সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১২৮ থেকে ১৩৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১২৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (128)

"(হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ.) বলেছেন) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর হতে তোমার অনুগত এক উম্মত সৃষ্টি কর। আমাদেরকে ইবাদতের নিয়ম পদ্ধতি দেখিয়ে দাও এবং আমাদের ওপর ক্ষমা পরবশ হও৷ তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (২:১২৮)

হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সকল নির্দেশ নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন। এটাই তাঁর সাফল্যের মূল কারণ। এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলো তিনি আল্লাহর নির্দেশের কারণে নিজের সন্তান ইসমাইলকে জবাই করতে উদ্যত হয়েছিলেন। আর এই একই লক্ষ্যে হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যে, শুধু তিনি নিজেই নন, তাঁর সন্তান ইসমাইল ও তাঁর বংশধররাও যেন ঐশী বিধানের অনুগত হয়। কারণ সমস্ত পূর্ণতা হলো আল্লাহর দাসত্বের মধ্যে এবং তাঁর একক সত্ত্বার এবাদতের মধ্যে। অবশ্য ইবাদত বা আরাধনা হতে হবে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, সব ধরনের কুসংস্কার ও বেদআত বা কু-প্রথা থেকে মুক্ত হয়ে। আর এ জন্যেই হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর কাছে এই বলে প্রার্থনা করেছেন যে, হে খোদা! তোমার ইবাদতের পন্থা তুমি আমাদেরকে শিখিয়ে দাও, যাতে তুমি যেভাবে চাও সেভাবে তোমার ইবাদত করতে পারি।

সূরা বাকারাহ'র ১২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (129)

"হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াত তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।" (২:১২৯)

একদিকে বংশধরদের জন্য চিন্তা ও আন্তরিকতা এবং অন্যদিকে ভবিষ্যৎ চিন্তার কারণে ইব্রাহীম (আ.) তাঁর দোয়ায় নিজের জন্য আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার আগে ভবিষ্যৎ বংশধরদের মুক্তি ও সৌভাগ্যের জন্য দোয়া করলেন। যেহেতু সৌভাগ্য আল্লাহর পথ-নির্দেশনা ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়, সেহেতু ইব্রাহীম (আ.) মানুষের জন্য একজন ঐশী পথ-নির্দেশক বা পয়গাম্বর পাঠানোর আবেদন জানান, যাতে করে তিনি তাদেরকে শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিকাশ ঘটান ৷

এরপর ১৩০ ও ১৩১ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآَخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ (130) إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ (131)

"বোকা বা নির্বোধ ছাড়া আর কে ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ থেকে বিমুখ হবে ! নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (২:১৩০)

"তার প্রতিপালক যখন তাকে বলেছিলেন, আত্মসমর্পণ কর তখন তিনি বলেছিলেন, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছে আত্ম-সমর্পণ করলাম।"(২:১৩১)

এই আয়াতে হযরত ইব্রাহীম (আ.)কে আল্লাহর মনোনীত একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে তাঁর ধর্ম ও আদর্শ অন্য সকল মানুষের জন্য আদর্শ হতে পারে। এটা কি নির্বুদ্ধিতা নয় যে, এমন একটি পবিত্র ও বিশুদ্ধ ধর্মকে ছেড়ে দিয়ে মানুষ শির্ক ও কুফরীর মত গোমরাহীর দিকে ছুটবে? অথচ এ ধর্ম হচ্ছে মানুষের প্রকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইব্রাহীম (আ.)-এর ধর্ম এত গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামের নবী গর্ব করে বলেছেন, তাঁর পথ হলো ইব্রাহীমেরই পথ, যে ইব্রাহীম যুক্তি দিয়ে কাফের বা অবিশ্বাসীদের নির্বাক করেছিলেন এবং সাহসিকতার মাধ্যমে একাই সমস্ত মূর্তিকে কুঠার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রেও চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে মক্কার উত্তপ্ত মরুতে পরিত্যাগ করেন এবং নিজের তরুণ সন্তানকে কোরবানী দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। এসবের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, তার অন্তর স্ত্রী ও সন্তানের জন্য অন্ধ ছিল না বরং তার অন্তর ছিল শুধু আল্লাহর জন্য নিবেদিত। এটা স্পষ্ট যে, আল্লাহ এ ধরনের মানুষকে যোগ্যতা দিয়ে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে অন্যদের নবী ও নেতা হিসাবে নিযুক্ত করেছেন ৷ তাই ইব্রাহীম (আ.)এর পথ থেকে দূরে থাকা নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু নয় ৷

এরপর ১৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (132)

"ইব্রাহীম ও ইয়াকুব এ সম্পর্কে তাদের পুত্রদেরকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, হে পুত্রগণ, আল্লাহ তোমাদের জন্য এই ধর্ম মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা মুসলমান না হয়ে অন্য কোন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করো না ৷" (২:১৩২)

একজন আন্তরিক ও দয়ালু পিতা শুধু সন্তানের বৈষয়িক স্বার্থ রক্ষারই চিন্তা করেন না বরং সন্তানদের চিন্তাধারার সুস্থতা ও বিচ্যূতিহীনতার দিকেই তিনি বেশী লক্ষ্য রাখেন। মৃত্যুর সময় আল্লাহর মনোনিত ব্যক্তিরা তাদের সন্তানদেরকে শুধু পার্থিব ধন-সম্পদ বন্টনের ব্যাপারেই ওসিয়ত করেননি, একইসঙ্গে তৌহিদ ও ইবাদতের ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন


কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’

সাইবার আগ্রাসন থামছেই না

সুতার বাড়তি দামে বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা

কুমিল্লায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী নিহত, আহত ১৫


এরপরের আয়াত অর্থাৎ ১৩৩ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন-

أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آَبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (133)

"ইয়াকুবের মৃত্যু যখন ঘনিয়ে এল, তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? সে যখন তার পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করেছিল আমার পরে তোমরা কিসের ইবাদত করবে? তারা তখন বলেছিল-আমরা আপনার ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের যে একক প্রভু রয়েছেন-তাঁরই উপাসনা করব এবং আমরা তারই নিকট আত্মসমর্পণকারী ৷" (২:১৩৩)

একদল ইহুদী মনে করে, ইয়াকুব মৃত্যুর সময় তাঁর সন্তানদেরকে তৎকালীন ইহুদী ধর্মের যে বিশ্বাস তা গ্রহণের সুপারিশ করেছিলেন। আল্লাহ এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তোমরা কি ইয়াকুবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত ছিলে যে এমন দাবি করছ? বরং সে তার সন্তানদেরকে এক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিল এবং তার সন্তানরা ওয়াদা করেছিল যে তারা শুধু এক আল্লাহরই ইবাদত বা দাসত্ব করবে। তৌহিদের অন্যতম যুক্তি হলো সব নবীই এক খোদার কথা বলেছেন এবং ইব্রাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের খোদা ছিল একই ৷ যদি অন্য কোন খোদার অস্তিত্ব থাকতো, তাহলে তারাও মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য নবী পাঠাতেন ও নিজেকে মানুষের মধ্যে পরিচিত করতেন ৷

আলোচিত আয়াতগুলোর কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় -

১. মানুষ শুধু আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করবে। কারণ আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর কাছে নিজেকে সপে দেয়ার মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

২. দোয়া করার সময় শুধু নিজের বৈষয়িক দিকের কথা চিন্তা না করে বরং সন্তান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সৌভাগ্যের জন্যও দোয়া করা উচিত।

৩. অশিক্ষিত ব্যক্তিই নির্বোধ নয় বরং নির্বোধ সেই যে জ্ঞান-বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সগীরা গুনাহর পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক

সগীরা গুনাহর পরিচয়

ফাইল ছবি

পাপ হলো শরিয়তের আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করা, নির্দেশ অবহেলা করা ও নিষেধ অমান্য করা। পাপ বা অপরাধ ছোট হোক বা বড় হোক, তা সব সময় বর্জনীয়। কোনো ছোট পাপকে হালকা মনে করাও একটি কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। 

কবিরা অর্থ বড়, ছগিরা অর্থ ছোট। ছগিরা গুনাহ মানে ছোট পাপ, কবিরা গুনাহ মানে বড় পাপ। ছগিরার বহুবচন ছগায়ের, কবিরার বহুবচন কাবায়ের। 

যেসব পাপের ব্যাপারে কোনো শাস্তি, আল্লাহর ক্রোধ বা অভিশাপের কথা বলা হয়নি; বরং শুধুই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেসব হলো সগিরা গুনাহ। তবে সেসব গুনাহও কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হবে, যার অনিষ্ট ও পরিণতি কোনো কবিরা গুনাহর অনুরূপ কিংবা তার চেয়েও অধিক। আবার যেসব ছোট গুনাহ নির্ভয়ে করা হয় কিংবা নিয়মিতভাবে করা হয়, সেগুলোও কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হবে।

কবিরা ও সগিরা গুনাহর মধ্যে পার্থক্য:

প্রথমত, কোনো গুনাহর প্রাথমিক পর্বগুলো হলো সগিরা গুনাহ। আর ওই গুনাহর চূড়ান্ত পর্ব হলো কবিরা গুনাহ।

দ্বিতীয়ত, কোনো গুনাহর অনিষ্ট ও পরিণতি যদি কোনো কবিরা গুনাহর মতো হয়, তবে তা কবিরা গুনাহ, অন্যথায় সগিরা গুনাহ।

তৃতীয়ত, ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেছেন, প্রতিটি গুনাহ তার চেয়ে বড় ও ওপরের স্তরের গুনাহর হিসেবে সগিরা বা ছোট গুনাহ। আবার কোনো গুনাহ তার চেয়ে ছোট ও নিচের স্তরের গুনাহর হিসেবে কবিরা গুনাহ।

পরবর্তী খবর

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া বিশ্ব নবীর সুমহান আদর্শ

অনলাইন ডেস্ক

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া 
বিশ্ব নবীর সুমহান আদর্শ

প্রতীকী ছবি

রোগী দেখা, তার সেবা-যত্ন করা, খোঁজ-খবর নেওয়া, সান্ত্বনা দেওয়া আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুমহান আদর্শ ও সুন্নাত। প্রিয় নবী অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করাকে নেক আমল ও ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা অসুস্থদের দেখতে যাও এবং আবার কেউ মারা গেলে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করো; কেননা তা পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।’ (মুসনাদে আহমদ)।


আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


হাদিস শরিফে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন বলবেন, হে বনি আদম! আমি অসুস্থ ছিলাম। তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি আপনাকে কীভাবে দেখতে যাব? আপনি তো বিশ্বজাহানের রব! আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, আমাকে অবশ্যই তার কাছে পেতে।’ (মুসলিম : ২৫৬৯)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে গেলে সে (যতক্ষণ তার কাছে অবস্থান করে ততক্ষণ) যেন জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে।’ (তিরমিজি : ৯০৯)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আত্মহত্যার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

আত্মহত্যার শাস্তি

ফাইল ছবি

ইসলামে আত্মহত্যা হারাম ও কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যাকারীর গন্তব্য জাহান্নাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এ ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের জীবন ধ্বংসের মুখে ফেলো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৭৬; মুসলিম, হাদিস : ১১৩)


আরও পড়ুন:

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সবাই পুরুষ

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিন: সরকারকে রিজভী

ফাঁকিবাজ সরকার বলেই সত্য বললেও মানুষ বিশ্বাস করেনা: মান্না


আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

প্রতীকী ছবি

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যেমন দোয়া করা উচিত তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিত। সুস্থ থাকাটা হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীরের সাদকাহ আদায়ের কথা বলেছেন। মানবদেহে অনেক জোড়া রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার হক আদায় করার কথাও বলেছেন তিনি। শরীরের এ সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায়ে প্রতিদিন সালাতুজ জোহা বা চাশতের নামাজ পড়তে বলেছেন।

যারা চাশতের ২ কিংবা ৪ রাকাআত নামাজ পড়বে, ওই ব্যক্তি শরীরের সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায় হয়ে যাবে। আবার ভালো কাজ ও ভালো আচরণেও শরীরের হক আদায় হয় বলেছেন বিশ্বনবী।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শরীরকে সুস্থ রাখতে সকাল সন্ধ্যা দোয়ার আমল করতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায়

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

উপকার: আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, আব্বাজান, আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি যে আপনি এই দোয়া পাঠ করছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

অনলাইন ডেস্ক

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক। আরবি হাক্ক শব্দটিকে বাংলায় হক বলা হয়। অর্থ কয়েক রকম আছে, তার মধ্যে এক অর্থ হলো অধিকার, হক, দাবি, পাওনা। এখানে হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক, আল্লাহর পাওনা।

আমরা সচরাচর যে ক্ষমা প্রসঙ্গে জানি তা হলো, হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল অবশ্যই সে চরম ভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো।(সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ১১৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল, অবশ্যই সে মহাপাপ রচনা করল।’ (আন-নিসা, আয়াত : ৪)

উল্লিখিত আয়াতে গুনাহ হচ্ছে সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত, যেগুলো আল্লাহর হক সেগুলো পালন না করা যা আল্লাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন, কারণ এগুলো আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ বলেন, ‘আর আসমান ও জমিনের কর্তৃত্ব আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১৪)

হাদিসে এসেছে, মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আমি একটি গাধার পিঠে রাসুলের সঙ্গী ছিলাম। যে উটকে ‘উফাইর’ বলা হয়। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘হে মুআজ, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার কী কী হক রয়েছে? এবং আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার কী কী হক রয়েছে? আমি উত্তর দিলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) ভালো জানেন। তিনি বলেন, বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার হক হচ্ছে, তারা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না।’

আরও পড়ুন:


তাইজুল ম্যাজিকে লিড পেলো বাংলাদেশ

হেফাজত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম আইসিইউতে

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা করে পেট চিরে বাচ্চা চুরি!


আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার হক হচ্ছে, যে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দেবেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমি কি সবাইকে এর সুসংবাদ জানিয়ে দেব না? তিনি বলেন, তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর