহাগ, নোয়াখালী

ভাসানচর থেকে পালাচ্ছিল ২৫ রোহিঙ্গা

হাতিয়ার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যাওয়ার পথে ২৫ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে আটক করেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের স্থানীয় এলাকাবাসী।

আটকরা হলো- রশীদ উল্যাহ (২৫) আনোয়ারা (২২) মো.আমিন (৩) মো.সৈয়দ আমিন (১০ মাস) সেফায়েত উল্যাহ (৩০) হাসিনা বেগম (২৬) মো.নয়ন (১২) জান্নাতুল ফেরদৌস (৮) সুমাইয়া (৫) নূর মোহাম্মদ (২০) খালেদা (১৮) মো.ইলিয়াছ (৬মাস) মো.জোবায়ের (২০) ফাতেমা (১৯) ছাদিয়া (৪) মো.জাবেদ (১) একরাম উল্যাহ (৩০) ফাতেমা (২৫) রহমত (৪) আসমা (২) আশেয়া বেগম (২৫) পারভিন আক্তার (৯) মো.হাসান (৪) উম্মে কুলসুম (২০) ফাতেমা খাতুন (৫০)।

আরও পড়ুন:


নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: ওসি-এসআইকে বরখাস্তের নির্দেশ

প্রেমিকাকে গলা কেটে ‌‘হত্যাকারী’ মনিরও মারা গেল

মাওলানা আজহারীর লন্ডন সফরের পক্ষে বিপক্ষে নানা তৎপরতা

প্রবাসীদের জন্য যে সুখবর দিল মালয়েশিয়া


 

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের থেকে তাদের আটক করা হয়।

চরজব্বর থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) এস.এম মিজানুর রহমান এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আটকদের মধ্যে ১০ জন শিশু রয়েছে। আজ বিকেল দিকে তাদের ভাসানচরের উদ্দেশে পাঠানো হবে।

ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান আরো জানান, বুধবার রাতে ১০ জন শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর থেকে পালিয়ে দালালের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন এলাকায় দালাল ও নৌকার মাঝি বুধবার দিবাগত রাতে তাদের নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে জানায়।

খবর পেয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৈতী সর্ববিদ্যা ও চরব্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৈতী সর্ববিদ্যা জানান, আটক ২৫ রোহিঙ্গাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভাসারচর আশ্রয়ন কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। কোস্টগার্ড এসে সুবর্ণচর থেকে পুনরায় ২৫ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর আশ্রয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাবে।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যার পরের দিন মারা গেল সেই প্রেমিকও!

অনলাইন ডেস্ক

প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যার পরের দিন মারা গেল সেই প্রেমিকও!

সুমাইয়া আক্তার (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক প্রেমিক মনির (১৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাতাপাতালে তার মৃত্যু হয়। মনিরের খালা রোজিনা বেগম জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় তাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করে র্যাব। 

বুধবার সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার কলেজপাড়া এলাকার খোকনের নির্মাণাধীন বাড়ির নিচতলার সিঁড়িকোঠায় সুমাইয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে মনির। সুমাইয়ার মরদেহ ও আহত অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করে পুলিশ।

দুই বছর ধরে সুমাইয়ার সঙ্গে মনিরের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। দুই মাস আগে মাদকাসক্ত মনিরের সঙ্গে  সম্পর্ক ছিন্ন করে। বিষয়টি মনির সহ্য করতে পারছিল না। ঘটনার পাঁচ দিন আগে সুমাইয়াকে কানে আঘাত করে আহত করে মনির। মনির বখাটে ও মাদকাসক্ত হওয়ায় সুমাইয়া তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। সেই থেকে সুমাইয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয় মনির। এরপর সে পরিকল্পিতভাবে সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এজন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগের রাতে প্রচুর পরিমাণ মাদক গ্রহণ করে মনির। নানা তথ্য-উপাত্ত ও ভিডিও ফুটেজ থেকে তা নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় টাঙ্গাইলের র্যা্ব-১২ সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লে. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

টাঙ্গাইলের র্যা্ব-১২ সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লে. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুমাইয়াকে হত্যার পর মনির আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সে উপজেলার মশাজান গ্রামের মেহের আলীর ছেলে। উপজেলার পালিমা গ্রামে সুমাইয়ার বাড়ি। সে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

তিনি আরও জানান, বুধবার দিনভর গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং হত্যার আগের নানা ঘটনা পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মনির জড়িত। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি মনিরের। ছুরি হাতে নানা কসরত করা বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করা হয়েছে। সুমাইয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

চাপের মুখে বাংলাদেশ

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে টাইগার শিবিরে বড় দুটি দুঃসংবাদ

শাহরুখের সাথে জুটি থেকে সরে দাঁড়ালেন নায়িকা


তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে সুমাইয়াকে হত্যা করে সেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আইজিপির সিল-স্বাক্ষর জাল করে পুলিশে নিয়োগের সুপারিশ

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

আইজিপির সিল-স্বাক্ষর জাল করে পুলিশে নিয়োগের সুপারিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক পরিচয দিয়ে পুলিশ মহা পরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজির আহমেদের সিল-স্বাক্ষর জাল করে কনস্টেবল নিয়োগের সুপারিশের অপরাধে স্বপন সিংহ (৪৫) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে বাগেরহাট পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে বরিশাল শহর থেকে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

বিকেলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক এসব সংবাদ সম্মেলনে তথ্য জানিয়েছেন।

এসময়, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রেজাউল করিমসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তার স্বপন সিংহ পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার গাবুয়া গ্রামের বিরেন্দ্রনাথ সিংহের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বপন সিংহকে আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে জানান, জেলার ফকিরহাট উপজেলার সিংগাতী এলাকার প্রান্ত শীল বাপ্পিকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য দশ লাখ টাকা চুক্তি করে প্রতারক স্বপন সিংহসহ চারজন। চাকরি দেওয়ার জন্য প্রতারক চক্রটি নিজেদের পুলিশ মহাপরিদর্শকের ঘনিষ্ঠ লোক বলে পরিচয় দেয়। বাপ্পির পরিবারের কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও একটি ফাকা চেক নেয় তারা৷ পুলিশ সুপারের বরাবর কনস্টেবল পদে আবেদনপর একটি কপির পাশে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নকল সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে বাপ্পির পরিবারের কাছে দেয়।

ওই আবেদনটি খুব গোপনে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়ার জন্য বলে।

প্রতারকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাপ্পির পক্ষ থেকে আবেদনটি আমাদের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:


নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: ওসি-এসআইকে বরখাস্তের নির্দেশ

প্রেমিকাকে গলা কেটে ‌‘হত্যাকারী’ মনিরও মারা গেল

মাওলানা আজহারীর লন্ডন সফরের পক্ষে বিপক্ষে নানা তৎপরতা

প্রবাসীদের জন্য যে সুখবর দিল মালয়েশিয়া


 

পুলিশের মহাপরিদর্শক কখনও কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন না। কনস্টেবল নিয়োগ হয় যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী। আমরা আবেদনটি দেখে সন্দেহ হলে যাচাই বাছাই করে জানতে পারি পুলিশ মহাপরিদর্শকের সীল ও স্বাক্ষর জাল। পরবর্তীতে বাপ্পির মা যুথকা শীলের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বপন সিংহকে গ্রেফতার করি। এই চক্রের সাথে আরও তিনজন জড়িত রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর