প্রধান শিক্ষককে পেটালেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা
প্রধান শিক্ষককে পেটালেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা

প্রধান শিক্ষককে পেটালেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা

অনলাইন ডেস্ক

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়েছেন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। পরে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সহযোগিতায় হামলাকারী শিক্ষকদের আটকে রাখা হয়। এমন ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রদেরকেও পেটানো হয়।

 

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আটকে থাকা শিক্ষকদের উদ্ধার করে। এ নিয়ে দিনভর চাপা উত্তেজনা দেখা দেয় বখতিয়ারপুর এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে।

জানা যায়, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে গত কয়েক দিন থেকে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই জের ধরে শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আলোচনায় বসেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মকছেদ আলী, কাজেম আলী, রফিকুল ইসলাম ও রেহেনা খাতুন। আলোচনার একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীনকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে সহকারী শিক্ষকরা। এ সময় প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন ছাত্রদের সহযোগিতায় হামলাকারী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের মধ্যেই আটকে রাখেন।

পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে ছাত্ররা। এরপর আটকেপড়া শিক্ষকদের মধ্যে থেকে রেহেনা খাতুন আটকে রাখার বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার দেবর রুবেলকে জানান। রুবেল এসে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মারপিট করেন। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থী অন্তর ও উজ্জ্বল নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।

এদিকে এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। এরপর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটকেপড়া শিক্ষকদের উদ্ধার করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন জানান, বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের জন্য ১৭টি কম্পিউটার ও অবকাঠামোগত কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।  

ওই কমিটিতে নাম না থাকায় সহকারী শিক্ষক মকছেদ আলী, রফিকুল ইসলাম, কাজেম আলী ও রেহেনা খাতুন আকস্মিক তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং কোনো কথা ছাড়াই তাকে মারধর করতে থাকেন। এ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে হামলাকারী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের মধ্যেই আটকে রেখে বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।  

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী জানান, বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েক শিক্ষককে আটকে রাখা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে শিক্ষকদের উদ্ধার করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। উভয়পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখছেন।

news24bd.tv/ কামরুল