আমাদের অসংখ‍্য ডাক্তার জীবনে ডাক্তার হতে চায়নি

অনলাইন ডেস্ক

আমাদের অসংখ‍্য ডাক্তার জীবনে ডাক্তার হতে চায়নি

রউফুল আলম

আমাদের বেশিরভাগ স্টুডেন্টরা ডাক্তারি পড়ে, কারণ পরিবার ও সমাজ চায় ডাক্তার হও। সুতরাং প‍্যাশনেট ডাক্তার কি করে তৈরি হবে? 

বেশিরভাগ স্টুডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে, কারণ পরিবার চায়। সমাজ চায়। ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং চান্স না পাওয়া অসংখ‍্য স্টুডেন্ট যায় ইউনিভার্সিটিতে। বিশ্ববিদ‍্যালয়ের কয়টা স্টুডেন্ট নিজের ইচ্ছেয় ফিজিক্স পড়ে? কয়টা স্টুডেন্ট নিজের ইচ্ছায় কেমেস্ট্রি কিংবা অন‍্যান‍্য বিষয়গুলো পড়ে? শতকরা পাঁচ ভাগ কি হবে? 

এখন কথা হলো, নিজের ইচ্ছেতেই বা কি করে পড়বে? —উচ্চমাধ‍্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনা দিয়ে কি একটা স্টুডেন্ট বুঝে যেতে পারে তার কি ভালো লাগে? তার হয়তো ভালোলাগার সূচনাটা তৈরি হয়। হয়তো কেউ বায়োলজিতে বেশি নম্বর পায়। তার বায়োলজি ভালো লাগে। তার মানে কিন্তু এই নয়, সে ডাক্তারি পড়ার জন‍্য পারফেক্ট! ডাক্তারি তো শুধু স্টুডেন্ট ভালো হলেই হলো না। বায়োলিজতে এ-প্লাস পেলেই হলো না। হতে হবে পরিশ্রমী। হতে হবে ডেডিকেইটেড। হতে হবে কমিটেড। এগুলোতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

আমেরিকার স্টুডেন্টরা হাইস্কুল (দ্বাদশ) পাশ করে আন্ডারগ্রেজুয়েট করে। কেমেস্ট্রি পড়ে। বায়োলজি পড়ে। মিউজিক পড়ে। তারপর দেখে কোনটা বেশি ভালো লাগে। প্রি-মেড (Pre-medical) পড়ে। প্রি-মেড পড়ার সময় মেডিসিন ও হেলথকেয়ার রিলেটেড কোর্স করে। প্রি-মেড যাদের ভালো লাগে না, তারা সেখানেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে ইস্তফা দেয়। 

ইউনিভার্সিটিতে আন্ডারগ্রেড শুরু করেই ওরা জানে না ভবিষ‍্যতে কি করবে। ব‍্যাচেলরের বহু স্টুডেন্টকে আমি যখন জিজ্ঞেস করেছি তোমরা ভবিষ‍্যতে কি হতে চাও—তাদের বেশিরভাগের উত্তর, I don’t know yet! কারণ তারা বায়োলজি পড়বে। বায়োকেমেস্ট্রি পড়বে। এস্ট্রোফিজিক্স পড়বে। আর্ট পড়বে। তারপর এক পর্যায়ে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কোনটা বেশি ভালো লাগে। 

তারপর সেই ফিল্ডে কোর্স বেশি করে। এডভান্স কোর্স করে। তারপরও ভালো না লাগলে সরে আসার সুযোগ থাকে। যেটা সহ‍্য করা যায় না সেটার সাথে তারা বাস করে না। যেটা নিতে পারে না সেটার সাথে বাস করে নিজের জীবনকে যেমন বিষিয়ে তুলে না, রাষ্ট্রের ভবিষ‍্যতকেও ধ্বংস করে না। পরিবার বা সমাজের চাপে অনুরোধের ঢেঁকি গেলার সংস্কৃতি নেই। ফলে প্রত‍্যেকটা স্তরে প‍্যাশনেট ও প্রফেশনালিজম গড়ে উঠে। মুচি থেকে প্রেসিডেন্ট—সবর্ত্র প্রফেশনালিজমের ছাপ দেখা যায়। 

আমাদের অসংখ‍্য ডাক্তার জীবনে ডাক্তার হতে চায়নি। পরিবারের চাপে, সমাজের চাপে তারা ডাক্তার হয়েছে। তার কাছে প‍্যাশন আশা করেন কি করে?  
স্টুডেন্টরা ইউনিভার্সিটিতে যে বিষয়ে পড়তে শুরু করে, সেই বিষয় তার ভালো না লাগলেও সেটাই পড়তে হয়। সংঘাতপূর্ণ দাম্পত‍্য জীবনের চেয়েও এটা ভয়ংকর। একটা বিষয়ে পড়তে শুরু করলে, সেটা থেকে বের হওয়ার পথটা সহজ না। ফলে কেমেস্ট্রি পড়ে ব‍্যাংকে চাকরি করবে। এস্ট্রোফিজিক্স পড়ে মার্চেন্ডাইজার হবে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে উপাসনালয়ের কমিটিতে থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। 

প‍্যাশনেট এবং প্রফেশনাল জনশক্তি গড়ে তুলতে আমরা যে পিছিয়ে পড়ছি—তার বহু কারণের মধ‍্যে এটা একটা! নিজের পছন্দমত পড়াশুনাটা বাছাইয়ের পথও আমাদের সুগম নয়! প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবেই চলছে। কোন বোধোদয় নেই! পরিবর্তন তো দূরাশা! 

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:

বিচ্ছেদের পর পারিশ্রমিক বাড়লো সামান্থার


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

নাজনীন আহমেদ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

নাজনীন আহমেদ

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত। এই অর্জন আমাদের জন্য যেমন আনন্দের, সম্মানের ও সম্ভাবনার, একই সাথে নানা রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হবে।

এ সম্পর্কে যাদের ধারণা অস্পষ্ট তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যারা অর্থনৈতিক সূচকের নানান দিকে পিছিয়ে এবং যাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুর্বল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, সেরূপ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত করে। জাতীয় আয় ও মানবসম্পদের উন্নয়ন কিছু নির্দিষ্ট মাত্রার উপরে নিতে পারলে এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা কমাতে পারলে কিছু কঠিন শর্ত পূরণ করে একটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ভুক্ত উন্নয়নশীল দেশ সেই তালিকা থেকে বের হয়ে যেতে পারে। একেই বলে LDC graduation.

২০২৬ সালে যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাব তখন স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবসা বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ, অর্থ ঋণের উপর সুদের হার, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহযোগিতায় অগ্রাধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার একটি smooth transition strategy (STS) করার প্রক্রিয়ায় আছে।

সরকার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে মিলে কাজ করছে। আমার বর্তমান কর্মপ্রতিষ্ঠান UNDP‌ বাংলাদেশের জন্য একটি STS তৈরি করতে Economic Relations Division (ERD) এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের এই যুগান্তকারী অর্জনকে অর্থবহ ও সাধারণ মানুষের জন্য fruitful করার প্রক্রিয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা সবাই মিলে সে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করবো। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের অনেক দায়িত্ব আছে। আমাদের আচার-আচরণে মানব সেবায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। আমি আশাবাদী মানুষ তাই LDC Graduation কে সুযোগ হিসেবে মনে করি বেশি।

আরও পড়ুন


টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

তখন আমরা ’স্টুডেন্ট’ বললেই কন্ডাক্টর হাফ ভাড়া নিতো

শওগাত আলী সাগর

তখন আমরা ’স্টুডেন্ট’ বললেই কন্ডাক্টর হাফ ভাড়া নিতো

শওগাত আলী সাগর

আমরা যে শিক্ষায় বিনিয়োগের কথা বলি, শিক্ষাখাতে রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যায় বলে দাবি করি, সেটা আসলে কোথায় যায়! একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিষ্কন্টক করতে তাকে আমরা কী ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা, সুযোগ সুবিধা দেই! ঢাকার রাস্তায় ‘হাফ পাসের’ দাবিতে শিক্ষার্থীদের গত কয়েকদিনের আন্দোলনের খবর পড়তে পড়তে কথাগুলো মনে হলো। 

শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে বাস বাড়া অর্ধেক দেয়ার সুযোগের দাবিতে। আমাদের ছাত্রবেলায় এমন একটা ব্যবস্থা ছিলো বলে স্পষ্ট মনে পরে।ইন্টারমেডিয়েটে  শিবপুর থেকে বাসে চড়ে কিছু দিন আমি জেলা সদরের নরসিংদী সরকারি কলেজে এসে ক্লাশ করেছি। তখন আমরা ’স্টুডেন্ট’ বললেই কন্ডাক্টর হাফ ভাড়া নিতো। কখনো কখনো পরিচয়পত্র দেখতে চাইতো।

সত্যি বলতে কী- ছাত্র অবস্থায় হাফ ভাড়ায় বাসে চড়ার কথাটা ভুলেই গিয়েছিলাম। ছাত্রদের আন্দোলন দেখে সেটি নতুন করে মনে পড়লো। পত্রিকায় দেখলাম- হাসান ভাইও ( তথ্যমন্ত্রী) হাফ ভাড়ায় বাসে চড়ার কথা মনে রেখেছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে- ‘বড় পদে’ থাকা অনেকেই জীবনে যে বাসে চড়েছেন- সে কথাই সম্ভবত ভুলে বসেছেন। নইলে ছাত্রদের বাস ভাড়া নিয়ে কয়েক দিন রাস্তায় পরে থাকতে হবে কেন! এটি অবশ্য রাষ্ট্রের তথা সরকারের ’রেসপনসিভনেস’ এরও ব্যাপার। জনগনের সমস্যায়, জনগনের ডাকে রাষ্ট্র কতোটা সাড়া দেয়, কতো দ্রুত সাড়া দেয়- তারও প্রমান।
 
কানাডায় দেখি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ছাত্র এবং বয়স্কদের (সিনিয়র সিটিজেন) আলাদা ভাড়ার ব্যবস্থা আছে। এগুলো নিয়ে কথা বলতে হয় না, সিস্টেমই সব ঠিক করে রেখেছে। কানাডায় অবশ্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এখনো ব্যক্তিমালিকানায় ছাড়া হয়নি।  ব্যক্তিমালিকানায় থাকলেও সরকার একটি নীতিমালা করে দিতে পারবে না- তা তো নয়। বিষয়টা হচ্ছে- আমরা কী চাই- সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার কী না।

আরও পড়ুন

হোটেলে ফ্রিজে পাশাপাশি কাঁচা মাংস ও পচা তরকারি!

গুরুত্বপূর্ণ ৭০ স্পটে ৪১১ সিসি ক্যামেরা

বিচারের দাবিতে নটর ডেম শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম 

শিক্ষা নিয়ে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে সত্যিই আমাদের আগ্রহ কিংবা আন্তরিকতা আছে কী না- তার প্রমান পাওয়া যায় শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী বিষয়ক কোনো ইস্যূতে সরকার কতো দ্রুত সাড়া দেয়, কী পদক্ষেপ নেয়- তার উপর। শিক্ষাখাত সরকারের অগ্রাধিকার হারালে শিক্ষার্থীরা গুরুত্ব পাবেন কীভাবে!

লেখাটি শওগাত আলী সাগর ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

পঞ্চাশ বছর কিংবা একশ বছর পর হলেও এটা হবে

রউফুল আলম

পঞ্চাশ বছর কিংবা একশ বছর পর হলেও এটা হবে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপান থেকে অনেক বেশি স্টুডেন্ট আমেরিকায় যেতে শুরু করে। আমেরিকার গবেষণা সম্পর্কে জানতে শুরু করে। যে আমেরিকা তাদের দু’টি শহর উড়িয়ে দিয়েছে, সে দেশ কেন সেরা—সেটা জানার জন‍্য জাপানিজ তরুণরা অধীর উৎসাহি হয়ে পড়ে। অসংখ‍্য জাপানিজ তরুণ আমেরিকার থেকে পিএইচডি-পোস্টডক করে জাপানে ফিরে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান গবেষণায় প্রচুর টাকা ঢালে। আজকের যে জাপান—সেটা হলো জ্ঞান-গবেষণার ফল। শুধু সত্তরের দশকের পর ২৫ টি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনের নানজিং (নানকিন) শহরে ভয়াবহ গণহত‍্যা ও ধর্ষন চালায় জাপানিজ সৈন‍্যরা। চীনের স্কুলের বইতে জাপানের এই গণহত‍্যার কথা পড়ানো হয়। কিন্তু তাই বলে, চীনের সরকার কিংবা চীনের কোন ইউনিভার্সিটি জাপানের সাথে জ্ঞান-গবেষণার সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। চীনের অসংখ‍্য স্টুডেন্ট জাপানের ইউনিভার্সিটিগুলোতে গবেষণা করছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের এক ভিসি ক্ষমতা পাওয়ার পরপর ঘোষণা দিলেন, পাকিস্তানের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের সকল সম্পর্ক ছিন্ন। যেহেতু তিনি কাজ করার মতো আর কিছুই পেলেন না, সেহেতু শিক্ষা কার্যক্রম ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন। একজন ভিসি এধরণের নিম্নমানের কাজ করতে পারে—ভাবলেই আমার লজ্জা ও ঘৃণা হয়। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সকল সম্পর্ক ছিন্ন থাকতে পারে। কিন্তু শিক্ষার আদান-প্রদান, জ্ঞান-গবেষণার সেতু বন্ধ থাকবে কেন? কোন যুক্তিতে?
 
ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশে সকল সম্পর্ক ছিন্ন থাকলেও, জ্ঞান-গবেষণার দরজা খুলে দেয়া উচিত। আমাদের তরুণরা যেনো সেদেশের ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে গবেষণা করতে পারে, সে সুযোগ তৈরি করে দেয়া উচিত। ইসরাইলের শিক্ষক-গবেষকরা যেনো বাংলাদেশে এসে শেখাতে পারে, সে দরজা তৈরি করা উচিত। (আমি জানি, পঞ্চাশ বছর কিংবা একশ বছর পর হলেও এটা হবে।)
 
বন্দুকের নল যখন মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি করেছে, সেখানে শিক্ষা-শিল্প-সঙ্গীত মানুষে মানুষে দূরত্ব কমিয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা যদি সত‍্যিকারে জাগতে চাই, তাহলে দুনিয়ার সব দেশ, সব জাত থেকেই শিখতে হবে। জ্ঞান-গবেষণা ধার করতে হবে। আজ আমরা যাদেরকে উন্নত জাতি বলি, তারা ঠিক এই কাজটিই করছে।

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত    

পরবর্তী খবর

হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে

শওগাত আলী সাগর

হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে

শওগাত আলী সাগর।

১. ‘ঢাকার খেলার মাঠে পাকিস্তানী পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করছে বাংলাদেশিরাই’- এই দৃশ্যটি অসহনীয়। কিন্তু যারা পাকিস্তানী পতাকা নিয়ে মাঠে গেছে- তাদের আমি শুরুতেই গালি দেবো না। তার  আগে তাদের মানসপটটা বোঝার চেষ্টা করবো।  বাংলাদেশ- পাকিস্তানের মধ্যকার খেলায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন এবং সেদেশের পতাকা নিয়ে উল্লাস করার পেছনে তাদের কী ভাবনা কাজ করেছে- সেটা বোঝার  চেষ্টা করতে চাইব।

ইতিমধ্যে কোনো মিডিয়া তাদের এই প্রশ্নটা করেছে কী না জানি না। কিন্তু করাটা দরকার ছিলো। তারা কেন এটা করছে- কেবল সেটা জানার জন্যই না, আমাদের এতে কোনো দায় আছে কী না, সেটা বোঝার জন্যও আমি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পক্ষে।

২. খেলার মাঠে পাকিস্তানকে সমর্থন করা বা পাকিস্তানের পক্ষে উল্লাস করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক দিন ধরেই এগুলো চলে আসছে। এখন সেটা সংখ্যায় বেড়েছে। ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতি মিশাবেন না’- এমন আপ্তবাক্য আর ‘এরা সব পাকি জারজ সন্তান’- এমন গালি দিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করেছি। এর বাইরে আর আর কিছু ভাববার দরকার আছে বলে কখনো মনে করিনি।

৩. খেলার সাথে কেন রাজনীতি জড়িয়ে যায়, কেবল রাজনীতিই নয, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম জড়িয়ে যায়- সেগুলো বোঝার সক্ষমতা না থাকলে, অন্যকে বোঝানোর সক্ষমতা না থাকলে . আমরা অন্যকে কী দিয়ে প্রভাবিত করবো! ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি, কিংবা পাকিস্তানীদের নৃসংসতা’ অন্যদের কেন স্পর্শ করা উচিৎ-  এই বোধটা এই মানুষগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব ছিলো কী না- সেটাও  ভাববার চেষ্টার মধ্যে রাখতে চাই।

৪. রাজনীতি, সংস্কৃতির চর্চা না থাকা একটা দেশে ‘বাংলাদেশ নব্বই শতাংশ মুসলমানদের দেশ’ প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে একটা জনগোষ্ঠীর কাছে পাকিস্তান তাদের মুসলিম উম্মাহ হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে কী না, মুসলমানিত্বের শতকরা হিসেবে তাদের কাছে বাংলাদেশ ‌‘কম ইসলামি দেশ’ মনে হয়েছে কী না- এইগেুলো জানার কৌতূহল্ও আমার আছে।

আরও পড়ুন: 


ফখরুল বললেন, আন্দোলন-আন্দোলন-আন্দোলন

ধর্ষণ মামলায় জামিন: ক্ষমা চাইলেন বিচারক


৫. মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে খেলার মাঠে পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লাস করা মানুষের সংখ্যা কেন বাড়ে, কীভাবে বাড়ে, রাষ্ট্র হিসেবে, সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি আছে কী না, লেখক হিসেবে, সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে, মিডিয়া হিসেবে- নাগরিকদের মনন এবং মনে দেশ প্রেম, স্বাধীনতাযুদ্ধের মন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা আমরা রেখেছি কী না- এগুলো নিয়ে ভাবাটাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবো।

৬. পাকিস্তানী পতাকা্ওয়ালাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
স্বাধীনতা বিরোধী, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান যাতে দেশে না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে ‘আওয়ামী লীগের অপরিহার্যতা’ আমরাই কিন্তু জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলাম।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের কোনো জনগোষ্ঠীর মনে পাকিস্তান প্রেম কীভাবে বেড়ে ওঠে- সেই প্রশ্নের উত্তরও  আমাদেরই দিতে হবে। অন্য কারো কাছে না হলেও নিজের কাছে তো বটেই।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুন দেশ, কানাডা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

জ্ঞানের সাথে বেইমানি ও ধান্দাবাজি করা-ইহুদিদের রক্তে নাই

রউফুল আলম

জ্ঞানের সাথে বেইমানি ও ধান্দাবাজি করা-ইহুদিদের রক্তে নাই

দুনিয়াতে মুসলমানের সংখ‍্যা প্রায় দুইশ কোটি। আর ইহুদিদের সংখ‍্যা কতো বলতে পারেন? —মাত্র দেড় কোটি। অর্থাৎ ঢাকা শহরে যতোগুলো মানুষ বাস করে, সারা দুনিয়াতে ইহুদিদের সংখ‍্যা তারচেয়েও কম।

সারা মুসলিমবিশ্বে যে মানের বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণা হয়, তারচেয়ে অনেক উন্নত ও ইমপ‍্যাক্টফুল গবেষণা হয় শুধুমাত্র ইসরাইলে। 
ইহুদি ধর্মের বংশদ্ভুত দেড়শোর বেশি বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। দেড় কোটি জনগোষ্ঠির মধ‍্যে দেড়শোর বেশি নোবেল বিজয়ী!  আর দুইশ কোটি মুসলমান থেকে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে ডজন খানেক। তাও প্রায় সবই শান্তি ও সাহিত‍্যে। বিজ্ঞানে মাত্র তিনজন। সেই তিনজনও পড়াশুনা এবং গবেষণা করেছেন ইংল‍্যান্ড-আমেরিকায়। 

আপনি যদি মনে করেন ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্রের কারণে মুসলিমরা নোবেল পুরস্কার পাচ্ছে না—তাহলে এই লেখার বাকি অংশ পড়ার দরকার নেই। ছয় বাহু বিশিষ্ট ষড়-যন্ত্রটি নিয়েই থাকুন। 

ইহুদিরা ঐতিহাসিকভাবেই শিক্ষামুখী। জ্ঞানমুখী। জ্ঞানের সাথে বেইমানি করা, ধান্দাবাজি করা—ইহুদিদের রক্তে নাই। ইসরাইলের স্থপতি কাইম ভাইজম‍্যান তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। একটা দেশ গড়ার আগেই তিনি সেখানে ইউনিভার্সিটি গড়েছিলেন—সে অঞ্চলের ইহুদিদের উচ্চশিক্ষার জন‍্য। দেশ হওয়ার পর তিনি ধরে ধরে ইউরোপ থেকে ইহুদি বিজ্ঞানীদের নিয়ে গেছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথেও দুইজন ইহুদি মিশে আছে। একজনের নাম পি. জে. হার্টগ—ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের প্রথম ভিসি। অন‍্যজন, লুই আই কান—সংসদভবনের স্থপতি। পি. জে. হার্টগ ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ভিসি। তিনি একশো বছর আগে যে সকল কাজ করতেন, সেগুলো করতো অক্সফোর্ড-কেমব্রিজ, হার্ভাড, প্রিন্সটনের ভিসি কিংবা প্রেসিডেন্টরা। পি. জে. হার্টগ ইহুদি ছিলেন। অবাঙালি ছিলেন। অভারতীয় ছিলেন। কিন্তু শিক্ষার সাথে, কর্মের সাথে, দায়িত্বের সাথে এতটুকু বেইমানি করেন নাই। 

দুইশ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠির দেশে দশটা বিশ্বসেরা ইউনিভার্সিটি নাই—ভাবা যায়! মুসলমানরা জ্ঞান-গবেষণা থেকে অনেক দূরে। প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে। এতো দূরে চলে গেছে যে তাদেরকে জাগানো সহজ নয়। মুসলিম দেশগুলোতে জ্ঞানীদেরকে আক্রমন করা হয়। জ্ঞানীদের কদর নাই। প্রফেসর আব্দুস সালাম, যিনি মুসলিমবিশ্বের একমাত্র নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ, তাকে পর্যন্ত বেইজ্জতি করা হয়ছে শুধুমাত্র আহমদিয়া বলে। 

আরও পড়ুন:


সেই স্কুলছাত্রীকে দিহানের ‘পাশবিক নির্যাতনে’ মৃত্যু

নাচের তালে দর্শকের হৃদয়ে কম্পন ধরালো নোরা


 

এক হাজার বছর আগে এই জনগোষ্ঠির মধ‍্যে জ্ঞান-গবেষণার এক এনলাইটেন যুগের উদ্ভব হয়েছিলো। সে সময় তারা সারা দুনিয়ার স্কলারদের কাছ থেকে ধার করেছে। শিখেছে। এখন আর অন্যের ভালোটা ধার করতে চায় না।

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর