‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে সাকিব-মুস্তাফিজের কার্যকর বোলিংয়ে স্বস্তির জয়

অনলাইন ডেস্ক

‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে সাকিব-মুস্তাফিজের কার্যকর বোলিংয়ে স্বস্তির জয়

ওমানের বিপক্ষে ২৬ রানের জয়ে খাদের কিনার থেকে ফিরে এসে টিকে থাকল বিশ্বকাপে। ‘সুপার টুয়েলভ’ পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনার রেখাও রাতের আল আমরাত স্টেডিয়ামের ৩২০০ লাক্স আলোর চেয়েও উজ্জ্বল করে রাখল।

অথচ বাজে ফিল্ডিংয়ে ওমানের সঙ্গে কম পাল্লা দেয়নি তাঁরাও। স্বাগতিকদের তিন-তিনটি ক্যাচ ফেলার বিপরীতে বাংলাদেশের ক্যাচ ফেলা হতে পারত স্বপ্নভঙ্গের কারণও। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে যেমন ১৪ রানে থাকা যতিন্দার সিংয়ের সহজ ক্যাচ ফেলেন মাহমুদ নিজেই। ওমানের এই ব্যাটসম্যান যে ম্যাচই বের করে নিচ্ছিলেন

প্রায়। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেওয়া মুস্তাফিজও পাঁচটি ওয়াইড বল দিয়ে হতাশার বুদবুদও তোলেন। সেই হতাশার বিস্ফোরণও ঘটে, যখন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে কাশ্যপ প্রজাপতির ক্যাচ ফেলেন মুস্তাফিজও।

কিন্তু ওই যে বলা হলো বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি ছিল একই সঙ্গে ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনার এবং প্রবলভাবে ফিরে আসারও। তাই মুস্তাফিজও করেন প্রায়শ্চিত্ত। মাহমুদের সৌজন্যে বেঁচে যাওয়া যতিন্দারকে নিয়ে বড় জুটির দিকে ধাবমান ওমানের অধিনায়ক জিশান মাকসুদকে (১২) ফেরান তো এই ‘কাটার মাস্টার’ই। তবে বোলার মুস্তাফিজ নন, ফিল্ডার মুস্তাফিজ। অফস্পিনার মেহেদী হাসানের সোজা বলে সুইপ করেছিলেন জিশান। বলের নাগাল পেতে ডিপ স্কয়ার লেগে কিছুটা দৌড়ে আসা মুস্তাফিজ বল হাতে জমাতেই এতক্ষণের হতাশা ফুঁড়ে জেগে ওঠে আশা।

সেই আশার পালে তীব্র হাওয়ার জোগান দিতে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়ে যান সাকিব আল হাসানও। জিশান গেলেও যতিন্দার ছিলেন। তাঁকে ফেরানোও জরুরি হয়ে পড়েছিল ভীষণ। সাকিবের বলে ক্যাচও উঠল যতিন্দারের (৩৩ বলে ৪০), এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ লিটন কুমার দাসও ভুল করলেন না কোনো, ক্যাচ ধরলেন ঠিকঠাক। ১৩ ওভারেই ৯০ রান তুলে ফেলা ওমানেরও ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শুরু তখনই। এতক্ষণ অনিশ্চয়তার ঘূর্ণাবর্তে পাক খেতে থাকা বাংলাদেশের সামনে জয়ের নিশ্চয়তাও প্রথম উঁকি দেয় তখনই।

সেটিকে আরো নিশ্চিত করতে ‘জুটি’ গড়ে ফেলেন সাকিব-মুস্তাফিজ। জোড়ায় জোড়ায় আঘাতও হানেন তাঁরা। প্রথমে সাকিব, পরে মুস্তাফিজও। তাই ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের হাসিতে এই দুই বোলারকে সর্বাগ্রেই রাখতে হয়। ৩৬ রানে ৪ শিকার মুস্তাফিজের। ২৮ রানে তিন শিকার ধরে আবারও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাকিবও এমন উজ্জ্বল যে ম্যাচসেরা হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়ার বিকল্প ছিলই না। ব্যাটিংয়ে দলের বাজে শুরুর পর ওপেনার নাঈম শেখকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৮০ রান যোগ করে বিপর্যয় সামলানোতেও ছিলেন সাকিব।

তবে এর আগে কিছুক্ষণের জন্য যেন ফিরে এলেন ‘টু ডাব্লিউ’। বিলাল খান আর কলিমউল্লাহরা কার্যকারিতায় হয়ে উঠলেন ওয়াসিম আকরাম-ওয়াকার ইউনিসের দুর্ধর্ষ সেই জুটি। ওমানের এই দুই পেসারের সুইং আর ইয়র্কারে প্রথম ৩ ওভারে রীতিমতো কাঁপল বাংলাদেশ। এই সময় ক্যাচও যেমন পড়ল, তেমনি উইকেটও হারালেন তাঁরা। দুয়ে মিলে বাঁচা-মরার ম্যাচে অবস্থা মোটামুটি ‘গেল গেল’ রব উঠে যাওয়ার মতোই।

যেতে যেতে মাহমুদ উল্লাহর দল আবার ফিরলও। গল্পের শুরুটা নিজেদের পোড়ার হলেও পরের অংশটি প্রতিপক্ষকে পোড়ানোরও। তাই পাল্টা পুড়তে থাকল ওমানও। সেই সঙ্গে সমান তালে আরো দুটো বিষয়ও চলল। একদিকে ভাগ্য বাংলাদেশের ভীষণ সহায় হলো। অন্যদিকে স্বাগতিকরাও বাজে ফিল্ডিংয়ের প্রদর্শনী চালাতে থাকল। নাঈমই যেমন ১৮ ও ২৬ রানে জীবন পেলেন দুইবার। শুরুর নড়বড়ে বাংলাদেশ এই সুযোগে নাঈম আর সাকিবের ব্যাটে ধরে ফেলে হারানো ছন্দও।

আরও পড়ুন:


বিশ্বে আবারও করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে

ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!


সেই ছন্দে দুলতে দুলতে অনেক বড় স্কোরের আশাও জাগে। কিন্তু ম্যাচটি যে বাংলাদেশের জন্য বারবার রং বদলানোর। তাই প্রত্যাশিত রূপ পায় না ইনিংস। আবার ওমানও যেন বাজে ফিল্ডিংয়ের মধ্যেও ঝলক দেখায় কিছু। তাই ২৯ বলে ৬ চারে ৪২ রান করে সাকিব সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হয়ে যান। ৪৩ বলে ক্যারিয়ারে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি করা নাঈমও ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৪ রানের ইনিংস খেলে পা দেন ওমানের ডানহাতি পেসার কলিমউল্লাহর শর্ট বলের ফাঁদে। সেই ফাঁদ ভোগায় পরের ব্যাটসম্যানদের কয়েকজনকেও। রং বদলানোর ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যাটিং অর্ডারও এমন বদলে ফেলে যে ২০০৯ সালের পর আবার ৮ নম্বরে নামেন মুশফিকুর রহিম। তেমন কিছু করতে পারেননি অবশ্য। পারেননি শেষের দিকের অন্যরাও। তাই রান যত হওয়ার কথা, হয় না তত।

ওমানও তাই রান তাড়ায় চোখ রাঙানি দিতে থাকে। অন্তত ১২ ওভার পর্যন্ত। এরপর মুস্তাফিজের সেই ক্যাচ এবং যতিন্দারকে ফিরিয়ে সাকিবের উল্লাস। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার স্বস্তিটাও তখনই প্রথম অনুভব করতে শুরু করে বাংলাদেশ।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ঢাকা টেস্টে ফিরলেন সাকিব-তাসকিন

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা টেস্টে ফিরলেন সাকিব-তাসকিন

সাকিব আল হাসান এবং তাসকিন আহমেদ

ঢাকা টেস্টের জন্য ২০ সদস্যের যে দল ঘোষণা করা হয়েছে তাতে সাকিব আল হাসান এবং তাসকিন আহমেদকে যোগ করা হয়েছে। দুজনেই ইনজুরির কারণে চট্টগ্রাম টেস্টে খেলতে পারেননি।

প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম। আগামী ৪ ডিসেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

বিস্তারিত আসছে...

পরবর্তী খবর

প্রথম টেস্টে হারের কারণ খুঁজে পেয়েছেন মুমিনুল

অনলাইন ডেস্ক

প্রথম টেস্টে হারের কারণ খুঁজে পেয়েছেন মুমিনুল

মুমিনুল ইসলাম

চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে হেসেখেলে হারিয়ে দিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের দেয়া ২০২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।

ম্যাচ শেষে কথা বলেছেন বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক। চট্টগ্রাম টেস্টে বোলারদের ব্যর্থতাকেই হারের কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। 

তিনি বলেন, ‘প্রথম ইনিংসের প্রথম ঘন্টায় ব্যাকফুটে থাকলেও, লিটন ও মুশফিকের দারুণ ব্যাটিংয়ে দল ভালো সংগ্রহ পায়। তবে নতুন বলে আমাদের ব্যাটাররা কিছুটা সংগ্রাম করেছে, তারপরও পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে বোলাররা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। কেননা তাদের দুই ওপেনার শফিক ও আবিদ আলী ম্যাচ উইনিং ব্যাটিং করেছে। এ ম্যাচের ভুল শুধরে ঢাকা টেস্টে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলবে দল আশা করছি।’

মুমিনুল আরও বলেন, 'আমার মতে, দুই ইনিংসেই প্রথম ঘণ্টায় আমরা ম্যাচটি হেরে গেছি। প্রথম ইনিংসে মুশফিক ও লিটন খুব ভালো খেলেছে। তারা দারুণ জুটি গড়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে... আমার মতে প্রথম চার ব্যাটারকে এগিয়ে আসতে হবে।'

নিজেদের দুর্বল জায়গাটা খুজে পেয়েছেন বলে জানান তিনি। পরের ম্যাচে সব ভুল শুধরে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 

আরও পড়ুন:

পদত্যাগের এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনঃনির্বাচিত সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশকে হেসেখেলে হারালো পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশকে হেসেখেলে হারালো পাকিস্তান

চট্টগ্রাম টেস্টে জয় পেলো পাকিস্তান

পাকিস্তানের বিপক্ষে সাগরিকা টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানে লিড নিয়েও ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ। ৯৬ ওভার হাতে থাকলেও মাত্র ১৬ ওভারেই আনুষ্ঠানিকতা সেরেছে পাকিস্তান। 

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আবিদ আলি দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হন ৯১ রানে। অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ শফিক প্রথম ইনিংস ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৭৩ রান। বাংলাদেশের হয়ে উইকেট দুটি নেন মিরাজ আর তাইজুল।

প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। লিটন দাসের ৫৯ রানের সুবাদে ১৫৭ পর্যন্ত যায় দলীয় সংগ্রহ। শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ৫ উইকেট। পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রানের। ব্যাটিংয়ে নেমে হেসেখেলে লক্ষে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।

দুই ওপেনার আবিদ আলি ও আব্দুল্লাহ শফিকের উদ্বোধনী জুটিতেই তারা পেয়েছিল ১৫১ রান। এরপর বাকি পথ নির্বিঘ্নেই পাড়ি দেন অভিজ্ঞ আজহার আলি ও অধিনায়ক বাবর আজম। অবিচ্ছিন্ন ৩২ রানের জুটিতে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা। আজহার ২৪ ও বাবর ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন দুই ইনিংস মিলে ২২২ রান করা আবিদ আলি।া বংহেসেখেলে হারালো

পাকিস্তানের বিপক্ষে সাগরিকা টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানে লিড নিয়েও ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ। ৯৬ ওভার হাতে থাকলেও মাত্র ১৬ ওভারেই আনুষ্ঠানিকতা সেরেছে পাকিস্তান। 

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আবিদ আলি দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হন ৯১ রানে। অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ শফিক প্রথম ইনিংস ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৭৩ রান। বাংলাদেশের হয়ে উইকেট দুটি নেন মিরাজ আর তাইজুল।


আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। লিটন দাসের ৫৯ রানের সুবাদে ১৫৭ পর্যন্ত যায় দলীয় সংগ্রহ। শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ৫ উইকেট। পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রানের। ব্যাটিংয়ে নেমে হেসেখেলে লক্ষে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।

দুই ওপেনার আবিদ আলি ও আব্দুল্লাহ শফিকের উদ্বোধনী জুটিতেই তারা পেয়েছিল ১৫১ রান। এরপর বাকি পথ নির্বিঘ্নেই পাড়ি দেন অভিজ্ঞ আজহার আলি ও অধিনায়ক বাবর আজম। অবিচ্ছিন্ন ৩২ রানের জুটিতে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা। আজহার ২৪ ও বাবর ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন দুই ইনিংস মিলে ২২২ রান করা আবিদ আলি।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম টেস্ট: এখনও জয়ের সুযোগ দেখছেন ডমিঙ্গো

অনলাইন ডেস্ক


চট্টগ্রাম টেস্ট: এখনও জয়ের সুযোগ দেখছেন ডমিঙ্গো

পাকিস্তানের দিকে হেলে আছে চট্টগ্রাম টেস্ট

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে চালকের আসনে সফরকারীরা। জয়ের জন্য পঞ্চম ও শেষদিনে তাদের প্রয়োজন মাত্র ৯৩ রান। হাতে আছে ১০ উইকেট। দুই ওপেনার আবিদ আলি ৫৬ আর আব্দুল্লাহ শফিক ৫৩ রানে অপরাজিত আছেন। 

বাংলাদেশের দেওয়া ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তান বিনা উইকেটে তুলেছে ১০৯ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫৭ রানে। 

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) ম্যাচের চতুর্থ দিন ৩৩ ওভার বল করেও প্রতিপক্ষের কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম টেস্টে পাকিস্তানের দিকে হেলে থাকলেও এখনও জয়ের সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।


আরও পড়ুন:

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সবাই পুরুষ

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিন: সরকারকে রিজভী

ফাঁকিবাজ সরকার বলেই সত্য বললেও মানুষ বিশ্বাস করেনা: মান্না


চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো বলেন, ‘প্রথম সেশনে উইকেট পড়ছে। যেভাবে ছেলেরা লড়াই করছে তাতে আমি গর্বিত। পাকিস্তান ম্যাচে এগিয়ে আছে। তাদের ৯৩ রান প্রয়োজন, আমাদের জিততে হলে বিশেষ কিছু করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব। আমাদের জয়ের সুযোগ আছে এটা বিশ্বাস করেই কাল মাঠে নামতে হবে। প্রথম আধা ঘণ্টায় এক-দুটি উইকেট তুলে নিতে পারলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জীবনের গল্প শোনালেন মাশরাফি

অনলাইন ডেস্ক

জীবনের গল্প শোনালেন মাশরাফি

আপনারা লেখাপড়ার স্তর শেষ করে বাস্তব জীবনে প্রবেশ করছেন। জীবন কখনও কণ্টকমুক্ত নয় বলে স্নাতকদের উদ্দেশে জানিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক, সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা।

শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাশরাফি বলেন, শত সমস্যাতেও হার মানা যাবে না। সময়কে কাজে লাগানোর মানসিকতা থাকতে হবে। 

সোমবার ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তরুণদের  উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

তরুণদের উদ্দেশ্যে মাশরাফি বলেন,আমি আমার জীবনের দুটি বিষয় হয়তো বলতে পারি। আমি খুব ছোট জেলা থেকে এসেছি। যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি। আমি অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১০ ১৯ ও ‘এ’ দল হয়ে জাতীয় দলের হয়ে এসেছি। আমরা নড়াইলে যখন ছিলাম, ওই ফ্যাসিলিটিজ ছিল না। এত বেশি কোচ ছিল না, ফিটনেস ট্রেনার ছিল না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে আমি খুব উপভোগ করেছি। আমি খুব অল্প বয়সে বুঝতে পেরেছিলাম, ক্রিকেটটা পছন্দ করি, খেলতে চাই।

জীবনের কঠিন সময় যখন এলো, আমার ইনজুরি। যখন অপারেশন হলো। ২০০১ সালে ভারতে গেলাম। তখন ৪টা টেস্ট খেলেছি, তিনটি ওয়ানডে খেলেছি। হসমত হাসপাতালের নাম, ডাক্তার থমাস চেন্ডি। আমি পায়ে ব্যথা পেলাম, উনি বলল দেখে দিচ্ছি। পরে এমআরআই করালো। পরের দিন সকালে বলল যে তোমার লিগামেন্ট টোন হয়েছে। তোমার অপারেশন করাতে হবে এবং এক বছর খেলার বাইরে থাকতে হবে।

আমি একা গিয়েছিলাম। ঢাকায়ই কম এসেছি, সেখানে ভারতে গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছিল আকাশটা আমার মাথায় ভেঙে পড়েছে। এরপর ওখান থেকে ফিরে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ভালোভাবে খেলেছি। পরের তিন বছরে আবার চারটা ইনজুরি। সেখান থেকে ফিরে এসে ১৪৪ থেকে ১২০ কিলোমিটারে বল করা। ওটাকে ম্যানেজ করা, সাতটা অপারেশন করা। 

তবে সবকিছুর পরও আমি যখন মাঠে নামতাম, বুঝতাম কী করি। আমি বাংলাদেশের জন্য খেলছি, এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু ছিল না। তখন আমি আসলে...আমি জানি ওই দিনগুলো কেমন গেছে। স্পোর্টসে সার্জারির চেয়েও রিহ্যাবিশন প্রক্রিয়াটা কঠিন। আমি বিশ্বাস করি আমার চাওয়া, ডেডিকেশন, স্পোর্টস নিয়ে ফোকাস আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সেটার কারণে ২০১৫ সালে এসে অধিনায়কত্ব পেয়েছি।

আমি এটাই বুঝাতে চাচ্ছি ২০ বছরের ক্যারিয়ারে আরও অনেক বেশি কিছু করতে পারতাম হয়তো। আমি সুস্থ থাকলে তিনশ উইকেট পেতাম টেস্টে, ওয়ানডেতে আরও বেশি পেতাম। কিন্তু এটা নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নাই। কারণ আমি জানি চেষ্টা করেছি। এজন্য খারাপ লাগে না। আল্লাহ সবাইকে সুযোগ দেয়, এগুলো নেওয়া খুব জরুরি।

আরও পড়ুন:


ফের মেয়র নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা

হেফাজত মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী না ফেরার দেশে

পীরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বেড়ে ৩


সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, জ্ঞান দক্ষতা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হচ্ছে। আজকে যারা আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপ্রাপ্ত হলেন জাতি গঠনে আপনাদের দায়িত্ব অনেক। আপনারাই হবেন একদিন এ দেশের রক্ষাকারী। আপনারাই নিয়ে যেতে পারেন লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো গবেষণা। এজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার সুযোগ করে দিতে হবে। পেশাগত উৎকর্ষ বিধানেরও ব্যবস্থা করতে হবে। 

সমাবর্তনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এমপি, ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমান,  উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তুজা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য, রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল (অব) ফয়জুল ইসলামসহ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন,  বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তারা ও শিক্ষার্থীরা। 

 news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর