যে ১০ শ্রেণির মানুষের পরকালে কোনো ভয় নেই

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

যে ১০ শ্রেণির মানুষের পরকালে কোনো ভয় নেই

পরকালে আমার কী হবে—প্রত্যেক মুমিন এই চিন্তায় বিভোর। কিন্তু কোরআনের বর্ণনায় ১০ শ্রেণির মানুষ এমন আছে, পরকালে তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

এই ভয় না থাকার অর্থ হলো, পরকালে হিসাব-নিকাশের পর যখন তাদের যথাযথ মর্যাদায় জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তখন সব ধরনের ভয় ও আশঙ্কা থেকে তারা মুক্ত হয়ে যাবে। কোনো কষ্ট তাদের অস্থির করে তুলবে না। কোনো বেদনা তাদের ব্যথিত করবে না। কেননা জান্নাত চিরসুখের ঠিকানা, চিরস্থায়ী নিবাস। আর এটাও সত্য যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যারা জান্নাতে যাবে, তাদের সবাই অনন্ত সুখ ভোগ করবে।

সেই ১০ শ্রেণির মানুষ হলেন—

এক. সৎপথের অনুসারীদের কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘...যারা আমার সৎপথের নিদর্শন অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৮)

দুই. যারা আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী, পরকালে তাদের কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘...যারা আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে পুরস্কার আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৬২)

তিন. যারা আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই। জীবনের সব ক্ষেত্রে ইসলামের আলোকে জীবন যাপন করে পরকালে তাদের কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয়, তার প্রতিফল তার রবের কাছে আছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১১২)

চার. যারা গোপনে ও নিঃস্বার্থে আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে অতঃপর ব্যয়ের কথা বলে বেড়ায় না এবং কষ্টও দেয় না, তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছে আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬২)

পাঁচ. যারা প্রকাশ্যে-গোপনে এবং রাতে-দিনে দান-সদকা করে তাদের কোনো ভয় নেই। অর্থাৎ দিনে-রাতে, আলো-অন্ধকারে, প্রকাশ্যে-গোপনে মানুষের সেবা করা পরকালে নির্ভয় থাকার অন্যতম মাধ্যম। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা নিজেদের ধন-সম্পদ রাতে-দিনে গোপনে ও প্রকাশে ব্যয় করে তাদের পুণ্যফল তাদের রবের কাছে আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৪)

ছয়. যারা সালাত কায়েম করে এবং জাকাত দেয় পরকালে তাদের কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, তাদের প্রতিফল তাদের রবের কাছে আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৭)

সাত. যারা নিজেকে সংশোধন করে নেয়, পরকালে তাদের কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘...কেউ ঈমান আনলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে তার কোনো ভয় নেই এবং সে দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৪৮)

আট. যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে তাদের কোনো ভয় নেই। মুত্তাকি ও খোদাভীরুর পরকালে কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয় তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩৫)

নয়. আল্লাহর অলিদের কোনো ভয় নেই। ‘সব সময় আল্লাহ আমাকে দেখছেন’—এই ধ্যান ও খেয়াল যাঁর মধ্যে কাজ করে, তিনিই আল্লাহও অলি। এমন ব্যক্তিই আল্লাহর খাঁটি বান্দা। ইরশাদ হয়েছে, ‘জেনে রেখো! আল্লাহর অলিদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৬২)

আরও পড়ুন:


বাংলাদেশে হামলার পরিকল্পনাকারী যুবকের কারাদণ্ড

গোপনে বিয়ে সারলেন স্বস্তিকা!

নিজের গায়ে আগুন দেওয়া সেই শিক্ষার্থী মারা গেছেন

রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে আজ


দশ. নিজের ঈমান ও বিশ্বাসের ওপর অবিচল ব্যক্তির পরকালে কোনো ভয় নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ অতঃপর অবিচল থাকে তাদের কাছে (মৃত্যুর সময়) অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা। এবং তারা বলে, তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না। আর তোমাদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আনন্দিত হও।’ (সুরা হা-মিম সাজদা, আয়াত : ৩০)

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

দারিদ্র দূর করার পরীক্ষিত আমল!

যে দোয়া পাঠ করলে মানুষের অভাব দূর হয়!

অনলাইন ডেস্ক

যে দোয়া পাঠ করলে মানুষের অভাব দূর হয়!

মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তাঁর সুন্দর সুন্দর নামের জিকির বা আমল করার মাধ্যমে এই অভাব দূর করার দোয়া করার কথা বলেছেন। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে আলাদা আলাদাভাবে এ নামের জিকিরের আমল ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের মধ্যে (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’ একটি। যার অর্থ হলো- ‘মুমিনদের মর্যাদা উঁচুকারী।’

সংক্ষেপে এ গুণবাচক নাম (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-
উচ্চারণ : ‘আর-রাফিয়ু’
অর্থ : ‘মুমিনদের মর্যাদা উঁচুকারী।’

ফজিলত
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার এ পবিত্র গুণবাচক নামের জিকির মধ্যরাত বা রাতের দ্বিপ্রহরের পর ১০০ বার পাঠ করে, মহান আল্লাহ তাকে তার সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ও অর্থশালী করেন এবং অন্যের মুক্ষাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত রাখেন।
যে ব্যক্তি অত্যাচারীর জুলুম অত্যাচার থেকে এ পবিত্র গুণবাচক (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’ নামটি প্রতিদিন ১০০বার পাঠ করে।
অন্যত্র এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এ পবিত্র গুণবাচক (اَلرَّافِعُ) ‘আর-রাফিয়ু’ নামের জিকির প্রতিদিন ঘুমানোর সময় ১০০ বার করবে, ঐ ব্যক্তি সকল বিপদাপদ থেকে হিফাজত থাকবে।

যে দোয়া পাঠ করলে মানুষের অভাব দূর হয়-

বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মাকহুল (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো সাতবার বলবে আল্লাহতায়ালা তার সত্তরটি অভাব দূর করবেন। (তন্মধ্যে) সবচেয়ে হাল্কা বিপদ হলো (মানুষের) অভাব। দোয়াটি হলো-
لاَ حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ ، وَلا مَلْجَأَ مِنَ اللهِ إِلاَّ إلَيْهِ
উচ্চারণ : লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ- লা মালজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।
অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে মশগুল হওয়া সম্ভব না। আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তার কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
টাঁকা পয়সার সমস্যা কাটিয়ে উঠার, দারিদ্র্যতা-অভাব দূর হওয়ার পরীক্ষিত আমল!
নিচের আমলটি অভাব দূর হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী ও পরীক্ষিত! অভাব দূর হওয়ার জন্য সূর্য উঠার আগে একটু কষ্ট করলেই ফযরের নামাযের 

আগে বা পরে আপনি নিচের আমলটি করতে পারেন-

একজন সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আরয করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া আমার প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে। (অর্থাৎ আমি চরমভাবে অভাবগ্রস্থ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন: “তোমার কি ঐ তাসবীহ স্মরণ নেই, যে তাসবীহ ফেরেশতা এবং মাখলুকের, যার বরকতে রুজি প্রদান করা হয়। যখন সুবহে সাদিক উদিত (শুরু) হয় তখন এ তাসবীহ ১০০ বার পাঠ কর:
سُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ ، سُبْحَانَ اللّهِالْعَلِيِّ الْعَظِيمُ وَ بِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম, ওয়া বিহামদিহি আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থঃ মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য; মহাপবিত্র আল্লাহ, যিনি সমুচ্চ, মহান; এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। দান সাদকার গুরুত্ব। কোথায় দান করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়?

যদি ১০০ বার পড়, তাহলে দুনিয়া তোমার নিকট অপমানিত হয়ে আসবে। (অর্থাৎ তুমি সহজেই স্বচ্ছলতা লাভ করবে।) ঐ সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু চলে গেলেন। কিছুদিন পর পুনরায় হাজির হয়ে, আরয করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়া আমার নিকট এত বেশি আসছে, আমি হতবাক! কোথায় উঠাব, কোথায় রাখব! (উৎস: আল খাছায়িছুল কুবরা, ২য় খন্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা)আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এ তাসবীহ যথাসম্ভব সুবহে সাদিক (শুরু) হওয়ার সাথে সাথে যেন পাঠ করা হয় নতুবা সকালের আগে, জামাআত যদি আরম্ভ হয়ে যায় তবে জামাআতে শরীক হয়ে পরে সংখ্যা পূর্ণ করুন এবং যেদিন নামাযের পূর্বেও পাঠ করতে না পারেন, তবে সূর্য উদিত হওয়ার আগেও পাঠ করতে পারবেন। (উৎস: মলফুজাতে আ’লা হযরত, ১২৮ পৃষ্ঠা)

 উপরোক্ত তাসবীহ পড়ার সাথে সাথে নিচের আয়াত শরীফও সকাল সন্ধ্যায় তিনবার পড়বেন-
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا
উচ্চারণঃ ওয়া মাই-ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজ আল্লাহু মাখরাজা। ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইসু লা ইয়াহ তাসিব।ওয়া মান ইয়া তা ওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহু ওয়া হাসবুহু ইন্নাল্লাহা বালিগু আমরিহি কাদযায়াল্লাহু লিকুল্লি শাইয়িন কাদরা।
অর্থঃ আর যে আল্লাহ্‌কে ভয় করে, আল্লাহ্‌ তার জন্য মুক্তির পথ বের করে দেবেন; এবং তাকে ওই স্থান থেকে জীবিকা দেবেন, যেখানে তার কল্পনাও থাকে না এবং যে আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে, তবে তিনি তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তার কাজ পরিপূর্ণকারী। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ প্রত্যেক বস্তুর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ রেখেছেন। (উৎস: সূরা-ত্বালাক, আয়াতঃ ১, ২)
নিচের দোয়াটি পবিত্র কাবা শরীফের দরজার উপরের গিলাফের উপর লিখা আছে। একটু খেয়াল করলে গিলাফের উপরে দোয়াটি আপনি বুঝতে পারবেন। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদে, বিশেষ করে মানুষ ইন্তেকাল করলে তার খাটিয়ার উপরেও এ গিলাফটি ব্যবহার করা হয়। ইচ্ছে করলে আপনি তাতেও খেয়াল করে দেখতে পারেন।

এই দোয়ার ফযিলতঃ ইমামে আহলে সুন্নাত, ওস্তাযুল মুহাদ্দেসীন, আল্লামা হাশেমী হুযূর কেবলা বলেছেন, ‘কেউ যদি এই দোয়া নিয়মিত পড়ে, তবে আসমান হতে বৃষ্টির ফোটার মত তার উপর রিযিক বর্ষিত হবে।’

কেউ যদি এই দোয়া প্রতিদিন ১০০ বার পড়ে তবে তা দারিদ্র্যতার বিরুদ্ধে তাকে নিরাপত্তা দিবে, সম্পদ অর্জনের মাধ্যম হবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকে সে মুক্ত থাকবে। (উৎস: তারিখে বাগদাদ, খন্ডঃ ১২, পৃষ্ঠাঃ ৩৫৮, আল হিলিয়া, খন্ডঃ ৮, পৃষ্ঠাঃ ৩০৯)
দোয়াটিঃ لا اله الا الله الملكال حق المبين محمد رسول الله الصادق الوعد الأمين
দোয়াটির উচ্চারণঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল মালিকুল হাক্কুল মুবিন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, আস সাদিকুল ওয়াদিল আমিন।
দোয়াটির অর্থঃ সর্ব শক্তিমান আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের কেউ যোগ্য নয়, শুধুমাত্র তিনিই প্রকৃত মালিক। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, যিনি অঙ্গীকার রক্ষা করেন এবং ‍যিনি বিশ্বস্ত।

সর্বদা ইস্তেগফার (আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করলে ও দরুদ শরীফ পড়লে যাবতীয় সমস্যা সমাধান হয়, অভাব দূর হয়! হাদিস শরীফে রয়েছে,
হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) করবে, (অর্থাৎ সর্বদা আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি.. শেষ পর্যন্ত পড়বে) আল্লাহ তার সকল সংকট থেকে উদ্ধারের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস হতে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (উৎস: আবু দাউদ শরীফ: ১৫২০, ইবনে মাজা শরীফ:৩৮১৯)
হযরত সায়্যিদুনা উবাই বিন কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) আরজ করলেন যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ﷺ আমি (সমস্ত বাড়তি ওয়াজিফা ছেড়ে দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন: “তা তোমার পেরেশানী সমূহ দূর করার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” [উৎস: তিরমিযী,৪র্থ খন্ড,২০৭ পৃষ্ঠা,হাদিস- ২৪৬৫]
দানেও অভাব দূর হয়! বলতে পারেন, “আমি অভাবী, কিভাবে দান করবো?” যতটুকু আছে তা থেকে দান করুন সুখে ও দুঃখে। আল্লাহ পাকের ঘোষণাঃ
ঐসব লোক, যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে সুখে ও দুঃখে এবং ক্রোধ-সংবরণকারীরা, মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শনকারীরা এবং সংব্যক্তিবর্গ আল্লাহর প্রিয়। (উৎস: সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৩৪)
মাতা-পিতা, নিজ পরিবার, আত্নীয়-স্বজন, এতিম ও অসহায়দেরকে দান করার জন্য আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেন:
আল্লাহর প্রেমে আপন প্রিয় সম্পদ দান করবে আত্মীয়-স্বজন, এতিমগণ, মিসকীনগণ, মুসাফির ও সাহায্য প্রার্থীদেরকে আর গর্দানসমূহ মুক্তকরণে…..(উৎস: সূরা বাকারা, ১৭৭ নং আয়াতের অংশ বিশেষ)
সুখে ও দুঃখে মাতা-পিতার জন্য, নিজ পরিবারের জন্য, আত্নীয় স্বজনের জন্য, গরীব ও অসহায়দের জন্য, সর্বোপরি আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করলে আল্লাহ পাকও আমাদের জন্য ব্যয় করবেন। হাদিস শরীফে রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, হে, আদম সন্তান! ব্যয় কর, আমিও তোমার উপর ব্যয় করবো। (উৎস: বুখারী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৪৯৬১)

দানকারীর সম্পদ বৃদ্ধির জন্য ফিরিশতারা প্রতিদিন দো’আ করেন! হাদিস শরীফে রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যহ মানুষের যখন ভোর হয়, তখন দু-জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। অতঃপর তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীরকে আরো বেশি দিন (অর্থাৎ দানকারীর সম্পদ আরো বৃদ্ধি করুন)। অপরজন বলেন, কৃপনের ধন ধ্বংস করুন। (উৎস: মুসলিম শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ২২০৮)

একটা কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে, দো’আ কবূল হওয়ার পূর্বশর্ত হল হালাল উপার্জন। হালাল উপার্জন ছাড়া দো’আ কবূল হওয়ার আশা করা বোকামি। হাদিস শরীফে রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘সে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে বলে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোষাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং তার শরীর গঠিত হয়েছে হারামে। অতএব, তার দু’আ কিভাবে কবুল করা হবে?’ (উৎস: মুসলিম শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ২২১৮)
আল্লাহ পাক আমাদরকে হারাম উপার্জন থেকে রক্ষা করুক। অভাব দূর হওয়া ও রিযিক বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত উপরোক্ত আমলগুলো করার আল্লাহ পাক আমাদের তাওফিক দান করুক।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে সৎকাজ করার প্রবল আগ্রহ দান করুক। আমিন।
রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ ১০ আমল সবাই চায় তার রিজিক বেড়ে যাক, জীবনে প্রাচুর্য আসুক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রিজিক বৃদ্ধির ১০টি আমল বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

১) তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল মেনে চলা
খোদাভীতি ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২-৩)

২)পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা
আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করলে ইহকালেই সুফল পাওয়া যায়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কামনা করে যে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৫; মুসলিম, হাদিস : ৪৬৩৯)

৩)তওবা ও ইস্তিগফার বেশি বেশি পাঠ করা
মুমিনের জীবনে তওবা ও ইস্তিগফারের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার এবং বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া রিজিক বৃদ্ধির কারণ। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৬৭৭)

৪)আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা
দানে ধন বাড়ে—এটা সর্বজনবিদিত। এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য এমন—বলে দাও, ‘নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ৩৯)

৫)একাধিক হজ-ওমরাহ করা
একের পর এক হজ-ওমরাহ পালনে রিজিক বাড়ে। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা একের পর এক হজ ও ওমরাহ করতে থাকো, কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেভাবে কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে দেয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৮১৫)

৬)অসহায়ের প্রতি ভালো আচরণ
বিপদ-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ইবাদত। মোসআব বিন সাদ (রা.) যুদ্ধজয়ের পর মনে মনে কল্পনা করলেন, তিনি বোধ হয় তাঁর বীরত্ব ও শৌর্যবীর্যের কারণে অন্যের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান। এমন প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.) তাকে বলেন, তোমাদের মধ্যে থাকা দুর্বলদের কারণে তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক প্রদান করা হয়। (বুখারি, হাদিস : ২৮৯৬)

৭)ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ করে নেওয়া
আল্লাহর ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ করার মাধ্যমে অভাব দূর হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না করো, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৫৪)

৮)আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা
আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হিজরত তথা স্বদেশ ত্যাগ করলে এর মাধ্যমেও রিজিকে প্রশস্ততা ঘটে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে জমিনে বহু আশ্রয়ের জায়গা ও সচ্ছলতা পাবে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তারপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তাহলে তার প্রতিদান আল্লাহর ওপর অবধারিত হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০০)

৯) সময়মত বিয়ে করা
বিয়ের মাধ্যমে জীবনে বরকত ও প্রাচুর্য নেমে আসে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৩২)

১০) আল্লাহর কাছে দোয়া করা
আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ বান্দার হাত ফিরিয়ে দেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৬০)

পরিশেষে…
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াকিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না।
আমাদের অনেকেই মাগরিবের পরে সুরা ওয়াকিয়াহ পড়েন। কেননা একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াকিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) তার মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার আদেশ করতেন। (বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস নং-২৪৯৮)
তাছাড়া এ সুরা শারীরিক সুস্থতা রক্ষা ও অসুস্থতা দূরীকরণেও উপকারী।

মুসলিম উম্মাহর উচিত আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের জিকির করে দুনিয়ার মুখাপেক্ষিতা, অত্যাচার-জুলুম-নিপীড়ন থেকে মুক্ত থেকে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার প্রস্তুতি নেয়া। আল্লাহ তাআলা সবাইকে নিয়মিত এ গুণবাচক নামের জিকির ও আমল করার তাওফিক দান করুন।

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যে দোয়াটি পড়বেন তা নিচে তুলে ধরা হলো... 

হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার এ দোয়াটি পাঠ করবে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

আরবি উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলীম।

অর্থ : আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (তিরমিজি ও আবু দাউদ)

আরও পড়ুন:


কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান


মহান আল্লাহ তা'আলা সকল মুমিনকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

কিয়ামতের দিন যে মাঠে পৃথিবীর আদি-অন্ত সব মানুষকে সমবেত করা হবে ওই মাঠকে হাশরের মাঠ বা কিয়ামতের ময়দান বলা হয়। পরকালে বিচারের জন্য কবর থেকে উত্থিত হয়ে সব প্রাণী এই মাঠে দণ্ডায়মান থাকবে। পৃথিবীই হবে হাশরের মাঠ। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর উপরিভাগে একটি চাদর আছে, একে পার্শ্ব ধরে টান দেওয়া হবে। ফলে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত সাগরে পতিত হবে। অতঃপর সমতল হয়ে যাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি (আল্লাহ) জমিনের উপরিভাগকে (বিচার দিবসে) উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ৮)

হাশরের ময়দানে মানুষ একটি নতুন পৃথিবী দেখতে পাবে, যার চিত্র ও দৃশ্য এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে দিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশও (পরিবর্তিত হবে) আর মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে—যিনি এক, পরাক্রমশালী।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪৮)

আকাশ ও পৃথিবী পাল্টে দেওয়ার এমন অর্থও হতে পারে যে এগুলোর আকার ও আকৃতি পাল্টে দেওয়া হবে। সে সময় গোটা ভূ-পৃষ্ঠ একটি সমতল ভূমিতে পরিণত করে দেওয়া হবে। এতে কোনো গৃহের ও বৃক্ষের আড়াল থাকবে না। পাহাড়, টিলা, গর্ত ও গভীরতা কিছুই থাকবে না। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতল ভূমি করে ছাড়বেন। তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১০৬ ও ১০৭)

কিয়ামতের দিন জমিনের সব স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হয়ে যাবে। সাহল ইবনে সাদ সাঈদ (রা.) থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন মানুষকে সাদা ধবধবে রুটির মতো জমিনের ওপর একত্র করা হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সেখানে কারো কোনো পরিচয়ের পতাকা থাকবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫২১)

আরও পড়ুন:


পীরগঞ্জের ঘটনায় রিমান্ড শেষে ৩৭ জন জেলহাজতে

সাকিব-নাসুমের পর সাইফুদ্দিনের আঘাত


হাশরের মাঠে একজন দর্শক সবাইকে দেখতে পাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে এক খাবারের দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সামনে (রান্না করা) ছাগলের বাহু আনা হলো, এটা তাঁর খুব পছন্দনীয় ছিল। তিনি সেখান থেকে এক খণ্ড খেলেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন মানবজাতির সরদার হব। তোমরা কি জানো? আল্লাহ কিভাবে (কিয়ামতের দিন) একই সমতলে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব মানুষকে একত্র করবেন? যেন একজন দর্শক তাদের সবাইকে দেখতে পায় এবং একজন আহ্বানকারীর আহ্বান সবার নিকট পৌঁছায়। সূর্য তাদের অতি কাছে এসে যাবে। তখন কোনো কোনো মানুষ বলবে, তোমরা কি লক্ষ করোনি, তোমরা কি অবস্থায় আছ এবং কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছ...। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৪০)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

সূরা আল-মূলক পাঠের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা আল-মূলক পাঠের ফজিলত

সূরা আল-মূলক কুরআনুল কারিমের ৬৭তম সূরা। এটি পবিত্র নগরী মক্কায় অবর্তীণ। এর আয়াত সংখ্যা ৩০। রুকু আছে ২টি। সূরা আল-মূলকের গুরুত্ব ও ফজিলত পরিসীম। এই সূরাটি যারা তেলাওয়াত করবে তাদের ক্ষমা না করা পর্যন্ত সুপারিশ করত থাকবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতদের মুক্তির পথ দেখাতে কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন সূরা ও আয়াত সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করেছেন। যাতে করে গোনাহ থেকে মুক্তি পায় মানুষ।

হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে - হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তুমি নিজে সূরা মূলক পড় এবং পরিবারের সবাইকে ও প্রতিবেশীকে উহা শিক্ষা দাও। কারণ উহা মুক্তিদানকারী ও ঝগড়াকারী। কেয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে ঝগড়া করে উহার পাঠকারীকে সে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবে এবং কবরের আজাব থেকে বাঁচিয়ে রাখবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার একান্ত কামনা যে, এই সূরাটি আমার প্রত্যেক উম্মতের অন্তরে গেঁথে থাকুক।’ (ইবনে কাসির)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরআন মাজিদে ৩০ (ত্রিশ) আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার আগ পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। আর সূরাটি হলো تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ অর্থাৎ সূরা মূলক।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

আর একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমার মন চায় প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে যেন সূরা মূলক মুখস্ত থাকে।’ (বাইহাকি)

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ার কারাগারে হামলা

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ‘তোমরা সূরা মূলক শিখে নাও এবং নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদের শেখাও। এটা কবরের আজাব হতে রক্ষা করবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে এই সূরা পাঠকারীর পক্ষে কথা বলে তাকে মুক্ত করবে।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা মূলক তেলাওয়াতের আমল করবে সে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে।’ (তিরমিজি, মুসতাদরাকে হাকেম)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ১৪৩-১৪৭, পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১৪৩-১৪৭, পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১৪৩ থেকে ১৪৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১৩৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন - 

وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ (143)

‘‘এভাবেই তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পার এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পারে। (হে রাসূল!) আপনি এ যাবত যে কেবলা অনুসরণ করেছিলেন, তাকে এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম-যাতে জানতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে এবং কে ফিরে যায়। আল্লাহ যাদের সৎ পথে পরিচালিত করেছেন তারা ব্যতীত অপরের নিকট তা নিশ্চয় কঠিন। আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের বিশ্বাসকে ব্যর্থ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি স্নেহশীল দয়াময়।’’ (২:১৪৩)

গত পর্বে কেবলা পরিবর্তন সম্পর্কে ইহুদীদের আপত্তিগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ এ সব আপত্তির জবাবে বলেছেন, পূর্ব পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন। আল্লাহর নির্দেশিত সরল পথে চলার মধ্যেই রয়েছে মুক্তি বা সুপথ। এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই যে, আল্লাহ পূর্বে অথবা পশ্চিমে বিরাজ করছেন এবং শুধু সেদিকেই মুখ ফেরাতে হবে। এই আয়াতে মুসলিম জাতিকে সব ধরনের চরমপন্থা থেকে মুক্ত মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম জাতি জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে বস্তুগত, অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, বিশ্বাসগত প্রভৃতি সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্যের সীমানার মধ্যে রয়েছে। এ আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য উপযোগী। এটা স্পষ্ট যে, সমস্ত মুসলমান এরকম নয় এবং মুসলমানদের অনেকেই চিন্তা অথবা কাজে চরমপন্থা অবলম্বন করে থাকতে পারে। তাহলে এ আয়াতের মূল উদ্দেশ্য কি?

এই আয়াতের মূল উদ্দেশ্য এটা বোঝানো যে, ইসলামী বিধান বা ধর্ম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী ধর্ম। কেউ যদি ইসলামের সমস্ত বিধান মেনে চলে, তাহলে একমাত্র সেই এমন অবস্থানে উপনীত হবে যে আল্লাহ তাকে মানুষের জন্য তার নিজের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করবেন। যেমনটি রাসূল (সা.)-এর আহলে বাইতগণ ঐশী নির্দেশনাবলীর প্রথম বাস্তবায়নকারী ও বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং সত্যিকারের মুসলিম জাতির পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী বা আদর্শ ছিলেন। তারা বলেছেন, মধ্যপন্থী জাতি বলে আল্লাহ যাদেরকে মানুষের ওপর তার নিজের সাক্ষী বলে ঘোষণা করেছেন, আমরাই হলাম সেই জাতি।

এই আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আল্লাহর অন্যান্য নির্দেশের মতই একটি নির্দেশ ও পরীক্ষা-যাতে এটা জানা যায় যে কারা আল্লাহর অনুগত এবং কারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আর এ জন্যেই যারা আল্লাহর পথ নির্দেশনা বা হেদায়াত থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য এ নির্দেশ পালন করা কঠিন এবং তারাই এ ক্ষেত্রে আপত্তি ও প্রশ্ন তুলছে।

এরপর ১৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ (144)

‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের (কাবা শরীফের) দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, (এ ধর্মগ্রন্থ) তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহর অজানা নেই।’’ (২:১৪৪)

ইহুদীরা যখন মুসলমানদের এই বলে বিদ্রুপ করছিল যে, তাদের কোন স্বতন্ত্র কেবলা নেই, তখন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ জোহরের নামাজের সময় আল্লাহর রাসূলের ওপর এ নির্দেশ অবতীর্ণ হয় এবং রাসূল (সা.) বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে মুখ ফিরিয়ে মক্কার দিকে মুখ করায় তার পেছনে জামাতে সমবেত মুসলমানরাও কাবামুখী হয়। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো- পূর্ববর্তী ঐশী গ্রন্থে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামের নবী দুই কেবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়বেন এবং ইসলামের নবীর অন্যতম এক নিদর্শন হবে এই ঘটনা। তাই এই আয়াতে আহলে কিতাবদের হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে- তোমরাই যখন জান যে, এই নির্দেশ সত্য তবুও কেন প্রতিবাদ করছ?

এরপর ১৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آَيَةٍ مَا تَبِعُوا قِبْلَتَكَ وَمَا أَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ (145)

‘‘হে নবী জেনে রাখুন যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আপনি যদি তাদের কাছে সমস্ত দলীল পেশ করেন তবুও তারা আপনার কেবলার অনুসারী হবে না এবং আপনিও তাদের কেবলার অনুসারী নন এবং যেমনটি তাদের কেউ কেউ অন্য কারো কেবলার অনুসারী হবে না। আপনার কাছে জ্ঞান আসার পরও আপনি যদি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি হবেন অত্যাচারীদের অন্তর্ভূক্ত।’’ (২:১৪৫)

এই আয়াতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হচ্ছে-যদি আহলে কিতাব আপনার কেবলাকে গ্রহণ না করে, তবে আপনি দুঃখিত হবেন না। কারণ হিংসা তাদেরকে সত্য গ্রহণের সুযোগ দেবে না। তাই আপনি যত যুক্তিই দেখান না কেন, তারা কিছুতেই যুক্তি গ্রহণ করবে না। কিন্তু তারা গ্রহণ না করলেও আপনি যেন আপনার কেবলা সম্পর্কে নীরব না হন বরং দৃঢ়তার সাথে এটা ঘোষণা করবেন যে, আমরা এসব হৈ-চৈ বা আপত্তিতে নত হব না এবং আমাদের অবস্থান থেকে মোটেই পিছু হটব না। ইসলাম ধর্মে সবার জন্য একই বিধান থাকায় আল্লাহ তার নবীকেও হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, আপনি নিজেও যদি তাদের প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে নিজের সঠিক কেবলার অনুসরণ না করেন তাহলে আপনি নিজের উম্মতের ওপর বড় ধরনের জুলুম করার দায়ে দোষী হবেন।

আরও পড়ুন


বেপরোয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাম্পে

দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ এরদোয়ানের

নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ঢুকে হাফেজ-ইমামসহ ৪ জনকে হত্যা : গ্রেফতার ৮


এরপর ১৪৬ ও ১৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

الَّذِينَ آَتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ (146) الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ (147)

‘‘আমি যাদেরকে গ্রন্থ দিয়েছি, তারা তাকে সেরূপ জানে, যেরূপ জানে আপন সন্তানগণকে এবং তাদের একদল জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।’’ (২: ১৪৬)

‘‘সত্য তোমার প্রতিপালকের, সুতরাং তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।’’ (২: ১৪৭)

তাওরাত ও ইঞ্জিল গ্রন্থে শেষ নবীর বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। আর তাই আহলে কিতাবগণ নবী (সাঃ) কে চিনত কিন্তু বিদ্বেষ ও একগুঁয়েমীর কারণে তারা এই সত্যকে অন্যদের কাছে গোপন রাখত বা সত্যকে বিকৃত করত। অবশ্য আহলে কিতাব রাসূল (সা.) এর বৈশিষ্ট্য দেখে তার প্রতি ঈমান এনেছিল। এইসব শারীরিক ও আত্মিক বৈশিষ্ট্য পূর্ববর্তী গ্রন্থে এমনভাবে উল্লেখিত হয়েছিল যে, কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তারা নবী (সা.)কে নিজের সন্তানের মতই চিনত। শেষের এই আয়াতে যে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেয়া হয়েছে তা হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নাজেল হয়েছে একমাত্র তাই সত্য। মানুষের বিরোধিতা এমনকি অধিকাংশ মানুষও যদি বিরোধিতা করে তাহলেও ঐশী নির্দেশের সত্যতার ব্যাপারে বিন্দুমাত্রও সন্দিহান হওয়া উচিত নয়।

এবারে সূরা বাকারার ১৪৩ থেকে ১৪৭ নম্বর আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক -

১. কেবলায় একদিকে যেমন রয়েছে স্বাধীনতার রহস্য, তেমনি এটি আত্মসমর্পনেরও নিদর্শন। স্বাধীনতা বলতে কর্তৃত্বকামী সকল ধর্ম ও জাতি থেকে মুসলমানরা আলাদা বা স্বতন্ত্র। আত্মসমর্পন বলতে বোঝায়, আল্লাহ যে নির্দেশই দেন না কেন নির্দ্বিধায় কোন প্রশ্ন ছাড়াই তা মেনে নেয়া।

২. ইসলাম হলো ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী ধর্ম। যদি মুসলমানরা আল্লাহর নির্দেশিত সঠিক পথে চলে তাহলে তারা অন্যান্য জাতির জন্য আদর্শ ও তাদের জন্য সাক্ষী হতে পারে।

৩. গোঁয়ার্তুমী ও বিদ্বেষ সব ধরনের যুক্তি, বিদ্বেষ ও সত্য অনুসন্ধানের বিরোধী। আর তাই ধর্ম এই দাম্ভিক মনোভাবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। 

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর