‘আমার চোখে গরম রডের ছ্যাহা দিয়ো না, একটু আমার মা আর বাবরে দেখবার দেও’
‘আমার চোখে গরম রডের ছ্যাহা দিয়ো না, একটু আমার মা আর বাবরে দেখবার দেও’
রড গরম করে যুবকের শরীরে সেঁকা দেওয়ার অভিযোগে মামলা

‘আমার চোখে গরম রডের ছ্যাহা দিয়ো না, একটু আমার মা আর বাবরে দেখবার দেও’

Other

রশি দিয়ে হাত পা বেঁধে আগুনের ভেতর লোহার রড গরম করে প্রথমে হাতে ও পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৫০ টিরও বেশি সেঁকা দেয় আলমগীরকে। একপর্যায়ে চোখের ভেতর গরম রড দিয়ে সেঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। হাতে পায়ে ধরে, বাবা ডেকেও তাঁদের অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে নির্যাতনের মাত্রা কমে।

শরীরে পানি দিয়ে গোপন অঙ্গে কয়েকটি ছ্যাকা দেয়। এরপর টাকা চুরি না করেও টাকা চুরির কথা মুখ দিয়ে শিকার করার জন্য ওরা মুখেও গরম রডের সেঁকা দেয়। এরপর টাকা চুরির কথা শিকার করলে তাঁরা হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। ' 

টাকা চুরির অপবাদ তুলে লোহার রড গরম করে শরীরের বেশ কিছু জায়গা পুড়িয়ে দিয়েছে মো. কাজল। ভুক্তভোগী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার দুই ছেলে মো. কাজল মিয়া (৩৫) ও মো. লিটন মিয়া (২৫)।  

গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন নয়াপাড়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।  

নির্যাতন থেকে বাঁচতে হাতে পায়ে ধরে আকুতিও কম করেনি আলমগীর। 'বাবা আমাকে মাইরা ফালছে তাঁরা। আমি নাহি টেহা চুরি করছি। আমি কোন টেহা চুরি করি নাই। আর সহ্য করতে পারছি না। আমাকে আর গরম রডের ছ্যাহা দিও না। আর পারছি না। তুমরা আমার চোখে গরম রডের ছ্যাহা দিয়ো না। একটু আমার মা আর বাবরে দেখবার দেও। আমারে একটু বাঁচতে দেও। ' এত আকুতিও নির্যাতনকারীদের মন গলাতে পারেনি পিক-আপের হেলপার আলমগীর হোসেন।  

news24bd.tv

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মো. আলমগীরের বাবা বাদী হয়ে দু'জনকে অভিযুক্ত করে ১৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।  

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. আলমগীর হোসেন উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়িচালা গ্রামের মো. সুলতান সরকারের ছেলে। ৫৩ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে দুই যুবক মিলে তাঁকে নির্যাতন করে।  

নির্যাতনের শিকার মো. আলমগীরের বাবা বলেন, বেলা ১১টার সময় অভিযুক্তরা ফোন করে বলে আপনার ছেলে টাকা চুরি করেছে। টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। আপনি ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে এসে ছেলেকে নিয়ে যান। এরপর টাকা না নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর টাকা না আনার আগ পর্যন্ত ছেলেকে দিবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েক জনের হাতে পায়ে ধরে টাকা দেওয়ার শর্তে ছেলেকে নিয়ে আসি। একদিন ভয়ে বাসায় ছেলের চিকিৎসা করি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনার বিস্তারিত বলার পরই বিচার চাওয়ার সাহস পাই।  

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’



 এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মো. কাজল মিয়া বলেন, টাকা চুরির সময় হাতেনাতে ধরা হয়ছে। এ জন্য চর থাপ্পড় দিয়েছি। সেঁকা দেইনি। শরীরে এতগুলো সেঁকার দাগ কীভাবে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নীরব ছিলেন। চুরি করলে তাঁকে পুলিশে দেননি কেন? প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।  

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, নির্মম নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

news24bd.tv/আলী

;