করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৫০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক

করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৫০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

করোনার এই সময়ে সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ৫০ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আছেন ছয়জন শিক্ষার্থী। একই সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

বেসরকারি সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন গত ৪ জুন পর্যন্ত করোনার ১৫ মাসে আত্মহত্যার যে হিসাব দিয়েছে, তাতে ৪২ জন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। কালের কণ্ঠ ৪ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত আত্মহত্যার খবর পর্যালোচনা করেছে। তাতে আরো আটজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহননের তথ্য পাওয়া গেছে।

আঁচলের হিসাবে গত ৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ১৫১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ৭৩ জন স্কুল শিক্ষার্থী, ২৭ জন কলেজ শিক্ষার্থী ও ২৯ জন মাদরাসার শিক্ষার্থী রয়েছেন। গত বছর ১৮ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এই তথ্যের সূত্র বলে আঁচল জানিয়েছে।

ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নানা রকম ব্যক্তিগত হতাশা, পারিবারিক চাপ, সম্পর্কে টানাপড়েন, মাদকাসক্তির কারণে মানসিক সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলালউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূল জায়গাটা হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। মানুষ চলে তার মানসিক শক্তি দিয়ে। আত্মহত্যার মতো ঘটনার রাস টানতে হলে মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা জরুরি। তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যখন ভবিষ্যৎ, চাকরি, পরিবারসহ বিভিন্ন  বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন তাঁর মনে নানা চিন্তা আসতে পারে। এঁদের মধ্যে কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন।’

গত বছরের ১৭ আগস্ট বরিশালের উজিরপুরে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইমাম হোসাইন। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমসংক্রান্ত জটিলতায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা যায়। আত্মহননের আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ আল মাহদী অপু আত্মহত্যা করেন। রাজধানীর চানখাঁরপুলের একটি মেস থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নাড়া দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

তীব্র বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ থেকে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শুভজ্যোতি মণ্ডল। গত বছরের ১৪ অক্টোবর বিকেলে আদাবর মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির ৪ নম্বর রোডের ১৪১ নম্বর বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী। শুভজ্যোতির পরিবার বলেছে, বিষণ্নতার জন্য তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

বেসরকারি সংগঠন আঁচলের জরিপ বলছে, সার্বিকভাবে আত্মহননের প্রবণতা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের প্রায় অর্ধেকেরই বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর।

চলতি বছর মে মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ডাব বিক্রেতার ভ্যান থেকে দা নিয়ে নিজের গলা কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা বহুল আলোচিত। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞান ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র হাফিজুর রহমান একজন মূকাভিনেতা ছিলেন। এ ঘটনা তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, মাদক গ্রহণের পর তিনি ওই ঘটনা ঘটান।

চলতি বছর প্রকাশিত আঁচলের প্রতিবেদনে বলা হয়, পারিবারিক জটিলতা, সম্পর্কের অবনতি, পড়াশোনা নিয়ে হতাশা, আর্থিক সংকট এসবই আত্মহত্যার মূল কারণ। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তিকে একা না রাখা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর নিয়োগ করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে তারা। সংগঠনটি বলছে, আত্মহত্যা করা ব্যক্তিদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের ভয়াবহ প্রবণতা কমে আসে।

আরও পড়ুন:


স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

মাথার টুপিতে ৭৩৫টি ডিম নিয়ে গিনেস রেকর্ড! (ভিডিও)

দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু আজ

তিন সন্তানের মাকে গলা কেটে হত্যা!


আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করা হেল্পলাইন ‘কান পেতে রই’ জানায়, ২০১৫ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত সাত বছরে আত্মহত্যাপ্রবণতার কথা জানিয়ে ১৭ হাজার ৪৪৮ জন শিক্ষার্থী ফোন করেছেন। চলতি বছরের সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, আগস্টে ৩১৪ জন আর সেপ্টেম্বরে ৩৮১ জন ফোন করে আত্মহত্যাপ্রবণতার কথা জানান।

করোনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কিছু সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু ঘটনা ঘটার আগে এ বিষয়গুলো জানা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ আত্মহত্যার ঝোঁক থাকলে তার লক্ষণ দেখা দেয়। সেটা কাছের মানুষই জানতে পারেন আগে। তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিবারের সঙ্গে মিলে সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখা যায়।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

 

পরবর্তী খবর

বিয়ের কথা জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

বিয়ের কথা জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

বিয়ে গোপন করে রোজিনা আক্তার জোনাকিকে (২০) বিয়ে করেন সুজন মিয়া। বিষয়টি জোনাকিকে জানার পর তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। গত দুই মাস আগে জোনাকি তার মা’কে নিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া নেন। একই বাড়িতে পাশাপাশি রুমে জোনাকির দুই বোনের পরিবারও ভাড়া থাকে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় সুজন জোনাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এ সময় তিনি জোনাকিকে বাড়ির পাঁচ তলার ছাদে ডেকে নেন। সেখানে তার গলায় ছুরিকাঘাত করে স্বামী সুজন পালিয়ে যান।প্রায় তিন বছর আগে রাজমিস্ত্রি সুজন মিয়ার সঙ্গে জোনাকির বিবাহ হয়।

শুক্রবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার কুনিয়া পাচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রোজিনা আক্তার জোনাকি স্থানীয় তারগাছ এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন। নিহত গৃহবধূ গাজীপুর মহানগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলালের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

আরও পড়ুন


রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদেশে যেতে হবে খালেদাকে: হানিফ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

সিলেট থেকে বিদেশে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


 

জানা গেছে, রোজিনা আক্তার জোনাকি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার সুরিগাঁও গ্রামের রাকিব আলীর মেয়ে। 

বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে জোনাকিকে উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গাছা থানার ওসি মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, নিহত গৃহবধূ জোনাকির স্বামী সুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

নৌকার হয়ে কাজ না করার অভিযোগে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

নৌকার হয়ে কাজ না করার অভিযোগে গুলি করে হত্যা

নির্বাচনী প্রচারণায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে  তোতা শেখ (৪০) গুলিবিদ্ধ হন। এসময় আহত হন আরো চারজন।স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে তোতা শেখ সেখানে মারা যান। এতে আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) রাতে  টাঙ্গাইলের নাগরপুরের দপ্তিয়র ইউনিয়নের পাইকাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানায়, আগামী ২৮ নভেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের পাইকাল গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর হামলায়   তোতা শেখ মারা যান। 

নিহতের ভাই রফিক শেখ বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছিলাম। হঠাৎ আমাদের ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দীন আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কাজ না করার অভিযোগ আনেন। 

এ বিষয় নিয়ে শুক্রবার বিকেলে আমাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় সাইফুদ্দীন, সুমন, খাজা ও জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্যরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় আমার পায়ে গুলি লাগে। পাইকাল গ্রামের বাচ্চু মন্ডল, সুমন, কবীর ও আমার ভাই তোতা শেখ গুরুতর আহত হয়। পরে লোকজন আমাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমার ভাই তোতা শেখ মারা যান।'

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

‌‘মা আমাকে মাফ করে দিস’ লিখে আত্মহত্যা কলেজছাত্রের!

অনলাইন ডেস্ক

‌‘মা আমাকে মাফ করে দিস’ লিখে আত্মহত্যা কলেজছাত্রের!

আমার মৃত্যুর জন্য এরা দায়ী চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন  মারুফ হোসেন আকাশ (২২) নামে এক কলেজছাত্র। মারুফ রাজশাহীর কাটাখালী থানার কুখণ্ডি এলাকার আবু তালুকদারের ছেলে।তিনি জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলেজের অনার্স সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।  

আত্মহত্যার আগে লেখা ওই চিরকুটে তিনি রবিন, হৃদয়, সজল ও জুয়েল নামে চারজনের নাম লিখে গেছেন। মারুফ ওই চিরকুটে আরও লিখে গেছেন, ‘মা আমাকে মাফ করে দিস। মুন্নি আমি তোকে অনেক ভালবাসি। ভালো থাকিস তুই সুখে থাকিস। ’

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে ঘরের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশের ধারণা বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) রাতে বা শুক্রবার ভোরের দিকে কোনো এক সময় এ আত্মহননের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার ঘরে যায় এবং দরজার ফাঁক দিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে আসে।

রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ চিরকুট পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।

ওসি বলেন, পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে চার যুবক মারুফের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে তাদের কাছে ওই মোবাইল ফেরত চাইতে গেলে না দিয়ে উল্টো তাকে ধরে পেটায় ওরা। বাইরে থেকে বিমর্ষ অবস্থায় বাড়ি ফিরে মারুফ তার ঘরে ঢুকে যান। এরপর কোনো এক সময় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

শুক্রবার সকালে অনেকক্ষণ তারা কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বেলা ১১টার দিকে মারুফকে ডাকতে যান। এ সময় দরজার ফাঁক দিয়ে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই বাড়িতে মারুফের বাবা-মা ও এক ভাইও বসবাস করেন।

আরও পড়ুন


রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদেশে যেতে হবে খালেদাকে: হানিফ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

সিলেট থেকে বিদেশে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


সিদ্দিকুর রহমান জানান, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। আপাতত এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে অন্য কোনো কিছু বেরিয়ে এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

যুবতীর লাগেজে কাপড়ের পরিবর্তে গাঁজা

অনলাইন ডেস্ক

যুবতীর  লাগেজে কাপড়ের পরিবর্তে গাঁজা

চট্টগ্রামমুখী একটি বাস থেকে মারজান আক্তার (২৯) নামে এক যুবতীকে ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নগরের আকবরশাহ থানার সিটি গেট চেকপোস্ট থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মারজান আক্তার খুলশী থানার পাহাড়িকা আবাসিকের ইমরান হোসেনের স্ত্রী।  

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির হোসেন বলেন, পলাতক একাধিক মামলার আসামি মো. মানিকসহ দম্পতি সেজে ট্রলিব্যাগে গাঁজা চৌদ্দগ্রাম থেকে আনে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিটি গেট এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট চলাকালে চট্টগ্রামমুখী সৌদিয়া বাস (ঢাকামেট্রো ব ১৪-৭৩৩৭) এর যাত্রী মারজান আক্তারকে ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। 

আরও পড়ুন: 


ফখরুল বললেন, আন্দোলন-আন্দোলন-আন্দোলন

ধর্ষণ মামলায় জামিন: ক্ষমা চাইলেন বিচারক


 

পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য ট্রলি ব্যাগের লাগেজে ভর্তি করে গাঁজা আনেন। এ  বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাত

মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাত

হাসপাতালের বেডে ধর্ষিতা।

সাতক্ষীরায় পঞ্চাশোর্ধ এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাত করে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বামী পরিত্যক্তা নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামী পরিত্যক্তা ওই গৃহবধূ জানান, কেউ না থাকার সুযোগে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তিন দুর্বৃত্ত তার বাড়িতে ঢোকে। এ সময় গলায় ছুরি ও মুখে কম্বল চেপে ধরে এবং পিঠমোড়া দিয়ে হাত বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে।

অপর দুজন এ সময় বাহিরে পাহারা দিতে থাকে। এ সময় তিনি ধস্তাধস্তির চেষ্টা করলে তার দুই হাতে ও গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আহত গৃহবধূ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

ধর্ষিতার মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, আমার মায়ের সাথে যে অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে তা অবর্ণনীয়। দুর্বৃত্তরা এ সময় তার মায়ের কানের দুল ও পায়ের নুপুর ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজিবুর রহমান টুটুল জানান, অমানবিক কাজের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানা।

আরও পড়ুন: 


আবারও প্রাণ কারল সিটি করপোরেশনের গাড়ি


 

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ ফয়সাল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ওই গৃহবধূ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিসার পাশাপাশি মনসিকভাবে
সার্পোটও দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাবুল আক্তার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে রয়েছে।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর