সূরা বাকারা: আয়াত ১২৪-১২৭, দুনিয়ার নানা ঘটনা আল্লাহর পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৪-১২৭, দুনিয়ার নানা ঘটনা আল্লাহর পরীক্ষা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১২৪ থেকে ১২৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১২৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন,

وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ (124)
 
"যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আপনি আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও (ইমাম) নিযুক্ত করুন। তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না।" (২:১২৪)

পয়গম্বরদের মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আ.) ছিলেন বিশেষভাবে মর্যাদাবান। তাঁর নাম পবিত্র কোরআনের ২৫টি সূরায় ৬৯ বার এসেছে এবং তাকে মহানবী (সা.)-এর মতোই আদর্শ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই সূরাতেই এই আয়াত থেকে শুরু করে ১৮টি আয়াতে পবিত্র কাবাঘরের প্রতিষ্ঠাতা আল্লাহর এ নবীর কথা বলা হয়েছে। হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর ইমামত লাভ করেন। এই আয়াতে 'কালিমাত' বলে যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, তার মাধ্যমে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর ওপর অর্পিত কিছু কঠিন দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে যা কিনা তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল।

ওইসব কঠিন দায়িত্বের কয়েকটি দিক হচ্ছে, হযরত ইব্রাহীম (আ.) তার গোত্রের মধ্যে একমাত্র একত্ববাদী ছিলেন। কিন্তু তিনি একাই অসীম সাহসিকতার সাথে শিরক্‌ ও মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামেন। মূর্তিগুলো যেখানে রাখা হতো একদিন সেখানে ঢুকে তিনি সমস্ত মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলেন। মূর্তি ভাঙ্গার দায়ে তাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু হযরত ইব্রাহীম (আ.) দৃঢ় ঈমান ও স্থিরচিত্তে অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করলেন। কিন্তু সবাই লক্ষ্য করল আল্লাহর ইচ্ছায় আগুন ঠাণ্ডা হয়ে গেল এবং তার কোন ক্ষতিই হলো না।

হযরত ইব্রাহীমের জন্য আল্লাহর আরেকটি পরীক্ষা ছিল, তার পুত্র সন্তানকে কোরবানীর নির্দেশ। দীর্ঘদিন সন্তান থেকে বঞ্চিত থাকার পর আল্লাহ তাকে পুত্র সন্তান ইসমাইলকে দান করলেন। আল্লাহর নির্দেশে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত পুত্র সন্তানকেই তিনি কোরবানী করতে উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইলের পরিবর্তে কোরবানী হয় এক পশু। এভাবে বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর আল্লাহতালা তাঁকে ইমামতের মর্যাদা দান করলেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর কাছে তার বংশধরদের জন্যেও ইমামতের মর্যাদাদানের প্রার্থনা করেন৷ আল্লাহপাক তার এই প্রার্থনার জবাবে বললেন, ইমামতের এই মর্যাদা বংশানুক্রমিক নয় বরং যার যোগ্যতা আছে সেই এ মর্যাদার অধিকারী হতে পারবে।

রাসূলের দায়িত্ব হলো- আল্লাহর বাণী ও বিধি-বিধান পৌঁছে দেয়া এবং জনগণকে ভালো কাজের সুসংবাদ ও মন্দ কাজের ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া। অপরপক্ষে ইমামের দায়িত্ব হলো সমাজে ওই বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

সূরা বাকারাহ'র এ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে, ইমামত আল্লাহর অঙ্গীকার ও আমানত, যা জালিম, অন্যায়কারী ও গুনাহগার ব্যক্তিরা পাবে না। এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, যারা জীবনে গুণাহ করেছে তারা ইমামতের দায়িত্ব পেতে পারে না।

এরপর ১২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (125)
"(সেই সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন কাবাঘরকে মানবজাতির সম্মিলন স্থল ও নিরাপদ কেন্দ্র করেছিলাম আর বলেছিলাম তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়াবার স্থানকেই নামাজের স্থান হিসাবে গ্রহণ কর৷ আর আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইলের সাথে অঙ্গীকার করেছি যে আমার ঘর তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী, রুকুকারী ও সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র করে রাখবে।" (২:১২৫)

এর আগের আয়াতে হযরত ইব্রাহীমের সুউচ্চ মর্যাদা ও ইমামতের কথা বলা হয়েছে। আর এ আয়াতে হযরত ইব্রাহীমের মহান অবদান পবিত্র কাবাঘরের কথা বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ঘর মানব ইতিহাসে একত্ববাদীদের মিলনস্থল। তাওয়াফ, নামাজ ও এবাদতের জন্য পবিত্র ও নিরাপদ কেন্দ্র। হজ্ব যাত্রীরা মক্কা শরীফে গিয়ে কাবাঘর তাওয়াফের পর দু''রাকাত নামাজ পড়েন। তাদের এ নামাজ পড়তে হয় মাকামে ইব্রাহীমকে সামনে রেখে। মাকামে ইব্রাহীম হলো কাবাঘর ঘেষা ওই পবিত্র স্থান যেখানে কাবাঘরের দেয়াল তৈরির সময় তিনি দাঁড়াতেন। আল্লাহপাক হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর কষ্টের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে হাজীরা মাকামে ইব্রাহীমকে পেছনে রেখে নামাজ না পড়েন। হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ.) শুধু কাবাঘরের নির্মাতাই ছিলেন না, তারা একইসাথে ওই পবিত্র ঘরের খাদেম বা সেবকও ছিলেন। আল্লাহর নির্দেশে তারা মসজিদুল হারামকে যাবতীয় অপবিত্রতা থেকে রক্ষা করতেন যাতে আল্লাহর বান্দারা সেখানে নামাজ ও এবাদত করতে পারেন। মূলত: মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর। আর এ ঘরের খাদেম বা সেবককেও হতে হবে পবিত্র এবং আল্লাহর অলী। যে কেউ মসজিদ দেখা শোনার মতো পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অধিকারী হতে পারে না।

এরপর ১২৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آَمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آَمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلًا ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ (126)
"স্মরণ কর যখন ইব্রাহীম বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! একে নিরাপদ শহরে পরিণত কর আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করবে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ফলের দ্বারা রিযিক দাও৷ আল্লাহপাক ইব্রাহীমের প্রার্থনার জবাবে বললেন, কাফেরদেরকেও আমি কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগের সুযোগ দেব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করবো এবং তা কত নিকৃষ্ট পরিণাম!" (২:১২৬)

হযরত ইব্রাহীম (আ.) কাবাঘর প্রতিষ্ঠার পর সেটি এবাদতের জন্য প্রস্তুত করলেন এবং একইসঙ্গে মক্কাশরীফের অধিবাসীদের জন্যে আল্লাহর কাছে দু'টি জিনিসের আবেদন জানালেন। একটি নিরাপত্তা ও শান্তি আর অপরটি হলো জীবন ধারণের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা। যদিও ইব্রাহীম (আ.) কেবল মুমিনদের জন্য দোয়া করেছেন, কিন্তু তারপরও আল্লাহপাক জবাবে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী নির্বিশেষে সবার জন্যে বস্তুগত রিজিক দান করবেন। তিনি কাফেরদেরকে তাদের অবিশ্বাসের জন্য দুনিয়ার ধন-সম্পদ বা ঐশ্বর্য থেকে বঞ্চিত করেন না। যদিও তারা তাদের কাজের জন্য পরকালে দোজখে প্রবেশ করবে।

এ আয়াতে দু'টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে-

প্রথমত: মুমিনদের জন্য দুনিয়ার সুযোগ-সুবিধা ও বস্তুগত কল্যাণের প্রয়োজন আছে এবং সেজন্যেই হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে তা চেয়েছেন ৷

দ্বিতীয়ত: কাফেররা পার্থিব ধন-সম্পদের অধিকারী হলেও তা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বা সৎ পথে থাকার প্রমাণ বহন করে না। বরং এ থেকে আল্লাহর কাছে পার্থিব সম্পদ যে মূল্যহীন তাই ফুটে উঠে।

আরও পড়ুন


বিমানবন্দর যেন সোনার খনি

সচিবের ভুয়া পরিচয়ে কোটি কোটি টাকার গাড়ি বাড়ি

কেয়ামতের যত দৃশ্যমান আলামত ও নিদর্শন

জার্মানি পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি


এবারে সূরা বাকার’র ১২৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে -

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (127)
"যখন ইব্রাহীম ও ইসমাইল কাবা ঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিল তখন তারা দোয়া করেছিলেন-হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের এ কাজ গ্রহণ কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।" (২:১২৭)

হযরত আদম (আ.) এর সময় থেকেই কাবা ঘর ছিল ৷ কিন্তু হযরত ইব্রাহীম (আ.) তা পুনঃনির্মাণ করেন। কারণ মক্কায় যখন হযরত ইব্রাহীম (আ.) তার স্ত্রী সন্তানকে বসবাসের জন্য নিয়ে গেলেন তখন বললেন, হে প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরকে এই শুষ্ক ও চাষবাসহীন এলাকায় তোমার ঘরের পাশে থাকার ব্যবস্থা করলাম৷ সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে, ইব্রাহীম (আ.) যখন মক্কায় আসেন তখন সেখানে আল্লাহর ঘর অর্থাৎ কাবাঘরের অস্তিত্ব ছিল৷ এছাড়াও সূরা আল ইমরানের ৯৬ নম্বর আয়াতে কাবাকে এবাদতের প্রথম ঘর বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে৷

সূরা বাকারা’র ১২৭ নম্বর আয়াত থেকে বোঝা যায়, যদি নিয়ত আল্লাহমুখী হয় তাহলে মিস্ত্রির কাজও এবাদত। মূলত: কাজ কি সেটা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং আল্লাহর দরবারে ওই কাজ কবুল হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা যদি কাবা ঘরও নির্মাণ করি আর সে নির্মাণ কাজ যদি আল্লাহর দরবারে কবুল না হয় তাহলে তার কোন মূল্য নেই।

এই কয়েকটি আয়াতের মূল শিক্ষা সংক্ষেপে তুলে ধরা হল -

১. আল্লাহপাক ব্যক্তির যোগ্যতা অনুসারে আধ্যাত্মিক মর্যাদা দান করেন। দুনিয়ার নানা ঘটনা হলো আল্লাহর এক ধরনের পরীক্ষা, যাতে মানুষ সেসবের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারে এবং মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছুতে পারে।

২. ইমামত ও নেতৃত্ব খোদার দেয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান, এটি দুনিয়াবী কোন পদমর্যাদা নয়। সুতরাং ইসলামী সমাজের ওপর যে কেউ শাসন চালাতে পারে না এবং যেকারো নেতৃত্ব দেয়ার অধিকার নেই ৷

৩. মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং বিশেষ পবিত্রতা ও মর্যাদার অধিকারী৷ তাই সৎ ও মুত্তাকী লোকদেরকে মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক হতে হবে ৷

৪. মক্কা হলো একটি আদর্শ ইসলামী শহরের দৃষ্টান্ত। এটি যেমন এবাদতের স্থান তেমনি নিরাপত্তার কেন্দ্র। মূলত: আল্লাহর এবাদত হতে হবে নিরাপত্তা ও শান্তির ছায়াতে। কারণ ধর্ম বৈষয়িক বিষয় থেকে আলাদা কিছু নয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সুখবর

অনলাইন ডেস্ক

ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সুখবর

হজ্ব।

করোনা সংক্রমণের পর থেকে ওমরাহ পালনকারীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার যে নিয়ম ছিল তা বতিল করা হলো। অর্থাৎ সৌদি আরবের অনুমোদিত করোনার টিকা নিয়ে যারা ওমরাহ করতে যাবেন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই।

বুধবার সৌদি হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ওমরাহ করতে এখন থেকে সরাসরি পবিত্র শহর মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন। সৌদি আরবে পৌঁছার পর তাদের আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। এছাড়া যারা ওমরাহ করতে যাবেন তারা সৌদি আরবে এখন থেকে ৩০ দিন থাকতে পারবেন।

করোনা মহামারির আগে ওমরাহ করতে যাওয়া বিদেশিদের সৌদি আরবে ৩০ দিন থাকার অনুমতি ছিল। মহামারির সময় ওমরাহর সুযোগ বিদেশিদের জন্য বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের পহেলা নভেম্বর পুনরায় ওমরাহর জন্য বিদেশিদের অনুমতি দেওয়া শুরু হয়। ওই সময় তাদের অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে ১০ দিনে নামিয়ে আনা হয়।

আরও পড়ুন:


ফেসবুকে মন্ত্রীর পোস্ট, ‘মন চাইছে আত্মহত্যা ক‌রি’


news24bd.tv/ তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সগীরা গুনাহর পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক

সগীরা গুনাহর পরিচয়

ফাইল ছবি

পাপ হলো শরিয়তের আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করা, নির্দেশ অবহেলা করা ও নিষেধ অমান্য করা। পাপ বা অপরাধ ছোট হোক বা বড় হোক, তা সব সময় বর্জনীয়। কোনো ছোট পাপকে হালকা মনে করাও একটি কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। 

কবিরা অর্থ বড়, ছগিরা অর্থ ছোট। ছগিরা গুনাহ মানে ছোট পাপ, কবিরা গুনাহ মানে বড় পাপ। ছগিরার বহুবচন ছগায়ের, কবিরার বহুবচন কাবায়ের। 

যেসব পাপের ব্যাপারে কোনো শাস্তি, আল্লাহর ক্রোধ বা অভিশাপের কথা বলা হয়নি; বরং শুধুই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেসব হলো সগিরা গুনাহ। তবে সেসব গুনাহও কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হবে, যার অনিষ্ট ও পরিণতি কোনো কবিরা গুনাহর অনুরূপ কিংবা তার চেয়েও অধিক। আবার যেসব ছোট গুনাহ নির্ভয়ে করা হয় কিংবা নিয়মিতভাবে করা হয়, সেগুলোও কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হবে।

কবিরা ও সগিরা গুনাহর মধ্যে পার্থক্য:

প্রথমত, কোনো গুনাহর প্রাথমিক পর্বগুলো হলো সগিরা গুনাহ। আর ওই গুনাহর চূড়ান্ত পর্ব হলো কবিরা গুনাহ।

দ্বিতীয়ত, কোনো গুনাহর অনিষ্ট ও পরিণতি যদি কোনো কবিরা গুনাহর মতো হয়, তবে তা কবিরা গুনাহ, অন্যথায় সগিরা গুনাহ।

তৃতীয়ত, ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেছেন, প্রতিটি গুনাহ তার চেয়ে বড় ও ওপরের স্তরের গুনাহর হিসেবে সগিরা বা ছোট গুনাহ। আবার কোনো গুনাহ তার চেয়ে ছোট ও নিচের স্তরের গুনাহর হিসেবে কবিরা গুনাহ।

পরবর্তী খবর

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া বিশ্ব নবীর সুমহান আদর্শ

অনলাইন ডেস্ক

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া 
বিশ্ব নবীর সুমহান আদর্শ

প্রতীকী ছবি

রোগী দেখা, তার সেবা-যত্ন করা, খোঁজ-খবর নেওয়া, সান্ত্বনা দেওয়া আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুমহান আদর্শ ও সুন্নাত। প্রিয় নবী অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করাকে নেক আমল ও ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা অসুস্থদের দেখতে যাও এবং আবার কেউ মারা গেলে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করো; কেননা তা পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।’ (মুসনাদে আহমদ)।


আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


হাদিস শরিফে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন বলবেন, হে বনি আদম! আমি অসুস্থ ছিলাম। তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি আপনাকে কীভাবে দেখতে যাব? আপনি তো বিশ্বজাহানের রব! আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, আমাকে অবশ্যই তার কাছে পেতে।’ (মুসলিম : ২৫৬৯)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে গেলে সে (যতক্ষণ তার কাছে অবস্থান করে ততক্ষণ) যেন জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে।’ (তিরমিজি : ৯০৯)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আত্মহত্যার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

আত্মহত্যার শাস্তি

ফাইল ছবি

ইসলামে আত্মহত্যা হারাম ও কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যাকারীর গন্তব্য জাহান্নাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এ ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের জীবন ধ্বংসের মুখে ফেলো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৭৬; মুসলিম, হাদিস : ১১৩)


আরও পড়ুন:

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সবাই পুরুষ

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিন: সরকারকে রিজভী

ফাঁকিবাজ সরকার বলেই সত্য বললেও মানুষ বিশ্বাস করেনা: মান্না


আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

প্রতীকী ছবি

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যেমন দোয়া করা উচিত তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিত। সুস্থ থাকাটা হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীরের সাদকাহ আদায়ের কথা বলেছেন। মানবদেহে অনেক জোড়া রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার হক আদায় করার কথাও বলেছেন তিনি। শরীরের এ সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায়ে প্রতিদিন সালাতুজ জোহা বা চাশতের নামাজ পড়তে বলেছেন।

যারা চাশতের ২ কিংবা ৪ রাকাআত নামাজ পড়বে, ওই ব্যক্তি শরীরের সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায় হয়ে যাবে। আবার ভালো কাজ ও ভালো আচরণেও শরীরের হক আদায় হয় বলেছেন বিশ্বনবী।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শরীরকে সুস্থ রাখতে সকাল সন্ধ্যা দোয়ার আমল করতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায়

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

উপকার: আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, আব্বাজান, আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি যে আপনি এই দোয়া পাঠ করছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর