১১ বছর পর আদালতের রায়ে স্বপদে ফিরলেন অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন
১১ বছর পর আদালতের রায়ে স্বপদে ফিরলেন অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন

১১ বছর পর আদালতের রায়ে স্বপদে ফিরলেন অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন

Other

নিন্ম আদালতে দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ ১১ বছর পর পক্ষে রায় পাওয়ার মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদ ফিরে পেলেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (বর্তমানে শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজ) শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন আকন্দ।   

গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত তার পক্ষে ওই রায় দেন। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি এ এ এম আমানুল্লাহ ফরিদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী মো. তোফাজ্জল হোসেন আকন্দের আইনজীবি এ এ এম আমানুল্লাহ ফরিদ মুঠোফোনে জানান, গাজীপুর আদালতে অধ্যক্ষ মো. তোফাজ্জল হোসেন আকন্দের দায়ের করা দেওয়ানী মোকাদ্দমা (নং ২৩০/২০১০) এর আইনী লড়াইয় শেষে প্রায় ১১ বছর পর গাজীপুরের ৫ম সিনিয়র জজ আদালত থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর স্বপদে বহাল মর্মে রায় পান।

মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবি মো. এমদাদুল হক মাছুম বলেন, মামলার বাদী মো. তোফাজ্জল হোসেন আকন্দ অধ্যক্ষ থাকাকালীন ২০০৯ এর ২৮ মার্চ কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের ১৪ মাস পর ২০১০ সালের ৩ মে তার চাকুরী ফিরে পেতে গাজীপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

রায়ের ব্যাপারে বিবাদী পক্ষের আইনজীবি আরো বলেন, যেহেতু মামলাটি সরকার বাদী সেহেতু নিন্ম আদালত রায় দিলেও আদালতের জিপি (সরকারি কৌঁসুলী) এর মতামত নেওয়ার প্রয়োজন। এসব কিছুর আগেই ওই রায়ের বিরুদ্ধে রোববার (১৭ অক্টোবর) গাজীপুর জেলা জজ আদালতে সরকার পক্ষ তথা কলেজ পক্ষ থেকে আপীল করা হয়েছে। আপিলের কপি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য তা আমলে নিয়েছেন।   

ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ তথা কলেজের পক্ষ থেকে গাজীপুর জেলা জজ আদালতে একটি আপীল মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে। ফলে উচ্চ আদালত আপীলের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নিন্ম আদালতের রায়টি অকার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন বিবাদীপক্ষের আইনজীবি এমদাদুল হক মাসুম।

শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের সভাপতি ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, রায়ের কপি এবং আপীলের কপি দুটোই আমার হাতে এসেছে। ওই শিক্ষকের যোগদানের বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো অফিসিয়াল নির্দেশনা পাইনি। এ বিষয়ে আইন কী বলে তা যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


এ ব্যাপারে তোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বলেন, ২০০৫ সালে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালে কলেজের পরিচালনা পরিষদের এক সভা চলাকালে তাঁকে সন্ত্রাসী কায়দায় সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা রেজল্যুশন তৈরি করে নুরুন্নবী আকন্দকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। একজন শিক্ষক হিসেবে এটা তাঁর কাছে ছিল চরম অপমান। এ অন্যায় তিনি মেনে নিতে পারেননি। চালিয়ে গেছেন আইনি লড়াই।  

অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন আরও বলেন, বিধি অনুযায়ী বয়স হয়ে যাওয়ায় তার চাকরির মেয়াদ আর কয়েক মাস আছে। আদালতের আদেশে সত্যের জয় হয়েছে। বাকি কয়েক মাস তিনি সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে চান।

news24bd.tv/আলী

;