যেসব খাবারে ফুসফুস পরিষ্কার ও ভালো থাকবে

অনলাইন ডেস্ক

যেসব খাবারে ফুসফুস পরিষ্কার ও ভালো থাকবে

চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের কবলে পড়লে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার ফুসফুস। তাই ফুসফুসকে ভালো ও সতেজ রাখতে এখনই দরকার সতর্কতা।

কীভাবে ফুসফুস ভালো ও পরিষ্কার রাখা যায় তা নিচে তুলে ধরা হলো।

১. মধুতে অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল ও প্রদাহনাশক ক্ষমতা রয়েছে, যা ফুসফুস পরিষ্কার করে। তাই প্রতিদিন এক চা চামচ মধু খেলে তা হবে ফুসফুসের জন্য উপকারী। 

২.কাজু, আখরোট, পেস্তা, চিনাবাদামসহ মিষ্টি কুমড়ার বীজ ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে। সেই-সঙ্গে খনিজ লবণ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এসব খাবার ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ এবং প্রদাহজনিত সমস্যা রোধ করতে সাহায্য করে।

৩. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের প্রদাহজনিত সমস্যা রোধে বেশ কার্যকরী। বিশেষ করে ভিটামিন ডি’র অভাবে শিশুদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এর মূল উৎস সূর্য। এ ছাড়া দুধ, ডিম, দই, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাবারে প্রচুর ভিটামিন ‘ডি’ রয়েছে।

৪. তুলসী পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। আর এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফুসফুস সুরক্ষায় খুবই কার্যকর। বাতাসে থাকা ধূলিকণা শোষণ করতে পারে তুলসী। তাই শ্বাসযন্ত্রের দূষিত পদার্থ দূর করতে তুলসীপাতার রস কিংবা এই পাতা পানিতে ফুটিয়ে পান করুন। ফুসফুস ভালো থাকবে।

আরও পড়ুন: ফুসফুসের যেসব সংকেত ভুলেও অবহেলা নয়

৫. ফুসফুস ভালো রাখতে কালোজিরা অনেক ভালো কাজ করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শ্বাসনালির প্রদাহ রোধ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন আধা চা চামচ কালোজিরার গুঁড়া এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ফুসফুস ভালো থাকবে।

৬. ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ফুসফুসের প্রদাহজনিত সমস্যা রোধ করে এই ভিটামিন। শ্বাসযন্ত্রে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে এবং শ্বাসনালির জীবাণু ধ্বংস করে। লেবু, আমলকি, কমলা, আপেল, পেয়ারা ইত্যাদি খাবারে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।

৭. রসুনে রয়েছে প্রচুর সেলিনিয়াম ও অ্যালিসিন। এ দুটি প্রাকৃতিক উপাদান ফুসফুস ও শ্বাসনালি ভালো রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ রোধে রসুনের ব্যবহার হয়ে আসছে।

৮. শারীরিক কসরতের বিকল্প নেই। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি ব্যায়াম আপনার ফুসফুসকে ভালো রাখবে। এ জন্য এরোবিক্স, ইয়োগা বা কার্ডিও এক্সারসাইজ প্রতিদিন করতে হবে।

আরও পড়ুন


ঘটনা তৃতীয় পক্ষই ঘটিয়েছে, ইকবাল শুধু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন, তৃতীয় পক্ষ কারা?

সব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী, অভিযোগ মানা হয়নি গঠনতন্ত্র

মাদরাসায় ঢুকে ছাত্র-শিক্ষকসহ ৬ জনকে হত্যা

বিল থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাওয়া যায়নি পরিচয়

৯. গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে ফ্ল্যাবিনয়েড নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফুসফুসের কার্য পরিচালনায় সহায়তা করে। সে সঙ্গে ফুসফুস থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।

১০. হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কারকিউমিন ফুসফুসকে দূষিত পদার্থের প্রভাব থেকে সুরক্ষা করে। সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে কাঁচা হলুদের রস করে মাখন বা ঘির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ভালো কাজ হয়।

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

হাড় ক্ষয় রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

হাড় ক্ষয় রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ অস্টিওপোরোসিস । এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতিবছর বিশ্বে ৯০ লাখের বেশি মানুষের হাড় ভাঙে অস্টিওপোরোসিসের কারণে।  অস্টিওপেনিয়ার সময়ই হাড়কে দুর্বল করে ফেলে এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই নীরবে এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে। হাড় ভেঙে যাওয়ার আগে এই রোগের তেমন একটা লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশে ৬০ লাখের মতো মানুষ হাড় ক্ষয়রোগে ভুগছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের এই রোগের ঝুঁকি ৫.১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩.১ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনের অসামঞ্জস্যের (স্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন) কারণে হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি হয়।

অস্টিওপোরোসিস  এর কারণ
হাড়ক্ষয়ের পেছনে নানা ধরনের কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হলো : খাদ্য : পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘বি’, ভিটামিন ‘বি ১২’ ইত্যাদির অভাব হাড়ক্ষয়ের জন্য দায়ী। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন গড়ে ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন, সেখানে প্রতিদিন গড় ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ৩০৩ মিলিগ্রাম।

বংশগত : বংশে হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ইতিহাস থাকলে।
হরমোনাল : কম বয়সে মেনোপজ হলে, হাড়ের ঘনত্ব কম থাকলে।

অন্যান্য রোগ : রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম, ক্রনিক লিভার ডিজিজ থাকলে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : স্টেরয়েড (যেমন প্রেডনিসোলোন, ডেক্সামেথাসন, প্রটন পাম্প ইনহিবিটর ইত্যাদি সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাড়ক্ষয় হতে পারে।

কায়িক শ্রম না করা : দৈনন্দিন জীবনে কায়িক শ্রম বা ব্যায়ামের অভ্যাস না গড়ে তোলা হাড় গঠনের জন্য বড় সমস্যা।

লক্ষণ

হাড়ক্ষয় একটি নীরব ঘাতক। তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। এরপরও কিছু লক্ষণ হলো, পিঠের পেছন দিকের অস্থিতে ব্যথা অনুভব হওয়া, হিপ, কোমর ও মেরুদণ্ডে ক্ষয় দেখা দেওয়া, উচ্চতা কিছুটা কমে যাওয়া, হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় ঝুঁকে থাকা, হঠাৎ পড়ে গেলে হার ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি।

হাড়ক্ষয় প্রতিরোধে করণীয়
সঠিক খাদ্যাভ্যাস : হাড় ক্ষয়রোগীদের দুধ, দই, পনির, সয়াবিন, বাদাম, ঋতুকালীন সবুজ শাকসবজি, লেটুস, ব্রকলি, মাশরুম জাতীয় খাবার, মাছ খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:


দ. আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন খুবই ভয়ঙ্কর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একই ইউপিতে বাবা-ছেলে ও আপন দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী!

বেগম জিয়ার জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই: হানিফ


ক্যালসিয়াম : দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন রকম থাকে। গড়ে তিন বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম, চার থেকে আট বছর পর্যন্ত ৮০০ মিলিগ্রাম, ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সে ১৩০০ মিলিগ্রাম, ১৯ থেকে ৫০ বছরে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং ৫১ বছর বা তদুর্ধ্বে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাবার থেকে গ্রহণ করা উচিত। দুধ ছাড়াও বাদাম, শাকসবজি, ছোট মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে।
প্রোটিন : কাঁটাসহ সার্ডিন মাছ, অ্যালমন্ড, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি খাবার গ্রহণ।

ভিটামিন ‘ডি’ : একজন মানুষের ভিটামিন ‘ডি’র চাহিদা দৈনিক১০-১২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাত্র ১ শতাংশ লোক যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করে থাকে। ক্যালসিয়াম শোষণ, শক্তিশালী হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘ডি’। কিন্তু শুধু খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে যথেষ্ট ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া কঠিন। সূর্যের আলো ভিটামিন ‘ডি’র সবচেয়ে ভালো উৎস। তাই প্রতিদিন ২৫-৩০ মিনিট রোদে থাকা ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। এ ছাড়া চর্বিযুক্ত টুনা, স্যালমন মাছ, ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাওয়া উচিত।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কাঁধের জয়েন্টে ব্যথার কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা!

অনলাইন ডেস্ক

কাঁধের জয়েন্টে ব্যথার কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা!

ফাইল ছবি

কাঁধের জয়েন্টে ব্যথার কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের অর্থোপেডিক ও অর্থোপ্লাস্টি সেন্টারের হেড ও চিফ কন্সালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন। 

কারণ : ফ্রোজেন শোল্ডারের তেমন কোনো কারণ জানা যায়নি। ডায়াবেটিস, হাইপারলিপিডেমিয়া বা শরীরে অতিরিক্ত মেদ, হাইপার থাইরয়েড, হৃদরোগ ও প্যারালাইসিস রোগীদের মধ্যে ফ্রোজেন শোল্ডারের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে। কাঁধের অস্থিসন্ধিতে যে পর্দা থাকে, তার দুটি আবরণ থাকে। একটি ভেতরের দিকে, আরেকটি বাইরের দিকে। 

এ দুই আবরণের মাঝখানে কিছুটা ফাঁকা জায়গা থাকে, যেখানে এক ধরনের তরল পিচ্ছিল পদার্থ থাকে, যা কাঁধের নড়াচড়ার জন্য জরুরি। এ রোগে ওই দুই পর্দার মাঝখানের জায়গা ও পিচ্ছিল পদার্থ কমে যায়, ফলে কাঁধের নড়াচড়া মসৃণভাবে হয় না এবং প্রচুর ব্যথার সৃষ্টি করে। ব্যথা দিন দিন বাড়তে থাকে এবং এক সময় তা অসহ্য হয়ে পড়ে। সাধারণত মধ্যবয়সেই এ রোগ বেশি দেখা যায়।

উপসর্গ: ফ্রোজেন শোল্ডার রোগীর কাঁধের নড়াচড়া, বিশেষ করে হাত ওপরের দিকে উঠানো এবং হাত ঘুরিয়ে পিঠ চুলকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাঁধের এক্স-রে করলে তা প্রায় স্বাভাবিক পাওয়া যায়। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে সেখানে আগে আঘাত ছিল বলে জানা যায়। কদাচিৎ কাঁধ কিছুটা শুকিয়ে যাওয়ার মতো মনে হতে পারে। 

এটা হয় ব্যথার কারণে, দীর্ঘদিন আক্রান্ত কাঁধ ব্যবহার না করলে। আবার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হাত ঝিঁঝি করা, শক্তি কম পাওয়া, এমনকি পাশাপাশি হাত একেবারেই উঠাতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা যায়। তাদের খুব সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা উচিত, রোগটি ফ্রোজেন শোল্ডার, নাকি স্নায়ুরোগজনিত কোনো সমস্যা, নাকি অতীতের আঘাতের ফলে রোটেটর কাফের ছিঁড়ে যাওয়া জনিত কোনো সমস্যা। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসার ধরনও ভিন্ন হয়।

চিকিৎসা: কোনো ধরনের অপারেশন ছাড়াই এ রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রথমে রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে, এটি খুব সাধারণ একটি সমস্যা। পাশাপাশি হালকা কিছু ব্যথানাশক দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সঠিক ও বিশেষ কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনা থেকে ফ্রোজেন শোল্ডার ভালো হয়ে যায়, যদিও কিছুটা সময় লাগে। 

ব্যায়াম বা ব্যথানাশকে কাজ না হলে, অর্থোপেডিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কাঁধের অস্থিসন্ধিতে স্টেরয়েড ইনজেকশন প্রয়োগও করতে হতে পারে। এটার অবশ্য ফল বেশ ভালো এবং রোগীরাও অনেক সময় এটি নেয়ার জন্য উদগ্রীব থাকেন। তবে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিলেও ফ্রোজেন শোল্ডার হলে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই, যা সব সময় চালিয়ে যেতে হবে। তাই ফ্রোজেন শোল্ডার নামক অর্ধপঙ্গুত্ব নিয়ে আর বসবাস নয়।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

বাতের ব্যথা মুক্তির উপায়

অনলাইন ডেস্ক

বাতের ব্যথা মুক্তির উপায়

বাত শরীরের একটি যন্ত্রণাদায়ক রোগ। বাতের ব্যথা অতি পরিচিত একটি সমস্যা। আমাদের চারপাশে আজকাল অনেকেই এই ব্যথার ভুক্তভোগী। বাতের ব্যথার কারণে হাঁটতে, বসতে, উঠতে পারছেন না। প্রতিটা দিন অসহনীয় কষ্ট পেতে হচ্ছে এই বাতের ব্যথার কারণে।

কিন্তু নিয়মিত কিছু কাজ করলে খুব সহজেই বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷ আসুন জেনে নেই, সেই কাজগুলো সম্পর্কে যা আপনাকে মুক্তি দেবে বাতের ব্যথা থেকে-

১. মেরুদণ্ড ও ঘাড় নিচু করে কোনো কাজ করবেন না।
২. বিছানায় শোয়া ও ওঠার সময় যেকোনো একদিকে কাত হয়ে হাতের ওপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন।

৩. ব্যথার জায়গায় নির্দিষ্ট সময় ধরে গরম বা ঠান্ডা ভাপ দিন। সময়টা ১০ থেকে ১৫ মিনিট হলে ভালো হয়।

৪. অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। প্রয়োজনে একক ঘণ্টা পর পর হাঁটাহাঁটি করবেন। নিজের অবস্থান বদলাবেন।

৫. নিচু জিনিস যেমন-পিড়ি, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে বসতে হবে। বসার সময় পিঠ ঠেস না দিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন।

৬. নরম ফোম ও জাজিমে শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এর বদলে উঁচু, শক্ত ও সমান বিছানায় শোবেন।

৭. মাথায় বা হাতে ভারি ওজন বহন এড়িয়ে চলতে হবে। দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে রান্না করা যাবে না।

৮. চিকিৎসকের নির্দেশ মতো নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তবে ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন।

৯. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। পেট ভরে খাওয়া নিষেধ আপনার জন্য। অল্প অল্প করে বার বার খাবেন। প্রতিবার খাবারের আগে কিছুটা পানি পান করে নিন।

১০. হাইহিল যুক্ত জুতো ব্যবহার করবেন না। নরম জুতো ব্যবহার করবেন। ব্যথা তীব্র হলে উঁচু কমোডে বসে টয়লেট করুন। ব্যথা বেশি অনুভূত হলে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন।

প্রতিরোধ
প্রতিরোধই বাতের সমস্যা থেকে উপশমের উত্তম উপায়। রোগ দেখা দিলে ওষুধের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যায় বটে, তবে তখন অ্যালকোহল এবং যেসব খাবার গ্রহণ করলে ইউরিক এসিড মজুদ হওয়া বেড়ে যায়, সেসব থেকে দূরে থাকা অবশ্য কর্তব্য।

এছাড়া রোগীকে প্রচুর পানি খেতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সুষম খাবার ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওজন ঠিক রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, রোগ হলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ মতো চলতে হবে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

পিঠে ব্যথা? দূর করার উপায় জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক

পিঠে ব্যথা? দূর করার উপায় জেনে নিন

প্রতীকী ছবি

অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করছেন আবার অনেকে ফোন হাতে নিয়ে কিংবা কম্পিউটারের পর্দায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করছেন। ফলে কায়িক শ্রম খানিক কম হচ্ছে। অনেকেই আবার সময়ের অভাবে বাড়িতেও শরীরচর্চা করে উঠতে পারেন না। সব কিছুর ফলে পিঠে ব্যথার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। সমস্ত বয়সের মানুষের মধ্যেই এই সমস্যার পরিমাণ বাড়ছে। ৯০ শতাংশ মানুষের পিঠে ব্যথার প্রধান কারণ হল এক জায়গায় অনেক ক্ষণ বসে থাকা। তবে এই সমস্যার তাৎক্ষণিক উপশমও হতে পারে, এমন কিছু উপায় আছে। সেগুলি কী কী চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

১) চেষ্টা করুন, ঘুমোনোর সময় মাথার নীচে বালিশ না নিতে।

২) নিয়মিত শবাসন, ভুজঙ্গাসন, মকরাসন প্রভৃতি শরীরচর্চা করলে পিঠের ব্যথা কমে।

৩) অফিসের কাজ করার সময়ে একই জায়গায় এবং একই ভঙ্গিতে অনেক ক্ষণ বসে থাকবেন না। প্রতি ২০ মিনিট অন্তর বিরতি নিতে পারেন। উঠে দাঁড়ান, হাঁটাচলা করুন।

আরও পড়ুন:


কাউন্সিলর হত্যার ঘটনায় ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

দ্রুত শক্তির জন্য ‘সুপার ফুড’

অনলাইন ডেস্ক

দ্রুত শক্তির জন্য ‘সুপার ফুড’

দ্রুত শক্তির জন্য সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে কাঠবাদামকে। কাঠবাদাম সুস্থ পেশি, ওজন নিয়ন্ত্রণ, উজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য বেশ উপকারী। মূলত এসকল গুণাগুণের জন্য একে ‘সুপার ফুড’ বলেও অভিহিত করা হয়। কাঠবাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। এটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। 

কাঠবাদামে সাধারণত ভিটামিন, মিনারেল, এসেনশিয়াল, ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকায় কাঠবাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক বেশি। কাঠবাদামে যে পরিমাণ ফ্যাট ও প্রোটিন আছে, যা দ্রুত শরীরকে শক্তি জোগায় এবং মানসিক তৃপ্তির কারণে অনেকক্ষণ খিদে লাগবে না। দ্রুত ক্লান্তি দূর করবে এবং দ্রুত শক্তির জোগান দেবে।

কাঠবাদামে শর্করার পরিমাণ কম বলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী। ১২ থেকে ১৫টি কাঠবাদাম থেকে আপনি ১০০ কিলোক্যালোরি পাবেন। যাঁরা ১২০০ থেকে ১৪০০ কিলোক্যালোরির ডায়েট করছেন ওজন কমানোর জন্য, তাঁরাও কিন্তু মিড-মর্নিং স্ন্যাকসে কাঠবাদাম খেতে পারেন।

 কাঠবাদামে উপস্থিত ফ্ল্যামোনয়েডস, যা আপনার কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করবে। কাঠবাদামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান, যা ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। কাঠবাদামে প্রচুর পটাশিয়াম বিদ্যমান, যা উচ্চরক্তচাপ কমাতে সহায়তা করবে।

কাঠবাদাম উচ্চ আঁশযুক্ত। ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। অপরদিকে, এতে প্রচুর এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায়, হৃদরোগীদের যে ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড দরকার, তার সরবরাহ করে থাকে কাঠবাদাম।

যাদের কাঠবাদাম খাওয়া ঠিক না
তবে সব স্বাস্থ্যকর খাবারের মতোই অতিরিক্ত খেলে কাঠবাদামেরও ক্ষতিকর প্রভাব আছে, বিশেষ করে ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল’ বিভিন্ন সমস্যা।

*যাদের বাদামে অ্যালার্জি

*খাবার গিলতে যাদের সমস্যা

*যারা ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছেন

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর