জালিয়াতি থেকে রক্ষা পেল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩৫৫ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

জালিয়াতি থেকে রক্ষা পেল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩৫৫ কোটি টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সতর্কতায় এই জালিয়াতির ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩৫৫ কোটি টাকা রক্ষা পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার পিএডি (এলসি) সেকশনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সই জাল করার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. আবদুল্লাহ মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি।  এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাধ্যমে অভিযুক্তকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের একটি এলসির পেমেন্টের অনুরোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএডি সেকশনে ভাউচার জমা দেন আবদুল্লাহ মণ্ডল। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের (অতিরিক্ত সচিব) সইয়ে এই ভাউচার জমা দেওয়া হয়। ভাউচারের সইয়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের প্রকৃত সইয়ের মিল খুঁজে না পাওয়ায় ওই ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করেন।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটার বিপরীতে যেসব এলসি হয়, এর বেশির ভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে করা হয়। এসব এলসির পেমেন্ট করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পিএডি (এলসি) সেকশনের মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় সেই পিএডি (এলসি) শাখা।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানের গত ২৮ সেপ্টেম্বর সই করা ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ ডলারের একটি এলসির বাকি ৩০ শতাংশ বাবদ চার লাখ ১৭ হাজার ৮৮১ ডলার বা ৩৫৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার অনুমতির জন্য অনুরোধ করা হয়। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে আবদুল্লাহ মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পিএডি (এলসি) সেকশনে এই বিলের ভাউচার জমা দেন। ওই সেকশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এই পেমেন্টের অনুরোধ নিষ্পত্তির সময় দেখতে পান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের আগের সইয়ের সঙ্গে এই সইয়ের মিল নেই। এতে তাঁর সন্দেহ হলে বিষয়টি মতিঝিল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খানকে জানানো হয়। বিল নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ায় আবদুল্লাহ মণ্ডল সেকশনের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় ও গভর্নরের কাছের লোক বলেও দম্ভোক্তি করেন।

পরে ওই ব্যক্তিকে কৌশলে মতিঝিল শাখার ইডির রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক লে. কর্নেল শামীমুর রহমানকে ডেকে এনে অভিযুক্তকে তাঁর জিম্মায় রাখা হয়। এর আগে ঘটনা শুনেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মতিঝিল থানা ও র‌্যাব-৩-কে জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই মতিঝিল থানা ও র‌্যাব-৩-এর কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে হাজির হন। পরে ইডির রুমে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সই জাল করার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। এরপর অভিযুক্তকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-৩-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল শাখার ইডি মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত ছিলাম সইটি পরিচালকের নয়, এটা জাল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএডি সেকশনের কাজই হলো সরকারের পক্ষে পেমেন্ট করা। স্বাস্থ্য খাতের এই পেমেন্ট হলে সরকারি হিসাব ডেবিট করে দেওয়া হতো। আমাদের কর্মকর্তাদের সতর্কতার কারণে এই জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।’

আরও পড়ুন:


স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

মাথার টুপিতে ৭৩৫টি ডিম নিয়ে গিনেস রেকর্ড! (ভিডিও)

দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু আজ

তিন সন্তানের মাকে গলা কেটে হত্যা!


যোগাযোগ করা হলে র‌্যাব-৩-এর তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর ইমাদউদ্দিন লস্কর বলেন, ‘আবদুল্লাহ মণ্ডলকে আমাদের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি, ঔষধ প্রশাসন থেকে ওই বিলের চিঠি ঠিকই ইস্যু হয়েছে। কিন্তু আবদুল্লাহ দাবি করছেন, কাগজটি তারা হারিয়ে ফেলেছে। পরবর্তী সময়ে তিনি টেম্পারিং করে কাগজ তৈরি করে গত ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সন্দেহ হলে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন। আজ শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা।’ 

এ ব্যাপারে মতিঝিল থানার ওসি মো. ইয়াছির আরাফাত গতকাল রাতে বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমাদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েছিলেন। তবে অভিযুক্তকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ সূত্র: কালের কণ্ঠ 

news24bd.tv রিমু   

 

পরবর্তী খবর

ডিগ্রি না থাকলেও বাংলাদেশের কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

ডিগ্রি না থাকলেও বাংলাদেশের কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও বাংলাদেশের কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ। তারা খুব দ্রুততার সঙ্গে কাজ শিখে নিতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আজ বৃহস্পতিবার (০২ ডিসেম্বর) তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন


এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ

প্রকাশ্যে কাউন্সিলর হত্যা: এবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নিহত


ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অবাধ সুযোগ রয়েছে। এখানে পয়সা বানানোর সুযোগও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও বাংলাদেশের কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ। তারা খুব দ্রুততার সঙ্গে কাজ শিখে নিতে পারেন। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা এখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট

অনলাইন ডেস্ক

পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রতীকী ছবি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্রের অন্তর্ভুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করা হয়।

আইনজীবী উত্তম লাহেড়ির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী ও এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম এ রিট দায়ের করেন।

আরও পড়ুন


এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ

প্রকাশ্যে কাউন্সিলর হত্যা: এবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নিহত


রিটে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও আইজিপিসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র যারা অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

‘মাছির কামড়ে’ দুই বাঘ শাবকের মৃত্যু দাবি কর্তৃপক্ষের

অনলাইন ডেস্ক

‘মাছির কামড়ে’ দুই বাঘ শাবকের মৃত্যু দাবি কর্তৃপক্ষের

মায়ের সঙ্গে দুর্জয় এবং অবন্তিকা

করোনার বন্ধের মধ্যে গত ২৬ মে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় বেঙ্গল টাইগার দম্পতি টগর আর বেলির ঘরে জন্ম হয় দুই বাঘ শাবকের। তাদের নাম রাখা হয় ছেলে শাবক দুর্জয় আর মেয়ে শাবক অবন্তিকা। জন্মের প্রায় ছয় মাস পর মারা গেছে দুর্জয় ও অবন্তিকা।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, মাছির কামড়ে দুই বাঘ শাবকের মৃত্যু হয়েছে! বিষয়টি শুনে অনেককে অবাকও হতে পারেন। তবে এটাই ঘটেছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়।

বাঘ শাবক দুর্জয় ও অবন্তিকার মৃত্যু হয় গত ২১ নভেম্বর। কিন্তু তখন তাদের মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেনি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার রাতে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে জানান, ১৫ নভেম্বর বাঘের দুই শাবকের অসুস্থতা ধরা পড়ে। তারা পেছনের পা খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। এ অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করে চিড়িয়াখানা মেডিকেল বোর্ড। রক্ত পরীক্ষায় তাদের মাছিবাহিত রক্তের পরজীবী ধরা পড়ে। সে অনুযায়ী চিকিৎসাও চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঘ শাবক দুটিকে বাঁচানো যায়নি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, সেটসি ফ্লাই (Tsetse Fly) নামে এক ধরনের মাছির কামড়ে ট্রাইপেনোসোমা রোগে এদের মৃত্যু হয়। তবে এর খবর বা কোনো ছবি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

গবেষকরা বলছেন, অদক্ষ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা ও অযত্ন-অবহেলাই এই মৃত্যুর কারণ। এভাবে চললে চিড়িয়াখানায় কোনো বাঘ শাবকই বাঁচানো যাবে না।

অভিযোগ উঠেছে, বাঘ শাবক দুটিকে হাসপাতালে না নিয়ে চিড়িয়খানার খাঁচায় রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে অসুস্থের ১০ দিনের মধ্যেই মারা যায় তারা। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন


এবার আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

পাহাড়ে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ২৪ বছর, আজও অস্থিরতা

অনলাইন ডেস্ক

পাহাড়ে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ২৪ বছর, আজও অস্থিরতা

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাহাড়িদের একটি সংগঠন জনসংহতি সমিতির (শান্তিবাহিনী) সঙ্গে চুক্তি করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাময়িক অবসান হয়।

কিন্তু এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ২৪ বছর পার হলেও সেখানে শান্তি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা হয়নি। সংঘাত, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধ, অস্থিরতা থামেনি। এই পরিস্থিতিতেই আজ বৃহস্পতিবার তিন পার্বত্য জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হচ্ছে পার্বত্য শান্তিচুক্তির দুই যুগ পূর্তি। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন সংগঠন এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছে পার্বত্য তিন জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। খবর কালের কণ্ঠের।

চুক্তি স্বাক্ষরকারী পাহাড়িদের সংগঠনগুলোর অভিযোগ, চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন গোষ্ঠী নানা উদ্দেশ্য নিয়ে সক্রিয় থাকার সুযোগ পাচ্ছে এবং সে কারণে অস্থিরতা বাড়ছে। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষজন বলছে, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য আঞ্চলিক দল ও গোষ্ঠীগুলো বিভক্ত হয়ে পড়ায় সংঘাত, হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়ছে।

আরও পড়ুন


এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ

প্রকাশ্যে কাউন্সিলর হত্যা: এবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নিহত


জানা যায়, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে সরকার ৪৮টি ধারা পুরোপুরি বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন করেছে। বাকি ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়ন এবং ৯টি ধারা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী জনসংহতি সমিতির জন্য পালনযোগ্য চুক্তির প্রধান শর্ত ‘সব অস্ত্র জমা দেওয়া’ এখনো কার্যকর করেনি সংগঠনটি। চুক্তির বিরোধিতাকারীরাও তাদের সশস্ত্র অবস্থান বহাল রেখেছে।  

স্থানীয় গণ্যমাধ্যমকর্মী আবু দাউদকে পাহাড়ি নেতা সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার, স্থানীয় পুলিশ বাহিনী গঠনসহ অনেক বিষয়ের সমস্যা রয়ে গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বিভূ রঞ্জন চাকমা জানান, দীর্ঘ সময়েও চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারাই বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তির মৌলিক ধারাগুলোর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বিধিমালা চূড়ান্তকরণ, অভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তু ও ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের পুনর্বাসন করা হয়নি।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, জনসংহতি সমিতির নেতারা চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর শর্ত মানছেন না। তাঁরা এখনো সব অস্ত্র জমা দেননি। উল্টো সশস্ত্র সংগঠনের সংখ্যা বেড়েছে। সংগঠনগুলো আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতে লিপ্ত। তিনি বলেন, চুক্তির ফলে পাহাড়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। পার্বত্য মন্ত্রণালয় সৃষ্টি, আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদে গতিশীলতা, ভূমি কমিশন গঠন—সবই চুক্তির ফসল।

চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ও শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, ‘কিছু সমস্যা থাকলেও চুক্তির বেশির ভাগ বিষয় বাস্তবায়িত হয়েছে। আরো কিছু ধারা ও উপধারা বাস্তবায়নের পথে। চুক্তি যেমনভাবে সবার আন্তরিক চেষ্টায় হয়েছিল, তেমনিভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও মান-অভিমান ভুলে নিজেরা আরেকটু আন্তরিক হলেই সহজ হয়।

রাঙামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, সরকারকে অবশ্যই পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে সিরিয়াসলি ভাবতে হবে, সংকটের সমাধানসূত্র অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। আর অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার বন্ধ করতে না পারলে সংকট থেকে উত্তরণ অসম্ভব।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. মুছা মাতব্বর বলেন, ‘পাহাড়ে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় শিকার এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই।’

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হাজি মো. শাহ আলম বলেন, ‘পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের নিশ্চিহ্ন করা না হলে এসব চলতেই থাকবে।’

রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক জিএস এবং নাগরিক আন্দোলনের নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, ‘আঞ্চলিক দলগুলোর ভৌগোলিক আধিপত্য বিস্তার আর চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র বিরোধের মাসুল গুনছে পাহাড়ের মানুষ।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বলেন, ‘আমরা তো আক্রমণ করি না, আক্রমণের শিকার। আমরা সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি ও প্রসীত খীসার ইউপিডিএফের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছি বারবার। গত ১০ বছরে আমাদের ৮৫ জন নেতাকর্মী এ দুই দলের হাতে মারা গেছে।’

অন্য পক্ষ সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা বলেন, ‘আমাদের কোনো সশস্ত্র শাখা বা কর্মী নাই। আমরা চুক্তি বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম করছি। পাহাড়ে হত্যা, খুন ও গুমের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই।’

প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংগঠক বাবলু চাকমা বলেন, পাহাড়ে শান্তি বা অশান্তির দায় সরকারেরই। সরকার চাইলে এসব বন্ধ হবে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলো মূলত এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের জন্যই সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত। 

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

তল্লাশি শেষ, বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু

অনলাইন ডেস্ক

তল্লাশি শেষ, বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু

বোমা আতঙ্কে  ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইটটি বুধবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় নামে। মালয়েশিয়ান বিমানটিতে তল্লাশী করে কোনো বোমা পাওয়া যায়নি। ফ্লাইটটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপদ ঘোষণা করেছে বিমান বাহিনীর বোমা ডিস্পোজাল ইউনিট।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রাত পৌনে ১২টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এম তৌহিদ উল আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ক্যাপ্টেন এম তৌহিদ উল আহসান জানান, বোমা থাকার খবরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ অবতরণের পর সেটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এই তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে এতে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। 

এর আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা আতঙ্কের কারণে সতর্কতা জারি করা হয়।

সেসময় বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী গণমাধ্যমকে বলেন, বিমানবন্দরে একটি ম্যাসেজ আসে যে, ফ্লাইটটিতে বোমা থাকতে পারে।

এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা ফ্লাইটটিতে তল্লাশি চালান।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর