তেলের দাম না বাড়ানোর আরো উপায় ছিলো
Breaking News
তেলের দাম না বাড়ানোর আরো উপায় ছিলো

তেলের দাম না বাড়ানোর আরো উপায় ছিলো

Other

ছোটবেলা থেকেই পরিসংখান ব্যাপারটা আমার পছন্দ না। অথচ এমনই কপাল এটা ছাড়া আমার চলেই না।

২০১৫ সালে সিএনজি এর দাম বাড়ার পরেই ঢাকা চট্টগ্রামে বাসভাড়া বড়ানে হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিলো ঢাকা চট্টগ্রামে সব বাস সিএনজিতে চলবে।

কিন্তু গতকাল ভাড়া নির্ধারনী মিটিং এ পরিবহন মালিকগণ দাবি করেন এই দুই শহরের সব বাস ডিজেলে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। ১-২% বাস সিএনজি তে চলে। বিআরটিএ ও এ দ্বাবী মেনে নেয়। কেনো সিএনজি চালিত বাস ডিজেলে চলে গেলো??? উত্তর জানে না কেউই মনে হয়।  

কতগুলো সিএনজি চালিত বাস ঢাকা চিট্টগ্রামে চলে? পরিবহন মালিক বা বিআরটিএ কেউ ই জানে না। মানে আমাদের বড় লোকির মাত্রা দেখে আমি অবাক। বাসের মালিক জানেই না যে তার বাস সিএনজিতে চলে নাকি ডিজেলে!!!! বিআরটিএ সংখ্যা না জেনেই রোড পার্মিট দেয়। ভাবতেই ভালো লাগে।
 
তেলের দাম বাড়ছে প্রায় ২৮% আর বাস- লঞ্চ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০% । এটা কেমন হিসেব আর কেমন সাইন্স / বিজনেস এটাই তো বুঝলাম না। যাই হোক ভাড়া তো বেড়েই গেছে। এখন সাধারন মানুষের দিক থেকে দেখি কিটা অবস্থা।  
সব কিছু বাদ দিলে, সাধারন পাবলিকের ; আচ্ছা আগে বলে নেই সাধারন পাবলিক কারা- সাধারন পাবলিক তারা যারা জানে যে তাদের গড় আয় বেড়েছে কিন্তু দেখে যে তাদের বেতন তো বাড়েইনি উল্টা কমে গিয়েছে। অনেকের বেতনই নেই- কারণ চাকরী চলে গিয়েছে। অথচ পরিসংখ্যান ( আগেই বলেছি এই ব্যাটাকে আমি একদমই পছন্দ করি না) বলছে, সে যখন চাকরী করতো তখনকার চেয়ে এখন যখন সে বেকার, তার আয় বেশী।

আরও পড়ুন:

সন্তানদের উপর কতটা নজরদারি করা উচিত?

 
তো - এই সাধারন পাবলিকের সব কিছু বাদ দিলেও - পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়েছে গড়ে ৩০%। মানে যে মানুষটা, ধরি তার নাম করিম সাহেব, মাসে ৪০ হাজার টাকা কামাই করতো যার মাঝে তার ৬০০০ টাকা পরিবহনে ব্যায় করতো তাকে এখন ব্যায় করতে হবে ৮০০০ টাকা। পরিবহনে তার ২০০০ টাকা ব্যায় বেড়ে গিয়েছে। আজকে থেকে।
 
এখন যে দোকানদারের কাছ থেকে করিম সাহেব বাজার করতো তারও পরিবহন খরচ ৩০% বেড়ে গেছে। পণ্য আনা নেওয়াতেও খরচ বেড়ে গেছে। সেই দোকানদার মোটামুটি ভালো মানুষ। সে তেলের দাম বাড়ার জন্য নিজের লাভ বাড়ায় নি, তবে সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ৩০%। তাকে তো পোসাইতে হবে। করিম সাহেব মাসে সেখান থেকে ১০ হাজার টাকার বাজার করতেন। এখন তাকে করতে হবে ১৩০০০ টাকার বাজার যদি একই পরিমানে জিনিস কিনতে চান। মানে এখানে করিম সাহেবের খরচ বাড়লো ৩০০০ টাকা বাজার খরচে।
 
শুধু পরিবহন আর বাজার এর জন্য করিম সাহেবকে এখন বেশী খরচ করতে হবে ২০০০+৩০০০=৫০০০ টাকা। আর এটা যদি বাজারের কোনো পণ্যের দাম এক টাকাও না বাড়ে, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ - ময়লা- ডিস সহ কোনো কিছুর বিল এক টাকাও না বাড়ে। বাসা ভাড়া- বুয়ার বিল না বাড়ে। তার নিজের বা পরিবারের কারো কোনো অসুখ না হয়। তার নিজের , পরিবারের, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের কারো বিবাহ- জন্মদিন-কুলখানি কিছু না হয়। তাহলেই করিম সাহেবের শুধু ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ার জন্য মাসে ৫০০০ টাকা বেশী খরচ করতে হবে। এ ৫০০০ টাকা মানে তার ৪০০০০ টাকা বেতনের ১২.৫%।
 
এখন কথা হলো করিম সাহেবের বেতন তো বাড়ে নি  । তাহলে সে এই ৫০০০ টাকা কৈ পাবে ? আমি এটার উত্তর জানি না। আপনারা জানলে নির্দ্ধিধায় জানাতে পারেন।

এখন আবার কিছু পরিসংখান দেই।  
বিপিসি ( যারা জানেন না বিপিসি কি, তাদের জন্য সহজভাবে বিপিসি বাংলাদেশের তেল আমদানি কারক সংস্থা) গত সাত বছরে মুনাফা করেছে ৪৩ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। এর অর্থ হলো শুধু মাত্র এই মুনাফার টাকা দিয়ে আরো ৬-৮ মাস আরামে আগের দামে তেল বিক্রি করা যেতো।
 
তেলের দাম না বাড়ানোর আরো কি কোনো উপায় ছিলো? ছিলো। ডিজেলের আমদানির উপরে ট্যাক্স কমানো। এখন প্রায় ৩৪% ট্যাক্স ডিজেলের আমদানির উপরে। মানে লিটারে প্রায় ১৯ টাকা। দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫ টাকা । চাইলেই ট্যাক্স কমানো যেতো। তাহলে দাম বাড়াতে হতো না।

ট্যাক্স থেকে সরকার টাকা আয় করে, আবার বিপিসি সেই তেল বিক্রি করে মুনাফা করে। বিপিসি সরকারি প্রতিষ্ঠান । একই পণ্যে দুবার আয় ব্যাপারটা খারাপ না।

তেল একটি কৌশলগত পণ্য। তাই সরকার এই পণ্যটি নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখে । এটা রাখা উচিতও।  
ঠিক একই ভাবে ভূর্তুকি বাজেটের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ । এটি কৌশল গত পণ্যের জন্য দেওয়া হয় , জন জীবনকে স্বাভাবিক এবং স্বস্তিতে রাখতে। এই ভুর্তূকিও দেওয়া উচিত।
 
করোনার আঘাত যখন  মানুষ কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে, তখন করিম সাহেবের মতো মানুষদের আরো বেশী চিপায় ফেলার শানে নজুল  বুঝা অর্থনৈতিক বা মানবিক দুদিক থেকেই কষ্টের।  
গড় আয় $২৫০০ ডলার হওয়া ভালো কিন্তু সেটা তখনই সত্যিকারের ভালো হতো যদি দারিদ্রের হার কমতো, বেকারত্বের হার কমতো, মূদ্রাস্ফিতি কমতো।
 
করিম সাহেবের মতো সাধারন মানুষ এতো পরিসংখান বুঝে না। তারা বুঝে তাদের জীবন চালাতে কষ্ট হচ্ছে। অনেক কষ্ট। তারা সৎ ভাবে থেকে , কাজ করে সৎ টাকা কামাই করে কষ্ট করে জীবন চালাচ্ছে। তাদের কষ্ট বাড়ছেই।

অথচ তাদেরকে বলা হচ্ছে তোমরা ধনী হয়েছো- বিরাট বড়লোক হয়েছো। মিথ্যা কষ্টের ভং ধরো না।  
তাদের কষ্টকে মিথ্যা প্রমানের চেষ্টা তাদের আরো কষ্ট দেয়। তাদের মজলুম বানিয়ে দেয়।  

দেশে মজলুমের সংখ্যা বাড়া খারাপ। খুব খারাপ।

লেখাটি রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী-এর ফেইসবুক থেকে নেওয়া।  (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv/এমি-জান্নাত 

;