মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ, শিগগির সামাজিক বৈঠক পুলিশের
মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ, শিগগির সামাজিক বৈঠক পুলিশের

মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ, শিগগির সামাজিক বৈঠক পুলিশের

অনলাইন ডেস্ক

গত তিন মাসে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ৪২৪ মেয়ে শিশু-কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। শিশু-কিশোরীরা যাতে ঘর ছেড়ে না যায় মিরপুরের সাতটি থানা এলাকায় অভিভাবকদের নিয়ে শিগগির সামাজিক বৈঠক করবে পুলিশ। সামাজিক বৈঠক করে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।  

গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত মিরপুর এলাকা থেকে আরো ৭৫ শিশু-কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

এই নিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১৭। এদের মধ্যে মিরপুর এলাকা থেকে ৩৯৫ জন এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে বা নিজেরাই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।  

নিখোঁজ শিশু-কিশোরীদের একটি অংশ ছেলেবন্ধুদের সঙ্গে ঘর ছাড়লেও ছেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করার ঘটনা নেই বললেই চলে।

প্রায় সব জিডিই করেছেন মেয়ে শিশু-কিশোরীদের অভিভাবকরা।

গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের সাতটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানান, সাত দিনের মধ্যে প্রতিটি এলাকার অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে সামাজিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা মনে করেন, করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তারা নানা ভুল করতে থাকে। তারা মানসিকভাবে অনেকটা হতাশার মধ্যে সময় কাটায়। পরিস্থিতি সহনীয় করতে ডাকা সামাজিক বৈঠকে অভিভাবকদের পাশাপাশি থানা পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া সভা-সেমিনার করা হবে এলাকায়। সেই সঙ্গে স্কুলের ক্লাসরুমে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এতে এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা হবে।  

কিভাবে বৈঠক আয়োজন করা হবে, জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এ কাজ করা হবে। তাঁদের তথ্য মতে, বিট পুলিশের মূল ধারণা হচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারাই সেবা নিয়ে যাবেন মানুষের কাছে। তবে মামলাসহ কিছু আইনগত বিষয়ে থানায় আসতে হবে ভুক্তভোগীদের। যদিও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চরম বিপদে না পড়লে মানুষের থানামুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই প্রতিটি মহল্লাকে বিটে বিভক্ত করে একজন উপ-পুলিশ পরিদর্শককে (এসআই) এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:


তিন মাসে মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ!


এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার এম এম মঈনুল ইসলাম এবং মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিখোঁজের সংখ্যা যাতে আর বাড়তে না পারে, সে জন্য কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিট পুলিশের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সামাজিক বৈঠক করা হবে।

আরো বলেন, বৈঠকের আগের দিন বিট পুলিশ বাড়ির মালিক, অভিভাবক অর্থাৎ ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে। এরপর পরের দিনের সুবিধামতো একটি সময়ে তাঁদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। এর বাইরে স্কুলে গিয়েও এ বিষয়ে কথা বলা হবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।  

news24bd.tv রিমু   

এই রকম আরও টপিক