সেই ভিডিও দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল
সেই ভিডিও দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল
বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে দেওয়াল চাপায় শিশুর মৃত্যু

সেই ভিডিও দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল

Other

অনেকেই পুরো ভিডিওটি পেয়েছে এবং স্যোশাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিয়েছে। সেই ভিডিও দেখে মনটা অনেক খারাপ হয়েছে। একটা শিশু তার বাবার হতে ধরে যাচ্ছে। রাস্তার বাঁদিক ধরে এগোচ্ছে তারা।

 

হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়লো। ইটগুলো পুরোটা ঢেকে দিলো শিশুকে। তার পরনে লাল হাফপ্যান্ট ছিল, কালো ও অ্যাশ আড়াআড়ি ডোরা কাটা টি শার্ট বা পলো শার্ট ছিল।  

বাবাটির পায়ে কিছু ইট এসে পড়েছে। পেছনে একটা মোটরসাইকেল ছিল। বাবা ছেলের পাশে এসে উল্টে পড়লো তা। আরোহীসহ আশপাশের মানুষ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে।  

এরপর বাকীটা জানার জন্য অনলাইন পোর্টালে ঢু দিলাম। সেখানে লেখা আছে, রাজধানীর আজিমপুরে বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে দেওয়াল চাপা পড়ে জিহাদ (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল সোয়া আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টায় মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির পরিবার লালবাগ শহীদ নগর ১ নম্বর গলিতে থাকে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট। শিশুটির বাবা নাদির হোসেন এলাকাতে পান বিক্রি করেন।

শিশুটির বাবা জানায়, সে সন্তানকে প্রতিদিন স্কুলে পৌছে দিতো, আবার নিয়ে আসতো। তার কষ্ট কতোটা তা বুঝতে হলে জ্ঞানী হতে হয় না। জ্ঞানীরা বলে গেছেন, বাবার কাঁদে সন্তানের লাশ পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী জিনিস। আর সেতো নিজের চোখের সামনে সন্তানকে পরপারে চলে যেতে দেখলো।  

এই ঘটনায় কিছু প্রশ্ন করতে চাই। এই যে দেওয়াল হঠাৎ করে পড়ে গেলো তার দায় কার? দেওয়ালের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, এটা দেখার কেউ নেই কেনো?
 
একটা শিশু সড়ক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে হুটহাট মরে যাবে এমন এটা ভয়ংকর শহর আমরা কীভাবে বানিয়ে ফেললাম?

বাবাটি হয়তো পান বিক্রেতা, টাকার অংকে বিবেচনা করলে তার দাম আপনাদের অনেকের কাছেই হয়তো অনেক কম মনে হবে। দয়া করে তাকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করে ভেবে দেখুন কী পরিমাণ অবিচারের শিকার হয়েছে সে।  
কষ্টের কথাগুলো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম।

লেখাটি আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত 

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/ কামরুল 

;