সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

Other

মৃত সন্তান জন্ম দিয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন স্বামীর নির্যাতনে গায়ে আগুন দেয়া কিশোরী মা লাবণ্য। যৌতুকের টাকার চাপে শেষ পর্যন্ত নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় লাবণ্যের। মেয়েকে নির্যাতনকারী স্বামী শাহীন আলম ও তার পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন লাবণ্যের বাবা-মা।

   

সুরাইয়া নেওয়াজ লাবন্য। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণী এখন না ফেরার দেশে। নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে নির্যাতন থেকে মুক্তি খুঁজে চলে গেছেন পরপারে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছেন সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য। বিয়ের এক বছর না যেতেই স্বামীর যৌতুকের চাপ-সেইসঙ্গে শশুর বাড়ির লোকজনের নানামুখী নির্যাতনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন এই স্ত্রী। পেটে সন্তানের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলছিল লাবন্যের ওপর শারিরীক-মানসিক নির্যাতন। এসব সইতে না পেরে নিজের শরীর নিজেই ঝলসে দেন আগুনে। পরে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার পৃথিবীর সব মায়া ছেড়ে চলে গেলেন লাবন্য। তার আগে শরীরের ৯০ ভাগ পোড়া নিয়ে হাসপাতালে জন্ম দেন পাঁচ মাসের মৃত কন্যা সন্তান।

অথচ গত বছর নভেম্বরে ভালবেসে বিয়ে করেন শাহীন আলম ও লাবণ্য। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে চাপে রেখেছিলেন স্বামী শাহীনসহ শশুর বাড়ির লোকজন। এরইমধ্যে সন্তান সম্ভবা হলেও এতটুকু সহানুভুতি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত লাবণ্যের ঠাই হয় বাপের বাড়ি। সেখানে থাকা অবস্থায়ও ফোনে স্বামী যৌতুক দাবি করলে, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই তরুণী।  

আরও পড়ুন:


নতুন সুখবর দিলেন জয়া

চট্টগ্রামে মা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশের সেই খুদে লেগস্পিনারকে নিয়ে যা বললেন শচীন! (ভিডিও)

মনোনয়ন ফরম কিনতে গিয়ে জানলেন ১১ বছর আগেই মৃত!


অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলতে চেষ্টা করলে স্বামী শাহীনের দুইটি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ফোনে শাহীনের বাবা আবু তাহের জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। বিস্তারিত কিছু জানেন না তিনি।

সুরাইয়া ইয়াসমিন লাবণ্যের শশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউরার খাগড়া এলাকায়। আর বাবার বাড়ি নেত্রোকোনার কলমাকান্দার গাখাজোড়া এলাকায়। পাঁচ দিন আগে ওই বাবার বাড়ি থাকা অবস্থায় ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা হওয়ার পরই গায়ে আগুন দেয় মেয়েটি।

news24bd.tv রিমু