বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ীদের নিন্দা
বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ীদের নিন্দা

বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ীদের নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ী নেতারা প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।  

লক্ষ্মীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এমআর মাসুদ বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের মতো একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। যে কোম্পানি ৭০ হাজারের বেশি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে, সে কোম্পানির এমডির বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে আমি তাদের বিচার দাবি করছি।

 

তিনি বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাবো- ঘটনার পেছনে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।   
  
লক্ষ্মীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি বাবু শংকর কুমার মজুমদার বলেন, যেকোনো ধরনের হত্যাচেষ্টা চালানো বড় ধরনের অপরাধ। আর দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামধন্য ব্যবসায়ীকে হত্যার চেষ্টা চালানো খুবই নিন্দনীয় ঘটনা। অভিযুক্তদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।  

আরও পড়ুন:


অসুস্থ হয়ে পড়লেন যাত্রী, জরুরি অবতরণে ২১ যাত্রীর পলায়ন

নির্মাণাধীন ভবনের নিচে বোমা সদৃশ্য বস্তু রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

সাক্ষাৎকারে শাকিব খান প্রসঙ্গে যা বললেন অপু বিশ্বাস

আ. লীগ নেতার পকেটে বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল হাত!


লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর দেশের প্রথম শ্রেণির একজন ব্যবসায়ী। সফলভাবে তিনি সবগুলো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের। তাই প্রতিষ্ঠানের এমডির ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার জকসিন বাজার বণিক সমিতির উপদেষ্টা মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য আশঙ্কাজনক। আমি জকসিন বাজারের সব ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে ব্যবসা করে যেতে পারে আমি সে দাবি জানাচ্ছি।   

জানা যায়, বসুন্ধরার এমডিকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে তাকে আটক করা হয়।   

গত শুক্রবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে ভাটারা থানার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাদের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক হাসান মাসুদ। গতকাল রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া শুনানি শেষে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।   

এদিন, ঢাকার মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এই আসামি ভিক্টিমকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ পুলিশকে জানিয়েছে, পবিত্র জুমার নামাজ চলাকালে সায়েম সোবহান আনভীরকে গুলি করে হত্যার প্রস্তুতি ছিল তার। পটিয়ার সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার ছেলে নাজমুল করিম ওরফে শারুন চৌধুরীর নির্দেশে হত্যার এ পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন তিনি। এর আগে, দুধের মধ্যে বিষ মিশিয়ে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল সংঘবদ্ধ চক্রটি। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় তারা।

সূত্র : বাংলানিউজ।

news24bd.tv/ কামরুল