আমাদের অসংখ‍্য ডাক্তার জীবনে ডাক্তার হতে চায়নি
আমাদের অসংখ‍্য ডাক্তার জীবনে ডাক্তার হতে চায়নি

রউফুল আলম

আমাদের অসংখ‍্য ডাক্তার জীবনে ডাক্তার হতে চায়নি

অনলাইন ডেস্ক

আমাদের বেশিরভাগ স্টুডেন্টরা ডাক্তারি পড়ে, কারণ পরিবার ও সমাজ চায় ডাক্তার হও। সুতরাং প‍্যাশনেট ডাক্তার কি করে তৈরি হবে? 

বেশিরভাগ স্টুডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে, কারণ পরিবার চায়। সমাজ চায়। ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং চান্স না পাওয়া অসংখ‍্য স্টুডেন্ট যায় ইউনিভার্সিটিতে।

বিশ্ববিদ‍্যালয়ের কয়টা স্টুডেন্ট নিজের ইচ্ছেয় ফিজিক্স পড়ে? কয়টা স্টুডেন্ট নিজের ইচ্ছায় কেমেস্ট্রি কিংবা অন‍্যান‍্য বিষয়গুলো পড়ে? শতকরা পাঁচ ভাগ কি হবে? 

এখন কথা হলো, নিজের ইচ্ছেতেই বা কি করে পড়বে? —উচ্চমাধ‍্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনা দিয়ে কি একটা স্টুডেন্ট বুঝে যেতে পারে তার কি ভালো লাগে? তার হয়তো ভালোলাগার সূচনাটা তৈরি হয়। হয়তো কেউ বায়োলজিতে বেশি নম্বর পায়। তার বায়োলজি ভালো লাগে। তার মানে কিন্তু এই নয়, সে ডাক্তারি পড়ার জন‍্য পারফেক্ট! ডাক্তারি তো শুধু স্টুডেন্ট ভালো হলেই হলো না। বায়োলিজতে এ-প্লাস পেলেই হলো না। হতে হবে পরিশ্রমী। হতে হবে ডেডিকেইটেড। হতে হবে কমিটেড। এগুলোতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  

আমেরিকার স্টুডেন্টরা হাইস্কুল (দ্বাদশ) পাশ করে আন্ডারগ্রেজুয়েট করে। কেমেস্ট্রি পড়ে। বায়োলজি পড়ে। মিউজিক পড়ে। তারপর দেখে কোনটা বেশি ভালো লাগে। প্রি-মেড (Pre-medical) পড়ে। প্রি-মেড পড়ার সময় মেডিসিন ও হেলথকেয়ার রিলেটেড কোর্স করে। প্রি-মেড যাদের ভালো লাগে না, তারা সেখানেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে ইস্তফা দেয়।  

ইউনিভার্সিটিতে আন্ডারগ্রেড শুরু করেই ওরা জানে না ভবিষ‍্যতে কি করবে। ব‍্যাচেলরের বহু স্টুডেন্টকে আমি যখন জিজ্ঞেস করেছি তোমরা ভবিষ‍্যতে কি হতে চাও—তাদের বেশিরভাগের উত্তর, I don’t know yet! কারণ তারা বায়োলজি পড়বে। বায়োকেমেস্ট্রি পড়বে। এস্ট্রোফিজিক্স পড়বে। আর্ট পড়বে। তারপর এক পর্যায়ে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কোনটা বেশি ভালো লাগে।  

তারপর সেই ফিল্ডে কোর্স বেশি করে। এডভান্স কোর্স করে। তারপরও ভালো না লাগলে সরে আসার সুযোগ থাকে। যেটা সহ‍্য করা যায় না সেটার সাথে তারা বাস করে না। যেটা নিতে পারে না সেটার সাথে বাস করে নিজের জীবনকে যেমন বিষিয়ে তুলে না, রাষ্ট্রের ভবিষ‍্যতকেও ধ্বংস করে না। পরিবার বা সমাজের চাপে অনুরোধের ঢেঁকি গেলার সংস্কৃতি নেই। ফলে প্রত‍্যেকটা স্তরে প‍্যাশনেট ও প্রফেশনালিজম গড়ে উঠে। মুচি থেকে প্রেসিডেন্ট—সবর্ত্র প্রফেশনালিজমের ছাপ দেখা যায়।  

আমাদের অসংখ‍্য ডাক্তার জীবনে ডাক্তার হতে চায়নি। পরিবারের চাপে, সমাজের চাপে তারা ডাক্তার হয়েছে। তার কাছে প‍্যাশন আশা করেন কি করে?  
স্টুডেন্টরা ইউনিভার্সিটিতে যে বিষয়ে পড়তে শুরু করে, সেই বিষয় তার ভালো না লাগলেও সেটাই পড়তে হয়। সংঘাতপূর্ণ দাম্পত‍্য জীবনের চেয়েও এটা ভয়ংকর। একটা বিষয়ে পড়তে শুরু করলে, সেটা থেকে বের হওয়ার পথটা সহজ না। ফলে কেমেস্ট্রি পড়ে ব‍্যাংকে চাকরি করবে। এস্ট্রোফিজিক্স পড়ে মার্চেন্ডাইজার হবে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে উপাসনালয়ের কমিটিতে থাকবে—এটাই স্বাভাবিক।  

প‍্যাশনেট এবং প্রফেশনাল জনশক্তি গড়ে তুলতে আমরা যে পিছিয়ে পড়ছি—তার বহু কারণের মধ‍্যে এটা একটা! নিজের পছন্দমত পড়াশুনাটা বাছাইয়ের পথও আমাদের সুগম নয়! প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবেই চলছে। কোন বোধোদয় নেই! পরিবর্তন তো দূরাশা! 

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

 

আরও পড়ুন:

বিচ্ছেদের পর পারিশ্রমিক বাড়লো সামান্থার


news24bd.tv/ নকিব