পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ইকবালের সঙ্গে যে ৩ জনের যোগসূত্র

অনলাইন ডেস্ক

পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ইকবালের সঙ্গে যে ৩ জনের যোগসূত্র

কুমিল্লায় অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত থেকে ইকবালকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে গতকাল সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ইকবাল হোসেনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া বাকি তিনজনের দৃশ্যমান যোগসূত্র রয়েছে। পুলিশের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। 

গ্রেপ্তার বাকি তিনজনের একজন হলেন ঘটনার দিন সকালে জাতীয় জরুরি সেবার হেল্পডেস্ক নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা ইকরাম হোসেন। অন্য দুজন হলেন যে মাজার মসজিদ থেকে ইকবাল কোরআন শরিফ নিয়ে মণ্ডপে রাখেন, সেই মাজারের সহকারী খাদেম মো. হুমায়ুন কবির ও মো. ফয়সাল আহমেদ।

এই চারজনকে কোরআন অবমাননার কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানায় করা মামলাটির বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে আসার কথা স্বীকার করা ছাড়া ইকবাল আর কোন তথ্য দেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্য তিনজনের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া গেছে কি-না সেটাও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়নি।

ইকবালের সঙ্গে বাকি তিনজনের সম্পর্ক : পুলিশের প্রকাশ করা ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ক্লোজ সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজের একটি অংশে দেখা গেছে, ইকবাল মণ্ডপে কোরআন রেখে গদা কাঁধে নিয়ে ফেরার সময় ইকরামও নানুয়ার দীঘির পাড়ে অবস্থান করছিলেন। আশপাশে নজর রাখছিলেন। তাঁরা দুজনই মাদকাসক্ত। তাঁরা নিয়মিত নানুয়ার দীঘির পাড়ের কাছে শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরির (রহ.) মাজারে আসা-যাওয়া করতেন। ফলে মাজার ও এর মসজিদের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত মো. হুমায়ুন কবির ও মো. ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে তাঁদের সখ্য গড়ে ওঠে। হুমায়ুন ও ফয়সাল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র সেনা নামের একটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ইকরাম। মণ্ডপে কোরআন রাখেন ইকবাল। আর ইকরামের দায়িত্ব ছিল ভোরে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর। সে অনুযায়ী তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন। এ ছাড়া ঘটনার খবরে যখন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাঁরা দুজনই পূজামণ্ডপে ছিলেন। তাঁরা মানুষকে উসকে দিয়েছেন এবং নিজেরাও সহিংসতায় অংশ নিয়েছেন।

জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আগে থেকে ইকবাল ও ইকরামের মধ্যে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইকরাম নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাশারিপট্টি এলাকার রিকশাচালক বিল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত হলেও স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। ইকরাম আগে কাজ করতেন পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর ইকবাল নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর (সুজানগর) এলাকার মাছ ব্যবসায়ী নূর আহম্মদ ওরফে আলমের ছেলে। ইকবাল ও ইকরামের বাসার দূরত্ব প্রায় আধাকিলোমিটার।

ইকরামের ফেসবুক : ইকরাম নিজেকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কুর কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, ইকরাম নিয়মিত বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করতেন। ইকরামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া গেছে। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টি রেজাউল হোসাইন ইকরাম নামে রয়েছে। অ্যাকাউন্টি লক করে রেখেছেন তিনি।

তাঁর সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব রয়েছে এমন একজনের মাধ্যমে শনিবার দুপুরে ইকরামের অ্যাকাউন্টি ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি নিয়মিত দলীয় বিষয়ে ফেসবুকে লেখা, ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতেন। তিনি ২০১৭ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় মেয়র সাক্কুর নির্বাচনী পোস্টার তাঁর প্রোফাইল ফটো হিসেবে দিয়েছেন কয়েকবার। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রয়াত বিএনপি নেতা আকবর হোসেনকে নিয়েও বেশ কিছু পোস্ট করেছেন তিনি।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা ও সিটি মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ইকরামকে চিনি না। শুনেছি তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা দলীয় কোনো যোগাযোগ নেই। সে বিএনপি করতে পারে, তবে আমি জানি না। আমি চাই, এই ঘটনায় জড়িতরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের সবার বিচার হোক।’

এদিকে কাউন্সিলর সোহেল বলেন, ঘটনার দিন নানুয়ার দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল। যদিও ঘটনাটি ঘটেছে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি অভিযুক্ত ইকবালের পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন বলেও গণমাধ্যম খবর বের হয়েছে। 

সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র। গতকাল সন্ধ্যায় ইকবাল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, ‘শুধু আমি না, পুরো এলাকার মানুষ জানে ইকবালের মাথায় সমস্যা আছে। মাথায় সমস্যা না থাকলে একটি মানুষ কীভাবে কবরস্থান-বাথরুমে ঘুমাতে পারে?’ বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে দাবি করে এই ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘ঘটনার দিন যখন খবর পেলাম, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তখন আমি নেতাদের নির্দেশে সেখানে গিয়েছি। এরপর আমাদের নেতা এমপি বাহারের নির্দেশে তিন দিন লোকজন দিয়ে এলাকার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়েছি। এতে আমার এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি জনপ্রতিনিধি, সবাই আমার কাছে ভালো। গত রমজানে ইকবালের বাবা পরিবার নিয়ে খেতে পারছিল না। তখন তাঁকে চার হাজার টাকা দিয়েছি তরকারির ব্যবসা করার জন্য। কাউকে সহযোগিতা করা কি অন্যায়? আমার সোজা কথা, এ ঘটনায় জড়িত সবার কঠোর শাস্তি চাই।’

আর ঘটনাস্থলে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ইমরান বাচ্চু বলেন, কোতোয়ালি থানার ওসির ফোন পেয়ে তিনি সোয়া ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। এরপর প্রায় তিন ঘণ্টা প্রশাসনের সঙ্গে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সকাল ১১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা : ইকবালকে ‘ভবঘুরে’ ও ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলা হচ্ছে কেন, গতকাল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে তাকে এমনটা মনে হয়নি। আমরা তাকে সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের আরো একটু সময় লাগবে। শিগগিরই বিস্তারিত জানাতে পারব বলে আশা করছি।’

তানভীর আহমেদ আরো বলেন, ‘ইকবাল গদাটি এলাকার একটি পুকুরে ফেলে দিয়েছেন বলে আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। আমরা তাঁকে নিয়ে সেটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন


ঘটনা তৃতীয় পক্ষই ঘটিয়েছে, ইকবাল শুধু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন, তৃতীয় পক্ষ কারা?

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই ইকবাল ও ইকরাম পূজামণ্ডপে ছিলেন। তাঁরা মণ্ডপে হামলা করার জন্য মানুষকে উসকে দিয়েছেন। এ ছাড়া নিজেরাও সরাসরি সহিংসতায় অংশ নিয়েছেন। ঘটনার পর ইকবাল যখন বুঝতে পেরেছেন তাঁকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তখনই তিনি কুমিল্লা থেকে পালিয়ে যান। কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে প্রথমে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গেছেন, এরপর ভেঙে ভেঙে কক্সবাজার গেছেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজত (রিমান্ড) চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষ বিচারক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

news24bd.tv রিমু    

পরবর্তী খবর

জেমস ও মাইলসের মামলায় জামিন পেলেন বাংলালিংকের সিইও

অনলাইন ডেস্ক

জেমস ও মাইলসের মামলায় জামিন পেলেন বাংলালিংকের সিইও

ফাইল ছবি

অনুমতি ছাড়া জেমস ও মাইলসের ৮টি গান ১৪ বছর ধরে ওয়েলকামটিউন হিসেবে ব্যবহার করায় কপিরাইট আইনে বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন জেমস ও মাইলস। সেই মামলায় জামিন পেয়েছেন বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক অ্যাসসহ চারজন।

জামনি পাওয়া অন্য তিনজন হলেন- প্রতিষ্ঠানটির চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার এম নুরুল আলম, চিফ করপোরেট রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান এবং হেড অব ভ্যাস অনিক ধর।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে তারা পৃথক দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসময় তিনি বলেন, জেমস আদালতে বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে মামলার আবেদন করতে আসেন। বিচারক গুলশান থানায় গিয়ে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। এছাড়া থানায় যদি মামলা না নেয় তাহলে আদালতে এসে মামলার আবেদন করতে বলেন।

এর আগে ১০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে এ দুই মামলা করেন তারা। আদালত তাদের এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য বাংলালিংকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। সেদিন জেমস আদালতে উপস্থিত হন। এছাড়া মাইলসের পক্ষে দুজন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন


আবারও সড়কে ঝরল শিক্ষার্থীর প্রাণ

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সেই লেডি বাইকার রিয়ার পক্ষে আদালতে ব্যারিস্টার সুমন

অনলাইন ডেস্ক

সেই লেডি বাইকার রিয়ার পক্ষে আদালতে ব্যারিস্টার সুমন

লেডি বাইকার রিয়া রায় ও ব্যারিস্টার সুমন

সিলেটের আলোচিত লেডি বাইকার রিয়া রায় মাদক মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তিনি এখনও পতালক রয়েছেন। রিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন উচ্চ আদালতে শুনানি করবেন।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, হাইকোর্টের একটি ফৌজদারি বেঞ্চে লেডি বাইকার রিয়া রায়ের জামিন আবেদন করেছি। তার পক্ষে আমি নিজেই শুনানি করব।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৭ নভেম্বর সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে মাদকসহ গ্রেফতার হন রিয়ার প্রেমিক আরমান সামী। ওই ঘটনায় আরমান সামীকে প্রধান আসামি করে রিয়াসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা করে সিলেট বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৫০০ গ্রাম মদ, ১০ পিস ইয়াবা ও দুই প্যাকেট গাঁজাসহ গ্রেফতার করার পর প্রেমিক সামী জানায় তার সঙ্গে লেডি বাইকার রিয়াও ছিল। কৌশলে সে পালিয়ে গেছে।

সামীর মা-বাবা বলেন, টিকটকে একসঙ্গে ভিডিও তৈরি করত সামী ও রিয়া। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। তবে রিয়া হিন্দু ধর্মের এজন্য সামীকে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল পরিবার।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দাশ জানান, রিয়াকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। বর্তমানে জেলে আছেন রিয়ার প্রেমিক আরমান সামী।

আরও পড়ুন


ভোটে হারলো দুই সতীনই, স্বামীর ক্ষোভ তৃতীয় স্ত্রীর ‍উপর

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি

এবার জাহাঙ্গীরের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

অনলাইন ডেস্ক

এবার জাহাঙ্গীরের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম (ফাইল ছবি)

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ওমর ফারুক আসিফ এ মামলা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করায় তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর শুনানি শেষে আদালত মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৬ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

পরবর্তী খবর

শিশু হত্যা করে পুঁতে ফেলার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর

শিশু হত্যা করে পুঁতে ফেলার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

শিশু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা, প্রতীকী ছবি।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া গ্রামে শিশু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা সোমবার সকালে এই  রায় দেন। রায়ে তিনজনকে ফাঁসি ও একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

মাদারীপুর পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজৈর পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে রাজিব হাওলাদার ( ৪১), কোদালিয়া বাজিতপুরের মুহিত গাছীর ছেলে রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী (৩২) ও  পিরোজপুর জেলার ভৈরমপুরের রফিকুল ইসলাম মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৩১)।

এছাড়া এ মামলায় বাগেরহাট জেলার সেলিম হাওলাদারের (৪১) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর  রবিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে সেনদিয়া জামে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় টুকু সরদারের মেয়ে আদুরী আক্তার (০৫) । নিহতের বাবা টুকু সরদার বাদী হয়ে ২০১৫ সালের  ২২ সেপ্টেম্বর ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৪ থেকে পাঁচজনকে আসামি করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরে ওই মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলামকে রাজৈর থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তিনি পুলিশের কাছে খুনের ঘটনা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মসজিদের পাশ থেকে আদুরী আক্তারের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। পরে মামলার চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তিন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে অদ্যাবধি পলাতক রয়েছে। মামলার রায়ের দিন মামলার এক আসামি রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী আদালতে উপস্থিত ছিল। এসময় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দেন আদালত।

নিহতের বাবা টুকু সরদার বলেন, আমার মেয়ে হত্যার রায়ে আমি খুশি হয়েছি। আমার সরকারের কাছে একটাই দাবী এই ফাসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।

আরও পড়ুন:


ফের মেয়র নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা

হেফাজত মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী না ফেরার দেশে

পীরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বেড়ে ৩


 

মাদারীপুর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং বলেন, ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদুরী নামে এক শিশুকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী করে লাশ পুঁতে রাখা হয়। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যমতে লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় আজ বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নিতাই চন্দ্র সাহা মামলায় রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

news24bd.tv/ তৌহিদ

পরবর্তী খবর

জি কে শামীমের মায়ের আগাম জামিন নয়

অনলাইন ডেস্ক

জি কে শামীমের মায়ের আগাম জামিন নয়

হাইকোর্ট।

জি কে শামীমের মা আয়েশা আক্তারকে আগাম  জামিন দেননি হাইকোর্ট। ৮ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ।

বিস্তারিত আসছে...

news24bd.tv/ তৌহিদ

পরবর্তী খবর