ভুয়া পুলিশের প্রতারণায় বিব্রত পুলিশ প্রশাসন
ভুয়া পুলিশের প্রতারণায় বিব্রত পুলিশ প্রশাসন

ভুয়া পুলিশের প্রতারণায় বিব্রত পুলিশ প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক

শরীরে বিভিন্ন পদমর্যাদার র‌্যাংক ব্যাজসহ ইউনিফর্ম, হাতে ওয়াকিটকি, গাড়িতে মনোগ্রাম লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে ওরা। হুমকি-ধমকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। প্রতিনিয়ত ওদের হয়রানির শিকার হতে হতে ত্যক্তবিরক্ত সাধারণ মানুষ। পুলিশের ছদ্মবেশে দেশজুড়ে এই চক্রটি নানা ধরনের অপকর্ম চালালেও প্রকৃত অর্থে ওরা পুলিশ না।

ছদ্মবেশ ধরা এই প্রতারকচক্রের কারণে ক্ষুণ্ন হচ্ছে পুলিশ বাহিনীর আত্মমর্যাদা। অনেক ভুক্তভোগী এই প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়ে উল্টো পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করছেন। ফলে বিব্রত পুলিশ প্রশাসন।

নিরুপায় হয়ে শেষে এই ভুয়া পুলিশচক্রকে প্রতিহত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রকৃত পুলিশ। তার মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে প্রতারকচক্রের অপতৎপরতা। প্রায়ই শোনা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চক্রটি কোনো না কোনো ঘটনা ঘটিয়ে বিপদে ফেলছে সাধারণ মানুষকে।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসে ঢাকাসহ দেশের ২৪টি জেলায় ৩৫টি ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অনন্ত ৭৩ জন ভুয়া পুলিশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে একক এবং সর্বোচ্চ ছয়জনের চক্র রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ, মোবাইল ফোন, মাদকদ্রব্য, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতারকচক্রের ব্যবহৃত ওয়াকিটকি, পোশাক, স্টিকার, পুলিশ লেখা মানিব্যাগ, চাবির রিং, ভুয়া আইডি কার্ড, পিস্তল, গুলি, খেলনা পিস্তল, হাতকড়া, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গাবতলীর তিন রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে পুলিশ সার্জেন্ট ও  টহল পুলিশের সমন্বিত তল্লাশি চৌকিতে একজন মোটরচালকের কাগজপত্র দেখতে চাইলে চালক নিজেকে সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর পরিচয় দেন। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি সটকে পড়তে চাইলে তাঁকে আটক করা হয়। এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি মাইক্রোবাসে পুলিশের মনোগ্রাম ও সাইরেন লাগিয়ে প্রতারণা করতে বের হন মুর্তুজা আল নাছির ও জামাল হোসেন ওরফে জসিম। টের পেয়ে ওই দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে ডিএমপি। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে পুলিশের ব্যবহৃত একটি ওয়াকিটকি, সিগন্যাল লাইট, ভিআইপি লাইট ও মনোগ্রামসংবলিত স্টিকার উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় মাইক্রোবাসটি।

এদিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি পরিচয়ে তিন প্রতারক এক ব্যবসায়ীর কারখানার কর ও ব্যক্তিগত আয়করে অসংগতি রয়েছে এমন ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছিল। পর্যায়ক্রমে আরো বেশি চাঁদা দাবি করে তারা ফোনে বারবার ওই ব্যবসায়ীকে হুমকি দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে প্রতারকচক্রটিকে সন্দেহ করেন ওই ব্যবসায়ী। তিনি পুলিশকে খবর দেন। কোতোয়ালি থানা পুলিশ ওই তিন প্রতারককে শেষে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে। সংঘবদ্ধ চক্রটি পুলিশ পরিচয়ে চট্টগ্রামে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে আসছিল।

এর বাইরে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইলসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ভুয়া পুলিশ আটকের ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যাংক, বীমাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ীদের অফিস, বাসা-বাড়িতে সুযোগ বুঝে প্রতারকচক্র হানা দিচ্ছে। পুলিশ পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কথা বলে কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি, সড়কের পাশে বসে মোবাইলে গেম খেলা তরুণদের ভয়-ভীতি দেখানো, মাদক কারবারি আখ্যা দেওয়াসহ গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে প্রতারকচক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কন্যাপক্ষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে চক্রটি।

আরও পড়ুন:


অ্যান্ডোরার বিপক্ষে বড় জয়, বিশ্বকাপের আরও কাছে ইংল্যান্ড

অ্যালকোহল চুরির অভিযোগ!

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, অন্তঃসত্ত্বা তরুণী

গাজীপুরে ট্রাকের নিচে পৃষ্ঠ হয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু


ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন বলেন, ‘একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, যারা প্রতারণা করছে তাদের বেশভূষা, আচার-আচরণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মতো না। তাদের আচরণ এবং তারা যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করছে তার ওপরও লক্ষ রাখতে হবে। গ্রেপ্তারের পর দেখা গেছে এই প্রতারকচক্রের ব্যবহৃত ওয়াকিটকি চালু না। সাদা পোশাকে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলে অবশ্যই গায়ে জ্যাকেট, গলায় পরিচয়পত্র ঝোলানো থাকে। ভুয়া পুলিশ সদস্যরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জ্যাকেট বা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখে না। আর ওরা বেশির ভাগ সময় ব্যবহার করে খেলনা পিস্তল। তারা বাসায় ঢুকেই ডাকাতি করার মতো টাকা, অলংকারসহ মূল্যবান মালামাল হাতিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতারণা করছে এমন অভিযোগে বিভিন্ন সময় আমরা ভুয়া পুলিশকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছি। কোনো নাগরিকের কাছে পুলিশের সন্দেহজনক আচরণ মনে হলে তাত্ক্ষণিক সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর অনুরোধ করছি। ’

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

news24bd.tv রিমু

;