সাধারণ নাগরিকেরা আর কতকাল নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে?

মুহাম্মদ শাহিন

সাধারণ নাগরিকেরা আর কতকাল নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে?

মুহাম্মদ শাহিন

একটা ক্লিনিকে রোগী নিয়ে গিয়েছিলাম গতকাল, মাইনর সার্জারি হবে বলে। ঐতিহ্য অনুযায়ী তারা বেশ মোটা টাকা দাবি করলো। অনুরোধে কিছু ডিসকাউন্ট নিয়ে কেবিনে রোগী ভর্তি করার পর দেখা গেলো অন‍্য অবস্থা। 

নার্স, আয়া, ডিউটি ডাক্তার কেউ ডাকলে সাড়া দেয়না। সবাই কেমন যেনো রেগে আছে। কোন কিছু জিজ্ঞেস করলেই রাগত: স্বরে জবাব দিচ্ছে। 

তাছাড়া কেবিনে রোগীর জন্য দরকারি কোন ফ‍্যাসিলিটিস ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রাখেনি। আসলে কর্তৃপক্ষ বলে কেউ আদৌ আছে কি-না তাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুধুমাত্র একবারই দেখলাম ডাক্তার ও নার্সসহ সবাই কেমন শসব‍্যস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ এখানকার সবচেয়ে বড় লাক্সারি কেবিনে পুলিশের একজন ওসির পরিবার উঠবেন তাই। 

আজ সকালে ডিউটি ডাক্তারকে (খুব সম্ভবত: শিক্ষানবীশ হবেন) প্রশ্ন করলাম আপনারা কি সবসময় এভাবে রেগে থাকেন। উত্তরে তিনি যা বললেন তা নতুন কিছু না হলেও অপ্রত্যাশিত ছিলো। 

ঐ ক্লিনিকে সবসময়ই নাকি সবার বেতন দুই তিন মাস বকেয়া থাকে। অত‍্যন্ত নিম্ন মজুরিতে সবাইকে কাজ করতে হয়। ডাক্তার সাহেব বললেন উনাকে নাকি রেগুলার বেতনের অর্ধেক দেয়া হয়েছে। বেতন না পাওয়ার  কারণে সবাই খুব বিক্ষুব্ধ ও রুক্ষ মেজাজে থাকে। 

রোগীর সেবা ও প্রাপ‍্য সুযোগ সুবিধার দিকে তাই কেউ ভ্রুক্ষেপ করেনা। জানতে চাইলাম বেতন না পাওয়ার পরও সবাই কেন এখনো চাকরি ধরে রেখেছে? 


আরও পড়ুন:

পায়ের নিচে মাটি থাকলে বিএনপি রাজপথে নামতো: কাদের

টানা ৩ ম্যাচ হেরেও যেভাবে সেমিফাইনাল খেলতে পারে বাংলাদেশ!

পাটুরিয়ায় ফেরি উদ্ধারে হামজার সঙ্গে যোগ হল রুস্তম

তামিমের সামনেই বলছি এমন অনুষ্ঠান ওর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: মাশরাফি


উত্তর শুনে আরও চমকে গেলাম। বেতন না পেলেও এখানে ফ্রিতে থাকার ব‍্যবস্থা আছে। তাই নার্সরা রাতে থাকার জায়গা ঠিক রেখে অন‍্য ক্লিনিকে আরেক শিফটে চাকরি করে। 

আমি ভাবছি শ্রম শোষণ ও স্বল্প মজুরির ফাঁদ হতে শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি কখন মিলবে। সাধারণ নাগরিকেরা আর কতকাল স্বাস্হ‍্য, শিক্ষা ও অন‍্যান‍্য নাগরিক সেবা হতে বঞ্চিত হবে? সদাশয় কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ‍্যে একটু নড়চড় করলেও আমজনতা কিছুটা অন্তত: প্রতিকার পায়।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সেখানে চাকরির জন‍্য একমাত্র বিবেচ‍্য বিষয় যোগ‍্যতা

রাউফুল আলম

সেখানে চাকরির জন‍্য একমাত্র বিবেচ‍্য বিষয় যোগ‍্যতা

রাউফুল আলম

আমেরিকায় চাকরির ইন্টারভিউর অভিজ্ঞাতাটা ছিলো খুবই সারপ্রাইজিং। চাকরির ইন্টারভিউ এতো চমৎকার এবং ওয়েলকামিং হতে পারে—সেটা আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি।

২০১৭ সাল। ইউনিভার্সিটি অব প‍্যানসেলভেনিয়াতে (UPenn) পোস্টডক করছি তখন। পোস্টডকের এক বছর যেতেই চিন্তা করি ইন্ড্রাস্ট্রিতে ঢুকবো। যদিও একসময় একাডেমিক ক‍্যারিয়ারের ইচ্ছে ছিলো, পরে সেটা চেইঞ্জ করি। আগে যেহেতু আমেরিকায় কখনো ইন্টারভিউ দেইনি, তাই ল‍্যাবের অন‍্যান‍্যদের কাছ থেকে নিয়ম কানুন কিছু জানলাম। অনেক ব্যাকরণ আছে এই প্রক্রিটার মধ্যে।

প্রথম ইন্টারভিউর ডাক পেলাম ফাইজার (Pfizer) থেকে। ইন্টারভিউর কয়েকটা ধাপ। চাকরির জন‍্য কোনো আবেদন ফি নাই। প্রথম ধাপে রেজুমে, কাভার লেটার ও রিসার্চ সামারি পাঠাতে হলো। তারপর সিলেকশন হলে ওরা একটা ফোন ইন্টারভিউ নেয়। ফোন ইন্টারভিউ হলো। ফোন ইন্টারভিউর পর আমাকে ইনভাইট করা হলো অন-সাইট (On-site) ইন্টারভিউর জন‍্য। অন-সাইট ইন্টারভিউ হলো মূলত সশরীরে গিয়ে হাজির হওয়া। এই অন-সাইট ইন্টারভিউতে সবাইকে কল করে না। সাধারণত একটা পজিশনের (পোস্ট) জন‍্য, দুই-তিনজনকে কল করে। কারণ অন-সাইট ইন্টারভিউতে যখন কল করা হয় তখন সকল প্রকার যাতায়ত খরচ, হোটেলে থাকার খরচ, খাবার খরচ ইত‍্যাদি বহন করে প্রতিষ্ঠান। 

ফাইজারের হেডকোয়ার্টারে গেলাম। অন-সাইট ইন্টারভিউর কয়েকটা পার্ট থাকে। প্রথম পার্ট হলো আমাকে প্রেজেন্ট করতে হবে। সাধারণত এক ঘণ্টার একটা প্রেজেন্টেশন। তারপর দিনভর বিভিন্ন সাইন্টিস্টদের (কর্মকর্তা) সাথে সাক্ষাত। এইচআর (HR) থেকে কয়েকজন লোক থাকে। তাদের সাথে কথা বলতে হয়। তারা মনঃস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা করে। প্রতিষ্ঠান ভেদে আরো কিছু ধাপ থাকে।

অনেক ফিল্ডেই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াটা মোটামুটি এই ধাঁচের। খুবই রিগোরাস একটা প্রসেস। তবে ইনজয় করা যায়। খরচের কোনো টেনশন নাই। আমি ক‍্যালিফোর্নিয়া গিয়েও ইন্টারভিউ দিয়েছি। দেখা গেছে বিমান ভাড়া, হোটেল, খাবার মিলে প্রায় দুই হাজার ডলার বিলও এসেছে, যেটা প্রতিষ্ঠান বহন করেছে।

আদর-আপ‍্যায়ন সবচেয়ে বেশি ছিলো আমি যে প্রতিষ্ঠানে এখন কাজ করি সেটাতে ইন্টারভিউর সময়। ওরা খুবই ওয়েলকামিং ছিলো। ট্রেন স্টেশনে থেকে লিমো সার্ভিসে হোটেলে পৌঁছে দিয়েছে। ইন্টারভিউ ডিনার ছিলো। যেটা সাধারণত ইন্টারভিউর আগের রাতে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনের সাথে একটা ডিনার। এই ডিনারের মাধ‍্যমে মূলত ইন্টারভিউর আগেই কয়েকজনের সাথে পরিচয় হওয়া। তাতে করে ইন্টারভিউর সময় মানসিক চাপ একটু কম থাকে। তারপর হোটেল থেকে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং ইন্টারভিউ শেষে ট্রেন স্টেশন পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত ছিলো লিমো সার্ভিস। অর্থাৎ আপ‍্যায়নের যেনো ঘাটতি না হয়, সে ব‍্যাপারে প্রতিটা স্টেপে ওরা খুব সর্তক ছিলো।

ইন্টারভিউর সময় প্রতিষ্ঠান কেমন ট্রিট করে সেটাও কিন্তু একটা বিবেচনার বিষয়। অনেক বড়ো প্রতিষ্ঠান অনেকসময় তেমন ভালো ট্রিট করে না। অনেক প্রতিষ্ঠান ছোট হলেও ট্রিট ভালো দেয়। আমেরিকানরা এগুলো কেয়ার করে। চাকরির অফার পেলে ডিসিশন নেওয়ার সময় এগুলো চিন্তা করে। চাকরির শুরুতেই একটা বোনাস দেয়, যেটাকে সাইন-ইন বোনাস বলে। অনেকে রিলোকেশন বোনাস দেয়। এমন অনেক চমৎকার বিষয় তখন শিখেছিলাম।

সবচেয়ে বড়ো কথা, এদেশে ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে পড়ে কখনো আমাকে ভাবতে হয়নি, আমার বাবা কি করে। বাবার নাম কী। বাবার টাকা আছে কিনা। বাবার কোনো সার্টিফিকেট আছে কিনা। কোনো কোটা আছে কিনা। পরিচিত মামা-চাচা আছে কিনা। নেতা আছে কিনা। সহমতের বড়ো ভাই আছে কিনা। আমার ধর্ম কী। জাত-জাতীয়তা কী। গায়ের রং কী। আমি দেখতে কেমন। কোন দেশ থেকে এলাম—এসব কোনো কিছুই ভাবতে হয়নি।

চাকরির জন‍্য একমাত্র এবং একমাত্র বিবেচ‍্য বিষয় যোগ‍্যতা।

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মিশরের চিকিৎসকেরা অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারতেন

শান্তা আনোয়ার

মিশরের চিকিৎসকেরা অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারতেন

শান্তা আনোয়ার

এই প্যাপিরাসটা সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরোনো। লেখা আছে প্রেগন্যান্সি টেস্টের বিবরণ। প্রাচীন মিশরের চিকিৎসকেরা খুব একুইরেট প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারতেন। শুধু তাইনা, অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারতেন। ভাবা যায়, সেই সাড়ে তিন হাজার বছর আগে সেই স্কিল মানুষের ছিলো। অবশ্য আজকেও সেই একই প্রিন্সিপল বা পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা হয়।

সেই সময়েও ইউরিন টেস্ট করেই এই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা হতো। যার পরীক্ষা হবে তার ইউরিন নিয়ে বার্লি আর যবের বীজ ভিজানো হতো আলাদা করে। যদি এই বীজে অঙ্কুরোদগম হতো তাহলে ধরে নেয়া হতো মহিলা সন্তানসম্ভবা। যদি বার্লির অঙ্কুরোদগম আগে হতো তাহলে অনাগত সন্তানটা ছেলে আর যবের অঙ্কুরোদগম আগে হলে অনাগত সন্তানটি হতো মেয়ে।

প্যাপিরাস
 
এখন প্রশ্ন হতে পারে কীভাবে এটা সম্ভব হতো। আজকে জানা গেছে প্রেগন্যান্সির সময়ে উচু মাত্রার এস্ট্রোজেন যব আর বার্লির অঙ্কুরোদগম ঘটায়। এস্ট্রোজেন বেশী থাকলে তা বার্লির অঙ্কুরোদগমকে দ্রুত করে। আর বেশী এস্ট্রোজেন মাত্রা থাকলে ছেলে জন্মানোর সম্ভাবনা বাড়ে।

আরও পড়ুন:

সিএনএনের সংবাদ উপস্থাপক বরখাস্ত

চট্টগ্রামেও হাফ ভাড়া নেওয়ার ঘোষণা 

বেশী প্রজেস্টোরন থাকলে তা যবের অঙ্কুরোদগম দ্রুত করে। বেশী প্রজেস্টোরন মাত্রা মেয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা বাড়ায়। 

তো আমরা সাড়ে তিন হাজার বছরে এগিয়েছি কতটুকু?

লেখাটি শান্তা আনোয়ার-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

মধুটা নিজে সংগ্রহ করে খেতে গেলেই বুঝা যায়, স্বাদ নেয়া কতটা কষ্টকর!

রউফুল আলম

মধুটা নিজে সংগ্রহ করে খেতে গেলেই বুঝা যায়, স্বাদ নেয়া কতটা কষ্টকর!

রউফুল আলম

মাস্টার্সে যখন উঠি তখন একটা কম্পিউটার খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। কিন্তু আব্বার সামর্থ‍্য নেই আমাকে একটা কম্পিউটার কিনে দেয়। তখন একটা ডেস্কটপের দাম গড়ে চল্লিশ হাজার টাকা। আব্বাকে বললাম, আপনার যতটুকু সম্ভব ততটুকুই দেন। টিউশনি করে আমার হাতে বেশ কিছু টাকা ছিলো। বন্ধুর কাছ থেকে ধার করলাম কিছু। সব মিলিয়ে একটা ডেস্কটপ কিনলাম। 

ইউনিভার্সিটি জীবনে কখনো একটা মোবাইল ফোনের টাকা বাসা থেকে নেইনি। কখনোই না। সাদা-মাটা ফোন ব‍্যবহার করেছি। আমি যখন সুইডেনে আসি, মাত্র দুই হাজার টাকা দামের একটা নোকিয়া ফোন নিয়ে এসেছিলাম। সাথে একটা ল‍্যাপটপও ছিলো না। স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস শুরু করে (২০০৯) দেখি সবার হাতে ল‍্যাপটপ। আমার কোন ল‍্যাপটপ নেই। আমি ইউনিভার্সিটির ল‍্যাবের কম্পিউটার ব‍্যবহার করতাম। মাস তিন পর একটা পুরোনো (সেকেন্ড হ‍্যান্ড) ল‍্যাপটপ কিনি। কিন্তু কখনো বাসায় টাকার জন‍্য চাপ দিই নি। এটা সত‍্যি যে মাঝে মাঝে মন খারাপ হতো, কিন্তু বাসায় কোনকিছুর জন‍্য চাপ দেয়ার স্বভাব আমার কখনোই ছিলো না। হয়তো শৈশব-কৈশোর থেকেই বুঝতে শিখেছিলাম—পরিবার কতটুকু পারবে, কতটুকু পারবে না।

একটা সময়ে এসে এসব কিনতে আর ভাবতে হতো না। গতো সাত বছর ধরে শুধু অ্যাপলের প্রোডাক্ট ব্যবহার করি—আইফোন, আইপ‍্যাড, ম‍্যাক, এপল ওয়াচ এভ্রিথিং। —আলহামদুলিল্লাহ! আমি সামর্থ‍্য বিষয়টার জন‍্য অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। সামর্থ‍্য বিষয়টার জন‍্য অপেক্ষা করলে সেটা উপভোগের তৃপ্তি অনেক ও আনন্দের। (আমাকে ক্ষমা করবেন, কথাগুলো প্রসঙ্গত বলা।)

আমি লক্ষ‍্য করেছি, দেশের বহু ছেলে-মেয়ে পরিবারের সামর্থ‍্য বিষয়টা বুঝে না। অনেকে পরিবারকে চাপ দিয়ে দামি দামি ফোন কিনে। একবার ভাবেও না, কোথা থেকে আসে সে টাকা। চিন্তা করে না, কিভাবে বাবা-মা টাকাটা ব‍্যবস্থা করবে।
অনেক ছেলে-মেয়ে একটা ফোন না পেলে পরিবারের সাথে খারাপ আচরণ করে। কিন্তু সেসব ছেলে-মেয়েকে যদি একদিন নিজের টাকায় চলতে বলা হয়, তারা পারবে না।

আরও পড়ুন:

ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা

আজ আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'জাওয়াদ'

 
সামর্থ‍্য বিষয়টাকে বুঝতে পারা একটা জ্ঞান। সেটা বুঝতে না পারলে জীবনে বিপদ আসে। সামর্থ‍্য বৃদ্ধির জন‍্য কাজ করতে হয়। শ্রম দিতে হয়। নিজের সৎ উপার্জনে উপভোগ করার চেষ্টা হলো পবিত্রতম ও আনন্দের। যেদিন নিজে উপার্জন করতে পারবে, সেদিনই বুঝবে পরিবার দিনের পর দিন কতো ত‍্যাগ স্বীকার করেছে। তার আগে বুঝতে পারবে না। 
মৌমাছির চাক ভেঙ্গে মধুটা নিজে সংগ্রহ করে খেতে গেলেই বুঝা যায়, মধুর স্বাদ নেয়া কতোটা কষ্টকর!

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

  news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

দুর্ভাগা আমি নাকি দুর্ভাগা তারা, যারা আমাকে জানলো না?

অনলাইন ডেস্ক

দুর্ভাগা আমি নাকি দুর্ভাগা তারা, যারা আমাকে জানলো না?

তসলিমা নাসরিন

সাত খণ্ডে আত্মজীবনী লিখেছি। কিন্তু তারপরও গুগলে ইউটিউবে আমার সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রচার করে অচেনা লোকেরা, যেসব 'জীবনী'র সঙ্গে আমার জীবনের আদৌ কোনও সম্পর্ক নেই। অজ্ঞতা, অসত্য, অশিক্ষা, অপপ্রচার, অন্ধত্ব, অবিবেচনা, অমানবিকতাকে সম্বল করেই সেগুলো প্রচার করা হয়। আজ দেখলাম এক পাল লোক লিখেছে কেন আমি বাংলাদেশ ছেড়েছি। 

আমার কিছুই না জেনে একেকজন বিজ্ঞের মতো বিশেষজ্ঞর মতো বিষোদ্গার করেছে। মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবীর কারও বিরুদ্ধে বোধহয় এত নানান কিসিমের লোক ঝাঁপিয়ে পড়ে না। ধর্ম নিয়ে কেন লিখেছি, ধার্মিকেরা বিরুদ্ধে। পুরুষতন্ত্র নিয়ে কেন লিখেছি, পুরুষতান্ত্রিকরা বিরুদ্ধে। সাহিত্যিককে নিয়ে কেন লিখেছি, সাহিত্যিকরা বিরুদ্ধে। ডানপন্থা নিয়ে কেন লিখেছি, ডানপন্থীরা বিরুদ্ধে। বামপন্থা নিয়ে কেন লিখেছি, বামপন্থীরা বিরুদ্ধে। সরকারকে নিয়ে কেন লিখেছি, সরকার বিরুদ্ধে। 

আরও পড়ুন:


কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে নৌকা পেলেন যারা


ব্যক্তিগত ভাবে মানুষ আমি কী রকম? অতি সহজ  অতি সরল অতি নিরীহ অতি বন্ধু বৎসল। পিঠে লোকে ছুরি বসাচ্ছে তো বসাচ্ছেই, যারা ছুরি বসায়, আবার তারা চোট পেলে তাদের  জন্যই আহা আহা করে ছুটে যাই।  নিজের আদর্শ আর সততাকে সমুন্নত রাখতে নিজের সমূহ ক্ষতি করতে দ্বিধা করি না। আমার এই চরিত্র সম্পর্কে কোথাও কাউকে কিন্তু এক বর্ণ কিছু উচ্চারণ করতে দেখি না। 

দুর্ভাগা আমি নাকি দুর্ভাগা তারা, যারা আমাকে জানলো না? মাঝে মাঝে মনে হয় দুর্ভাগা আমিই। মানুষ হিসেবে এত সৎ, এত নিষ্ঠা, এত উদার, এত ত্যাগী, আমি না হলেও হয়তো পারতাম। যাদের চারদিকে সুখ্যাতি, তাদের হিসেবী জীবন দেখলে চমকে উঠি। হিসেবটা আবার আমার একেবারেই অভ্যেসে নেই।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফেসবুকে ঝুড়িভর্তি হলুদের ছবি পোস্ট করলেন জয়া

অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুকে ঝুড়িভর্তি হলুদের ছবি পোস্ট করলেন জয়া

জয়া আহসান

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। হালের জনপ্রিয় এই নায়িকার গুণের যেন শেষ নেই। এইতো কিছুদিন হলো পশুপাখির প্রতি ভালোবাসার জন্য পুরস্কার পান তিনি।

দ্য পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (পাও) থেকে প্রাণীপ্রেমী হিসেবে স্বীকৃতি পান জয়া। ঢাকাই চলচ্চিত্রের দাপুটে এ অভিনেত্রীর বাগান করা যে একটা শখ এটা অনেকেই জানেন। 

নিজের বারান্দা ও ছাদবাগানে প্রায় শতাধিক গাছ রয়েছে জয়ার। প্রায়ই নিজের বাগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। 

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে ঝুড়িভর্তি হলুদের ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন সদ্য তোলা সোনালী রঙা হলুদের মনমোহিনী ঘ্রান…।

আরও পড়ুন:


কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে নৌকা পেলেন যারা


জিআই ব্যাগের ভেতরে মাটি ফেলে ইস্কাটনে বাসার ছাদে বাগান করেছেন জয়া। এর আগে নিজের বাগানের জলপাই, টমেটো, লেবু,ধনে পাতা, শিম, বেদানা,পেয়ারাসহ অনেক ফল ও শাকসবজির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন জয়া। সেই সাথে রঙ বেরঙের সব ফুলের গাছও রয়েছে জয়ার বাগানে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর