হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

এ সময় এসে নারীরা নিজের আত্মবিশ্বাস, যোগ্যতা আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে এগিয়ে চলেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘর সামলে তাই বাইরে বেরোতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে তাদের নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নারীকে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায় আর এখন নতুন যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে প্রায় প্রতি পদক্ষেপেই যেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে।

যেমন নারীর একা চলাচলে নিরাপত্তার অভাব। আবার কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও নারীরা নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাই ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও চাকুরীক্ষেত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার আগেই এখনো গুটিয়ে যায় অনেকেই শুধুমাত্র নিরাপত্তার কথা ভেবে। অনিরাপদ বলতে শুধুমাত্র যৌন হয়রানিকেই আমরা অভিহিত করতে পারি না, বরং যৌন হয়রানি মূলক ইঙ্গিত, ইভটিজিং, অশালীন মন্তব্য, তার উন্নতি নিয়ে কটুবাক্য এসব কিছুই নারীর জন্য অনিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

এরকম নানা বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই নিজেকে কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকেন আর কেউ কেউ এসবের শিকার হয়েও চক্ষুলজ্জা, সমাজের অপ্রত্যাশিত দৃষ্টিভঙ্গি অথবা আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কায় চুপ করে যায়।

আর নতুন মাত্রা নিয়ে যোগ হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো নারীর পোস্ট কারও মতের সাথে ভিন্ন হলেই আপনারা নেতিবাচক এবং আপত্তিজনক কমেন্টের বন্যা বইয়ে দেন। হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি। এবং তাদেরকেই যারা এগুলোর সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত।

কারণ একজন নারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টে যে ধরণের ভাষা প্রয়োগ করা হয়, কোনো নারী কি যেকোনো পুরুষের পোস্টে গালি বা অসম্মানজনক কোনো কথা বলে? সেটা যতই মতের অমিল হোক না কেন। বড়জোড় একটা যুক্তিসঙ্গত কথা বলে অথবা এড়িয়ে যায়। ব্যতিক্রম থাকলে সেটা খুবই সামান্য।

অনেকে আবার ভুয়া একাউন্ট ব্যবহার করে শুধুমাত্র এসব বলার জন্য বা লেখার জন্যই! এসব করার আগে নিজেদের সাধুবাদ নিয়ে প্রশ্ন জাগে না মনে? নিজে সাধু না হলে অন্যকে অসাধু বলা তো দূর, বিচার করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে? কিন্তু এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তো নিত্য ঘটনা হতে পারে না। নারীর নিরাপত্তায় কঠোর আইন রয়েছে।

সংবিধানের ২৯ (১) অনুচ্ছেদে আছে, "প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের সমতা থাকবে।"

সংবিধানের ২৯ (৩) অনুচ্ছেদে আছে, "কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারীপুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মের নিয়োগ বা পদলাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।"

আরও পড়ুন


লক্ষ্মীপুরে খোঁজ মিলছে না দুই কিশোরীর

আশুগঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় দুই চালকল শ্রমিক নিহত

তিস্তার সব গেট খুলে দেওয়ায় বড় বন্যার আশঙ্কা

প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা


১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন পাস করা হয়। এ আইন পাসের পর নারী নির্যাতন কিছুটা বন্ধ হয়। পরে আইনটি বাতিলক্রমে ২০০০ সালে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনটিকে আরো শক্তিশালী করতে ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন প্রণয়ন করা হয়।

অর্থাৎ সংবিধানের ও আইনের প্রতি সম্পুর্ণ বিশ্বস্ত থাকলে কোনও ক্ষেত্রে নারীর প্রতি কোনও রকম অবমাননাকর আচরণ, বৈষম্য বা বৈষম্যমূলক কোনও আচরণ করার সুযোগ নেই। এমনকি, নারী উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ বিবেচনায় কোনও উদ্যোগ নিলেও তা সংবিধান সমর্থন করে, কিন্তু এসব আইন থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক নারী বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। 

নারী অধিকার মানবাধিকার থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়। মানবাধিকারের প্রতিটি বিষয়েই নারী অধিকার ও নিরাপত্তাকে জোর দেওয়া হয়। সেই সাথে নারীদের জন্য আছে রয়েছে কিছু অধিকার যা একান্তভাবে নারীকে তার নিজস্ব মর্যাদা ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শেখায়। নারী অধিকার এমন একটি বিষয় যা সব বয়সের নারীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

কিছু বিশেষায়িত অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাতে। বিশেষায়িত অধিকারগুলো আইন, কিছু আঞ্চলিক সংস্কৃতি, শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জাতি, বর্ণ ও রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এ অধিকারগুলো সামাজিক কর্মকাণ্ড, মূল্যবোধ ও রীতি দ্বারা সিদ্ধ হতে পারে।

তবে, যেভাবেই আমরা দেখে থাকি না কেন, নারীর এই অধিকারগুলো তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রস্ফুটিত করে তোলে, আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আর নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে নয়। যতবার রুখবেন তার চেয়ে কয়েকগুণ অদম্য হয়ে সামনে দাঁড়াবে। তাই সময় থাকতে চেপে যাওয়া বোধহয় ভালো। নিজে শোধরান, পারলে অন্যকেও শোধরানোর সুযোগ এবং সুপরামর্শ দিন।

এমি জান্নাত (সাংবাদিক)

লেখাটি ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

অর্থনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রাধান্য পাবে মানুষ

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

অর্থনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রাধান্য পাবে মানুষ

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে আসায় মহামারি-উত্তর বাস্তবতা চোখের সামনে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সমঝোতা ও ব্যবস্থাপনার একটি ক্রমঅগ্রসরমান রূপ ফুটে উঠেছে, যা কি না বিকাশমান বিশ্ব ব্যবস্থার ভিত্তি।

অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, মন্দার পর আসে চাঙ্গাভাব। ভারতের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, অর্থনৈতিক উৎপাদন ও কার্যক্রম চাঙ্গা হচ্ছে ক্রমশ। নজিরবিহীন মাত্রা ও জটিলতার এক টিকাদান কর্মসূচি স্বাস্থ্য নিরাপত্তার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। রেকর্ড কম সময়ে তা বিপন্নতার মাত্রা কমিয়েছে। বলা যায়, স্বাভাবিকতায় ফিরে এসে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মঞ্চটা এখন তৈরি।

এ কারণে এটি ভারতের জন্য এক সুযোগের মুহূর্ত। এই ক্রান্তিলগ্নে ভারত যেসব সিদ্ধান্ত নেবে তা থেকেই ইঙ্গিত মিলবে, অধিকতর সুন্দর এক ভবিষ্যৎ কোথায় নিহিত বলে মনে করছে দেশটি।

করোনাভাইরাস মহামারি দেখিয়েছে, বর্তমানের চেয়ে কম তো নয়ই, বরং আমাদের দরকার আরো আন্ত সংযুক্ত একটি বিশ্ব। অভিন্ন সমস্যাগুলোর অবশ্যই অভিন্ন সমাধান থাকা দরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত কয়েক মাস ধরে জি-৭, জি-২০, কপ-২৬, প্রথম কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি, ব্রিকস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন কাউন্সিলে মহামারি-পরবর্তী বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নতুন এক বিশ্ব ব্যবস্থার রূপকল্প তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চের মাধ্যমে একগুচ্ছ কৌশল এবং লক্ষ্য তুলে ধরেছেন, যা ভারতের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে সবার জন্য ভালো এক আগামীর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করবে। ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা প্রদানে ভূমিকা রেখেছে। উন্নয়নমূলক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছি।

সাম্প্রতিকতম ঘটনায় গ্লাসগোতে কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ‘পঞ্চামৃতের’ মাধ্যমে ভারতের জলবায়ু ভাবনার রূপরেখা দিয়েছেন। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অজীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা ৫০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকে শক্তির চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ করার পথ ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণ এক বিলিয়ন টন হ্রাস ও কার্বনের তীব্রতা ৪৫ শতাংশের নিচে আনা হবে। আর কার্বন নিঃসরণ ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’তে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্বেগের কথা তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়ন এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়েও তাদের তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতের সূচনা করা দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স এবং কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন এবং অভিযোজন প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই সংস্থাগুলোর অধীন বৈশ্বিক পর্যায়ে আন্ত সংযুক্ত সৌরশক্তি অবকাঠামোর জন্য ‘এক সূর্য, এক বিশ্ব, এক গ্রিড’ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রতিরোধী অবকাঠামোর জন্য ‘ঘাতসহ দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য অবকাঠামো’ কর্মসূচি চালু করেছেন।

ভারত জাতীয় হাইড্রোজেন মিশনের অধীনে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ও রপ্তানির এক বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ারও চেষ্টা করছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে টেকসই জীবনাচরণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে বক্তব্য দিয়েছেন, রোমে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে তা প্রশংসিত হয়। তিনি ‘লাইফ’ (Life) নামে এক শব্দের এক বিশ্ব আন্দোলনেরও প্রস্তাব করেছেন। এর মূল বিষয় হচ্ছে, পরিবেশ অনুকূল জীবনধারা। টেকসই জীবনধারার ব্যাপারে ভারতের নিজস্ব উদাহরণ বৈশ্বিকভাবে গ্রহণ করা গেলে তা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লড়াইকে আমূল বদলে দেবে।

করোনা মহামারি সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিমুক্ত ও আরো স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের সরবরাহ চেইন উন্নত করার জন্য তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন : বিশ্বস্ত উৎস, স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত সময়সীমা।

‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’ কর্মসূূচি স্থিতিস্থাপকতা এবং নির্ভরযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে। এটি ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চেইন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

এটি আর্থিক সহায়তা, তারল্য সরবরাহ, শিল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা, ব্যবসা করার পদ্ধতি আরো সহজ করা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর নীতি কাঠামোরই একটি অংশ।

একটি উৎপাদনসংক্রান্ত বিশেষ প্রণোদনা স্কিম বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। এটি দেশীয় উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় সক্ষম ভারতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। মহাকাশ, প্রতিরক্ষা এবং পারমাণবিক শক্তির মতো এত দিনের নিয়ন্ত্রিত খাতগুলোতে বেসরকারি অংশগ্রহণের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় একুশ শতকের উপযোগী কর্মশক্তি গড়ে তোলা ও ভারতকে বৈশ্বিক শিক্ষা ও দক্ষতা তৈরির কেন্দ্রে পরিণত করার কাঠামো তৈরি হচ্ছে।

ভারত তার অবকাঠামোর উন্নতিতেও বিশাল সরকারি বিনিয়োগ করছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘গতি শক্তি’ কর্মসূচি (মাল্টিমোডাল সংযোগ বিষয়ক জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান) সারা দেশকে সংযুক্ত করবে। এটি সংযোগের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি আনার পাশাপাশি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষকে এক ছাতার নিচে আনবে।

ভৌত অবকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি থাকবে ডিজিটাল সংযুক্তি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ইমিউনাইজেশনের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচি ‘জন ধন’ ও আধারের মতো বিশ্বেও বৃহত্তম বায়োমেট্রিক কর্মসূচি সরাসরি সহায়তার অর্থ সরবরাহকে ব্যাপকভাবে এগিয়ে নিয়েছে। এটি এখন অর্থ-প্রযুক্তিগত বিপ্লবে গতি সঞ্চার করছে। জয় জীবন ও আয়ুষ্মান ভারত সবাইকে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মাধ্যমে জীবনকে বদলে দিচ্ছে।

এসডিজি-৩-এর আওতায় আমাদের ওপর সব বয়সের সবার স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বের জন্য ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’ বিষয়ে সামগ্রিক রূপকল্প তুলে ধরেন।

করোনাভাইরাস মহামারি আন্তর্জাতিক কর্মপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল পরিসরে নিয়ে গেছে। দক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচির পোর্টাল কোউইন থেকে শুরু করে ডিজিটাল ভারত উদ্যোগ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রমাণ করছে ভারত নিজেকে অনেকটাই ডিজিটাল করে নিয়েছে।

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারত অনেক উন্নয়নমূলক সমস্যার জন্য উপযুক্ত সমাধানগুলো তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এ দেশ উন্নয়নের এক প্রমাণস্থল। ভারতের সাউথ-সাউথ উন্নয়ন সহযোগিতার বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশকে তারা অনেক ধারণা দিয়ে সহায়তা দিতে পারবে। এর আগে জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের তৈরি ওপেন সোর্স ডিজিটাল সলিউশনগুলো সবাইকে উপকৃত করবে।

করোনা মহামারির অন্ধকারতম দিনগুলোতেও ভারত ভুলে যায়নি যে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি অংশ। সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে ভারত দেড় শতাধিক দেশে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর বিনিময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সবার সমর্থনও পেয়েছে ভারত।

নিজ দেশে সফল টিকাকরণ অভিযান চলমান অবস্থায় ভারত তার প্রতিবেশী এবং অংশীদারদের কাছে আবার টিকা রপ্তানি শুরু করেছে। এগুলোসহ আরো অনেক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরিতে অন্যতম এবং গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। সে হবে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা, যা নিছক অর্থনীতির সীমা ছাড়িয়ে মানুষ ও তার মঙ্গলকেই চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হিসেবে দেখবে।

লেখক: ভারতের পররাষ্ট্রসচিব

আরও পড়ুন


এত খাবার তাহলে কে খায়?

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

নাজনীন আহমেদ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

নাজনীন আহমেদ

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত। এই অর্জন আমাদের জন্য যেমন আনন্দের, সম্মানের ও সম্ভাবনার, একই সাথে নানা রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হবে।

এ সম্পর্কে যাদের ধারণা অস্পষ্ট তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যারা অর্থনৈতিক সূচকের নানান দিকে পিছিয়ে এবং যাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুর্বল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, সেরূপ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত করে। জাতীয় আয় ও মানবসম্পদের উন্নয়ন কিছু নির্দিষ্ট মাত্রার উপরে নিতে পারলে এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা কমাতে পারলে কিছু কঠিন শর্ত পূরণ করে একটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ভুক্ত উন্নয়নশীল দেশ সেই তালিকা থেকে বের হয়ে যেতে পারে। একেই বলে LDC graduation.

২০২৬ সালে যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাব তখন স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবসা বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ, অর্থ ঋণের উপর সুদের হার, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহযোগিতায় অগ্রাধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার একটি smooth transition strategy (STS) করার প্রক্রিয়ায় আছে।

সরকার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে মিলে কাজ করছে। আমার বর্তমান কর্মপ্রতিষ্ঠান UNDP‌ বাংলাদেশের জন্য একটি STS তৈরি করতে Economic Relations Division (ERD) এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের এই যুগান্তকারী অর্জনকে অর্থবহ ও সাধারণ মানুষের জন্য fruitful করার প্রক্রিয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা সবাই মিলে সে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করবো। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের অনেক দায়িত্ব আছে। আমাদের আচার-আচরণে মানব সেবায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। আমি আশাবাদী মানুষ তাই LDC Graduation কে সুযোগ হিসেবে মনে করি বেশি।

আরও পড়ুন


টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

তখন আমরা ’স্টুডেন্ট’ বললেই কন্ডাক্টর হাফ ভাড়া নিতো

শওগাত আলী সাগর

তখন আমরা ’স্টুডেন্ট’ বললেই কন্ডাক্টর হাফ ভাড়া নিতো

শওগাত আলী সাগর

আমরা যে শিক্ষায় বিনিয়োগের কথা বলি, শিক্ষাখাতে রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যায় বলে দাবি করি, সেটা আসলে কোথায় যায়! একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিষ্কন্টক করতে তাকে আমরা কী ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা, সুযোগ সুবিধা দেই! ঢাকার রাস্তায় ‘হাফ পাসের’ দাবিতে শিক্ষার্থীদের গত কয়েকদিনের আন্দোলনের খবর পড়তে পড়তে কথাগুলো মনে হলো। 

শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে বাস বাড়া অর্ধেক দেয়ার সুযোগের দাবিতে। আমাদের ছাত্রবেলায় এমন একটা ব্যবস্থা ছিলো বলে স্পষ্ট মনে পরে।ইন্টারমেডিয়েটে  শিবপুর থেকে বাসে চড়ে কিছু দিন আমি জেলা সদরের নরসিংদী সরকারি কলেজে এসে ক্লাশ করেছি। তখন আমরা ’স্টুডেন্ট’ বললেই কন্ডাক্টর হাফ ভাড়া নিতো। কখনো কখনো পরিচয়পত্র দেখতে চাইতো।

সত্যি বলতে কী- ছাত্র অবস্থায় হাফ ভাড়ায় বাসে চড়ার কথাটা ভুলেই গিয়েছিলাম। ছাত্রদের আন্দোলন দেখে সেটি নতুন করে মনে পড়লো। পত্রিকায় দেখলাম- হাসান ভাইও ( তথ্যমন্ত্রী) হাফ ভাড়ায় বাসে চড়ার কথা মনে রেখেছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে- ‘বড় পদে’ থাকা অনেকেই জীবনে যে বাসে চড়েছেন- সে কথাই সম্ভবত ভুলে বসেছেন। নইলে ছাত্রদের বাস ভাড়া নিয়ে কয়েক দিন রাস্তায় পরে থাকতে হবে কেন! এটি অবশ্য রাষ্ট্রের তথা সরকারের ’রেসপনসিভনেস’ এরও ব্যাপার। জনগনের সমস্যায়, জনগনের ডাকে রাষ্ট্র কতোটা সাড়া দেয়, কতো দ্রুত সাড়া দেয়- তারও প্রমান।
 
কানাডায় দেখি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ছাত্র এবং বয়স্কদের (সিনিয়র সিটিজেন) আলাদা ভাড়ার ব্যবস্থা আছে। এগুলো নিয়ে কথা বলতে হয় না, সিস্টেমই সব ঠিক করে রেখেছে। কানাডায় অবশ্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এখনো ব্যক্তিমালিকানায় ছাড়া হয়নি।  ব্যক্তিমালিকানায় থাকলেও সরকার একটি নীতিমালা করে দিতে পারবে না- তা তো নয়। বিষয়টা হচ্ছে- আমরা কী চাই- সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার কী না।

আরও পড়ুন

হোটেলে ফ্রিজে পাশাপাশি কাঁচা মাংস ও পচা তরকারি!

গুরুত্বপূর্ণ ৭০ স্পটে ৪১১ সিসি ক্যামেরা

বিচারের দাবিতে নটর ডেম শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম 

শিক্ষা নিয়ে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে সত্যিই আমাদের আগ্রহ কিংবা আন্তরিকতা আছে কী না- তার প্রমান পাওয়া যায় শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী বিষয়ক কোনো ইস্যূতে সরকার কতো দ্রুত সাড়া দেয়, কী পদক্ষেপ নেয়- তার উপর। শিক্ষাখাত সরকারের অগ্রাধিকার হারালে শিক্ষার্থীরা গুরুত্ব পাবেন কীভাবে!

লেখাটি শওগাত আলী সাগর ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

পঞ্চাশ বছর কিংবা একশ বছর পর হলেও এটা হবে

রউফুল আলম

পঞ্চাশ বছর কিংবা একশ বছর পর হলেও এটা হবে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপান থেকে অনেক বেশি স্টুডেন্ট আমেরিকায় যেতে শুরু করে। আমেরিকার গবেষণা সম্পর্কে জানতে শুরু করে। যে আমেরিকা তাদের দু’টি শহর উড়িয়ে দিয়েছে, সে দেশ কেন সেরা—সেটা জানার জন‍্য জাপানিজ তরুণরা অধীর উৎসাহি হয়ে পড়ে। অসংখ‍্য জাপানিজ তরুণ আমেরিকার থেকে পিএইচডি-পোস্টডক করে জাপানে ফিরে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান গবেষণায় প্রচুর টাকা ঢালে। আজকের যে জাপান—সেটা হলো জ্ঞান-গবেষণার ফল। শুধু সত্তরের দশকের পর ২৫ টি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনের নানজিং (নানকিন) শহরে ভয়াবহ গণহত‍্যা ও ধর্ষন চালায় জাপানিজ সৈন‍্যরা। চীনের স্কুলের বইতে জাপানের এই গণহত‍্যার কথা পড়ানো হয়। কিন্তু তাই বলে, চীনের সরকার কিংবা চীনের কোন ইউনিভার্সিটি জাপানের সাথে জ্ঞান-গবেষণার সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। চীনের অসংখ‍্য স্টুডেন্ট জাপানের ইউনিভার্সিটিগুলোতে গবেষণা করছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের এক ভিসি ক্ষমতা পাওয়ার পরপর ঘোষণা দিলেন, পাকিস্তানের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের সকল সম্পর্ক ছিন্ন। যেহেতু তিনি কাজ করার মতো আর কিছুই পেলেন না, সেহেতু শিক্ষা কার্যক্রম ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন। একজন ভিসি এধরণের নিম্নমানের কাজ করতে পারে—ভাবলেই আমার লজ্জা ও ঘৃণা হয়। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সকল সম্পর্ক ছিন্ন থাকতে পারে। কিন্তু শিক্ষার আদান-প্রদান, জ্ঞান-গবেষণার সেতু বন্ধ থাকবে কেন? কোন যুক্তিতে?
 
ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশে সকল সম্পর্ক ছিন্ন থাকলেও, জ্ঞান-গবেষণার দরজা খুলে দেয়া উচিত। আমাদের তরুণরা যেনো সেদেশের ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে গবেষণা করতে পারে, সে সুযোগ তৈরি করে দেয়া উচিত। ইসরাইলের শিক্ষক-গবেষকরা যেনো বাংলাদেশে এসে শেখাতে পারে, সে দরজা তৈরি করা উচিত। (আমি জানি, পঞ্চাশ বছর কিংবা একশ বছর পর হলেও এটা হবে।)
 
বন্দুকের নল যখন মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি করেছে, সেখানে শিক্ষা-শিল্প-সঙ্গীত মানুষে মানুষে দূরত্ব কমিয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা যদি সত‍্যিকারে জাগতে চাই, তাহলে দুনিয়ার সব দেশ, সব জাত থেকেই শিখতে হবে। জ্ঞান-গবেষণা ধার করতে হবে। আজ আমরা যাদেরকে উন্নত জাতি বলি, তারা ঠিক এই কাজটিই করছে।

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত    

পরবর্তী খবর

হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে

শওগাত আলী সাগর

হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে

শওগাত আলী সাগর।

১. ‘ঢাকার খেলার মাঠে পাকিস্তানী পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করছে বাংলাদেশিরাই’- এই দৃশ্যটি অসহনীয়। কিন্তু যারা পাকিস্তানী পতাকা নিয়ে মাঠে গেছে- তাদের আমি শুরুতেই গালি দেবো না। তার  আগে তাদের মানসপটটা বোঝার চেষ্টা করবো।  বাংলাদেশ- পাকিস্তানের মধ্যকার খেলায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন এবং সেদেশের পতাকা নিয়ে উল্লাস করার পেছনে তাদের কী ভাবনা কাজ করেছে- সেটা বোঝার  চেষ্টা করতে চাইব।

ইতিমধ্যে কোনো মিডিয়া তাদের এই প্রশ্নটা করেছে কী না জানি না। কিন্তু করাটা দরকার ছিলো। তারা কেন এটা করছে- কেবল সেটা জানার জন্যই না, আমাদের এতে কোনো দায় আছে কী না, সেটা বোঝার জন্যও আমি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পক্ষে।

২. খেলার মাঠে পাকিস্তানকে সমর্থন করা বা পাকিস্তানের পক্ষে উল্লাস করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক দিন ধরেই এগুলো চলে আসছে। এখন সেটা সংখ্যায় বেড়েছে। ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতি মিশাবেন না’- এমন আপ্তবাক্য আর ‘এরা সব পাকি জারজ সন্তান’- এমন গালি দিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করেছি। এর বাইরে আর আর কিছু ভাববার দরকার আছে বলে কখনো মনে করিনি।

৩. খেলার সাথে কেন রাজনীতি জড়িয়ে যায়, কেবল রাজনীতিই নয, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম জড়িয়ে যায়- সেগুলো বোঝার সক্ষমতা না থাকলে, অন্যকে বোঝানোর সক্ষমতা না থাকলে . আমরা অন্যকে কী দিয়ে প্রভাবিত করবো! ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি, কিংবা পাকিস্তানীদের নৃসংসতা’ অন্যদের কেন স্পর্শ করা উচিৎ-  এই বোধটা এই মানুষগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব ছিলো কী না- সেটাও  ভাববার চেষ্টার মধ্যে রাখতে চাই।

৪. রাজনীতি, সংস্কৃতির চর্চা না থাকা একটা দেশে ‘বাংলাদেশ নব্বই শতাংশ মুসলমানদের দেশ’ প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে একটা জনগোষ্ঠীর কাছে পাকিস্তান তাদের মুসলিম উম্মাহ হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে কী না, মুসলমানিত্বের শতকরা হিসেবে তাদের কাছে বাংলাদেশ ‌‘কম ইসলামি দেশ’ মনে হয়েছে কী না- এইগেুলো জানার কৌতূহল্ও আমার আছে।

আরও পড়ুন: 


ফখরুল বললেন, আন্দোলন-আন্দোলন-আন্দোলন

ধর্ষণ মামলায় জামিন: ক্ষমা চাইলেন বিচারক


৫. মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে খেলার মাঠে পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লাস করা মানুষের সংখ্যা কেন বাড়ে, কীভাবে বাড়ে, রাষ্ট্র হিসেবে, সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি আছে কী না, লেখক হিসেবে, সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে, মিডিয়া হিসেবে- নাগরিকদের মনন এবং মনে দেশ প্রেম, স্বাধীনতাযুদ্ধের মন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা আমরা রেখেছি কী না- এগুলো নিয়ে ভাবাটাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবো।

৬. পাকিস্তানী পতাকা্ওয়ালাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
স্বাধীনতা বিরোধী, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান যাতে দেশে না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে ‘আওয়ামী লীগের অপরিহার্যতা’ আমরাই কিন্তু জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলাম।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের কোনো জনগোষ্ঠীর মনে পাকিস্তান প্রেম কীভাবে বেড়ে ওঠে- সেই প্রশ্নের উত্তরও  আমাদেরই দিতে হবে। অন্য কারো কাছে না হলেও নিজের কাছে তো বটেই।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুন দেশ, কানাডা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর