মাদরাসায় ঢুকে ছাত্র-শিক্ষকসহ ৬ জনকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

মাদরাসায় ঢুকে ছাত্র-শিক্ষকসহ ৬ জনকে হত্যা

রাত ৩টা। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকে রাতের নিস্তব্ধতা। ক্যাম্পের ভেতর দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা সবে জেগে উঠতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় তিন শতাধিক সন্ত্রাসী দা, কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন মাদরাসার তিনজন শিক্ষক, এক শিশু ছাত্র এবং হামলার খবর পেয়ে ছুটে আসা দুই রোহিঙ্গা শরণার্থী। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ জন।

মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা সাধারণ রোহিঙ্গাদের কয়েকটি দোকান ও বাড়িও ভাঙচুর করে। গতকাল শুক্রবার ভোরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দিনের বেলায় প্রকাশ পায় আসল ঘটনা। 

দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদরাসার শিক্ষক ও সাধারণ রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও তাদের অনুসারী সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার পর ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর একটি দেশীয় বন্দুক, ছয় রাউন্ড গুলি, একটি ছুরিসহ সন্দেহভাজন এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছেন তাঁরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হামলায় নিহতরা হলেন দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা আল-ইসলামিয়াহর শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ ইদ্রিস (৪০), মসজিদের ইমাম হাফেজ নুর হুালিম (৪৫), শিক্ষক হামিদ উল্লাহ (৫০), মাদরাসাছাত্র ইব্রাহিম হোসেন (২০), স্থানীয় রোহিঙ্গা আজিজুল হক (১৮) ও মোহাম্মদ আমিন (৬৩)।

এদিকে, মাদরাসার পরিচালক দিল মোহাম্মদসহ আরো অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্থানীয় রোহিঙ্গারা হামলায় নিহত ও আহত হন। গতকাল সকালে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে জানান, হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা নিশ্চিত করেন, সাতজন নয়, মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। গতকাল সকালে ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, যা ভুলবশত হামলায় মৃত্যুর সঙ্গে গণনা করা হয়।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট ১ নম্বর ব্লকে রোহিঙ্গাদের নেতা ও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অর্ধশত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে গতকালের হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলেও দাবি করেছেন মাদরাসার শিক্ষকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সশস্ত্র হামলাকারী রোহিঙ্গারা মাদরাসার ভেতর তাহাজ্জুদের নামাজ ও জিকিরে থাকা দুই শিক্ষককে প্রথমে গুলি এবং পরে রামদা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর আরো দুজনকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়। হামলায় আহত হয়ে দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, মাদরাসার দাওরা (উচ্চতর শ্রেণি) ছাত্র রহিমুল্লাহ বলেন, গতকাল শুক্রবার ছুটি থাকায় রাতে এশার নামাজের পর সামান্য পড়ালেখা করে ছাত্ররা শুয়ে পড়েছিল। ভোররাত ৩টার দিকে হঠাৎ মাদরাসার পশ্চিম দিক থেকে কয়েক শ লোক  অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাদরাসাটি ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে দেড় শতাধিক সন্ত্রাসী মাদরাসা ক্যাম্পাসে ঢুকে টিনশেড মাদরাসায় দা ও কিরিচ দিয়ে প্রথমে হামলা করে। পরে তারা নামাজরত শিক্ষকদের ওপর হামলা করে, গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। ছাত্রদের কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর করে তাদের ওপরও হামলা চালায়। সেখানে বেশির ভাগ ছিল হেফজ বিভাগের ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু। খবর পেয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের অনেকে তাঁদের সন্তানদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা করে সন্ত্রাসীরা। তবে এত বেশিসংখ্যক সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে প্রতিরোধ করতে সাহস করেনি কেউ।

মোহাম্মদ নামের ক্যাম্পের এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা আরসা সন্ত্রাসী। দ্রুত এসে তারা মাদরাসাটি ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা মাদরাসার ভেতরে ঢুকে পড়লেও অন্য সন্ত্রাসীরা বাইরের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা প্রতিরোধের জন্য পাহারায় ছিল।

সন্ত্রাসীরা মাদরাসায় ঢুকেই মওলানা দীন মোহাম্মদ নামের একজনকে খোঁজাখুঁজি করে। মওলানা দীন মোহাম্মদ মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা। ঘটনার সময় তিনি ইবাদতে ছিলেন। হামলাকারীদের মুখে তাঁর নাম শুনেই তিনি কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। হামলাকারীদের প্রত্যেকেরই হাতে বন্দুক, রামদা, ছুরি ও লোহার রড ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

গতকাল দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য আনা হয়। সেখানে আনোয়ার নামের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেন, সন্ত্রাসীরা শুধু গুলিতে নয়, ধারালো রামদা দিয়ে প্রায় প্রত্যেক রোহিঙ্গার হাত, হাত ও পায়ের আঙুল কেটে দিয়েছে।

হামলায় নিহত রোহিঙ্গা আজিজুল হকের মা সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আজিজ মাদরাসায় ঘটনার খবর শুনে হেফজ বিভাগে পড়ুয়া ভাই নুর কদরকে উদ্ধার করতে ছুটে গিয়েছিল। সেখানে আরসার সদস্যরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।’

নিহত নুর হালিমের স্ত্রী উম্মে হাবিবা বলেন, ‘আমার স্বামী মাদরাসাটির শিক্ষক ছিলেন এবং মসজিদে ইমামতি করতেন। সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে মাদরাসায় ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা সবাই আরসার লোক। এর আগেও একাধিকবার তারা আমার স্বামীকে হুমকি দিয়েছিল।’

গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দৌজা চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকারুজ্জামান চৌধুরী, ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক নাঈমুল হক, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক শিহাব কায়সার খান।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য ক্যাম্প প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে থাকবে। 

অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দৌজা বলেন, একদল দুর্বৃত্তের হামলায় ছয় রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’


এপিবিএন-৮ অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার বলেন, হামলাকারীদের একজনকে একটি দেশীয় লোডেড ওয়ান শ্যুটারগান, ছয় রাউন্ড গুলি, একটি ছুরিসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে আবারও সহিংস হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) টুইট বার্তায় ওই উদ্বেগের কথা জানায়। টুইট বার্তায় রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আবারও সহিংস হামলায় ইউএনএইচসিআর গভীর উদ্বিগ্ন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

news24bd.tv রিমু   

 

পরবর্তী খবর

প্রকাশ্যে কাউন্সিলর হত্যা: এবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নিহত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ্যে কাউন্সিলর হত্যা: এবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নিহত

নিহত শাহ আলম

কুমিল্লার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও আওয়ামী লীগ কর্মী হরিপদ সাহাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি শাহ আলম (২৮) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার চানপুর গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহ আলম কুমিল্লা নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত জানু মিয়া ছেলে। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিমল দাস।

এসআই পরিমল দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় একদল সন্ত্রাসী অবস্থান করছেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ওই এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়।

সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খালা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে তারা পলিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তি কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি শাহ আলম। ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি ৭.৬৫ পিস্তল, গুলি এবং কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের দুইজন সদস্য আহত হন। তাদের পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে ওই হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

আরও পড়ুন


এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুই বাবুর্চির লাশ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুই বাবুর্চির লাশ উদ্ধার

একটি বিয়ের সেন্টার থেকে দুই জন বাবুর্চির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিলেটের কানাইঘাটে আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী বাজারস্থ ‘আনন্দ কমিউনিটি সেন্টার’ থেকে ওই দুই বাবুর্চির লাশ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরেকজন বাবুর্চিকে। এদিকে জোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দেখা দিয়েছে।

নিহতরা হলো- কানাইঘাট উপজেলার নয়াগ্রামের মৃত রহমত উল্লাহ’র ছেলে সুহেল আহমদ (২৮) ও ওসমানীনগর উপজেলার তাহিরপুর গ্রামের মৃত আক্কাছ আলীর মেয়ে সালমা বেগম (৪০)। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাবুর্চি হলেন কানাইঘাট উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রামের নাজিম উদ্দিন। তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের রান্না করার জন্য আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে যান সুহেল আহমদ, সালমা বেগম ও নাজিম উদ্দিন। রাতে কাজ শেষ করে তারা কমিউনিটি সেন্টারের ২য় তলার একটি ঘরে শুয়ে পড়ে। আজ বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি দেখে বিয়ের আয়োজনকারী জসিম উদ্দিন তাদের ডাকতে যান।

আরও পড়ুন

দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬৯ ছাত্রের বিরুদ্ধে কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ

কুয়েট শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্ত চেয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

পরে ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে তিনজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় পুরো রুম ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুহেল ও সালমাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় নাজিমকে। 

পুলিশের ধারণা মশার কয়েল জ্বালিয়ে ছোট একটি রুমে তিনজন ঘুমিয়ে ছিলো। ধোঁয়া ও কয়েলের বিষাক্ততার কারণে তারা মারা যেতে পারেন।
 
কানাইঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, ‘কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে- ধোঁয়া ও কয়েলের বিষাক্ততা থেকে তাদের মৃত্যু হতে পারে।

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

বেকারত্ব ঘোচাতে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা

হৃদয় খান, নরসিংদী:

নরসিংদীতে বেকারত্ব ঘোচাতে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা। হতদরিদ্ররা পাচ্ছেন বিনামূল্যে এই সেবা। দক্ষ ও পেশাদার চালক তৈরি করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। 

নরসিংদীতে সেইপ, ওকাপ, আনসার ও বেসিক প্রশিক্ষণ এই চারটি প্রকল্পের অধীনে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। হতদরিদ্র শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে পাচ্ছেন এই সেবা।  এরই মধ্যে এ সেবার আওতায় ১ হাজার শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে হয়ে উঠেছেন দক্ষ চালক।

চাকরী না হওয়ায় বেকারত্ব ঘোচাতে বিকল্প পেশা হিসেবে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন শিক্ষিত এসব তরুণীরা।

দূর্ঘটনা রোধে সঠিক ট্রাফিক আইন ও দক্ষ চালক হিসেবে দেশে ও প্রবাসে এই পেশায় কাজ করার জন্যই এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিস্টরা জানান, হতদরিদ্রদের  জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি  ফ্রি ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে ।

শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা যদি এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয় তাহলে সড়কে  দূর্ঘটনা অনেকটা কমবে বলে মনে করেন  ট্রাফিকের এই কর্মকর্তা।

সড়ক দূর্ঘটনা রোধে সারাদেশে ১ লাখ দক্ষ চালক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশেন (বিআরটিসি)।

আরও পড়ুন


বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলা, আসামি ৮ শতাধিক

টেস্ট ছাড়া কেউ দেশে এলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

বেগমগঞ্জে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ২ কিশোরসহ গ্রেপ্তার ৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বেগমগঞ্জে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ২ কিশোরসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রতীকী ছবি

নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এদের মধ্যে দুই জন কিশোর রয়েছে।

আটককৃতরা হলো- সেনবাগ উপজেলার মো. সোহেল (১৮) বেগমগঞ্জ মো.জহিরুল ইসলাম (১৮) ফিরোজ আহম্মদ (১৫) ও মো.নেয়ামত উল্যাহ (১৬)।

বুধবার বেলা ১টার দিকে ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন


বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলা, আসামি ৮ শতাধিক

টেস্ট ছাড়া কেউ দেশে এলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.সফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ গ্রেফতারকৃত ৪ আসামি ওই স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে অবস্থান নেয়। বিষয়টি টের তারা তাদের  আটক করে। এসময় আটককৃতদের কাছ থেকে কিরিচ, ছোরা,বেøড জব্দ করে পুলিশ। 

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

খাবারের সঙ্গে নেশা দ্রব্য খাইয়ে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

নোয়াখালী প্রতিনিধি

খাবারের সঙ্গে নেশা দ্রব্য খাইয়ে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

নোয়াখালী

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে রাতের খাবারের সঙ্গে নেশা জাতিয় দ্রব্য মিশিয়ে একই বাড়ির ৪টি পরিবারের নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত দৃবৃত্তরা। 

ঘটনাটি মঙ্গলবার  রাতে সেনবাগ উপজেলার পশ্চিম ছাতারপাইয়া গ্রামে। 

বাড়ির লোকজন জানায়, ওই বাড়ির ৪টি পরিবারের সদস্য রাতের খারাব খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বুধবার সকালে তারা ঘুম থেকে না ওঠায় বাড়ির অপর সদস্যরা ডাকাডাকি করে কোণ সাড়াশব্দ না দেখে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী দি ল্যাব হাসপাতালে ভর্তি করান।

আরও পড়ুন


বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলা, আসামি ৮ শতাধিক

টেস্ট ছাড়া কেউ দেশে এলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


বুধবার দুপুরে সেনবাগ থানার এস আই আরিপ হোসেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন স্থানিয় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান আবদুর রহমান। 

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর