ইউপি নির্বাচনে আ. লীগের মনোনয়ন, দেড় শর বেশি প্রার্থী বদলের চাপ

অনলাইন ডেস্ক

ইউপি নির্বাচনে আ. লীগের মনোনয়ন, দেড় শর বেশি প্রার্থী বদলের চাপ

আসন্ন স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে সাত বিভাগের অন্তত দেড় শতাধিক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দল মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করা হয়েছে। বাকি একটি বিভাগে দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এমন আভাস দিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর ৮৪৮ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। গত সোমবার (১১ অক্টোবর) পর্যন্ত সাত বিভাগের ৬৮৩টি ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬৫টি ইউনিয়নে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এই ধাপের সব ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী চূড়ান্ত করল দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ অক্টোবর থেকে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করতে আবারও মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘তৃতীয় ধাপে এক হাজারেরও বেশি প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা হয়। সভা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে না থাকলেও আওয়ামী লীগের যেন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ-বিক্ষোভ যাই থাকুক সবাইকে নৌকার পক্ষে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় এবং আট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে আবেদন জমা পড়ছে। গতকাল পর্যন্ত দেড় শতাধিক ইউনিয়নে মনোনীতদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে তাঁদের পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ৮ অক্টোবর। এর আগে থেকেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলের তৃণমূলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রে অভিযোগ পড়তে শুরু করে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘বলতে পারেন পাইকারি হারে আওয়ামী লীগের দপ্তরে অভিযোগ আসছে। হয়তো এক ইউনিয়নে আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন; যে সাতজন মনোনয়ন পাননি, তাঁরা সবাই পৃথকভাবে দপ্তরে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে বেশির ভাগেরই কোনো ভিত্তি নেই। প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। কেউ কেউ স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া অভিযোগও দিচ্ছেন।’

কেন্দ্রে অভিযোগ জমা দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না তৃণমূল আওয়ামী লীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন অনেকে।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলী আমজাদ তালুকদার এবার দলের মনোনয়ন পাননি। তিনি আবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জানতে চাইলে আলী আমজাদ তালুকদার বলেন, ‘যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাঁর কোনো জনপ্রিয়তা নেই। স্থানীয় জনগণ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে নেই।’

জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জের জলসুখা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমেদ এবং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বাধীন মিয়াও এবার দলের মনোনয়ন পাননি। তাঁরা দুজনেই নির্বাচন করবেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলের ইউনিয়ন শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ মুকুল। এখানে আবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসানকে।

রউফ বলেন, ‘আমরা প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রে আবেদন করেছি। যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁকে জনগণ মেনে নিচ্ছে না। তিনি এর আগে নৌকা নিয়ে নির্বাচিত হয়ে নেতাকর্মীদের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। তাই এবার মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে।’

নেত্রকোনার হালুয়াঘাট উপজেলার গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এবার আর মনোনয়ন পাননি। কিন্তু তিনি নির্বাচন করবেন। একই উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মানিক।

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আজ বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। বিকেল ৩টায় স্থানীয় শালুয়াভিটা হাটে এ কর্মসূচি পালিত হবে। খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ মুকুল প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রে আবেদন করেছেন।

গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলন থেকে নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নে ওসমান গণি ভূঁইয়ার দলীয় মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়। নাটোর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক আছলামুর রহমান এবং ৯ ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে ১১ দফা দাবি জানান। প্রার্থী পরিবর্তন না হলে দল থেকে পদত্যাগেরও ঘোষণা দেন তাঁরা।

জেলার বড়াইগ্রামে চান্দাই ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আনিছুর রহমান। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে তাঁর নেতৃত্বে শনিবার দুপুরে স্থানীয় চান্দাই বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নে মনোনয়ন না পেয়ে গত রবিবার আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ।

জানা গেছে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ও মটমুড়া এবং মুজিবনগর উপজেলার মহাজপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা।

কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা জানান, এরই মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। গতকাল আরো দু-একটি স্থানে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়।

আরও পড়ুন:


জামাইয়ের বঁটির কোপে শ্বশুরের মৃত্যু

নিজের গায়ে আগুন দেওয়া সেই শিক্ষার্থী মারা গেছেন

রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে আজ

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে রোনালদোর হ্যাটট্রিকে বড় জয় পেল পর্তুগাল


জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মনোনয়ন বোর্ডের আরেক সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা হলো—দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দল কঠোর অবস্থানে থাকবে।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

news24bd.tv রিমু 

 

পরবর্তী খবর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ

আন্দোলনের মুখে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া কার্যকরের ঘোষণা দিলেও ঢাকার বাইরে শিক্ষার্থীদের পুরো ভাড়াই দিতে হবে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।

আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।  

খন্দকার এনায়েত বলেন, ভ্রমণকালে বাসে ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। প্রয়োজনে তা প্রদর্শন করতে হবে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসে চলাচলের ক্ষেত্রে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়ার সুবিধা পাবে।সরকারি ছুটিসহ স্কুল-কলেজের মৌসুমি ছুটির সময়গুলোতে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।


আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


তবে শর্তগুলো শুধুমাত্র ঢাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে জানান খন্দকার এনায়েত। সেক্ষেত্রে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে যেসব শিক্ষার্থীরা চলাচল করবে তাদের বাসের সম্পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হাফ ভাড়ার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ঘরে ফেরার অনুরোধ করেন তিনি।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

অনলাইন ডেস্ক

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

ফাইল ছবি

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গণপরিবহনে ‘হাফ ভাড়া’ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাস মালিকরা। এক্ষেত্রে কিছু শর্তও নির্ধারণ করে দিয়েছেন তারা। আগামীকাল (১ ডিসেম্বর) থেকে হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবার (১ ডিসেম্বর) থেকে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস ভাড়া কার্যকর। তবে সকাল ৮ থেকে রাত ৮ পর্যন্ত এই ভাড়া নেবে গণপরিবহন। আর ছুটির দিনে এই হাফ পাস ভাড়া কার্যকর হবে না। শুধু রাজধানীতে এটি কার্যকর থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিআরটিসি বাসে হাফ ভাড়া কার্যকরে দেওয়া শর্তগুলোর মতো বাস মালিক সমিতিও শর্ত আরোপ করছে। আর এই শর্তগুলো প্রায় একইরকম।

তিনি আরও জানান, ভ্রমণকালে বিআরটিসি বাসের মতোই ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসে ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। প্রয়োজনে তা প্রদর্শন করতে হবে। 

এছাড়াও ছুটির দিন হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। হাফ ভাড়া শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ, অন্যান্য জেলার জন্য নয় বলে জানিয়েছেন খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

বিআরটিসি বাসে চলাচলের ক্ষেত্রে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়ার সুবিধা পাবে। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসে এ সুবিধা শুরু হবে সকাল ৮টায়, চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন


চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

হাফ পাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

অনলাইন ডেস্ক

হাফ পাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাসের (অর্ধেক ভাড়া) বিষয়ে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। আজ মঙ্গলবার অর্ধেক ভাড়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন পরিবহন মালিকরা।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১টায় কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সামদানী খন্দকার জানান, এই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগরে বাসে হাফ ভাড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে, শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ পাস বাস্তবায়নে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে দুইবার বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই এসব বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে উল্টো ভর্তুকি দাবি করেছেন বাসমালিকরা।

আরও পড়ুন


বাবা-মায়ের পর পরিবারের তৃতীয় চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

স্কুলছাত্র নিহত: ৯ বাসে আগুনের ঘটনায় যা বলছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

স্কুলছাত্র নিহত: ৯ বাসে আগুনের ঘটনায় যা বলছে পুলিশ

রাজধানীর রামপুরায় মাঈনুদ্দিন নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বাস থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে নিহতের ঘটনায় বাসচালককে আটক করেছে পুলিশ। ঘাতক বাসটিকেও জব্দ করা হয়েছে।

ওই ছাত্র নিহতের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ৯টি বাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তবে কারা আগুন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হতে পারে বলেও মনে করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার হাসান আলী গণমাধ্যমকে জানান, বাস ভাঙচুরের পাশাপাশি ৯টি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসব বাসের আগুন নেভায়।

এদিকে, দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ জানান, আমরা যতদূর জানি উত্তেজিত জনতা এসব আগুন ধরিয়েছে। তবে কোনো সুযোগসন্ধানী কেউ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাসে আগুন দিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। এছাড়া কতগুলো বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে তা পরে জানানো হবে।

ডিসি আরও বলেন, আমরা নিহতের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, তারা ভাঙচুর বা আগুন দেননি। অন্য কেউ এসে এসব করেছে। এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর সড়কটি খুলে দেওয়া হবে।

এর আগে, সোমবার রাত পৌনে এগারোটার দিকে রামপুরা বাজারের সামনে বাসচাপায় মাঈনুদ্দিনের মৃত্যু হয়। নিহত শিক্ষার্থী একরামুন্নেসা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

আরও পড়ুন


কাউন্সিলরসহ জোড়া খুন: দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আটটি বাসে আগুন দিল উত্তেজিত জনতা

অনলাইন ডেস্ক

আটটি বাসে আগুন দিল উত্তেজিত জনতা

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসচাপায় এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেছে উত্তেজিত জনতা। পাশাপাশি উত্তেজিত জনতা বাসে একে একে আটটি বাসে আগুন দিয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাঈনুদ্দিন। সে রামপুরা একরামুনেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। 

সোমবার রাতে রামপুরা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা বাসগুলোতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেন, ১১টার পরপরই রামপুরার আবুল হোটেলের পাশে একটি বাসে আগুন দেয়ার সংবাদ পাই। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দেখেন আরও বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরে ইউনিট সংখ্যা বাড়ানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই ছাত্রের সঙ্গে বাস ভাড়া নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে বাসের হেলপার। পরে তাকে ধাক্কায় দিলে, রাস্তায় পড়ে যায় সে। এরপর চলন্ত বাস, তার মাথার উপর দিয়ে চালিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, বাসচাপায় রামপুরা বাজারের সামনে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ ও বাসে আগুন দিয়েছে। ঘটনাটি আদৌ কীভাবে ঘটেছে পুলিশ তা জানার চেষ্টা করছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর