কোভিড ধরা পড়ায় ফাঁসির আসামির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
কোভিড ধরা পড়ায় ফাঁসির আসামির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত

কোভিড ধরা পড়ায় ফাঁসির আসামির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক

বারো বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে হেরোইন চোরাচালানের দায়ে ধরা পড়েন নাগাথ্রন ধর্মলিঙ্গম নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ। দীর্ঘদিন ধরে চলা ওই মামলায় ফাঁসির রায় হয় তার। কিন্তু তার আইকিউ মাত্র ৬৯ দেখিয়ে তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষম দাবি করে কোর্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চায় নাগাথ্রনের পরিবার। খবর বিবিসির।

কিন্তু কোর্ট সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে তাকে স্থানীয় সময় আগামী বুধবার সকালে ফাঁসির আদেশ দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার তার কোভিড-১৯ ধরা পড়ায় ফাঁসির রায় স্থগিত করা হয়।  

চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর জানান, তার আইকিউ ৬৯। এই পর্যায়ের লোকদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অক্ষম ধরা হয়ে থাকে। কিন্তু সিঙ্গাপুর সরকার জানায়, কাজটি করার সময় সে সম্পূর্ণ সচেতন অবস্থায় ছিল এবং এর পরিণতি সম্পর্কেও তার ধারণা ছিল।

মাদক আইনে কড়াকড়ির জন্য সিঙ্গাপুর সারা বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু এই মামলাটি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার জন্য দাবি জানায় দেশটির জনগণ। নাগাথ্রন মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করে ৬০ হাজারের বেশি লোক সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতির কাছে নাগাথ্রনের পক্ষে পিটিশন সাক্ষর করেন। এছাড়া তারা আন্দোলনেও যোগ দেন।

পিটিশনে সাক্ষর করা একজন বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অক্ষম একজনের প্রতি এমন আচরণ অনৈতিক। তিনি এবং তার পরিবার কারো কাছেই এটা প্রাপ্য নয়।  

Protests in Malaysia

এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাড়া ফেলে। নাগাথ্রনের বোন শর্মলা নাগাথ্রন বলেন, তিনি নিশ্চিত নন তার ৩৩ বছর বয়সী ভাই পুরোপুরিভাবে এই পরিস্থিতি বুঝতে পারছে কিনা। কখনো সে আমাকে ফোনে বলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে, এজন্য তাকে প্রস্তুত হতে হবে। আবার কখনো সে বাসায় ফিরে এসে ঘরে তৈরি খাবার খেতে চায়। আমি জানি না সে জানে কিনা কী হতে চলেছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে নাগাথ্রন মালয়েশিয়া থেকে ৪৩ গ্রাম হেরোইন আনার সময় ধরা পড়ে। এই হেরোইন তার উরুতে বাঁধা ছিল। সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী ১৫ গ্রামের বেশি হেরোইনসহ ধরা পড়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে।

তার বিচারের সময়, সে প্রথমে জানায় তাকে মাদক পরিবহনে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সে জানায় টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সে এটা করেছে। ২০১৫ সালে সে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতার কারণে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়ে আবেদন করে।

আরও পড়ুন:

স্কুল বাসের সিগনালে না থামলে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা


news24bd.tv/ নকিব

;