মৃত্যুর পর রুহ কোথায় থাকে

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)

মৃত্যুর পর রুহ কোথায় থাকে

মৃত্যুর পর রুহ কোথায় থাকে—আলেমরা এ ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন। প্রত্যেকের দাবির পক্ষে দলিল আছে। কেউ কেউ বলেছেন, মৃত্যুর পর রুহ জান্নাতে থাকে। আবার কেউ বলেছেন, রুহ জান্নাতের দরজায় থাকে। আবার অন্য একদল বলেছে, রুহ কবরে থাকে। আবার আরেক দল বলেছে, রুহকে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেগুলো যেভাবে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায়। কেউ কেউ বলেছেন, এগুলো আল্লাহর কাছে থাকে। আরেক দলের মত হলো, মুমিনের রুহ আদম (আ.)-এর ডান হাতে এবং কাফিরের রুহ আদম (আ.)-এর বাম হাতে থাকে।

মূলকথা হলো, রুহ স্তর অনুসারে বরজাখে (মৃত্যুর পরের জীবন) বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। কোনো রুহ ঊর্ধ্ব জগতের সর্বোচ্চ ‘ইল্লিয়্যিনে’ অবস্থান করে। এগুলো হলো নবীদের রুহ। তাদের রুহও পরস্পর মর্যাদা অনুসারে বিভিন্ন অবস্থানে থাকে। যেমন—নবী (সা.) মিরাজের রাতে দেখেছেন।

আবার কিছু রুহ সবুজ পাখির পাকস্থলীতে করে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়ায়। এগুলো শহীদের আত্মা।

আবার কারো রুহ জান্নাতের দরজায় অবস্থান করবে। যেমন—ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘শহীদরা জান্নাতের দরজায় দীপ্তমান নহরে সবুজ গম্বুজবিশিষ্ট স্থানে থাকবে, সকাল-সন্ধ্যা তাদের জন্য জান্নাত থেকে খাবার আসবে।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৪৬৫৮)

তবে জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন হবে। কেননা আল্লাহ তার দুই হাতের বিনিময়ে দুটি ডানা দিয়েছেন, যা দ্বারা তিনি ইচ্ছামতো জান্নাতের যেখানে খুশি সেখানে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

আবার কারো রুহ জমিনে আবদ্ধ থাকে। তার রুহ ঊর্ধ্ব আসমানে যাবে না। কেননা এসব রুহ জমিনের নিম্নে থাকার রুহ। জমিনে অবস্থানরত রুহগুলো আসমানে অবস্থানরত রুহের সঙ্গে মিলিত হবে না। যেমন—আসমানে অবস্থানরত রুহগুলো জমিনে অবস্থানরত রুহের সঙ্গে মিলিত হবে না। যেসব রুহ দুনিয়াতে রবের পরিচয় লাভ করেনি, তাঁর ভালোবাসা অর্জন করেনি, তাঁর জিকর করেনি, তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব অর্জন করেনি, তাঁর নৈকট্য লাভ করেনি ইত্যাদি রুহ হলো জমিনে অবস্থানরত রুহ। মৃত্যুর পরে শরীর থেকে তাদের রুহ বের হলে তা জমিনেই অবস্থান করবে।

এভাবে ঊর্ধ্বমুখী নফস, যা দুনিয়াতে আল্লাহর ভালোবাসা, জিকর, নৈকট্য লাভ ও বন্ধুত্ব স্থাপনে সর্বদা ব্যস্ত ছিল, সেগুলো শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পরে তার উপযোগী ঊর্ধ্বজগতের রুহের সঙ্গে মিলিত হবে। ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে তার সঙ্গে বারজাখে ও কিয়ামতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বারজাখে ও কিয়ামতের দিন রুহগুলোকে একে অন্যের সঙ্গে মিলিত করে দেবেন। তিনি মুমিনের রুহ তার অনুরূপ মুমিনের রুহের মধ্যে প্রবেশ করাবেন। অতএব, মৃত্যুর পর রুহ শরীর থেকে আলাদা হলে তার আমল অনুযায়ী তার আকৃতির উপযোগী ও সমজাতীয় রুহের সঙ্গে থাকবে। তখন সেখানে তাদের সঙ্গে থাকবে।

আবার কিছু রুহ জিনাকারী ও জিনাকারিণীর সঙ্গে থাকবে, কিছু রুহ রক্তের নদীতে সাঁতার কাটবে, কিছু রুহকে পাথর গ্রাস করবে। অতএব, সব রুহ একই স্থানে সুখে বা দুঃখে থাকবে না; বরং কিছু রুহ ‘ইল্লিয়্যিনের’ সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বজগতে থাকবে। আর কিছু রুহ জমিনের নিম্নস্তরে থাকবে। সেটা বলা হয় ‘সিজ্জিন’।

আরও পড়ুন:


প্রতি মৌসুমেই ১২০ শতাংশ উজাড় করে দিয়েছি: কোহলি

যে ৩ বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে

রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে আজ

কাতারের টিকিট নিশ্চিত করল জার্মানি


ঈমানদারের রুহ থাকবে ‘ইল্লিয়্যিন’-এ। আর পাপী ও অবিশ্বাসীদের রুহ থাকবে ‘সিজ্জিন’-এ।

‘রুহ’ নামক গ্রন্থ থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন সাখাওয়াত উল্লাহ

পরবর্তী খবর

শয়তান থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

শয়তান থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া

শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতে যে দোয়া পড়তে হয় জেনে নিন।

হজরত আবু আয়াশ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে এই দোয়া (নিম্নোক্ত) পড়ে এটা তার জন্য হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর বংশীয় একটি গোলাম আজাদ করার সমান হবে, তার জন্য ১০টি পুণ্য হবে ও ১০টি পাপমোচন করা হবে এবং তার ১০টি মর্যাদা উচুঁ করা হবে এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে যতক্ষণ না সন্ধ্যা হয়। আর যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে তা বলে, তাহলে ভোর পর্যন্ত অনুরূপ ফজিলত পাবে। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহ.)-এর বর্ণনায় রয়েছে, এক ব্যক্তি হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) স্বপ্নে দেখে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবু আয়াশ (রা.) আপনার নামে এই এই বলেছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আবু আয়াশ সত্যিই বলেছে।’

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

আরও পড়ুন:


নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, দুর্যোগে ধ্বংস হবে আরবজাতি

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান


বাংলা অর্থ: একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক ইলাহ নেই, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তারই, সমস্ত প্রশংসাও তার, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। -সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৭

মহান আল্লাহ তা'আলা সকল মুমিনকে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, দুর্যোগে ধ্বংস হবে আরবজাতি

মাহমুদুল হাসান আরিফ

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, দুর্যোগে ধ্বংস হবে আরবজাতি

বিশ্বনবী (সা.)-এর হাদিস থেকে জানা যায়, এক নিকটবর্তী দুর্যোগে আরবজাতি ধ্বংস হবে। জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) বলেন, একবার নবী (সা.) রক্তবর্ণ চেহারা নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং বলতে লাগলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’

নিকটবর্তী এক দুর্যোগে আরবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। ইয়াজুজ-মাজুজের (প্রতিরোধ) প্রাচীর আজ এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। বর্ণনাকারী নব্বই কিংবা এক শর রেখায় আঙুল রেখে গিঁট বানিয়ে দেখালেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব, অথচ আমাদের মধ্যে নেককার লোকও থাকবে? নবী (সা.) বলেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেড়ে যাবে। (বুখারি, হাদিস : ৭০৫৯)

আরও পড়ুন:


কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

এবং সম্ভবত আরবজাতির মধ্যে পাপাচার বেড়ে যাবে তরুণ ও যুবকদের মাধ্যমে। অন্য হাদিসে এসেছে, আমর ইবনে ইয়াহইয়া (রা.) বলেন, আমার দাদা আমাকে জানিয়েছেন যে আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গে মদিনায় নবী (সা.)-এর মসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। আমাদের সঙ্গে মারওয়ানও ছিল। এ সময় আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি আস-সাদিকুল মাসদুক (সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসেবে স্বীকৃত)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের ধ্বংস কুরাইশের কিছু বালকের হাতে হবে। তখন মারওয়ান বলল, এসব বালকের প্রতি আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি যদি বলার ইচ্ছা করি যে তারা অমুক অমুক গোত্রের লোক, তাহলে বলতে সক্ষম। (বুখারি, হাদিস : ৭০৫৮)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

জামাআতে নামাজ পড়ার সুফল ও উপকারিতা

অনলাইন ডেস্ক

জামাআতে নামাজ পড়ার সুফল ও উপকারিতা

জামাআতে নামাজ পড়ায় রয়েছে বিশেষ ৫টি সুফল ও উপকারিতা, যা একাকি নামাজ পড়ায় অর্জন করা সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকনির্দেশনায় তা সুস্পষ্ট এবং প্রমাণিত। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-


বিশেষ সাওয়াব
জামাআতে নামাজ আদায়ে রয়েছে বিশেষ সাওয়াব। একাকি নামাজ পড়ার ব্যক্তির চেয়ে ২৭ গুণ বেশি সাওয়াবের কথা এসেছে হাদিসের বিশুদ্ধ বর্ণনায়-
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘একাকির নামাজ অপেক্ষা জামাআতে নামাজ সাতাশ গুণ উত্তম।’ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালেক)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের পক্ষে জামায়াতে নামাজ আদায় করার ছাওয়াব তার ঘরে ও বাজারে নামাজ পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি। এর (মসজিদে নামাজ আদায়ের) কারণ হলো-
- কোনো ব্যক্তি যখন ভালোভাবে অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করে এবং নামাজ ছাড়া তার মনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকে; তখন মসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপের (কদমের) বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং একটি গোনাহও মাফ হয়ে যায়।
- মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সে নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকে, ততক্ষণ সে নামাজের অনুরূপই ছাওয়াব পেতে থাকে।
- আর যে ব্যক্তি নামাজ আদায়ের পর কাউকে কষ্ট না দিয়ে ওজুসহ মসজিদে অবস্থান করে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার ক্ষমার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে-
‘হে আল্লাহ! এ (ব্যক্তি) কে তুমি ক্ষমা করে দাও; হে আল্লাহ! এর তাওবা কবুল কর; হে আল্লাহ! এর প্রতি তুমি দয়া প্রদর্শন কর।’ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালেক)

ফেরেশতাদের দোয়া
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অজু অবস্থায় তার নামাজের স্থানে যতক্ষণ অবস্থান করে, ফেরেশতারা তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত (ক্ষমা ও রহমতের) দোয়া করতে থাকে। তারা দুআ করে-
‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! তাকে দয়া করুন।’ (বুখারি)

নামাজের জন্য অপেক্ষা কিংবা নামাজ পরবর্তী সময়ে অপেক্ষা; এ সবই মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামাজের আগে কিংবা পরেই হয়ে থাকে।


মুনাফেকি থেকে মুক্তি
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুনাফেকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হলো এশা ও ফজরের নামাজ। যদি তারা এর প্রতিদান সম্পর্কে জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও (মসজিদে) নামাজে এসে অংশগ্রহণ করতো।’ (বুখারি)
এ দুই ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাআতের সঙ্গে আদায় করা অনেক কঠিন। সুতরাং যারা এশা এবং ফজর নামাজ মসজিদে এসে জামাআতে আদায় করবে তারা মুনাফেকি থেকে মুক্তি পাবে।

সারারাত নামাজ পড়ার সাওয়াব
হজরত ওসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
‘যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করল, সে অর্ধেক রাত কেয়াম (নামাজ আদায়) করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করল (অর্থাৎ এশা এবং ফজর নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করল) সে যেন সারারাত কেয়াম (নামাজ আদায়) করল।’ (মুসলিম)

জামাআতের সঙ্গে এশা ও ফজর নামাজ পড়ার মাধ্যমেই সব মুমিন মুসলমানের দ্বারাই সারারাত জেগে নামাজ পড়ার সাওয়াব অর্জন করা সম্ভব।

 

গোনাহ মাফ ও মর্যাদা লাভ
হজরত আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সামনে সমবেত সাহাবাদের প্রশ্ন করেন- আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলবো না? যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের গুনাহকে মাফ করবেন এবং তোমাদের নেকিকে বাড়িয়ে দেবেন!’
সমবেত সব সাহাবারা বললেন, ‘অবশ্যই; হে আল্লাহর রাসুল!’
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘প্রতিবন্ধকতা থাকলেও যথাযথভাবে অজু করে পায়ে হেঁটে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা।’ (ইবনে মাজাহ)

জামাআতে নামাজ পড়া ব্যক্তিদের জন্য উল্লেখিত সুফলগুলো নির্ধারিত। সুতরাং সবার উচিত, জামাআতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। হাদিসে ঘোষিত বিশেষ মর্যাদা ও সুফলগুলো অর্জন করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামাআতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে উল্লেখিত সুফলগুলো পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

পরিশ্রমহীন ইবাদত হলো চুপ থাকা

অনলাইন ডেস্ক

পরিশ্রমহীন ইবাদত হলো চুপ থাকা

জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যত কম কথা বলা যায় ততই কল্যাণকর। ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, যে নীরবতা অবলম্বন করে সে মুক্তি পায়। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২৪৮৫)

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রহমানের বান্দা তারা, যারা জমিনে নম্রভাবে বিচরণ করে এবং অজ্ঞ লোক যখন তাঁদের লক্ষ্য করে কথা বলে, তখন তাঁরা শান্তিপূর্ণ কথা বলেন।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ঈমান আনে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ঈমান আনে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ঈমান আনে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরবতা অবলম্বন করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১২০)।

আরও পড়ুন: স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের রানের রেকর্ড

রাসুল (সা.) প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বলতেন না। একদা সিমাক (রহ.) জাবের ইবনে সামুরা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি রাসুল (সা.)-এর সাহচর্যে ছিলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) অধিকাংশ সময় নীরব থাকতেন। খুব কম হাসতেন...।’ (আহমদ, হাদিস : ৬৩০৮ )

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

দারিদ্র দূর করার পরীক্ষিত আমল!

যে দোয়া পাঠ করলে মানুষের অভাব দূর হয়!

অনলাইন ডেস্ক

যে দোয়া পাঠ করলে মানুষের অভাব দূর হয়!

মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তাঁর সুন্দর সুন্দর নামের জিকির বা আমল করার মাধ্যমে এই অভাব দূর করার দোয়া করার কথা বলেছেন। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে আলাদা আলাদাভাবে এ নামের জিকিরের আমল ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের মধ্যে (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’ একটি। যার অর্থ হলো- ‘মুমিনদের মর্যাদা উঁচুকারী।’

সংক্ষেপে এ গুণবাচক নাম (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-
উচ্চারণ : ‘আর-রাফিয়ু’
অর্থ : ‘মুমিনদের মর্যাদা উঁচুকারী।’

ফজিলত
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার এ পবিত্র গুণবাচক নামের জিকির মধ্যরাত বা রাতের দ্বিপ্রহরের পর ১০০ বার পাঠ করে, মহান আল্লাহ তাকে তার সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ও অর্থশালী করেন এবং অন্যের মুক্ষাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত রাখেন।
যে ব্যক্তি অত্যাচারীর জুলুম অত্যাচার থেকে এ পবিত্র গুণবাচক (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’ নামটি প্রতিদিন ১০০বার পাঠ করে।
অন্যত্র এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এ পবিত্র গুণবাচক (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’ নামের জিকির প্রতিদিন ঘুমানোর সময় ১০০ বার করবে, ঐ ব্যক্তি সকল বিপদাপদ থেকে হিফাজত থাকবে।

যে দোয়া পাঠ করলে মানুষের অভাব দূর হয়-

বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মাকহুল (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো সাতবার বলবে আল্লাহতায়ালা তার সত্তরটি অভাব দূর করবেন। (তন্মধ্যে) সবচেয়ে হাল্কা বিপদ হলো (মানুষের) অভাব। দোয়াটি হলো-
لاَ حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ ، وَلا مَلْجَأَ مِنَ اللهِ إِلاَّ إلَيْهِ
উচ্চারণ : লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ- লা মালজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।
অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে মশগুল হওয়া সম্ভব না। আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তার কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
টাঁকা পয়সার সমস্যা কাটিয়ে উঠার, দারিদ্র্যতা-অভাব দূর হওয়ার পরীক্ষিত আমল!
নিচের আমলটি অভাব দূর হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী ও পরীক্ষিত! অভাব দূর হওয়ার জন্য সূর্য উঠার আগে একটু কষ্ট করলেই ফযরের নামাযের 

আগে বা পরে আপনি নিচের আমলটি করতে পারেন-

একজন সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আরয করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া আমার প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে। (অর্থাৎ আমি চরমভাবে অভাবগ্রস্থ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন: “তোমার কি ঐ তাসবীহ স্মরণ নেই, যে তাসবীহ ফেরেশতা এবং মাখলুকের, যার বরকতে রুজি প্রদান করা হয়। যখন সুবহে সাদিক উদিত (শুরু) হয় তখন এ তাসবীহ ১০০ বার পাঠ কর:
سُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ ، سُبْحَانَ اللّهِالْعَلِيِّ الْعَظِيمُ وَ بِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম, ওয়া বিহামদিহি আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থঃ মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য; মহাপবিত্র আল্লাহ, যিনি সমুচ্চ, মহান; এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। দান সাদকার গুরুত্ব। কোথায় দান করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়?

যদি ১০০ বার পড়, তাহলে দুনিয়া তোমার নিকট অপমানিত হয়ে আসবে। (অর্থাৎ তুমি সহজেই স্বচ্ছলতা লাভ করবে।) ঐ সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু চলে গেলেন। কিছুদিন পর পুনরায় হাজির হয়ে, আরয করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়া আমার নিকট এত বেশি আসছে, আমি হতবাক! কোথায় উঠাব, কোথায় রাখব! (উৎস: আল খাছায়িছুল কুবরা, ২য় খন্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা)আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এ তাসবীহ যথাসম্ভব সুবহে সাদিক (শুরু) হওয়ার সাথে সাথে যেন পাঠ করা হয় নতুবা সকালের আগে, জামাআত যদি আরম্ভ হয়ে যায় তবে জামাআতে শরীক হয়ে পরে সংখ্যা পূর্ণ করুন এবং যেদিন নামাযের পূর্বেও পাঠ করতে না পারেন, তবে সূর্য উদিত হওয়ার আগেও পাঠ করতে পারবেন। (উৎস: মলফুজাতে আ’লা হযরত, ১২৮ পৃষ্ঠা)

 উপরোক্ত তাসবীহ পড়ার সাথে সাথে নিচের আয়াত শরীফও সকাল সন্ধ্যায় তিনবার পড়বেন-
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا
উচ্চারণঃ ওয়া মাই-ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজ আল্লাহু মাখরাজা। ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইসু লা ইয়াহ তাসিব।ওয়া মান ইয়া তা ওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহু ওয়া হাসবুহু ইন্নাল্লাহা বালিগু আমরিহি কাদযায়াল্লাহু লিকুল্লি শাইয়িন কাদরা।
অর্থঃ আর যে আল্লাহ্‌কে ভয় করে, আল্লাহ্‌ তার জন্য মুক্তির পথ বের করে দেবেন; এবং তাকে ওই স্থান থেকে জীবিকা দেবেন, যেখানে তার কল্পনাও থাকে না এবং যে আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে, তবে তিনি তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তার কাজ পরিপূর্ণকারী। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ প্রত্যেক বস্তুর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ রেখেছেন। (উৎস: সূরা-ত্বালাক, আয়াতঃ ১, ২)
নিচের দোয়াটি পবিত্র কাবা শরীফের দরজার উপরের গিলাফের উপর লিখা আছে। একটু খেয়াল করলে গিলাফের উপরে দোয়াটি আপনি বুঝতে পারবেন। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদে, বিশেষ করে মানুষ ইন্তেকাল করলে তার খাটিয়ার উপরেও এ গিলাফটি ব্যবহার করা হয়। ইচ্ছে করলে আপনি তাতেও খেয়াল করে দেখতে পারেন।

এই দোয়ার ফযিলতঃ ইমামে আহলে সুন্নাত, ওস্তাযুল মুহাদ্দেসীন, আল্লামা হাশেমী হুযূর কেবলা বলেছেন, ‘কেউ যদি এই দোয়া নিয়মিত পড়ে, তবে আসমান হতে বৃষ্টির ফোটার মত তার উপর রিযিক বর্ষিত হবে।’

কেউ যদি এই দোয়া প্রতিদিন ১০০ বার পড়ে তবে তা দারিদ্র্যতার বিরুদ্ধে তাকে নিরাপত্তা দিবে, সম্পদ অর্জনের মাধ্যম হবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকে সে মুক্ত থাকবে। (উৎস: তারিখে বাগদাদ, খন্ডঃ ১২, পৃষ্ঠাঃ ৩৫৮, আল হিলিয়া, খন্ডঃ ৮, পৃষ্ঠাঃ ৩০৯)
দোয়াটিঃ لا اله الا الله الملكال حق المبين محمد رسول الله الصادق الوعد الأمين
দোয়াটির উচ্চারণঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল মালিকুল হাক্কুল মুবিন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, আস সাদিকুল ওয়াদিল আমিন।
দোয়াটির অর্থঃ সর্ব শক্তিমান আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের কেউ যোগ্য নয়, শুধুমাত্র তিনিই প্রকৃত মালিক। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, যিনি অঙ্গীকার রক্ষা করেন এবং ‍যিনি বিশ্বস্ত।

সর্বদা ইস্তেগফার (আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করলে ও দরুদ শরীফ পড়লে যাবতীয় সমস্যা সমাধান হয়, অভাব দূর হয়! হাদিস শরীফে রয়েছে,
হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) করবে, (অর্থাৎ সর্বদা আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি.. শেষ পর্যন্ত পড়বে) আল্লাহ তার সকল সংকট থেকে উদ্ধারের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস হতে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (উৎস: আবু দাউদ শরীফ: ১৫২০, ইবনে মাজা শরীফ:৩৮১৯)
হযরত সায়্যিদুনা উবাই বিন কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) আরজ করলেন যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ﷺ আমি (সমস্ত বাড়তি ওয়াজিফা ছেড়ে দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন: “তা তোমার পেরেশানী সমূহ দূর করার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” [উৎস: তিরমিযী,৪র্থ খন্ড,২০৭ পৃষ্ঠা,হাদিস- ২৪৬৫]
দানেও অভাব দূর হয়! বলতে পারেন, “আমি অভাবী, কিভাবে দান করবো?” যতটুকু আছে তা থেকে দান করুন সুখে ও দুঃখে। আল্লাহ পাকের ঘোষণাঃ
ঐসব লোক, যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে সুখে ও দুঃখে এবং ক্রোধ-সংবরণকারীরা, মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শনকারীরা এবং সংব্যক্তিবর্গ আল্লাহর প্রিয়। (উৎস: সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৩৪)
মাতা-পিতা, নিজ পরিবার, আত্নীয়-স্বজন, এতিম ও অসহায়দেরকে দান করার জন্য আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেন:
আল্লাহর প্রেমে আপন প্রিয় সম্পদ দান করবে আত্মীয়-স্বজন, এতিমগণ, মিসকীনগণ, মুসাফির ও সাহায্য প্রার্থীদেরকে আর গর্দানসমূহ মুক্তকরণে…..(উৎস: সূরা বাকারা, ১৭৭ নং আয়াতের অংশ বিশেষ)
সুখে ও দুঃখে মাতা-পিতার জন্য, নিজ পরিবারের জন্য, আত্নীয় স্বজনের জন্য, গরীব ও অসহায়দের জন্য, সর্বোপরি আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করলে আল্লাহ পাকও আমাদের জন্য ব্যয় করবেন। হাদিস শরীফে রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, হে, আদম সন্তান! ব্যয় কর, আমিও তোমার উপর ব্যয় করবো। (উৎস: বুখারী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৪৯৬১)

দানকারীর সম্পদ বৃদ্ধির জন্য ফিরিশতারা প্রতিদিন দো’আ করেন! হাদিস শরীফে রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যহ মানুষের যখন ভোর হয়, তখন দু-জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। অতঃপর তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীরকে আরো বেশি দিন (অর্থাৎ দানকারীর সম্পদ আরো বৃদ্ধি করুন)। অপরজন বলেন, কৃপনের ধন ধ্বংস করুন। (উৎস: মুসলিম শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ২২০৮)

একটা কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে, দো’আ কবূল হওয়ার পূর্বশর্ত হল হালাল উপার্জন। হালাল উপার্জন ছাড়া দো’আ কবূল হওয়ার আশা করা বোকামি। হাদিস শরীফে রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘সে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে বলে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোষাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং তার শরীর গঠিত হয়েছে হারামে। অতএব, তার দু’আ কিভাবে কবুল করা হবে?’ (উৎস: মুসলিম শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ২২১৮)
আল্লাহ পাক আমাদরকে হারাম উপার্জন থেকে রক্ষা করুক। অভাব দূর হওয়া ও রিযিক বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত উপরোক্ত আমলগুলো করার আল্লাহ পাক আমাদের তাওফিক দান করুক।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে সৎকাজ করার প্রবল আগ্রহ দান করুক। আমিন।
রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ ১০ আমল সবাই চায় তার রিজিক বেড়ে যাক, জীবনে প্রাচুর্য আসুক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রিজিক বৃদ্ধির ১০টি আমল বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

১) তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল মেনে চলা
খোদাভীতি ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২-৩)

২)পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা
আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করলে ইহকালেই সুফল পাওয়া যায়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কামনা করে যে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৫; মুসলিম, হাদিস : ৪৬৩৯)

৩)তওবা ও ইস্তিগফার বেশি বেশি পাঠ করা
মুমিনের জীবনে তওবা ও ইস্তিগফারের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার এবং বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া রিজিক বৃদ্ধির কারণ। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৬৭৭)

৪)আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা
দানে ধন বাড়ে—এটা সর্বজনবিদিত। এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য এমন—বলে দাও, ‘নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ৩৯)

৫)একাধিক হজ-ওমরাহ করা
একের পর এক হজ-ওমরাহ পালনে রিজিক বাড়ে। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা একের পর এক হজ ও ওমরাহ করতে থাকো, কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেভাবে কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে দেয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৮১৫)

৬)অসহায়ের প্রতি ভালো আচরণ
বিপদ-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ইবাদত। মোসআব বিন সাদ (রা.) যুদ্ধজয়ের পর মনে মনে কল্পনা করলেন, তিনি বোধ হয় তাঁর বীরত্ব ও শৌর্যবীর্যের কারণে অন্যের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান। এমন প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.) তাকে বলেন, তোমাদের মধ্যে থাকা দুর্বলদের কারণে তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক প্রদান করা হয়। (বুখারি, হাদিস : ২৮৯৬)

৭)ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ করে নেওয়া
আল্লাহর ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ করার মাধ্যমে অভাব দূর হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না করো, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৫৪)

৮)আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা
আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হিজরত তথা স্বদেশ ত্যাগ করলে এর মাধ্যমেও রিজিকে প্রশস্ততা ঘটে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে জমিনে বহু আশ্রয়ের জায়গা ও সচ্ছলতা পাবে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তারপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তাহলে তার প্রতিদান আল্লাহর ওপর অবধারিত হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০০)

৯) সময়মত বিয়ে করা
বিয়ের মাধ্যমে জীবনে বরকত ও প্রাচুর্য নেমে আসে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৩২)

১০) আল্লাহর কাছে দোয়া করা
আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ বান্দার হাত ফিরিয়ে দেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৬০)

পরিশেষে…
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াকিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না।
আমাদের অনেকেই মাগরিবের পরে সুরা ওয়াকিয়াহ পড়েন। কেননা একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াকিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) তার মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার আদেশ করতেন। (বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস নং-২৪৯৮)
তাছাড়া এ সুরা শারীরিক সুস্থতা রক্ষা ও অসুস্থতা দূরীকরণেও উপকারী।

মুসলিম উম্মাহর উচিত আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের জিকির করে দুনিয়ার মুখাপেক্ষিতা, অত্যাচার-জুলুম-নিপীড়ন থেকে মুক্ত থেকে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার প্রস্তুতি নেয়া। আল্লাহ তাআলা সবাইকে নিয়মিত এ গুণবাচক নামের জিকির ও আমল করার তাওফিক দান করুন।

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর