ভূমি জালিয়াতির আখড়া কেরানীগঞ্জ

রেকর্ড বহির্ভূত জাল দলিলেই হচ্ছে নামজারি

অনলাইন ডেস্ক

ভূমি জালিয়াতির আখড়া কেরানীগঞ্জ

জমিজমা নিয়ে হয়রানি কমাতে সরকার ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশনসহ নানা সংস্কার পদক্ষেপ নিলেও ভূমি অফিসগুলোর সর্ষের ভূত কিছুতেই যাচ্ছে না। পদ্মা সেতুর কারণে জমির দাম বাড়ায় কেরানীগঞ্জের ভূমি অফিসগুলো যেন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দালাল ও কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে একজনের জমি বিক্রি করে ফেলছেন আরেকজন। জমির দালাল, দলিল লেখক, ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মচারীর হাতব্যাগেই থাকছে সাব-রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সিলমোহর। নকল স্বাক্ষর ও সিলমোহরে এক ঘণ্টায় তৈরি হচ্ছে জাল দলিল। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেকর্ডভুক্ত না হলেও সেই দলিলের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজনের জমি নামজারি হয়ে যাচ্ছে অন্যের নামে।

এদিকে জমি হারিয়ে শত শত মানুষ দ্বারস্থ হচ্ছেন সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দপ্তরে। জমি উদ্ধারে প্রতি মাসে জমা পড়ছে অসংখ্য মিসকেস।

ভূক্তভোগীরা বলছেন, টাকা খরচ করলেই যে কোনো জমির দলিল নিজের নামে করিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। নামজারিও হচ্ছে। জমি নিয়ে যত বেশি ঝামেলা, তত বেশি মিস কেস, তত বেশি আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমি জালিয়াতিতে নেমে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন কেরানীগঞ্জের অনেকে। একইসঙ্গে তারা বিত্তশালী করেছেন জালিয়াতিতে সহযোগিতাকারী ভূমি অফিসের দালাল ও দুর্নীতিগ্রস্থ অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে পৈত্রিক ভিটা হারানো কয়েকজনের অভিযোগের সূত্র ধরে খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায়, শুধু হতদরিদ্রের জমি নয়, একটি কোম্পানির ক্রয়কৃত প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৪৫ শতক জমি জাল দলিল করে নিজেদের নামে নামজারি করিয়ে নিয়েছেন উপজেলাজুড়ে ভূমি জালিয়াতির হোতা হিসেবে পরিচিত মো. আবু সাঈদ ও মো. আবু হোসেন নামের দুই ভাই। দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেকর্ডভুক্ত না হলেও ভূমি অফিসের দালালদের সহযোগিতায় ওই দলিলের ভিত্তিতেই ইকুরিয়া মৌজার ওই ৪৫ শতক জমি নিজেদের নামে নামজারি করিয়ে নিয়েছেন। একইসঙ্গে জমিটি আবার প্রকৃত মালিকের দখলে যাবার আগেই তা বিক্রির পায়তারা করছেন।

শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২৫ জুন ৫৮৯৭ নম্বর আমমোক্তার দলিলের মাধ্যমে হানিফ হাওলাদারকে আমমোক্তার নিয়োগ করেন ইকুরিয়া পূর্ব মধ্যপাড়ার আবু সাঈদ ও আবু হোসেন। ওই বছরের ২৯ জুন আম-মোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে হানিফ হাওলাদার ইকুরিয়া মৌজায় ২৩৭ নম্বর আরএস খতিয়ানের (এসএ দাগ-১৩) ১৪,১৫,১৬,১৭ নম্বর আরএস দাগের ৪৫ শতাংশ জমি ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কাছে সাফ কবলা দলিলমূলে (দলিল নম্বর ৯১৩৯) বিক্রি করেন। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমিটি ওই কোম্পানির অনুকূলে নামজারি হয়। খরিদসূত্রে মালিক হয়ে ৪৬ নম্বর জোনে নামজারি ও জমাভাগ করে তখন থেকে মালিকানা ভোগ ও দখলে আছে ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেড।  নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালে হঠাৎ করে জমিটি আবার আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের নামে নামজারি হয়ে যায়।

সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই ৫৭৮৪ নম্বর বিনিময় দলিলের ভিত্তিতে ওই নামজারিটি হয়েছে, যে দলিলে দেখানো হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভলপমেন্ট লি. (ইডব্লিউপিডি) নামের একটি কোম্পানিকে সম পরিমান জমি অন্য কোথাও দিয়ে ইকুরিয়ার ওই ৪৫ শতক জমি পেয়েছেন ওই দুই ভাই। নামজারি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সানজিদা পারভীন, কানুনগো, নামজারী সহকারী এবং শুভাঢ্যা ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাছান আহমেদ। দলিলের রেকর্ড খুঁজতে কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে চোখ কপালে ওঠে। যে দলিলের ভিত্তিতে আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের নামে ওই ৪৫ শতক জমির নামজারি হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডে নেই তার অস্তিত্ব। তবে একই তারিখের এবং একই সিরিয়ালের (৫৭৮৪) একটি দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেকর্ডভুক্ত আছে, যা অন্য একটি আমমোক্তার দলিল, কোনো বিনিয়ম দলিল নয়।

সাব-রেজিস্ট্রার মো. শাহাজাহান আলী নিশ্চিত করেন, রেকর্ডভুক্ত ৫৭৮৪ নম্বর দলিলটি আবু সাঈদ ও আবু হোসেন নামের কারো নয়। এটি ইডব্লিউপিডি থেকে শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে দেওয়া আমমোক্তার দলিল। রেকর্ডহীন দলিলের ভিত্তিতে কীভাবে আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের নামে নামজারি হলো তা ভূমি অফিস বলতে পারবে।

এদিকে জমিটির প্রকৃত মালিক খুঁজতে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে নিবন্ধন বইয়ে দেখা যায়, ইকুরিয়া মৌজায় ২৩৭ নম্বর আরএস খতিয়ানের ৪৬ নম্বর জোনের এসএ দাগ-১৩, ১৪,১৫,১৬,১৭ নম্বর আরএস দাগের জমির মালিক ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেড। অথচ, আবু সাঈদ ও আবু হোসেন ইডব্লিউপিডি’র কাছ থেকে জমিটি বিনিময়সূত্রে পেয়েছেন বলে তাদের জাল দলিলে উল্লেখ করেছেন।

এক প্রতিষ্ঠানের জমি অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কীভাবে বিনিময় করে নেওয়া সম্ভব এবং সেই নামজারির প্রস্তাবে কীভাবেই বা স্বাক্ষর হয় এমন প্রশ্নে ওই অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এখানে বড় ধরনের কোনো ভুল হয়তো হয়ে গেছে। যিনি নামজারির প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন, তিনি হয়তো অফিসের বিশ্বস্ত কারো সুপারিশে সরল বিশ্বাসে এটা করেছেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন মাঝেমধ্যেই হাতে এসে পড়ে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি দেখেশুনে নামজারির প্রস্তাব দিতে।

সরেজমিন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিটি বিক্রির জন্য সম্প্রতি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন আবু সাঈদ ও আবু হোসেন। জমিটির কাছে গেলে হাজির হন স্থানীয় স্বপন আলী শেখ, শামসুল হক ও রমজান আলীসহ অনেকে। তারা বলেন, এতদিন শুনেছি এই জমি ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচার নামের একটি কোম্পানির। এখন শুনছি এটা আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের। এ ব্যাপারে আবু হোসেনকে পাওয়া না গেলেও কথা হয় আবু সাঈদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমার জমি আমি উদ্ধার করেছি। এখন বিক্রি করব। ১৫ জন থেকে টাকা নিয়েছি, তবে কাউকে এখনো দলিল দেইনি। পূর্ব পুরুষের দলিল দেখিয়ে বলেন, আমি জীবনে কাউকে আমমোক্তার নিয়োগ করিনি। জমিও বিক্রি করিনি। নতুন কোনো দলিলও করিনি। বাপ-দাদার জমি এখন নিজেদের নামে খারিজ করেছি।

এদিকে নতুন দলিল না করা ও আগে জমি বিক্রি না করা নিয়ে তার বক্তব্যের অসত্যতার প্রমাণ পূর্বে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দফতর থেকে মিললেও আমমোক্তার নিয়োগ না করার বিষয়টি জানতে কেরানীগঞ্জ মডেল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে পাওয়া যায়, ২০০৬ সালে আবু সাঈদের দেওয়া আম-মোক্তার দলিলের প্রমাণ। ২০০৬ সালের ফিস বইয়ের ৮৬৩৭ ক্রমিক নম্বরে লিপিবদ্ধ ৮৫৯৭ নম্বর দলিলে মো. আবু সাঈদ আম-মোক্তার নিয়োগ করেন।

এদিকে যে জাল দলিলের ভিত্তিতে ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের নামজারি কেটে ওই দুই ভাইয়ের নামে নামজারি হয়েছে, সেই দলিলে একাধিক স্থানে সাব-রেজিস্টারের স্বাক্ষরে মিল নেই।

আরও পড়ুন:


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইপিএল নিয়ে জুয়া, ৩ জনের সাজা

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বোমা হামলা মামলার রায় আজ

টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে আদালতে ট্রাম্প

যুবলীগ নেতার সঙ্গে ভিডিও ফাঁস! মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি


সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দলিলের সবগুলো স্বাক্ষরই জাল। তবে ওই ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা। স্বাক্ষরের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) কানুনগো মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ওই নামজারির প্রস্তাবে অফিসের সবারই স্বাক্ষর আছে। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য দলিল আসে নামজারি প্রস্তাবের জন্য। সব যাচাই করা সম্ভব হয় না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ওই দলিল রেকর্ডভুক্ত কিনা সেটাও দেখা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে মিসকেস করলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) বর্তমান সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রিয়াদ বলেন, দলিল জাল হলে নামজারিরও ভিত্তি নেই। ভুক্তভোগী মিসকেস করলে আমরা দ্রুত সমাধান দেব। প্রতি মাসে প্রচুর মিসকেস জমা পড়ছে। ভূমির তথ্য পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেলে তখন তথ্য যাচাই সহজ হয়ে যাবে।

এদিকে প্রায় ১৫ বছর আগে ক্রয়, নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সূত্রে জমিটির মালিকানা ভোগ করা ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কর্মকর্তারা বলছেন, কারো মালিকানার জমি অন্যের নামে নামজারির আগে আইনগতভাবে নোটিশ দিতে হয়। এতো বড় একটা জমি, অথচ আমাদেরকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি!

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মিডিয়ারে মোগো ছবি দিয়েন না স্যার : দুই মাদক ব্যবসায়ী

অনলাইন ডেস্ক

মিডিয়ারে মোগো ছবি দিয়েন না স্যার :  দুই মাদক ব্যবসায়ী

মুখ দেহানোর কায়দা রাখলেন না স্যার। এই কামডা কি হরলেন। জামিন পাওয়ার পর কেমনে মানসেরে মুখ দেহামু। এই কামডা কইরেন না, মিডিয়ারে মোগো ছবি দিয়েন না। এভাবেই উচ্চস্বরে এসব কথা বলতে থাকেন অভিযুক্ত দুই মাদক ব্যবসায়ী।

প্রায় ১৫ লাখ টাকার গাঁজাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে  দুই মাদক ব্যবসায়ী পলাশ হাওলাদার ও দীপু হাওলাদার। তাদের দুজনকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আনতে গেলে উচ্চস্বরে এসব কথা বলতে থাকেন অভিযুক্ত দুই মাদক ব্যবসায়ী। থানা হাজতে প্রবেশ করানোর সময়েও অভিযুক্ত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকদের ব্রিফিং শেষে আটক মাদক ব্যবসায়ীদের ছবি ও ভিডিও নিতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা বলেন, জামিনে বের হয়ে মুখ দেখাতে পারব না। ইজ্জতটা রাখেন স্যার।

আটকরা হলেন- বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পলাশ হাওলাদার ও দীপু হাওলাদার। তাদের বিরুদ্ধে আরও তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনা


 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম জানান, কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকার বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রুসলপুর ২ নম্বর গলিতে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন পলাশ হাওলাদার, দীপু হাওলাদার ও তাদের সহযোগীরা। মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ দেখে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। তাদের আটক করে তাদের উপস্থিতিতে ঘর তল্লাশি চালালে খাটের ওপরে রাখা তিনটি স্কুলব্যাগে ২৫ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। যার অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বাদী হয়ে আটকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

নির্যাতনে জ্ঞান হারানো নারীটি ছিল রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র

অনলাইন ডেস্ক

নির্যাতনে জ্ঞান হারানো নারীটি ছিল রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র

ধর্ষণচেষ্টা, প্রতীকী ছবি।

জীবিকার তাগিদে স্বামী গেছেন মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে। এই সুযোগে গভীর রাতে ভাড়া বাসা থেকে চোখ-মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গৃহবধূকে ধানক্ষেতে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্বজনরা জানায়, কমলনগর উপজেলার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন জেলে দম্পতি। নদীতে বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ায় এখানে ভাড়া ঘরে থাকেন তারা। জীবিকার তাগিদে স্বামী মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে গেলে বুধবার দুই সন্তান নিয়ে একাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি।

রাত আনুমানিক ২টার দিকে হঠাৎ একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তার স্বামীর কণ্ঠ নকল করে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার পর দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূর চোখ-মুখ বেঁধে বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যায়। এসময় তাকে বেদম মারধরসহ নির্যাতন করে ধর্ষণচেষ্টা করে তারা (দুর্বৃত্তরা)।

এক পর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূ অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত ভেবে তাকে ওই ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। রাত তিনটার দিকে ওই গৃহবধূ জ্ঞান ফিরলে রক্তাক্ত ও অর্ধ-বিবস্ত্র অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় সে।

খবর পেয়ে সকালে স্বজনরা এসে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল খালেকের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে কমলনগর থানায় মামলা করলে সন্দেহভাজন একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার (০১ ডিসেম্বর) সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় এক গৃহবধূকে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমলনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে একজন অফিসার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমকে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জড়িতদের ধরতে আমাদের পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:


ফেসবুকে মন্ত্রীর পোস্ট, ‘মন চাইছে আত্মহত্যা ক‌রি’


news24bd.tv/ তৌহিদ

পরবর্তী খবর

কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এহছানুল হকের বিরুদ্ধে তার ওয়ার্ডের এক ছাত্রীকে জন্ম নিবন্ধনের কাগজ দেওয়ার কথা বলে বাসায় নিয়ে ধষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে আজ বুধবার জানতে চাইলে মামলার আইও ফুলপুর থানার এসআই জাহিদ হাসান বলেন, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে, মাসুদ গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে, মাসুদ গ্রেফতার

রিসোর্টে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেছিলো মাসুদ গণি মান্না ওরফে টিকটক মাসুদ। ধর্ষণ করেই ক্রান্ত হননি টিকটক মাসুদ। ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয় সে। সেই মামলায়  তাকে গ্রেফতার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ সিলেট নগরী থেকে মাসুদকে গ্রেফতার করে। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম অর রশীদ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গ্রেফতার মাসুদ হবিগঞ্জ জেলার সদর থানার অনন্তপুর গ্রামের মৃত মলাই মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি শোরুমের কর্মচারী।

বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মাসুদ গণি মান্নার সঙ্গে ফেসবুকে প্রেম ছিল কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গা এলাকার এক ছাত্রীর। ওই ছাত্রী মৌলভীবাজার ম্যাটসে পড়াশোনা করত। ফেসবুকে প্রেম হওয়ার পর মাসুদ ওই তরুণীকে শ্রীমঙ্গলের একটি রিসোর্টে নিয়ে ধর্ষণ করে। তারপর ওই ভিডিও ছেড়ে দেয় ইন্টারনেটে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় আপত্তিকর টিকটক তৈরি করে নেটে ছাড়ত মাসুদ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট নগরীর কুমারপাড়া এলাকা থেকে মাসুদ গণিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 
news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

জগন্নাথপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’, গুলিবিদ্ধ ২৫, আহত ৫০

মো.বুরহান উদ্দিন, সুনামগঞ্জ

জগন্নাথপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’, গুলিবিদ্ধ ২৫, আহত ৫০

বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইসহাকপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ নারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ২৫ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাতে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসহাকপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী উস্তার গণি ও একই এলাকার নিজামুল করিমের লোকজনের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় দুপক্ষের লোকজন বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ ২৫ জনকে কে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপর আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

আরও পড়ুন: 


পায়ের রগকাটা মরদেহ পড়ে আছে নদীর পাড়ে


news24bd.tv /তৌহিদ

পরবর্তী খবর