আপিলের রায়ের আগেই দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর!
আপিলের রায়ের আগেই দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর!

আপিলের রায়ের আগেই দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর!

অনলাইন ডেস্ক

খালাস চেয়ে করা আপিল শুনানি করতে এসে জানা গেল ৪ বছর আগেই ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আবদুল মোকিম ও গোলাম রসুল নামের দুই আসামির। কিন্তু ওই দুই ব্যক্তির আপিল গতকাল বুধবার আপিল বিভাগে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ছিল। তবে তালিকায় পেছনে থাকায় আর শুনানি হয়নি। এমন ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে দেশের উচ্চ আদালতে।

ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছে পরিবার। আইনজীবীরা বলছেন, আপিল নিষ্পত্তির আগে ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা নজিরবিহীন। আর এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার আদালতে।  

আপিলের শুনানি না হলেও প্রশ্ন উঠেছে, এটি নিষ্পত্তির আগেই কিভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। এ প্রশ্নের উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনুদ্দিন গতকাল বুধবার বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুজন জেল আপিল করেন। সেটি ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চ খারিজ করে দেন। এরপর তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে সে আবেদন ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর খারিজ হয়ে যায়। তবে তাঁদের একটি নিয়মিত আপিল ছিল। সে আপিলের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ জানত না। কিন্তু আপিল বিভাগ যেহেতু তাঁদের জেল আপিল খারিজ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতিও প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন, সেহেতু তাঁদের ফাঁসি কার্যকর করাতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। নিয়মিত আপিলটিরও আর কোনো গুরুত্ব নেই।

এ বিষয়ে আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কাগজপত্র দেখে দেখা গেছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ’ শেষ ধাপ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন গিয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘লাস্ট ধাপ পর্যন্ত গিয়ে এ রায় কার্যকর করা হয়েছে। ’

জানা যায়, মোকিম ও রসুলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে। ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর তাঁদের মৃত্যু কার্যকর করা হয়। ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন একই এলাকার সাবেক ইউপি মেম্বার মো. মনোয়ার হোসেন খুন হন। ওই ঘটনায় তাঁর চাচাতো ভাই মো. অহিমউদ্দিন বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে মোকিম ও রসুলের নাম আসে। পরে ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এ মামলার বিচারে তিন জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, দুজনকে যাবজ্জীবন ও অন্য আসামিদের খালাস দেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন একই ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, মোকিম ও রসুল। পরে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে আবুল কালাম আজাদকে খালাস দেওয়া হয়। মোকিম ও রসুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

এ ব্যাপারে মোকিমের স্ত্রী মোছা. ফারজানা বলেন, ‘আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একটাই হত্যা মামলা ছিল। এ মামলায় চার বছর আগে তার ফাঁসি হয়। মেহেরপুরের ভোলাডাঙ্গা গ্রামে তাকে দাফন করা হয়েছে। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে আমিও এখানেই থাকি। এখন শুনতেছি মামলা নাকি শেষ হয় নাই। আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। ’ 

ঝড়ুর স্ত্রী আনজিরা বেগম বলেন, ‘নতুন করে ঝামেলায় জড়াতে চাই না। বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। ’

মোকিম ও রসুলের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যে নিয়মতি আপিল করা হয়, তার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির।

আরও পড়ুন:


নামাজের নিষিদ্ধ ও মাকরুহ সময়

মিজানুর রহমান আজহারীকে ব্রিটেনে নিষিদ্ধ করতে সংসদে প্রস্তাব


তিনি বলেন, ‘মামলার তদারকি করতে গিয়ে আমি নিজেও ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। বিচারপ্রার্থী মোকিম কনডেম সেলে ছিলেন। বিচারপ্রার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছি কনডেম প্রিজনার মোকিম ও ঝড়ুর মৃত্যুদন্ড ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। মূলত মোকিম ও ঝড়ুর পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই তাদের পক্ষে পরিবারের সদস্যরা সেভাবে মামলার বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারেননি। ’ সে সামর্থ্যও তাদের ছিল না বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

এদিকে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য মোকিমের পক্ষের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে। তাই এ ঘটনায় আমরা আপিল বিভাগের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইব। যাদের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে তাদের অবহেলার উপযুক্ত বিচার চাইব। এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য সর্বোচ্চ আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাইব। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাইব। ’

news24bd.tv রিমু