রাজপ্রাসাদে ফিরছে রাজারা
রাজপ্রাসাদে ফিরছে রাজারা

রাজপ্রাসাদে ফিরছে রাজারা

অনলাইন ডেস্ক

বাড়ির চারপাশে লাগানো হয়েছে ডজনখানেক সিসিটিভি ক্যামেরা। বাড়ির নিরাপত্তায় রয়েছেন অন্তত পাঁচজন রক্ষী। বাড়ির ভিতরে ঢুকলে যে কারোরই মাথা চক্কর দিয়ে উঠবে। রাজপ্রাসাদের মতো কারুকার্যশোভিত ফার্নিচার, মাথার ওপর ঝুলছে এক্সক্লুসিভ ঝাড়বাতি।

বাড়ি দুটির মালিক নুরুল হুদা মেম্বার ও তার ভাই নুরুল কবির। তারা কক্সবাজারের হ্নীলা ইউনিয়ন এলাকায় ‘ইয়াবা রাজা’ হিসেবে পরিচিত।  

মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে তারা আত্মসমর্পণ করেন। তাদের রাজপ্রাসাদে আংশিক ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়েই সংস্কার করে রাজপ্রাসাদে ফিরেছেন তারা। সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে ফের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হুদা।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এবার তারা শুধু ইয়াবাতেই থেমে নেই, ক্রেজি ড্রাগস ক্রিস্টাল মেথ-আইসের দিকেও তাদের বিশেষ খেয়াল। নুরুল হুদা মেম্বারের বড় ভাই নুর মোহাম্মদ মাদকবিরোধী অভিযানে ২০১৩ সালে ক্রসফায়ারে মারা যান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই মেরিন ড্রাইভে মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যাকান্ডের পর নুরুল হুদার মতো সব মাদক ব্যবসায়ীর প্রতীক্ষার অবসান হয়।
শুধু নুরুল হুদা মেম্বার নন, মাদকবিরোধী অভিযান ও আত্মসমর্পণের কারণে দীর্ঘদিন কারাগার ও আত্মগোপনে থাকার পর ফের ‘রাজপ্রাসাদে’ ফিরতে শুরু করেছেন টেকনাফের ইয়াবা ‘রাজা’রা। আবারও আলো ঝলমল হয়ে উঠেছে এসব বাড়ি। ফিরেছে সেই জৌলুস। তারা ফের জড়িয়ে গেছেন মাদক ব্যবসায়। তবে তারা নিরাপত্তার বিষয়ে আগের তুলনায় অনেক সতর্ক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

টেকনাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারী বাকি যারা এখনো কারাগারে আছেন তাদের জামিনের তদবির চলছে। বদি নিজেই তো তার ভাইসহ অন্যদের জামিনের জন্য তৎপর ছিলেন। যারা কারাগারের বাইরে ছিলেন তারা সবাই আত্মসমর্পণকারী সিন্ডিকেটেরই  সদস্য। তবে কারাগারে বসেও তাদের অনেকে ইয়াবা সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ’

টেকনাফ থানা থেকে ২-৩ কিলোমিটার দূরে নাজিরপাড়া। ওই এলাকায় ইয়াবা কারবারের টাকায় গড়ে তোলা হয়েছে সাতটি প্রাসাদোপম বাড়ি। বিলাসবহুল দুটি বাড়িতে থাকতেন নুরুল হক ভুট্টো ও তার ভাই নুর মোহাম্মদের পরিবার। তবে আদালতের নির্দেশে আলোচিত ইয়াবা কারবারি নুরুল হক ভুট্টোর দুটি দোতলা বাড়িসহ প্রায় ৩১ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছিল পুলিশ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মামলায় এ আদেশ দিয়েছিল আদালত। পুলিশ দুই তলা দুটি বাসভবন এবং ১১টি স্থানে থাকা প্রায় ২০ একর জমি জব্দ করেছিল। এর পর থেকে বাড়ি দুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা। তবে এ বাড়ি দুটি টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি বর্তমানে কারাগারে আটক প্রদীপ সাহা টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করতেন। মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা ওই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমানে ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন ভুট্টো ও তার পরিবার।

এর আগে ২০১৯ সালের মার্চে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নুরুল হক ভুট্টোর ভাই নুর মোহাম্মদ নিহত হন।

২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ও ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা এবং অস্ত্র তুলে দিয়ে টেকনাফের প্রথম দফায় শীর্ষ ১০২ জন, দ্বিতীয় দফায় ২১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করলেও ভুট্টো আত্মসমর্পণ করেননি।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘কে রাজা কিংবা রাজপ্রাসাদের সদস্য এটা আমার জানার বিষয় নয়। র‌্যাব অপরাধীকে খোঁজে। মাদকের বিষয়ে র‌্যাবের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ’

 আরও পড়ুন:

আজ দ্বিতীয় ধাপের ভোট, নির্বাচনী সহিংসতায় মৃত্যু ২৯


টেকনাফ দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার ইয়াবা কারবারি মো. জুবায়েরের তিন তলা বাড়িটির বাইরে থেকেই চোখ-ধাঁধানো। অথচ বাড়িটির আশপাশের সবকটিই ভাঙা বেড়ার ঘর, ওপরের ছাউনি পলিথিনের। এখানকার নিম্ন আয়ের সব মানুষই দিনমজুর অথবা জেলে। জুবায়ের একসময় ছিঁচকে চোর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে ইয়াবা কারবারি হয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান।

news24bd.tv রিমু