সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে যা করণীয়

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে যা করণীয়

কারো সামনে কিংবা পেছনে অতিরিক্ত প্রশংসা করতে নিষেধ করেছেন রাসুল (সা.)। তিনি বলেন, ‘কারো সামনে তার প্রশংসা করা তার পিঠে ছুরি মারা বা তার গলা কেটে ফেলার সমান।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩৩৫)

অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কেউ তোমাদের সামনাসামনি প্রশংসা করলে তার মুখে তোমরা পাথর ছুড়ে মারো।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস :  ৩৪০)

একজন সাহাবি রাসুল (সা.)-এর কাছে অন্য এক সাহাবি সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করেন। তা শুনে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আফসোস, তুমি তো তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেললে! কথাটি নবীজি (সা.) তিনবার বলেন। অতঃপর বলেন, যদি কারো প্রশংসা করতেই হয়, তাহলে সে যেন এভাবে বলে যে আমি তার ব্যাপারে এমন এমন ধারণা পোষণ করি। কারণ তার প্রকৃত হিসাব মহান আল্লাহ জানেন।’ (মুসলিম, মিশকাত : ৪৮২৭)

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে করণীয় হলো, প্রশংসিত ব্যক্তি নিম্নের দোয়াটি পাঠ করতে পারেন—‘আল্লাহুম্মা লা তুআখিজনি বিমা ইয়াকুলুন, ওয়াগফিরলি মা লা ইয়ালামুন। অর্থ : হে আল্লাহ, তারা যা বলছে সে ব্যাপারে আমাকে পাকড়াও কোরো না এবং যে বিষয়ে তারা জানে না, সে বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ জনৈক সাহাবি এ দোয়াটি পাঠ করতেন।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৭৬১)

আরও পড়ুন:


জান্নাত লাভের দোয়া

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

উল্লেখ্য যে প্রশংসাকৃত ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে এবং এতে তার কল্যাণের সম্ভাবনা থাকলে প্রশংসা করা যেতে পারে। (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা : ২৬/১২৪)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিৎ?

সাআদ তাশফিন

স্ত্রীর সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিৎ?

প্রতীকী ছবি

স্ত্রী জীবনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু। সুখ-দুঃখের সঙ্গী। পুণ্যবতী স্ত্রী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সমগ্র পৃথিবী মানুষের ভোগ্য বস্তু (নিয়ামত) আর পৃথিবীস্থ ভোগ্য বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো পুণ্যবতী স্ত্রী।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৩২৩২)

তাই তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা উচিত। তাদের সাধ্যমতো সময় দেওয়া উচিত। সম্ভব হলে পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যক্তিজীবনে অবসর সময়ে পরিবারবর্গকে পারিবারিক কাজে সহায়তা করতেন। ব্যক্তিগত কাজে তিনি অন্যের সহযোগিতা খুব কমই নিতেন। নিজের কাজ নিজেই করতেন। এ ব্যাপারে হজরত আসওয়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে রাসুল (সা.) ঘরের মধ্যে কী কাজ করতেন? উত্তরে তিনি বলেন, তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, অর্থাৎ গৃহস্থালি কাজে পরিবার-পরিজনের সহযোগিতায় থাকতেন। যখন নামাজের সময় হতো, নামাজে চলে যেতেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৬)

উভয় জাহানের বাদশাহ সত্ত্বেও রাসুল (সা.) যে কতটা নমনীয় ছিলেন এবং কত সাধারণ কাজও স্বহস্তে করেছেন, বিভিন্ন হাদিসের স্বর্ণখচিত শব্দে তার বিস্তর ধারণা পাওয়া যায়। ইরশাদ হচ্ছে, কাসেম (রহ.) বলেন, আমি একদা আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুল (সা.) ঘরের মধ্যে কী কাজ করতেন? উত্তরে তিনি বলেন, তিনি অন্যান্য মানুষের মতোই একজন ছিলেন, নিজের কাপড়ের উকুন পরিষ্কার করতেন, বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন। (মুসনাদে আহমদ : ২৬১৯৪)

অন্য বর্ণনায় আছে, আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি স্বীয় কাপড় নিজেই সেলাই করতেন, নিজের জুতা নিজেই মেরামত করতেন এবং সাধারণ মানুষের মতোই ঘরের কাজকর্ম করতেন। (মুসনাদে আহমদ : ২৪৯০৩)

পরিবারের প্রতিটি কাজই আমাদের নিজেদের কাজ, যা আমরা ভাগাভাগি করে করলে একদিকে যেমন পরিবারের সবার মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা, ভালোবাসা বজায় থাকবে, অন্যদিকে রাসুল (সা.)-এর একটি বিশাল সুন্নতও উজ্জীবিত হবে, যা আমাদের সমাজ-সংসার থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে। তা ছাড়া সুন্নতের নিয়তে পরিবার কেন, যে কারো খিদমত করলেই সার্বক্ষণিক সওয়াব লিপিবদ্ধ হতে থাকে। ইরশাদ হচ্ছে, যে ব্যক্তি উম্মতের অধঃপতনের সময় একটি সুন্নতকে আঁকড়ে ধরে, সে ১০০ শহীদের সওয়াব পাবে। (আল কামেল : ৩/১৭৪)

কোনো অবস্থায়ই তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা উচিত নয়। তাদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এর ফলে একদিকে যেমন নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, অন্যদিকে তা পরিবার, সন্তানাদি এবং অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক পরিচালিত ২০১১ সালের জরিপ মতে, ৮৭ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্ট মতে, বাংলাদেশে ৬০ শতাংশ বিবাহিত নারী জীবনে কোনো না কোনো সময়ে স্বামী কিংবা তাঁর পরিবার বা উভয়ের দ্বারা নির্যাতিত হন।

অথচ এটি ইসলামের শিক্ষা নয়। মুমিনের উচিত পারিবারিক জীবনেও রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে আঁকড়ে ধরা। প্রিয় নবী (সা.) কখনো কোনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি।

আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কখনো তাঁর কোনো খাদেমকে অথবা তাঁর কোনো স্ত্রীকে মারধর করেননি এবং নিজ হাতে অপর কাউকেও প্রহার করেননি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৯৮৪)

আরও পড়ুন:


বিপদ-আপদের সময় পড়ার দোয়া

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার কিছু আমল


অন্য বর্ণনায় আছে, রাসুল (সা.) তাঁর স্বহস্তে কোনো দিন কাউকে আঘাত করেননি, কোনো নারীকেও না, সেবককেও না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ছাড়া। আর যে তাঁর অনিষ্ট করেছে, তার থেকেও প্রতিশোধ নেননি। তবে আল্লাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন বিষয়ে তিনি তাঁর প্রতিশোধ নিয়েছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৪৪)

মহান আল্লাহ সবাইকে ইসলামের নির্দেশনাগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv রিমু    

 

পরবর্তী খবর

বিপদ-আপদের সময় পড়ার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

বিপদ-আপদের সময় পড়ার দোয়া

হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, মানুষের ওপর কোনো বিপদ এলে সে যদি এই দোয়া পাঠ করে- আল্লাহ তা'আলা তাকে তার বিপদের প্রতিদান দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে তার বদলে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।

উচ্চারণ : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।

বাংলা অর্থ : আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তারই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং যা হারিয়েছি তার বদলে তারচেয়ে ভালো কিছু দান করুন, (সহিহ মুসলিম)। 

আরও পড়ুন:


দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার কিছু আমল


মহান আল্লাহ তা'আলা সকলকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু    

 

পরবর্তী খবর

শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে যে আমল

অনলাইন ডেস্ক


শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে যে আমল

আল্লাহর গুণবাচক নাম

আল্লাহ সোবহানাহু তাআলা গোটা বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। মহান সে আল্লাহর রয়েছে অসংখ্য সিফাতি বা গুণবাচক নাম। হাদিস শরিফে মহান আল্লাহর ৯৯টি সিফাতি নাম রয়েছে। 

আল্লাহর গুণবাচক নাম প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাকে সেই সব নামেই ডাকবে। ’-সূরা আরাফ: ১৮০।

হযরত মুহম্মদ (সা:) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ গুণবাচক নামগুলোর জিকির করবে; সে জান্নাতে যাবে।

মহান আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে (اَلصَّمَدُ) ‘আল-সামাদু’-একটি।

‘আল-সামাদু’ জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : ‘আল-সামাদু’

অর্থ : ‘তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; অভাবমুক্ত; স্বয়ংসম্পূর্ণ; সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী’

মহান আল্লাহর গুণবাচক এই নামটি আমলের ফজিলত:

>> যে ব্যক্তি সাহরির সময় অথবা মধ্যরাতে সেজদায় গিয়ে আল্লাহ তাআলার এ পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلصَّمَدُ) ‘আল-সামাদু’-১১৫ বার পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সত্যবাদী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং দুশমনের হাত তার শরীরে লাগবে না অর্থাৎ দুশমনের আক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করবেন।


আরও পড়ুন:

ক্ষেপলেন পাপন, বললেন এতো বাজে পারফরমেন্স ৮ বছরে দেখিনি

কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে নৌকা পেলেন যারা


>> যে ব্যক্তি সব সময় আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلصَّمَدُ) ‘আল-সামাদু’ পাঠ করে; সে ব্যক্তি কখনো ক্ষুধার্ত হবে না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে সব সময় তার গুনবাচক নাম (اَلصَّمَدُ) ‘আল-সামাদু’-এর জিকির বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

প্রতীকী ছবি

হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার এ দোয়াটি পাঠ করবে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলীম।

বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (তিরমিজি ও আবু দাউদ) 

আরও পড়ুন:


দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার কিছু আমল


মহান আল্লাহ তা'আলা সকলকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন।  

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার কিছু আমল

মীর মো. গোলাম মোস্তফা

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার কিছু আমল

প্রতীকী ছবি

বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোর কারণে মাঝে দুশ্চিন্তা আশা স্বাভাবিক। তবে এ রকম পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত। এবং মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া উচিত। নিম্নে এমন কিছু আমল তুলে ধরা হলো, যেগুলো দুশ্চিন্তার সময় করা যেতে পারে।

ধৈর্যধারণ করা :  যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো, ধৈর্যধারণ করে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক, আয়াত: ৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি সেইরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৯০১)

পরিস্থিতিকে আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া :  আল্লাহ অবশ্যই ভালো কিছু রেখেছেন বলে মনে-প্রাণে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা। তাকদিরে বিশ্বাস করা। কারণ আল্লাহ তাকদিরে যা রেখেছেন, তা খণ্ডানোর শক্তি কারো নেই। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জেনে রাখো, সব মানুষ যদি তোমার কোনো উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা ব্যতীত আর কোনো উপকার করতে পারবে না। আর যদি সব মানুষ তোমার কোনো অনিষ্ট করতে চায় তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা ছাড়া আর কোনো অনিষ্ট করতে পারবে না। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৬)

অপর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তুলনামূলক বিপদগ্রস্তদের পরিস্থিতি দেখে শোকরিয়া আদায় করা : হাদিসে এসেছে, খাব্বাব (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলাম এ অবস্থায় যে তিনি কাবাঘরের ছায়ায় একটি চাদরে ঠেস দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? জবাবে তিনি বলেন, ‘তোমাদের জানা উচিত, তোমাদের পূর্বেকার মুমিন লোকদের এই অবস্থা ছিল যে একটি মানুষকে ধরে আনা হতো, তার জন্য গর্ত খুঁড়ে তাকে তার মধ্যে পুঁতে রাখা হতো। অতঃপর তার মাথার ওপর করাত চালিয়ে তাকে দুই খণ্ড করে দেওয়া হতো এবং দেহের গোশতের নিচে হাড় পর্যন্ত লোহার চিরুনি চালিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। কিন্তু এই কঠোর পরীক্ষা তাকে তার দ্বিন থেকে ফেরাতে পারত না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৬১৬)

এভাবে নিজের থেকে তুলনামূলক কষ্টে থাকা মানুষের কষ্ট অনুভব করলে নিজের হতাশা অনেকটা কমে যায়।

সালাতুল হাজত পড়া: কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন দুশ্চিন্তায় পড়তেন, নামাজে মগ্ন হতেন। (জামিউল বায়ান ৭৭৯)

অধিকহারে ইস্তেগফার করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২০)

অধিকহারে দরুদ পড়া : হাদিসে এসেছে, উবাই ইবন কাব (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার ওপর অধিকহারে দরুদ পাঠ করে থাকি। আমার সময়ের কতটুকু আপনার প্রতি দরুদ পাঠে ব্যয় করব?  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ সময়? তিনি বলেন, তোমার ইচ্ছা। কিন্তু যদি আরো বাড়াও তবে ভালো। আমি বললাম, অর্ধেক সময়? তিনি বললেন, তোমার যা ইচ্ছা; তবে আরো বৃদ্ধি করলে তা-ও ভালো। আমি বললাম, দুই-তৃতীয়াংশ সময়? তিনি বলেন, তোমার ইচ্ছা; তবে আরো বাড়ালে তাও ভালো। আমি বললাম, আমার সবটুকু সময় আপনার ওপর দরুদ পাঠে লাগাব? তিনি বললেন, তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্তির জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে আর তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৭)

দোয়া করা: দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে নাজাতের উদ্দেশ্যে হাদিসে বেশ কিছু দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে,  কারো জানা থাকলে সেগুলোও পড়া যেতে পারে। এ বিষয়ে হাদিসে অনেক দোয়া উল্লিখিত হয়েছে, তন্মধ্য থেকে একটি এখানে উল্লেখ করা হলো—

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদ দাইনি ওয়া কহরির রিজাল।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল থেকে’।

উপকার: আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে আবু উমামাহ নামক এক আনসারি সাহাবিকে দেখতে পেয়ে তাকে বলেন, হে আবু উমামাহ, কী ব্যাপার! আমি তোমাকে নামাজের ওয়াক্ত ছাড়া মসজিদে বসে থাকতে দেখছি? তিনি বলেন, সীমাহীন দুশিন্তা ও ঋণের বোঝার কারণে হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না, তুমি তা বললে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দেবেন? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি (সা.) বলেন, তুমি সকাল-সন্ধ্যায় বলবে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদ দাইনি ওয়া কহরির রিজাল।’

আরও পড়ুন:


ইসলামে শীতকালের বিশেষ ইবাদত


আবু উমামাহ (রা.) বলেন, আমি তা-ই করলাম। ফলে মহান আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করলেন এবং আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দিলেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫৫)

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর