ফ্যাক্ট, মানুষের ফিলিংস আর সাংবাদিকতা

ফ্যাক্ট, মানুষের ফিলিংস আর সাংবাদিকতা

ফ্যাক্ট, মানুষের ফিলিংস আর সাংবাদিকতা

Other

সিলিউশন’ জার্নালিজম- কথাটা কানে লাগতেই খানিকটা চমকে উঠেছিলাম। ‘সলিউশন জার্নালিজম’ মানে কী? যে সাংবাদিকতা সমাধানের পথ দেখায়? কিংবা ঘটনার সমাধান দেয়!

যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে রিপোর্টার এবং মিডিয়ার কোন বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেয়া উচিৎ তা নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন মিডিয়ার নিউজরুম ব্যবস্থাপক এবং পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এসেছিলেন আলোচক হিসেবে।  

আর এই আলোচনাটির আয়োজন করেছিলো কানাডিয়ান এসোসিয়েশন অব জার্নালিষ্টস (সিএজি)। এসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে বিজ্ঞ সব আলোচকদের আলোচনা শোনার সুযোগ হয়েছিলো আজ।

  

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় ‘সলিউশন জার্নালিজম’ টার্মটা ব্যবহার করেছিলেন ডেনিস বাকিসন। আর কয়েকটি টার্ম উচ্চারিত হয়েছে এই আলোচনায়।  

জলবায়ু কিংবা পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতা আসলে মানবাধিকার সাংবাদিকতাও, কারন জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া নাগরিকদের মানবাধিকারকেও ক্ষুন্ন করে- বলছিলেন একজন আলোচক।  

কানাডিয়ান পরিবেশ বিজ্ঞানী এন্ড্রু ওয়েবার তার মনের যতো ক্ষোভ প্রাণ খুলে যেনো উগড়ে দিলেন। চল্লিশ বছর আগে পরিবেশ নিয়ে রিপোর্টার যে প্রশ্ন করতো, চল্লিশ বছর পর কোনো রিপোর্টার যদি একই প্রশ্ন করে- তা হলে সেটিকে কী বলবো?- প্রশ্ন তুলেন তিনি।  

পরিবেশ, জলবায়ু, সাংবাদিকতা কী চল্লিশ বছর আগের জায়গায় দাড়িয়ে আছে? না কি মিডিয়া সেই চল্লিশ বছর আগের দৃষ্টি দিয়েই এখনো সবকিছু দেখছে? বিজ্ঞানী এন্ড্রু ওয়েবারের এই প্রশ্নের বিরোধীতা করেননি আলোচক হিসেবে অংশ নেয়া নিউজরুম ব্যবস্থাপকরা। স্পষ্ট করে না বললেও ’সাংবাদিকতার দেখার চোখটা বদলানো দরকার’- এমন একটা জায়গায়ই যেনো সবাই নিঃশব্দে একমত হলেন।

বিজ্ঞানী ওয়েভার আরো কিছু কঠিন কথা বললেন। পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতাটা ’ভয় ধরানো আর নেতিবাচক গালগল্পে’ আটকে আছে। ‘পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, ভূপৃষ্ঠ ডুবে যাবে- এমন পিলে চমকানো নেতিবাচক শিরোনামের মধ্যেই সাঁতার কাটছে পরিবেশ সাংবাদিকতা। অথচ বছরের পর বছর ধরে  যে অগ্রগতি হয়েছে সেগুলো মিডিয়া সেই অর্থে ফোকাস করেনি। তাঁর ভাষ্য, অগ্রগতি, সাফল্যের গল্প মানুষকে আরো বেশি সফল হতে উৎসাহ দেয়, অনুপ্রেরণা যোগায়।

গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনের  সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কানাডীয়ান সাংবাদিকদের কোন বিষয়ে মনোযোগ দেয়া উচিৎ- তা নিয়ে এই বিশেষজ্ঞদের মতামতগুলো আলাদাভাবে লেখা যেতে পারে। তবে এই ধরনের আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনের আগে সম্মেলনের রিপোর্টিং নিয়ে আলোচনা করতে এই ধরনের আয়োজন আমাকে চমকিত করেছে।  

বাংলাদেশ থেকেও  বেশকজন সাংবাদিক গ্লাসগোয় যাচ্ছেন বলে শুনেছি। তাদের নিয়েও কিংবা গ্লাসগোয়  বাংলাদেশের স্টেইক নিয়ে এই ধরনের কোনো আলেঅচনা হয়েছে কী না- তা জানার কৌতূহল তৈরি হয়েছে।


আরও পড়ুন:

৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আজ

যেসব শর্তে জামিন পেলেন কিং খানপুত্র আরিয়ান

ফরজ গোসল অবহেলার শাস্তি


কিংস ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতার অধ্যাপক তৃণা রোশে ‘র কথা দিয়েই শেষ করি। তিনি বলছিলেন- এভরি ওয়ান  ডুয়িং এভরি  থিং ফর অ্যা রিজন। প্রত্যেকটা মানুষ যা কিছু করে তার পেছনে একটা কারন থাকে। সেই কারনটা খোঁজাই হচ্ছে সাংবাদিকতার কাজ, সাংবাদিকের দায়িত্ব। ধারনা করি,পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতায়ই কেবল নয়, গ্লাগো সম্মেলনের ঘটনা প্রবাহের খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘কারন’ খোঁজায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।  

তৃণা বলছিলেন, তবে মানুষ কেবল ‘ফিলিংসটা’কে মনে রাখে, কোনো ফ্যাক্ট, সংখ্যাকে  নয়। রিপোর্টিং , সাংবাদিকতা যদি মানুষের সেই ‘ফিলিংসটা’কে স্পর্শ করতে না পারে, তাহলে তার দায়িত্ব পালন অপূর্ণ থেকে যায়।

লেখাটি শওগাত আলী সাগর -এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (মতভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv নাজিম

 

;