খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন
খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল

খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

Other

ভাতের খোঁটা: আমাদের কালচারে খাওয়ার খোঁটা দেওয়াটা খুব অশোভন। বরং যারা একটু বেশি খেতে পারে ও ভোজনরসিক তাদেরকে এদেশে 'খানেওয়ালা' বলে কৃতিত্ব দেয়া হয়। আগে খাওয়ার বড় বড় মজলিসে এই খানেওয়ালাদের প্রতিযোগিতাও একটা আমোদের ব্যাপার ছিল।

যা হোক, ওগুলো হারানো দিনের পুরনো কথা।

এখন এই হা-ভাতের কালে খাদ্যের দাম বাড়লেই সরকারি লোকেরা আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন। কেউ প্রেসক্রিপশান দেন ভুট্টা খান। কারো ফতোয়া আলু খান। কেউ বলে খাদ্যাভ্যাস পাল্টান, ভাতের ওপর চাপ কমান। এবারে খোঁটা শুনছি, আমরা খুব বেশি খাদক। রাক্ষসের মতন গোগ্রাসে ভাত খাই। আমাদের ভাত খাবার পরিমাণ নাকি অন্য দেশের লোকের তুলনায় ডাবল। তাই সমাধান, হচ্ছে ভাত খাবার পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। অন্য আরো যে সব দেশে ভাত মূল খাদ্য, তারা ভাতের পাশাপাশি রুটি, ডাল, ছাতু, চিপস, সব্জি,  মাছ, গোস্ত, ডিম, দুধ, পনির, মাখন, ঘোল, ঘি ও আরো অনেক খাদ্য ও পানীয় গ্রহন করে। সে সাধ্য আমাদের দেশে খুব কম লোকেরই আছে। কাজেই শাক-পাতা, নুন-মরিচ, আলু, শুটকি, গুঁড়ামাছ ও পানি ছাড়া আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকের ভাতের সাথে আর তেমন কিছু জোটে না। আমি নিজে গাঁয়ের চাষীদের শুধু নুন-মরিচ দিয়ে পান্তা বা পানিভাত এবং শীতকালে কড়কড়া বা বাসিভাত শুকনা মরিচ ও শুটকি মাছ পোড়া দিয়ে খেতে দেখেছি। তাই গড়পড়তা অন্য দেশের তুলনায় এ দেশের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশিই।

কিন্তু তাই বলে কত বেশি? দ্বিগুণ নিশ্চয়ই নয়। এটা একেবারেই ভুয়া তথ্য। ভাত প্রধান খাদ্য মূলতঃ এশীয় দেশগুলোতে। ফাও, ইরি, রাইসপিডিয়ার তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের লোক গড়ে বছরে মাথাপিছু ভাত খায় ১৭০ কেজি চালের। তাতে রোজ একজন ৪ থেকে সাড়ে চারশ' গ্রাম ভাত খায়। শহরের লোকের তুলনায় গ্রামের লোক এবং ধনীর চেয়ে গরীবের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশি। বার্মা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ আমাদের কাছাকাছি। তারাও গড়ে তিন থেকে চারশ' গ্রাম চালের ভাত খায় রোজ।

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার জেরে অবরুদ্ধ রাখা শিক্ষকদের মুক্তি মিললো

এক সময় ওসব দেশের লোকেরা আমাদের চেয়ে বেশি ভাত খেতো। এখন ক্রমে কমে আসছ। ভাতের সাথে অন্যান্য বিকল্প খাদ্য গ্রহনের সুযোগ তাদের বাড়ছে বলে ভাত খাবার পরিমাণ কমছে। আমাদের দেশে  অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যের দাম কমুক, সহজলভ্য হোক - কাউকে বলতে হবে না। ফতোয়া, উপদেশ, প্রেসক্রিপশন, পরামর্শ, খোঁটা, ভাষণ, শাহী ফরমান কোনো কিছুর প্রয়োজন হবেনা। এমনিতেই লোকে ভাত খাওয়া কমিয়ে দেবে নিজে থেকেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

;