নগ্ন শরীরে পাথরের ঘরে বিচিত্র স্নান চিকিৎসা
নগ্ন শরীরে পাথরের ঘরে বিচিত্র স্নান চিকিৎসা

নগ্ন শরীরে পাথরের ঘরে বিচিত্র স্নান চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

উনিশ শতক পর্যন্ত পশ্চিম আয়ারল্যান্ডে চালু ছিলো এক অদ্ভুত চিকিৎসাব্যবস্থা। মানুষজন অসুস্থ হলে গায়ের জামাকাপড় খুলে ইগলুর মত দেখতে পাথরের ঘরের মধ্যে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতো। ঘরগুলো ছিলো কোন জলাশয় বা পাশ দিয়েই পানি প্রবাহিত হচ্ছে এমন কোন জায়গায়। ফলে বদ্ধ জায়গায় শব্দহীন এক ছোট্ট অন্ধকার ঘরে আক্ষরিকভাবেই তারা ঘেমে-নেয়ে উঠতো!

এই চিকিৎসা নিতে যেয়ে অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তো, কেউবা আবার হ্যালুসিনেশনেরও শিকার হতো।

দেশটিতে '১৬ থেকে '১৯ শতক পর্যন্ত প্রায় তিনশ' বছর এই চিকিৎসা পদ্ধতি চালু ছিল। সম্প্রতি হারিয়ে যাওয়া এই ঘরগুলোকে আবার কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এবার আর চিকিৎসার জন্য নয়, একে বিশ্বব্যাপী টুরিস্টদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।

এক প্রতিবেদনে প্রত্নতত্ত্ববিদ এইডেন হারটে পাথরের ঘরগুলোতে এই বিচিত্র চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিবিসিকে বলেন, অনেকেই মনে করে এই পদ্ধতিতে রোগের চেয়ে রোগের চিকিৎসা বেশি মারাত্মক ছিলো।  

চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে হারটে বলেন, স্নানাগারগুলোতে প্রবেশের জন্য উপরে ছোট একটি রাস্তা থাকতো। রোগী ভেতরে ঢুকলে পাথর চাপা দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হতো। কয়েক ঘণ্টা পর এর ভেতরে ধোঁয়া প্রবেশ করানো হতো। এর ফলে ভেতরে থাকা রোগী গরমে পুরো ঘেমে উঠতো। অনেক সময় সে সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে ও হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতো।  

রোগী যতক্ষণ সহ্য করতে পারতো, ততোক্ষণ চলতো এই চিকিৎসা ব্যবস্থা। এরপর সেখান থেকে বের করে তাকে পাশের ঝর্না বা প্রস্রবণ থেকে শরীর ঠান্ডা ও পরিষ্কার করানো হতো।  

তবে কখনো কখনো এই চিকিৎসায় কাজ হতো। আয়ারল্যান্ডের ম্যায়নুথ ইউনিভার্সিটির একজন বিশেষজ্ঞ ড. রোনান ফলি অবশ্য এটাকে 'প্লাসিবো ইফেক্ট' বলে মনে করেন।

আরও পড়ুন:

পরকীয়ার জেরে শ্যালিকার বিয়ে ভাঙলেন দুলাভাই, আপত্তিকর ছবি!

গাঁজা সেবনে অভ্যস্তদের করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি: গবেষণা

অবশেষে যশের সঙ্গে বিয়ের কথা স্বীকার করলেন নুসরাত!

পল্লবী থেকে উধাও হওয়া সেই ৩ বান্ধবীকে দেওয়া হল পরিবারের জিম্মায়


দেশটির লেইট্রিম কাউন্টি কাউন্সিল হেরিটেজ অফিসার সারা ম্যালোনি জানান, ১৬০০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের প্রান্তিক অঞ্চলে পাথরের এমন অসংখ্য স্নানাগার দেখতে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র লেইট্রিম অঞ্চলেই ১০০-এর বেশি স্নানাগার রয়েছে। আর প্রায় লন্ডনের সমান আয়তনের এই রাজ্যটির জনসংখ্যা মাত্র ৩৫ হাজার।

news24bd.tv/ নকিব