বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ২২ মিনিট আগে

আরাকানেই রোহিঙ্গাদের জন্য সেফ জোন তৈরি করতে হবে

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক:

আরাকানেই রোহিঙ্গাদের জন্য সেফ জোন তৈরি করতে হবে

চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। শত শত বছর ধরে তারা সেখানে বাস করছে। কোনমতেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। কিন্তু, মিয়ানমার চাইছে নির্যাতনের মাধ্যমে তাদেরকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে রাখার ব্যবস্থা করতে। সেই সুযোগ কোনভাবেই দেওয়া যাবে না। এজন্য আন্তর্জাতিক মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে আরাকানেই রোহিঙ্গাদের জন্য সেফ জোন তৈরি করতে হবে। এমন সেফ জোন তৈরির ইতিহাস বিশ্বে নতুন নয়। কসোভোতে হয়েছে, প্যালেস্টাইনে হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের (ইডব্লিউএমজিএল) কনফারেন্স কক্ষে 'রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়' শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।  দেশের আলোচিত এই ইস্যু নিয়ে বৈঠকটির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজটোয়েন্টিফোর।  

তিনি বলেন, মক্কা ও মদীনার চারপাশে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছে। সৌদি তাদেরকে জায়গা দিয়েছে। কেন দিয়েছে? তাদের জন্ম সৌদি ওরসে। সৌদি নাগরিকরাই রোহিঙ্গাদের পূর্বপুরুষ। তাই তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা।  

সাংসদ বাদল বলেন, রোহিঙ্গারা শুধু মিয়ানমার বা বাংলাদেশের বিষয় না। সারা বিশ্বে তারা বসবাস করছে। বলা হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি ১২ লাখ। বাংলাদেশ বলছে এখানে পাঁচ লাখ আগে এসেছে। এখন এসেছে দুই লাখ ৮০ হাজার। আট লাখ তো এখানেই। এছাড়া মালয়েশিয়ায় কিছু আছে, ইন্দোনেশিয়ায় আছে, সৌদি আরবে আছে। ভারত বলছে তাদের ওখানেও ৪০ হাজার আছে। আরাকানে যদি ১০ লাখ রোহিঙ্গা আর ১৫ লাখ বৌদ্ধ থাকে তাহলে ৩৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আরাকান স্টেট কি তাদের থাকার জন্য যথেষ্ট না? সেখানে কি রোহিঙ্গাদের জন্য একটা সেফ জোন তৈরি করা যায় না? কসোভোতে হয়েছে, প্যালেস্টাইনে হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে এ বিষয়টা বোঝানো দরকার। মিয়ানমার তাদেরকে অত্যাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে  পুশ করছে যাতে এখানে ওদেরকে স্থায়ীভাবে রাখার ব্যবস্থা করা যায়। সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। একবার সুযোগ পেলে আর ওরা কোনভাবেই ফিরিয়ে নিতে চাইবে না। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদেরকে সেখানেই সেফ জোন তৈরি করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী বলে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে মিয়ানমার। '৭১ সালে আমাদেরকেও সন্ত্রাসী বলা হয়েছিল। রোহিঙ্গাদের মা-বোনকে ধর্ষণ করছে, ছেলেকে কেটে ফেলেছে, মেয়েকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তারা কি মোটেও সেই প্রতিবাদ করতে পারছে? অং সান সুচি ২০১২ সালে নোবেল নেওয়ার সময় বলেছিলেন, একটা জাতি যদি নির্যাতিত হয়, সেই নির্যাতনের যদি কোন উত্তর না মেলে এবং ক্রমাগত নিপীড়িত হতে থাকে, অবশ্যই সেখানে প্রতিবাদের জন্ম হবে এবং সেই প্রতিবাদ সব ধরণের প্রতিবাদ। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন, অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান, অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, জিএম কাদের, আবুল হাসান চৌধুরী, ওয়ালিউর রহমান, ইনাম আহমেদ, নজরুল ইসলাম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, স্থপতি মোবাশ্বির হোসেন, ড. বদিউল আলম মজুমদার, কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম প্রমুখ। 

মন্তব্য