কন্যা সন্তান জন্মদানে তিন তলা থেকে ফেলে দিলো স্বামী, অতঃপর..
কন্যা সন্তান জন্মদানে তিন তলা থেকে ফেলে দিলো স্বামী, অতঃপর..

কন্যা সন্তান জন্মদানে তিন তলা থেকে ফেলে দিলো স্বামী, অতঃপর..

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিদিনের মতোই শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কটূক্তি শুনেন তিনি। দিনটা আজও স্পষ্ট মনে আছে পুনম রাইয়ের। ১৯৯৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি।

কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় গত দু’মাস শ্বশুরবাড়ির খোঁচা দিন কাটছিল পুনমের।

মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে পাশের ঘরে শুইয়ে এসে সে দিন মুখ খুলেছিলেন তিনি। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। সব চেষ্টাই বৃথা হয়। সেই রাত তাঁর কাছে আজও এক বয়াবহ স্মৃতি।

কথা কাটাকাটির পর তিন তলার ব্যালকনি থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল সে রাতে। শ্বশুর-শাশুড়ির উস্কানিতে স্বামী টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এসে তিন তলা থেকে নীচে ফেলে দিয়েছিলেন তাঁকে।

তার পর আর কিছু মনে নেই তাঁর। কয়েক দিন পর পুনমের যখন জ্ঞান ফেরে।   শুধু চোখের পাতাটুকুই নাড়াতে পারতেন আর চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ত। কোমায় চলে যান পুনম।

আরও পড়ুন:

সুস্থ জীবনে শারীরিক সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

মিরপুরে পাকিস্তানী পতাকা ; খেলতে হলে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে

ক্যাটরিনার বিয়েতে যে কারণে থাকছেন না সালমান

তার পর আর কিছু মনে ছিল না তাঁর। কয়েক দিন পর পুনমের যখন জ্ঞান ফিরেছিল, শরীরে কোনও সাড় ছিল না। শুধু চোখের পাতাটুকুই নাড়াতে পারতেন তিনি। চোখ দিয়ে অঝোরে জল ঝরে পড়ত। কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

এ ভাবে পরের ১৫ বছর শয্যাশায়ী হয়েই কাটে তাঁর। চলাফেরার সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরাও। আশা ছাড়েননি পুনম। নিজের সন্তানের জন্য বাঁচার জেদ, সুস্থ হয়ে ওঠার আত্মবিশ্বাসের জোরেই আজ তিনি এক জন শিক্ষিকা। নিজের একটি বেসরকারি সংস্থা খুলেছেন। সেখানে পিছিয়ে পড়া, নির্যাতনের শিকার হওয়া মেয়েদের আত্মরক্ষার শিক্ষা দেন।

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত